Thursday, July 16, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘নির্বিকার’ এক ভূখণ্ড!‌ পৃথিবী কি সূর্যগ্রাসে নিশ্চিহ্ন হবে?‌ কার্বন নিঃসরণের কারণে পৃথিবীতে ক্রমেই বাড়বে তাপপ্রবাহ!

পৃথিবীতে ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে তাপপ্রবাহের সংখ্যা। দিন যত গড়াবে তত দীর্ঘ, উষ্ণ হবে। এমনকি পৃথিবীতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নেমে গেলেও তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তি মিলবে না। এমনটাই দাবি করছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ২০৫০ সাল নাগাদ যদি পৃথিবীতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামে, তা হলে কিছু দেশে তার পরের হাজার বছরেও থামবে না তাপপ্রবাহ। আগামী হাজার বছরে তাপপ্রবাহ কতটা ভয়ানক রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাতেই তাঁরা দেখেছেন, যত সময় গড়াবে, তত প্রবল হতে থাকবে তাপপ্রবাহ। কার্বন নিঃসরণ শূন্য হলেও পরিস্থিতি খুব একটা বদলাবে না। ভবিষ্যতে পৃথিবীতে কতটা ঘন ঘন হতে পারে তাপপ্রবাহ, তা কতটা কষ্টদায়ক হতে পারে, বছরে কতটা দীর্ঘ সময় ধরে তা চলতে পারে, এ সব বোঝার চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা মনে করেন, তাপপ্রবাহের সঙ্গে একটা সূত্র রয়েছে কার্বন নিঃসরণের। সেই নিঃসরণ কতটা পরিমাণ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর ধরে নিয়েছেন, ২০৩০ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে কোনও সময়ে সারা পৃথিবীতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নেমে যাবে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যান্ড্রিউ কিংয়ের দাবি, পরিস্থিতি যেমনই হোক, কার্বন নিঃসরণ শূন্য হলেও কিছু কিছু জায়গায় তাপপ্রবাহের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন হতে থাকবে তাপপ্রবাহ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে সব দেশ নিরক্ষরেখার কাছে রয়েছে, সেখানে অবস্থা আরও শোচনীয় হতে পারে। প্রতি বছরই তাপপ্রবাহ ভেঙে দিতে পারে তার আগের বছরের রেকর্ড। কার্বন নিঃসরণ শূন্যে যত দেরিতে নামবে, তত পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকবে। দক্ষিণ মহাসাগর উষ্ণ হওয়ার কারণেও তাপপ্রবাহ আরও জোরালো হতে পারে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে। কার্বন নিঃসরণ শূন্য হলেও তা কমার সম্ভাবনা নেই। তাঁদের দাবি, কার্বন নিঃসরণ যদি পৃথিবীতে শূন্য হয়, তার পরের হাজার বছরেও পৃথিবীর জলবায়ু শিল্পবিপ্লবের আগে যেমন ছিল, তার মতো হবে না। তাপপ্রবাহও খুব একটা কমবে না। উল্টে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামার ১০০ বছর পরেও তাপপ্রবাহের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারাহ পার্কিনস জানিয়েছেন, অনেকেরই ধারণা রয়েছে, কার্বন নিঃসরণ শূন্যে পৌঁছে যাওয়ার পরে ধীরে ধীরে জলবায়ুর পরিবর্তন হবে। উষ্ণায়ন কমবে। কিন্তু এই ধারণা ভুল। তার পরেও তাপপ্রবাহ চলবে। তবে পার্কিনস জানিয়েছেন, এ জন্য কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্য নামিয়ে আনার লক্ষ্য থেকে সরলে চলবে না। তাপপ্রবাহের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। সাধারণত কোনও স্থানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৫ ডিগ্রি বেশি থাকলে এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁলে, সেই পরিস্থিতিকে তাপপ্রবাহ বলে ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস পরিস্থিতি হয়েছে ইউরোপে। সারা ইউরোপ জুড়ে প্রায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। ফ্রান্স এবং ইটালির কিছু জায়গায় দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনই এই তাপপ্রবাহের নেপথ্য-কারণ। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও তার প্রভাবে তাপপ্রবাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এক-একটি দেশে আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে ঘন ঘন হতে পারে তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬০ সালে বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা যত ঘন ঘন ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি ছাড়াতে দেখা যেত, ২০২৫ সালে তা ২০ গুণ বেশি দেখা যায়। কার্বন নিঃসরণ শূন্যে পৌঁছোলেও খুব দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। সেই লক্ষ্য দ্রুত পূরণ করতে হবে।

মৃত্যুমুখে মহাবিশ্বের লাখ লাখ নক্ষত্র। কোটি কোটি বছর ধরে তারা আড়েবহরে বেড়ে উঠেছে। এখন জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে রাক্ষসের মতো গিলে খাচ্ছে নিজেদেরই ‘সন্তান’, আস্ত এক একটা গ্রহকে। এমন দৃশ্য দেখে বিজ্ঞানী মহলের একাংশের আশঙ্কা, তা হলে কি পৃথিবীও এই ভাবেই নিশ্চিহ্ন হবে সূর্যগ্রাসে? চার লক্ষাধিক প্রাচীন নক্ষত্রের তথ্য সংগ্রহ করেছেন ‘ট্রানজ়িটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’ (টেস) থেকে। তাঁরা দেখতে চেয়েছিলেন, এই সব নক্ষত্রের কাছাকাছি থাকা গ্রহেরা এখন কোথায়? তারা কি নিজেদের জায়গামতোই আছে? না কি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে? টেস থেকে পাওয়া তথ্য ঘেঁটে দেখা গেল, বিজ্ঞানীদের আশঙ্কাই সত্যিই! বুড়ো হয়ে যাওয়া নক্ষত্র তার গ্রহকে গিলে খাচ্ছে, এই ছবি অতীতেও দেখা গিয়েছিল। তা যে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সে ব্যাপারে স্পষ্ট হতেই এই গবেষণা। তাতে বিজ্ঞানীরা দেখলেন, একটা বা দুটো নয়, ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে এ রকম ১৩০টি গ্রহের আর কোনও অস্তিত্ব নেই। তাদের মধ্যে আবার ৩৩টি সদ্য জন্মানো নক্ষত্রও রয়েছে। কোনও ভাবে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে মহাবিশ্ব থেকে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, মরতে বসা নক্ষত্রেরাই এই গ্রহদের গিলে খেয়েছে। গবেষণাপত্রের মূল লেখক, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এডওয়ার্ড ব্র্যান্ট বলেন, ‘‘এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই মাথা ঘামিয়ে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। অনেক গবেষণা হয়েছে। এখন সত্যিই দেখা যাচ্ছে, বয়স্ক নক্ষত্রেরা এ ভাবে গ্রহদের গিলে খায়।’’ মহাকাশ বিজ্ঞানের তত্ত্ব এবং বিজ্ঞানীদের অঙ্ক বলছে, যে কোনও নক্ষত্রই বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকারে বাড়ে। স্বাভাবিক নিয়মেই বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রকৃতিগত পরিবর্তনও হয়। কখনও নক্ষত্রের শরীর থেকে বেরিয়ে আসা লেলিহান শিখার তেজ বৃদ্ধি পায়। কখনও বাড়ে চৌম্বক ক্ষেত্রের আকর্ষণ। সেই সব পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে নক্ষত্রের সব চেয়ে কাছে থাকা গ্রহের উপর। সেই কারণেই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কিত বিজ্ঞানী মহলের একাংশ। তাঁদের মত, সূর্য বৃদ্ধ হলে তার কোপেও পড়বে সবচেয়ে কাছে থাকা তিনটি গ্রহ— বুধ, শুক্র এবং পৃথিবী। পৃথিবীর ক্ষেত্রে তেমনটাই হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বুধ, শুক্র সূর্যের পেটে গেলেও, নিশ্চিহ্ন হওয়া থেকে বাঁচবে পৃথিবী। গবেষকদের যুক্তি, তাঁরা দেখেছেন, রাক্ষুসে নক্ষত্রেরা চারপাশে ঘুরতে থাকা সব গ্রহকেই গিলে খাচ্ছে না। তারা শুধু গিলে খাচ্ছে সেই সব গ্রহকে, যারা নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি রয়েছে। জন্মদাতা নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে যে সব গ্রহের ১২ বা তার কম দিন সময় লাগে, মূলত সেই গ্রহেরাই নক্ষত্রের পেটে চলে যাচ্ছে। পৃথিবী সূর্যের থেকে অনেকটাই দূরে। গবেষণাপত্রের আর এক লেখক ভিনসেন্ট ভ্যান আইলেন বলেন, ‘‘পৃথিবী হয়তো নিশ্চিহ্ন হবে না। তবে আর প্রাণের উপযোগী থাকবে না এই গ্রহ।’’ বয়স্ক নক্ষত্রদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে ২০২৬ সালের শেষ দিকে ‘প্ল্যাটো মিশনের’ ভাবনা রয়েছে বিজ্ঞানীদের। সে ক্ষেত্রে আরও অনেক তথ্য ভবিষ্যতে জানা যাবে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।

অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ ক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে উত্তরের দিকে। নেহাত কম গতিতে নয়। বিজ্ঞানীরা বলছে, প্রতি বছরে সাত সেন্টিমিটার বা ২.৮ ইঞ্চি করে উত্তরের দিকে এগোচ্ছে। মানুষের আঙুলের নখ বছরে যত বৃদ্ধি পায়, ঠিক ততটাই সরছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার এই সরে যাওয়ার তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, দীর্ঘ মেয়াদে অবশ্যই এর প্রভাব পড়বে। লক্ষ লক্ষ বছর পরে তা ধাক্কা খেতে পারে এশিয়ার সঙ্গে। ক্রমে অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু, ভূখণ্ডের গঠন, বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্যের উপরেও তার প্রভাব পড়তে পারে। প্রভাব ফেলতে পারে অর্থনীতি, ভূ-রাজনীতি, পরিকাঠামোর উপরেও। অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ঝেং-জিয়াং লি এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা পছন্দ করি বা না করি, অস্ট্রেলিয়া এশিয়ার সঙ্গে ধাক্কা খেতে চলেছে।’’ লি জানান, অস্ট্রেলিয়া এই যে উত্তর দিকে সরে সরে এক সময়ে এশিয়ার সঙ্গে ধাক্কা খাবে, সেই প্রক্রিয়া কিন্তু নতুন নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে বার বার ঘটেছে। এক বার করে এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার পরে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি বছর পরে আবার দুই ভূখণ্ড যুক্ত হয়ে যায়। গবেষক লি বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই উত্তরের দিকে যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় আট কোটি বছর আগে, যখন আন্টার্কটিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল সেই মহাদেশ। গত পাঁচ কোটি বছর ধরে এশিয়া মহাদেশের দিকে এগোচ্ছে অস্ট্রেলিয়া বৃহত্তর ইন্দো-অস্ট্রেলিয়া পাতের অংশ হিসাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এশিয়ার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার এক দিন ধাক্কা লাগবেই। তার প্রভাব পড়বে দুই মহাদেশেরই পরিবেশ, জলবায়ু, বাস্তুতন্ত্রে। অস্ট্রেলিয়ায় এমন কিছু প্রাণী রয়েছে, যা আর কোনও মহাদেশে নেই। ক্যাঙারু, ওমব্যাটস, প্ল্যাটিপাস, কোক্কা। অস্ট্রেলিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এই প্রাণীগুলি অভিযোজিত হয়ে সেখানে রয়ে গিয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ক্রমেই উত্তরে সরে সরে এশিয়ার কাছাকাছি চলে গেলে এই মহাদেশের জলবায়ু, পরিবেশে প্রভাব পড়বে। নতুন পরিবেশে এই প্রাণীগুলি কতটা মানিয়ে নিতে পারবে, সেই নিয়ে সংশয় রয়েছে বিজ্ঞানীদের। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই সরে যাওয়ার প্রভাব লক্ষ লক্ষ বছর পরে সেখানকার প্রাণীজগতের জীবনে শুধু পড়বে, এমন নয়। এখনও ধীরে ধীরে মানুষের জীবনে এর প্রভাব পড়ছে। ২০১৬ সালে বিজ্ঞানীরা দেখেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার এই গমন তার জিপিএস স্থানাঙ্ক ১.৫ মিটার (৪.৯ ফুট) সরিয়ে দিয়েছে। পরিমাপ নির্ভুল রাখতে অস্ট্রেলিয়ার নিজেদের সরকারি পজিশনিং সিস্টেম ১.৮ মিটার (৫.৬ ফুট) আপডেট করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে হেতু দেশটি ক্রমে উত্তরে সরে যাচ্ছে, তাই এর স্যাটেলাইট সিস্টেম, নেভিগেশন সিস্টেমও নিয়মিত আপডেট করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles