কী খাচ্ছেন যেমন জরুরি, তেমনই কী ভাবে খাচ্ছেন, সেটাও দেখা জরুরি। অন্তত বয়স বাড়লেও যদি রোগ দূরে রাখতে হয়। বয়সজনিত সমস্যা দূরে রাখতে চাইলে এই বিষয়টি মাথায় রাখতেই হবে বলে জানাচ্ছেন এক মেডিসিনের চিকিৎসক, যিনি দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণা করেন। বয়স বৃদ্ধির পরেও ভাল ভাবে বাঁচতে হলে এবং রোগমুক্ত থাকতে হলে খাওয়াদাওয়াকেই সবার আগে নিয়মে বাঁধতে হবে। বয়স বাড়লে রোগ প্রতিরোধ শক্তি যখন ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করে, তখন ধীরে ধীরে নানা সমস্যা মাথা তুলতে শুরু করে শরীরে। বিভিন্ন জরুরি পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। যা নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করে সামাল দিতে হয়। পুষ্টির অভাব পূরণ করবেন বলে খাবার খেলেন অথচ তা কাজেও লাগল না, তাতে কোনও লাভ হবে না। যে কোনও খাবার খাওয়ার সময়েই প্রথমে সব্জি খেতে হবে, তার পরে প্রোটিন জাতীয় খাবার এবং শেষে খেতে হবে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। তা পানীয় হলেও শেষেই খেতে হবে। এই ক্রম মেনে খাবার খাওয়াকে বলা হয় মিল সিকোয়েন্সিং। যা রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই একটি বিষয়ের সঙ্গে শরীরের হাজার রোগের সুতো বাঁধা আছে। তাই এটি ঠিক রাখা হলে অনেক রোগ দূরে রাখা যাবে।
নারকেলের গুণাগুণ মেলে নারকেল পিষে তা থেকে বার করা দুধেও। এতে মেলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। তা কি হার্টের জন্যও ভাল? কোলেস্টেরল বাড়লেও খাওয়া চলবে? চিংড়ির মালাইকারি হোক বা মুরগির মাংস, কিংবা নিরামিষ কোনও পদ— শেষ ধাপে একটু নারকেলের দুধ মিশিয়ে নিলেই বদলে যায় স্বাদ এবং গন্ধ। ১০০ গ্রাম নারকেলে ৩৫০ থেকে ৩৭০ ক্যালোরি মেলে। কার্বোহাইড্রেট থাকে ১৫ গ্রাম, ডায়েটরি ফাইবার মেলে ৯ গ্রাম, ফ্যাট ৩৩ গ্রাম, প্রোটিন ৩ গ্রাম। নারকেলের গুণাগুণ মেলে নারকেল পিষে তা থেকে বার করা দুধেও। এতে মেলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। তবে কোলেস্টেরল থাকলেই যে নারকেলের দুধ খারাপ— এ কথা সরাসরি কোনও গবেষণা বলছে না। বরং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বলছে, নারকেলের দুধ শরীরের পক্ষে উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। আবার মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া, অনিয়ম, ব্যক্তিগত বিপাক হারের উপরেও এর ভাল-মন্দ নির্ভর করে। কোলেস্টেরল মানেই তা কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। শরীরে বেশ কিছু উপকারী কোলেস্টেরলও থাকে। এই কোলেস্টেরলকে হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল) বলা হয়। এটি খারাপ কোলেস্টেরলকে শোষণ করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তাই শরীরে এইচডিএল-এর সঠিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি।
রক্তে থাকা ‘এলডিএল’ বা লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন-কেই খারাপ কোলেস্টেরলের তালিকাভুক্ত করা হয়। কারণ, রক্তে এই কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হার্টের ধমনীতে ‘প্লাক’ তৈরি সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ফলে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। ‘পাবমেড’-এ প্রকাশিত ২০১৩ সালের একটি পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে জানা যাচ্ছে, নারকেলের দুধ খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ১৮-৫৭ বছর বয়সি ৬০ জনের উপর পরীক্ষাটি করা হয়েছিল। সপ্তাহে ৫ দিন তাঁদের নারকেলের দুধ দিয়ে রান্না করা পরিজ খেতে দেওয়া হয়। ৮ সপ্তাহ খাওয়ার পরে পরীক্ষায় এমন ফলাফল প্রকাশ্যে আসে। নারকেলের দুধ ভাল হলেও, নিয়মিত এবং মাত্রাতিরিক্ত খেলে ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ, এতে ফ্যাটের পরিমাণ যথেষ্ট। সুতরাং পরিমিত না খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা এতে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষত এর উপকারিতা বা অপকারিতা নির্ভর করে ব্যক্তিবিশেষের বিপাকহার এবং শরীরের উপর।




