Saturday, July 18, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ছোট্ট ফলের রঙ হবে লাল!‌ হার্ট ভাল রাখবে, ত্বকে ফেরাবে জেল্লা

স্ট্রবেরি!‌ উজ্জ্বল লাল ফলের গুরুত্ব অনেক বেশি। এর আদি উৎস রোম। এখন এটি বিশ্বের অনেক দেশেই চাষ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গেও ফলের বাজারে যথেষ্ট অগ্রাধিকার। গুণাগুণ জেনে একে রোজের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন। ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সম্মিলিত উপকারী ফল। স্বাদেও ভাল, স্বাস্থ্যেও। শিশুদের কাছে আকর্ষণীয়। পুষ্টিবহুল এই ফল খাওয়ানো উপকারী। রোজের জলখাবারের পাতে রং, স্বাদ ও পুষ্টি যোগ করার আদর্শ পথ দেখাবে স্ট্রবেরি। কী কী উপকারিতা লাল টুকটুকে ফলের? এই ফলে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে বলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। ডায়েটারি ফাইবারের উপস্থিতির কারণে অন্ত্রের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। নানা রকমের ফাইটোকেমিক্যালস, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং প্রদাহনাশীর ভূমিকা পালন করে। গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম বলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা হয় না। স্ট্রবেরির ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং অ্যানথোসায়ানিন রক্তে শর্করার পরিমাণ এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে হৃদয়ে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মেলে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কমতে পারে। নিয়মিত স্ট্রবেরি খেলে লিপিড প্রোফাইল উন্নত হতে পারে। স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ফ্রি র‌্যাডিকালকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। এই ফ্রি র‌্যাডিকালগুলি কোষের বার্ধক্যের গতি এবং প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে। স্ট্রবেরিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে, যা প্রতি দিনের প্রয়োজনের থেকেও বেশি। এই একটি ফলই শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি দেয়। ভিটামিন সি-এর পাশাপাশি স্ট্রবেরির অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়। শীতের মরসুমে বিশেষ করে স্ট্রবেরি খেলে অনেক উপকার। ফাইবার এবং ফাইটোকেমিক্যালের সাহায্যে অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে স্ট্রবেরি। এই ফাইবার অন্ত্রের কাজ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং খাবার হজমে উপকার করে। পাচনপ্রক্রিয়া ঠিক থাকলে শরীরের শক্তি, মন-মেজাজ সবতেই ভাল প্রভাব পড়ে। স্ট্রবেরির ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। কোলাজেন কমে গেলে ত্বক শিথিল হয়ে যেতে পারে, বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করতে পারে। স্ট্রবেরির পুষ্টি উপাদান ত্বককে ভিতর থেকে টানটান করে তোলে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে ঔজ্জ্বল্য আনে, কোমল করে তোলে। নিয়মিত স্ট্রবেরি খেলে ত্বকে আভা দেখা দিতে পারে। স্ট্রবেরিতে ক্যালোরি কম, জল আর ফাইবার বেশি। ফলে এটি পেট ভরিয়ে রাখে দীর্ঘ ক্ষণ। যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা অতিরিক্ত খাওয়া বন্ধ করতে চান, তাঁদের জন্য সুস্বাদু বিকল্প। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলে স্ট্রবেরি তার স্বাস্থ্যকর সমাধান। কারণ তাতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে খুব বেশি খাওয়া উচিত নয়।

আপেল-দই-ওটস! উপকরণ শুনলে মনে হবে, এ তো সেই রোগা হওয়ার পথ্য। কিন্তু সামান্য উপকরণের অদলবদলে রোগা হতে সাহায্য করে যে খাবার, তা মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও পূরণ করতে পারে। মিষ্টির নাম অ্যাপল ক্রাম্বল গ্রানোলা বোল। নাম যত ভারী, বানানোর প্রক্রিয়াটি তত জটিল নয়। বরং খুব অল্প সময়েই ঝট করে বানিয়ে নেওয়া যায়। এমনকি, মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হওয়ার পরেও বানাতে শুরু করলে ১০ মিনিটে তৈরি হয়ে যাবে। শুধু হাতের কাছে মজুত থাকতে হবে কয়েকটি দরকারি জিনিস। উপকরণ বলতে ১ কাপ জল ঝরানো দই। ১টি আপেল টুকরো করে কাটা। ২ টেবিল চামচ ঘি। ২ চা চামচ মধু। ১ চা চামচ দারচিনি গুঁড়ো। এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো। আধ কাপ রোলড ওটস। ২ টেবিল চামচ নানা রকম বাদাম কুচি। ২ টেবিল চামচ কুমড়ো, তিসি এবং সূর্যমুখীর বীজ মেশানো। ২ টেবিল চামচ কুচনো কিশমিশ। স্বাদমতো নুন। প্রণালী হল, প্রথমে প্যানে ১ টেবিল চামচ ঘি গরম করে আপেলের টুকরো গুলো দিয়ে আর অল্প দারচিনি আর এক চিমটে গোল মরিচ ছড়িয়ে নেড়ে নিন। চাইলে এতে সামান্য নুন আর অল্প মধু দিতে পারেন। আপেল নরম হলে নামিয়ে নিন। এর পরে ওই প্যানেই বাকি ঘি দিয়ে ওর মধ্যে দিয়ে দিন বাদাম কুচি, তিন রকমের বীজ, কুচনো কিশমিশ এবং রোলড ওটস। খানিক ক্ষণ নাড়াচাড়া করে ওর মধ্যে দিন বাকি মধু। ভাল ভাবে মাখিয়ে নিয়ে তুলে রাখুন। তৈরি হল গ্রানোলা। এ বার একটি পাত্রে জল ঝরানো দই ফেটিয়ে তার মধ্যে ভেজে নেওয়া আপেল এবং ওটস দিয়ে তৈরি গ্রানোলা মিশিয়ে উপরে ছড়িয়ে দিন অল্প দারচিনির গুঁড়ো এবং মধু।

শুধু যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি নয়, এক ধরনের বধিরতাও সারাতে পারে ভায়াগ্রা! নতুন হদিস পেলেন বিজ্ঞানীরা পরিসংখ্যান বলছে, সারা পৃথিবীতে প্রতি ২০০০ জনের মধ্যে অন্তত তিন জন কানের সমস্যা নিয়ে জন্মান। জন্মগত হলে এই সমস্যার সমাধান প্রায় অসম্ভব। ফলে সারা জীবন বধির হয়েই থাকতে হয়। পুরুষের যৌন উত্তেজনাবর্ধক ওষুধ হিসাবে ভায়াগ্রার পরিচিতি রয়েছে। তবে এ বার অন্য এক রোগের চিকিৎসাতেও এই ওষুধ ব্যবহার করার কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, এক ধরনের বধিরতার চিকিৎসা ভায়াগ্রা দিয়ে সম্ভব। এমনকি, জন্মগত বধিরতার সমস্যাও এর মাধ্যমে সারানো যেতে পারে। নতুন এই আবিষ্কার প্রয়োগ করা গেলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটবে, মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। পরিসংখ্যান বলছে, সারা পৃথিবীতে প্রতি ২০০০ জনের মধ্যে অন্তত তিন জন কানের সমস্যা নিয়ে জন্মান। জন্মগত হলে এই সমস্যার সমাধান প্রায় অসম্ভব। ফলে সারা জীবন বধির হয়েই থাকতে হয় তাঁদের। জন্ম থেকে বধির হলে কথা বলতে শেখাও আর হয়ে ওঠে না। ফলে এঁরা হন মূক ও বধির। সমাজে চলার পথে পদে পদে তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। জন্মগত এই বধিরতার চিকিৎসাতেই দিশা দেখাচ্ছে নতুন গবেষণা। ডিএনএ-র গঠন আবিষ্কার করে নোবেল পেয়েছিলেন, ৯৭ বছর বয়সে প্রয়াত জেমস ওয়াটসন
‘জার্নাল অফ ক্লিনিকাল ইনভেস্টিগেশন’-এ সম্প্রতি বধিরতা সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, এক ধরনের বিরল শ্রবণ প্রতিবন্ধকতার নেপথ্যে রয়েছে তিনটি জিনগত পরিবর্তন (জেনেটিক মিউটেশন)। তার চিকিৎসায় যৌন উত্তেজনাবর্ধক ওষুধ ভায়াগ্রা ব্যবহৃত হতে পারে। বস্তুত, পুরুষের বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য যে ওষুধ ব্যবহৃত হয়, তার নাম স্লাইডনাফিল। ভায়াগ্রা ব্র্যান্ডের নামে তা বিক্রি করা হয়। তাই ওই নামেই তার পরিচিতি।

আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল জিন সিকোয়েন্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বধিরতায় দায়ী জিনটিকে খুঁজে বার করেছেন। ওই জিন কার্বক্সিপেপটিডেস ডি (সিপিডি) নামের একটি উৎসেচককে এনকোড করে। সেখানেই ঘটে যায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, যা শ্রবণশক্তিকেও রোধ করে। তুরস্কের তিনটি ভিন্ন পরিবারে জন্মগত বধির তিন জনকে খুঁজে বার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গিয়েছে, বংশগত কোনও যোগ না-থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রত্যেকে সিপিডি জিনের বিরল রূপ ধারণ করছেন। জিনগত পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর স্বাস্থ্যে তার প্রভাব বিশ্লেষণ করেন বিজ্ঞানীরা। দেখেন, একটি সাধারণ ওষুধের মাধ্যমে এই সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী রং গ্রেস জ়াই বলেন, ‘‘এই গবেষণাটা খুবই চমকপ্রদ। কারণ, আমরা এমন একটা নতুন জিন মিউটেশনের খোঁজ পেয়েছি, যা বধিরতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা একটা উপায় পেয়েছি যার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’’

মানব ত্বকের টিস্যু এবং ইঁদুরের কানের ভিতরের যে অংশে নিষ্ক্রিয় সিপিডি জিন থাকে, সেই ককলিয়া অংশের কোষের বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেন, বধিরতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জিন-পরিবর্তনগুলি আসলে অ্যামিনো অ্যাসিড আর্জিনিন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। তা ছাড়া, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদার্থের মাত্রাও কমছে এর ফলে। আর্জিনিন উৎপন্ন না-হলে নাইট্রিক অক্সাইডও তৈরি হয় না। স্নায়ুতন্ত্রের জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাইট্রিক অক্সাইডের অভাবে ইঁদুরের কানের ভিতরের সংবেদনশীল কোষগুলি মরে যায়। ফলে তারা আর কানে শুনতে পায় না। মাছির ক্ষেত্রেও এই ধরনের পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় একই ফল মিলেছে। জাই বলেন, ‘‘আমরা দেখলাম, বিশেষ করে চুলের কোষে আর্জিনিনের মাত্রা ঠিক রাখে সিপিডি। তার ফলে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয় এবং দ্রুত সঙ্কেত পরিবাহিত হয়। সেই কারণেই সিপিডি হ্রাসে চুলের কোষ বেশি সংবেদনশীল। তবে স্নায়ুতন্ত্রের অন্য কোষের ক্ষেত্রেও সে কথা প্রযোজ্য।’’ কানের ভিতরের মৃত কোষগুলিতে আর্জিনিনের মাত্রা পরীক্ষামূলক ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। দেখা যায়, তাতে নাইট্রিক অক্সাইডের পরিমাণ আবার বেড়ে যাচ্ছে এবং কোষীয় চাপ কমছে। ভায়াগ্রার মাধ্যমেও এই পদ্ধতি ঘটানো সম্ভব, মত গবেষকদের। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জিন থেরাপির মাধ্যমে বধিরতার চিকিৎসা শুরু হয়ে গিয়েছে। ভায়াগ্রার প্রয়োগে কতটা সমাধান হতে পারে, তা দেখা হচ্ছে। নতুন গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে আশাবাদী।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles