Saturday, July 18, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইডেনের পিচ নিয়েও ক্ষোভ বাভুমার!‌ অধিনায়ককে ‘বামন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে একটি রিভিউ নেওয়ার আগে বিপক্ষ অধিনায়ককে নিয়ে ‘বামন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। তা নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। সেই মন্তব্যের জবাব দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং কোচ। পাশাপাশি তিনি ইডেনের পিচ নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ১৩তম ওভারে। বুমরাহের শেষ বলে সামনের পায়ে রক্ষণ করেছিলেন বাভুমা। বল লাগে তাঁর প্যাডে। সঙ্গে সঙ্গে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করেন বুমরাহ। আম্পায়ার সাড়া দেননি। তখন পন্থ এবং বাকিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন বুমরাহ। তার পরে বুমরাহই বলেন রিভিউ নেবেন না। কারণ বাভুমা ‘বাওনা’, অর্থাৎ তাঁর উচ্চতা কম। বুমরাহ একটি অশ্লীল শব্দও উচ্চারণ করেন।

‘বাওনা’ শব্দের অর্থ বামন। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কের উদ্দেশে এমন শব্দ প্রয়োগের জন্য অনেকেই সমালোচনা করেছেন বুমরাহের। প্রথম দিনের খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স বলেন, “এটা নিয়ে কোনও আলোচনাই হবে না। আমি তো প্রথম বার কথাটা শুনছি। মনে হয় না যা বলেছে সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনও আলোচনা হবে।” উল্টে বুমরাহের প্রশংসা করেছেন প্রিন্স। বলেছেন, “অসাধারণ বল করেছে বুমরাহ। প্রথম স্পেলে সিরাজ খুব ভাল বল করতে না পারলেও দ্বিতীয় স্পেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বুমরাহ নাগাড়ে ভাল বল করে গিয়েছে। স্পিনারেরাও আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। তবে খেলা এখনও অনেক বাকি। আশা করি দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রান করতে পারব।” ইডেনের পিচ মোটেও মনঃপূত হয়নি প্রিন্সের। ব্যাটারদের ব্যর্থতার নেপথ্যে পিচের দোষ দিচ্ছেন তিনি। বলেছেন, “প্রথম ওভারে চার-পাঁচটা বলের বল দেখলাম একটা বল গড়িয়ে গিয়েছে। একটা বল থেকে চারটে বাই রান হয়েছে। দু’-তিনটে বল আচমকা লাফিয়ে উঠেছে। বোঝাই গিয়েছে পিচের বাউন্স সমান নয়। ২০, ৩০ রান করার পর ব্যাটারেরা আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায়। তার পর এই রকম বাউন্স এলে সমস্যায় পড়বেই। এক ঘণ্টা কাটিয়ে ফেলার পরেও ব্যাটার পিচ বুঝতে পারছে না। এটা কোনও ভাবেই কাম্য নয়।”

ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের দখল নিয়ে নেন যশপ্রীত বুমরা। টেস্ট শুরুর আগে ইডেনের পিচ নিয়ে প্রচুর চর্চা চলে। ব়্যাঙ্ক টার্নার চেয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। সেই অনুযায়ী চার স্পিনারে দল সাজান। কিন্তু কিস্তিমাত করেন একজন পেসার। পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর ম্যাজিক প্রসঙ্গ উড়িয়ে দেন বুমরা। বরং, দাবি করেন, ধৈর্য এবং বোলিংয়ে শৃঙ্খলাই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি। বুমরা বলেন, ‘সাফল্য পেতে হলে, ধৈর্য ধরতেই হবে।’ একইসঙ্গে তারকা পেসার জানান, ম্যাজিক বল নয়, এমন পিচে ফোকাস ধরে রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। বুমরা বলেন, ‘এখানে আউটফিল্ড ফাস্ট এবং উইকেট শক্ত। ম্যাজিক বল করতে গেলে দ্রুত রান উঠত।’ ছন্দ খুঁজে পেতে সময় লাগে বুমরার। প্রথম পাঁচ ওভার কোনও উইকেট পাননি। রায়ান রিকেলটনের উইকেট দিয়ে লকগেট খোলে। পরের স্পেলে আইডেন মার্করামকে ফেরান। দুটো উইকেট ভারতের দিকে মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দেয়। চারজন স্পিনারকে নিয়ে দল সাজান গৌতম গম্ভীর। তিন স্পেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কুপোকাত করে ভারতীয় পেসার। বুমরা বলেন, ‘নিজেকে কন্ট্রোল করতে হয়। তবে প্রতিপক্ষের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে হয়। যাতে বেশি রান না তুলতে পারে সেদিকে নজর রাখতে হয়। সঠিক জায়গায় বল রাখতে পারলে, উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’ নিজের পারফরম্যান্সে‌ খুশি, তবে এখনই জোয়ারে গা ভাসাতে চান না। বুমরা জানান, এখনও আসল কাজ বাকি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles