Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইয়োরফোন বা ইয়ারবাডে কানের ক্ষতি!‌ ‘নয়েজ ক্যানসেলিং’ ইয়ারবাড আরও ক্ষতিকারক

সাধারণ ইয়োরফোন বা ইয়ারবাডে কানের ক্ষতি হয়। তাই এখন অনেকেই ‘নয়েজ় ক্যানসেলিং’ ইয়ারবাড কিনে ব্যবহার করেন। কমবয়সিরা এই তালিকায় বেশি। মনে করা হয়, বাইরের আওয়াজ যেহেতু ঢোকে না, তাই এই ধরনের ইয়ারবাড অনেক বেশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত। এমন মনে করেই লাগাতার বছর দুয়েক ধরে ‘নয়েজ় ক্যানসেলিং’ ইয়ারবাড ব্যবহার করছিলেন এক যুবক। এখন তাঁর অবস্থা শোচনীয়। কানে প্রায় শুনতে পাচ্ছেন না, সংক্রমণও ধরা পড়েছে। সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এমনই জানিয়েছেন। দেশের কোনও জায়গা থেকে পোস্টটি করা হয়েছে। তবে যথাযথ স্থানটি জানা যায়নি। ৫০ ডেসিবেল অবধি শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এমন ইয়ারবাড ব্যবহার করে ঘোর বিপদে যুবক। তাঁর শ্রবণশক্তি প্রায় নষ্ট হতে চলেছে। যুবক জানিয়েছেন, প্রতি দিন কম করেও তিন থেকে চার ঘণ্টা টানা এমন ইয়ারফোন ব্যবহার করতেন তিনি। শুরুতে তেমন সমস্যা হয়নি। বাইরের কোলাহল, আওয়াজ যেহেতু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এই ধরনের ইয়ারফোন, তাই ব্যবহার করতে ভালও লাগছিল তাঁর। কিন্তু কখন যে বিপদ ঘনাল, তা টেরই পাননি তিনি।

‘নয়েজ ক্যানসেলিং’ ইয়ারফোন বা হেডফোন এমন ভাবে তৈরি হয়, যাতে বাইরের আওয়াজ কানে না ঢোকে। ট্রেনে বা বাসে দীর্ঘ ক্ষণ যাত্রার সময়ে বা রাতে ঘুমোনোর সময়ে এমন ইয়ারফোন ব্যবহার করেন অনেকে। দাবি, এতে ক্লান্তি কেটে যায়, ঘুমও নাকি ভাল হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এমন ইয়ারফোন কানের ক্ষতি করে বেশি। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেন্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, এমন ইয়ারফোনে বাইরের শব্দ ঢোকে না ঠিকই, তবে ইয়ারফোন থেকে যে ডেসিবেলের শব্দ বার হয় তা একটানা শুনতে থাকলে মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের ক্ষতি হতে বাধ্য। এতে স্নায়ুর উপরেও চাপ বাড়ে। তা ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে বাইরের আওয়াজ একেবারে স্তব্ধ থাকার কারণে যখন ইয়ারফোন খোলা হয়, তখন আচমকাই সেই শব্দ খুব জোরে ধাক্কা দেয় কানে। এতে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হয় বেশি। নয়েজ় ক্যানসেলিং ইয়ারফোন টানা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করলে, বাইরের আওয়াজের সঙ্গে কানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পরে আচমকা সেই আওয়াজ কানে প্রবেশ করলে, কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

সাধারণ ইয়ারফোন হোক বা নয়েজ ক্যানসেলিং, কোনওটিই বিজ্ঞানসম্মত ভাবে তৈরি করা হয় না। আর একটানা ব্যবহার করলে, অন্তঃকর্ণের ককলিয়া অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কানের কোষগুলি নষ্ট হতে থাকে। শুকিয়ে যেতে থাকে কানের ফ্লুইড। কান যেহেতু সারা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তাই কানের ক্ষতি হওয়া মানে তার প্রভাব পড়বে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতেও। তাই যে কোনও ইয়ারফোনই একটানা ব্যবহার করতে নিষেধ করছেন চিকিৎসকেরা। কাজের জায়গায় ব্যবহার করতে হলেও একটানা করবেন না। ২০ মিনিট অন্তর কানকে বিশ্রাম দিন। অন্তত ১৫-২০ মিনিটের জন্য হেডফোন খুলে রাখুন বা ইয়ারফোনে কিছু শোনা বন্ধ রাখুন। ইয়ারফোন ব্যবহারের পরে যদি শুনতে সমস্যা হয়, কানে একটানা আওয়াজ হতে থাকে, মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য মানেই যন্ত্রণা। দীর্ঘ সময় ধরে যিনি ভুগছেন, তিনিই জানেন কষ্ট কতটা। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে খাবার মেপে খেতে হয়, তেলমশলা দেওয়া খাবার একেবারে ছেঁটে ফেলতে হয়। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যত বেশি খাওয়া যাবে, ততই ভাল। চিকিৎসকেরা বলেন, কোষ্ঠকাঠিন্যের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সেখানে খাওয়াদাওয়ারই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে শুধু খেলেই হবে না, নিয়ম মেনে খেতে হবে। কোন খাবারের সঙ্গে কোন খাবারটি খেলে উপকার হবে, তা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা নেই অনেকেরই। কোষ্ঠকাঠিন্য যদি নির্মূল করতে হয়, তা হলে কিছু বিশেষ খাবার মিলিয়ে মিশিয়ে খেতে হবে। অর্থাৎ, সঠিক ‘ফুড কম্বিনেশন’ জরুরি।

খেজুরকে বলা হয় রাজকীয় ফল। শুধু অতুলনীয় স্বাদ আর গন্ধের জন্য নয়, খেজুরের খ্যাতি তার অসাধারণ রোগ নিরাময় ক্ষমতার জন্যও। প্রতি একশো গ্রাম খেজুরে মেলে ২৮২ কিলো ক্যালরি শক্তি, ৭৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৫ গ্রাম প্রোটিন এবং ০.৪ গ্রাম ফ্যাট। তা ছাড়া খেজুরে রয়েছে কিছু অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড। খেজুরের সঙ্গে খেতে হবে সিসিএফ পানীয়। সেটি হল জিরে, ধনে ও মৌরি ভেজানো জল। এক গ্লাস পরিমাণ জলে জিরে, ধনে ও মৌরি নিয়ে অল্প আঁচে ফোটাতে হবে। ছেঁকে নিয়ে ঈষদুষ্ণ জল পান করতে হবে, সঙ্গে খেতে হবে খেজুর। সন্ধ্যার সময়ে বা রাতে শুতে যাওয়ার আগে এটি খেলে, হজম ভাল হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেক কমে যাবে। অ্যালো ভেরাতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, বি১২, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রনের মতো খনিজ ও প্রায় ১৮-২০ রকম অ্যামাইনো অ্যাসিড। অ্যালো ভেরার জুস বিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে, হজমশক্তি ভাল করে। এর সঙ্গে ফাইবার সমৃদ্ধ পেয়ারা খেলে তা আরও বেশি উপকারী হবে। ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ পেয়ারা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো রোগও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। পেয়ারার সঙ্গে অ্যালো ভেরার জুস খেতে হবে দুপুরে খাওয়ার আগে। দু’টি মিলের মাঝে। ওই সময়ে পেট যেন খুব ভর্তি না থাকে। পাকা পেঁপের গন্ধে নাক সিঁটকান অনেকেই। কিন্তু এর অনেক গুণ। বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজের প্রাকৃতিক উৎস পাকা পেঁপে পেটের জন্য খুবই ভাল। ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর খিদে বাড়ায়, পেট পরিষ্কার রাখে। পেট পরিষ্কার থাকলে গ্যাস অম্বলের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে পাকা পেঁপে শুধু খেলে হবে না, এর সঙ্গে লেবু ও মধুর জল মিশিয়ে খেতে হবে। তবেই উপকার বেশি হবে। সকালে খালি পেটে খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। এই ‘কম্বিনেশন’ শরীর ডিটক্স করবে, পেট ভার, পেট ফাঁপা ও অম্বলের সমস্যাও দূর করবে। তবে ডায়াবিটিস থাকলে মধু বাদ দিতে পারেন।

সর্দি-কাশি সারতে না চাইলে অন্তর্জাল ঘেঁটে ওষুধের নাম দেখে খেয়ে ফেলাই অভ্যাস অনেকের। কাশির দমক বাড়লে, আরও কয়েক কদম এগিয়ে কাশির সিরাপ খেতে শুরু করে দেন প্রায় সকলেই। তাতেও না সারলে ঘরোয়া টোটকা তো আছেই। এর মধ্যে যদি শ্বাসকষ্ট, বুকে জল বসে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়, তা হলে ভেবেই নেওয়া হয়, নিউমোনিয়া হয়েছে। সর্দি-কাশি বা কফ জমার সমস্যায় ক’জনই বা আর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেস্ট এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান করান। তাই রোগ ধরাও পড়ে না প্রাথমিক পর্যায়ে। কাশি বা কফ জমার সমস্যা বলে যা ভ্রম হচ্ছিল এত দিন, পরে হয়তো দেখা যায়, তা-ই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গিয়ে ফুসফুসের ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠেছে। মানুষের শরীরকে বিভ্রান্ত করে ফুসফুসের ক্যানসার নিউমোনিয়ার মতো লক্ষণ ফুটিয়ে তোলে প্রাথমিক পর্বে। এমনটাই দাবি করেছেন গবেষকেরা। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)-র গবেষকদের দাবি, প্রথম পর্যায়ে নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের ক্যানসারের উপসর্গ একই রকম থাকে। তাই রোগী ধরতেই পারেন না, আসলে কোন অসুখ বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হল জ্বর। সঙ্গে কাশি। পাশাপাশি, শ্বাসকষ্টও থাকে। সংক্রমণ যত বাড়ে, শ্বাসকষ্টও বাড়তে থাকে। বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকের ব্যথার এই ধরন তবে একটু আলাদা। সাধারণত, গভীর শ্বাস নেওয়ার সময়ে এই বুকের ব্যথা অনুভূত হবে। ফুসফুসের প্রদাহের কারণে এই ব্যথা হয়। এ ছাড়া, মাথায় যন্ত্রণা, ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া, খাওয়ায় অনীহা, সারা ক্ষণ বমি বমি ভাবও আনুষঙ্গিক লক্ষণের মধ্যে পড়ে। ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণও অনেকটা সে রকমই। তবে আরও কিছু উপসর্গ এ ক্ষেত্রে দেখা দেয়, শুকনো কাশি মাসের পর মাস থেকে যাবে, কাশির সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসবে, হঠাৎ করেই ওজন কমতে থাকবে, অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও রোগ সারবে না। এমআইটির গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ঘন ঘন নিউমোনিয়া হয়েছে, এমন ব্যক্তির ভবিষ্যতে ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। যদি দেখা যায়, বিশেষ কিছু জিনে রাসায়নিক বদল (মিউটেশন) হচ্ছে, তা হলে সেখানকার কোষগুলির অস্বাভাবিক ও অনিয়মিত বিভাজন হতে শুরু করবে। ফলে খুব তাড়াতাড়ি টিউমার কোষ তৈরি হবে, যা ফুসফুস থেকে শ্বাসনালি অবধি ছড়িয়ে পড়বে। আবার উল্টোটাও হতে পারে। ফুসফুসের ক্যানসার রয়েছে, এমন ব্যক্তির ঘন ঘন নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। চেস্ট এক্স-রে ও লো-ডোজ় সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে ফুসফুসের সংক্রমণ কতটা মারাত্মক পর্যায়ে গিয়েছে, যা থেকে চিকিৎসকেরা অনুমান করেন যে, রোগটি কেবল নিউমোনিয়া, না কি তা ক্যানসারের দিকে গড়িয়েছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আরও কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে এসেছেন, যা নিউমোনিয়া ও ক্যানসারের মধ্যে তফাত করতে পারবে প্রাথমিক পর্ব থেকেই। নতুন একটি এআই মডেল তৈরি হয়েছে, যার নাম ‘সিবিল’। এই পদ্ধতিতে এআই অ্যালগরিদ্‌মের সাহায্যে সিটি স্ক্যানের ডেটা বিশ্লেষণ করে ধরা যায়, কোনও ব্যক্তির ফুসফুসের অবস্থা কেমন। আগামী ৬ বছরের মধ্যে তাঁর ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি আছে কি না। এমআইটির গবেষকদের তৈরি বিশেষ রকম চেস্ট এক্স-রে নিউমোনিয়া ও ক্যানসারের মধ্যে তফাত ধরতে পারবে। ফুসফুসের কোষের বিভাজন শুরু হয়েছে কি না, তা ধরা যাবে এই পদ্ধতিতে। ব্রিদালাইজার টেকনোলজিতে বিশেষ ধরনের বায়োমার্কার ব্যবহার করে ফুসফুসের রোগের কারণ চিহ্নিত করতে পারবেন গবেষকেরা। ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসঘটিত নিউমোনিয়া, না কি ক্যানসার, সেই সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরা যাবে গোড়াতেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles