শিল্ড জয়ের দু’সপ্তাহও কাটেনি। তারমধ্যে আবার ডার্বি। এবার মান্ডবীর তীরে মুখোমুখি ইস্ট-মোহন। সপ্তাহ দুয়েক আগে খাতায় কলমে এগিয়ে ছিল ভারতসেরারা। যুবভারতীতে টাইব্রেকারে ইস্টবেঙ্গলকে হারায় মোলিনার দল। কিন্তু এবার কিছুটা ব্যাকফুটে থেকে শুরু করবে বাগান। গোল পার্থক্যে এগিয়ে অস্কার ব্রুজোর দল। অর্থাৎ, শুক্রবারের ডার্বি ড্র হলেও সুপার কাপের শেষ চারে চলে যাবে ইস্টবেঙ্গল। সেখানে মোহনবাগানকে জিততেই হবে। সুপার কাপের প্রথম ম্যাচের পর সুবিধাজনক জায়গায় ছিলেন ম্যাকলারেন, কামিন্সরা। বরং, চাপে ছিল লাল হলুদ। শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে থাকতে চেন্নাইনের বিরুদ্ধে জিততেই হত। ইস্টবেঙ্গলের চার গোলে জয় এবং ডেম্পোর সঙ্গে মোহনবাগানের ড্র পুরো পরিসংখ্যান বদলে দিয়েছে। তবে গোল পার্থক্য নিয়ে ভাবতে চাইছেন না মোলিনা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিপক্ষ যখনই ইস্টবেঙ্গল, জয় ছাড়া কিছুই ভাবেন না। মোলিনা বলেন, ‘বর্তমানে ইস্টবেঙ্গল ভাল জায়গায় আছে। একটা ড্র করলেই ওরা সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। সেই অ্যাডভান্টেজ ওদের আছে। তবে আমার জন্য গোল পার্থক্য কোনও সমস্যার নয়। আমরা সবসময় মাঠে নামি জেতার জন্য। সমর্থকরা চায় আমরা ইস্টবেঙ্গলকে হারাই। ড্র খারাপ রেজাল্ট নয়। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নামলে প্রথম লক্ষ্যই থাকে ওদের হারানো। শিল্ড ফাইনাল জেতার পর আমি করিডোরে সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কয়েকজন ফ্যান এসে সুপার কাপের ডার্বি জেতার আবদার করে। আমাদের সেটাই করতে হবে। সবাই কী চায় আমরা জানি। রেজাল্ট কী হবে জানা নেই। তবে আমরা নিজেদের সেরাটাই দেব।’
আগের মরশুমের তুলনায় এবার শক্তিশালী ইস্টবেঙ্গল। চলতি বছর শুরুতেই জোড়া ডার্বি জয়। অবশ্য বড় ম্যাচ জয়ের হ্যাটট্রিক করতে পারেনি লাল হলুদ। শিল্ড ফাইনালে টাইব্রেকারে হারে। তবে সুপার কাপে অস্কারের দল ছন্দে আছে। এবারের লড়াই কি আরও কঠিন? বিপক্ষ নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাননি বাগান কোচ। মোলিনা বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল সবসময় মোহনবাগানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলে। ওরা কোন দিকে উন্নতি করেছে সেটা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। ওদের বিরুদ্ধে খেলা সবসময় তাৎপর্যপূর্ণ। ওরা সবসময় লড়াই করে। দলে ভাল ফুটবলার রয়েছে। তবে আমার নিজের দলের ওপর বিশ্বাস আছে।’ আগের মরশুমের তুলনায় এবার ছন্দে নেই জেমি ম্যাকলারেন, জেসন কামিন্স, দিমিত্রি পেত্রাতোসরা। একাধিক গোল মিস করছে অস্ট্রেলিয়ান ত্রয়ী। তাঁদের নিয়ে কি চিন্তিত মোলিনা? একেবারেই না। বরং, তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন। মোলিনা বলেন, ‘এই মরশুমটা কারোর জন্য সহজ নয়। খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। লিগ হচ্ছে না। শুধুমাত্র ট্রেনিং সেশনের ওপর নির্ভর করবে। খেলার মধ্যে না থাকলে সেরা ছন্দ ফিরে পাওয়া যায় না। আমরা চেষ্টা করছি নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে।’ গোয়ায় সমর্থকদের মিস করবেন মোলিনা। তবে ফ্যানদের জন্য ডার্বি জেতার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন বাগান কোচ।
সুপার কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান। তার আগে ডেম্পো মুখোমুখি চেন্নাইয়িনের। এই দু’টি ম্যাচের উপর নির্ভর করছে গ্রুপ থেকে কোন দল সেমিফাইনালে যাবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শুধু শীর্ষস্থানীয় দলই সেমিফাইনালে উঠবে। বিকেল সাড়ে ৪টেয় ডেম্পোর খেলা চেন্নাইয়িনের সঙ্গে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচের ফলের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে কলকাতার দুই প্রধানের ভবিষ্যৎ। ডেম্পো জিতলে এবং ডার্বির ফয়সালা হলে ডেম্পো জিতলেও ডার্বিতে যারা জিতবে তারাই সেমিফাইনালে। ডেম্পো চেন্নাইয়িনকে হারিয়ে দিলে পাঁচ পয়েন্ট হবে। এর পর কলকাতা ডার্বি ড্র হলে (গোলসংখ্যা যা-ই হোক না কেন) তিন দলেরই পাঁচ পয়েন্ট হবে। ডেম্পো যদি অন্তত পাঁচ গোলের ব্যবধানে জেতে তা হলে গোলপার্থক্যে তারা সকলকে টপকে সেমিফাইনালে যাবে। ডেম্পো যদি চার গোলের ব্যবধানে (শুধুই ৪-০) জেতে এবং ডার্বি গোলশূন্য ড্র হয়, তা হলে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ডেম্পোর পয়েন্ট, গোল পার্থক্য, গোল দেওয়ার সংখ্যা সমান হবে। তখন দুই দলের মধ্যে টস হবে। মোহনবাগানের কোনও সুযোগ থাকবে না। ডেম্পো যদি চার গোলের ব্যবধানে (৫-১ বা ৬-২ বা ৭-৩ বা আরও বেশি) জেতে এবং ডার্বি যদি ড্র (গোলশূন্য ছাড়া) হয়, তা হলে ইস্টবেঙ্গলকে সেমিফাইনালে যেতে হলে ডেম্পো যত গোল খাবে তার থেকে বেশি গোল দিয়ে ডার্বি ড্র করতে হবে। যদি ডেম্পোর গোল খাওয়া এবং ড্র হওয়া ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের গোল দেওয়ার সংখ্যার সমান হয়, তা হলে টস হবে। কোনও ক্ষেত্রেই মোহনবাগানের কোনও সুযোগ থাকবে না। ডেম্পো পয়েন্ট নষ্ট করলেই তাদের শেষ চারে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। হারলে দুই পয়েন্টেই আটকে থাকবে। ড্র করলে হবে তিন পয়েন্ট। দু’টি ক্ষেত্রেই তারা ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের থেকে পয়েন্টে পিছিয়ে থাকবে। দুই প্রধানেরই চার পয়েন্ট রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ডার্বিতে যারা জিতবে তারা সেমিফাইনালে যাবে। ডেম্পো পয়েন্ট নষ্ট করলে এবং ডার্বি ড্র হলে সে ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান দুই দলেরই পাঁচ পয়েন্ট হবে। গোল পার্থক্যে ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে চলে যাবে।





