Tuesday, April 28, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সুপার কাপের শুরুতেই আটকে গেল লাল-হলুদ!‌ চেন্নাইয়িনকে হারিয়ে অভিযান শুরু শিল্ডজয়ী মোহনবাগানের!‌

জিতেই সুপার কাপে অভিযান শুরু করল মোহনবাগান। ফতোরদা স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে হারিয়ে দিল চেন্নাইয়িন এফসি-কে। দু’টি গোলই করলেন অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকার জেমি ম্যাকলারেন। ইস্টবেঙ্গল ডেম্পোর কাছে আটকে গেল। জিতে বাড়তি সুবিধায় মোহনবাগান। তিন বিদেশিকে দিয়ে প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন হোসে মোলিনা। টম অলড্রেড, আলবের্তো রদ্রিগেস এবং ম্যাকলারেনকে রেখেছিলেন। শুরুতে চেন্নাইয়িন একটি ফ্রিকিক পেলেও বাগানের রক্ষণ তা বিপন্মুক্ত করে। মোহনবাগান চেষ্টা করছিল লম্বা বলে খেলতে। বাঁ দিক থেকে শুভাশিস বসুর একটি ক্রস ধরে ফেলেন চেন্নাইয়িনের গোলকিপার নওয়াজ়। ডান দিক থেকে মনবীর সিংহ এবং বাঁ দিক থেকে লিস্টন কোলাসো আক্রমণ করতে থাকেন। মিনিট দশেক পরেই জোরে বৃষ্টি নামে। বেশ অনেক ক্ষণ বৃষ্টি চলার কারণে মাঠের কিছু জায়গায় জল জমে যায়। ফলে মোহনবাগান ফুটবলারদের পাস খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। তবে চেন্নাইয়িনের তুলনায় আক্রমণ তাদেরই বেশি হচ্ছিল। মনবীরকে চোট সারিয়ে ফেরা এই ফুটবলার। নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া ছিলেন। চেন্নাইয়ের রক্ষণ ভেঙে বার বার বক্সের কাছাকাছি চলে যাচ্ছিলেন। তবু গোল আসছিল না। ভাল একটি সুযোগ এসেছিল ৩১ মিনিটে। মাঝমাঠে বল পেয়েছিলেন সাহাল সামাদ। চেন্নাইয়ের বক্সের দিকে দৌড়তে থাকেন। প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। শেষ মুহূর্তে তাঁকে আটকে দেন প্রীতম কোটাল। বল অনিরুদ্ধ থাপার কাছে যায়। তাঁর থেকে বল কেড়ে নেন বিগ্নেশ। চার মিনিট পরে গোলের সুযোগ পেয়েছিল চেন্নাইয়িন। মন্দার রাও দেসাইয়ের নেওয়া কর্নার ক্লিয়ার করেছিলেন আলবের্তো রদ্রিগেস। ফিরতি বল যায় লালডিনলিয়ানার কাছে। তাঁর থেকে বল পেয়ে জিতেশ্বর সিংহ শট নিয়েছিলেন। নিশ্চিত গোল বাঁচান বিশাল কাইথ। ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। লালডিনলিয়ানাকে কাটিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন লিস্টন। তিনি পাস দেন ম্যাকলারেনকে। অসি স্ট্রাইকার অর্ধেক সুযোগ থেকে গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকে দাপট বজায় রাখে মোহনবাগান। ম্যাকলারেনকে বেশি সক্রিয় লাগছিল। কখনও অনিরুদ্ধ, কখনও লিস্টনের সঙ্গে পাস খেলে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। বিদেশি ছাড়া খেলতে নেমেও বাগানকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল চেন্নাই। ম্যাকলারেন দ্বিতীয় গোল করেন ৬৭ মিনিটে। শুভাশিস লম্বা পাস দিয়েছিলেন মনবীরের উদ্দেশে। বাঁ প্রান্ত ধরে দৌড়ে বক্সে বল ভাসান মনবীর। সেই বল আটকাতে গিয়ে ম্যাকলারেনের সামনে থাকা ডিফেন্ডার পিছলে পড়ে যান। চলতি বলে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ম্যাকলারেন। ৭৫ মিনিটে আবার এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। বক্সের কাছে বল পেয়েছিলেন মনবীর। নিজে গোল না করে লিস্টনকে পাস দেন। সেটি আটকে দেয় চেন্নাইয়ের রক্ষণ। ফিরতে বল মনবীরের কাছে এলেও গোলমুখ তত ক্ষণে বন্ধ করে দিয়েছিল চেন্নাই। মনবীর পাস দেন অনিরুদ্ধকে। সেই শটে গোল হয়নি। দশ মিনিট পরে জেসন কামিংসও বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে গোল করতে গিয়েছিলেন। তবে দুর্বল শট অনায়াসে ধরে নেন নওয়াজ়। শেষ দিকে চেন্নাই একটি সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেনি।

আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে হার এবং সন্দীপ নন্দী ও অস্কার ব্রুজ়‌োর ঝামেলা কি প্রভাব ফেলেছে ইস্টবেঙ্গলে? না হলে সুপার কাপের প্রথম ম্যাচেই কী ভাবে আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল? বিদেশি না-থাকা ডেম্পোর বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ার পর এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র করল তারা। ম্যাচ শেষ হল ২-২ ব্যবধানে। গ্রুপ থেকে একটি দলই সেমিফাইনালে উঠবে। ফলে ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই ড্র নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। মোহনবাগান যদি এ দিন চেন্নাইয়িনকে হারিয়ে দেয় এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ডেম্পোকেও হারায়, তা হলে অনেকটা এগিয়ে থেকে কলকাতা ডার্বিতে নামবে। ডেম্পোকে যে হালকা ভাবে নিতে চাননি এটা বোঝা গিয়েছিল অস্কার ব্রুজ়‌োর প্রথম একাদশ দেখেই। পাঁচ বিদেশিকে নিয়ে শুরু করেন তিনি। সেন্টার ব্যাকে আনোয়ার আলি এবং কেভিন সিবিলেকে রাখেন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ এবং সাউল ক্রেসপোকে দিয়ে শুরু করেন। শুরুতেই সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের কাছে। বাঁ দিক থেকে বিপিন সিংহ বল ভাসিয়েছিলেন। তা আসে হিরোশি ইবুসুকির কাছে। ইবুসুকির জোরালো শট লাগে বারে। আক্রমণ হচ্ছিল মূলত বাঁ দিকে বিপিনের থেকে। তিনি একের পর এক ক্রস ভাসাচ্ছিলেন। তা ক্লিয়ার করে দিচ্ছিল ডেম্পোর রক্ষণ। খেলার বিপরীতেই এগিয়ে যায় গোয়ার দলটি। ইস্টবেঙ্গল গোল খায় দেবজিৎ মজুমদারের ভুলে। ফ্রিকিক থেকে বল ভেসে এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের বক্সে। দেবজিৎ এগিয়ে এসে বলটি ঘুষি মেরে ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন। বলের সঙ্গে হাতের সংযোগই হয়নি। বল গিয়ে পড়ে মহম্মদ আলির কাছে, যিনি ফাঁকা গোলে বল ঠেলেন। আক্রমণাত্মক খেলেও আচমকা গোল খেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। সেই সুযোগ আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় ডেম্পো। তাদের আত্মবিশ্বাস তখন তুঙ্গে। ইস্টবেঙ্গলের উপর চাপ বাড়াতে থাকে তারা। ফলে লাল-হলুদেরও খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। ইবুসুকি আর একটি সুযোগ পেলেও ডেম্পোর গোলকিপারের দক্ষতায় গোল আসেনি। প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে। সমতা ফেরান মহেশ। ডান দিক থেকে আক্রমণ শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। হামিদ আহদাদ দূর থেকে শট নিয়েছিলেন। ডেম্পোর গোলকিপার তা প্রতিহত করলে বল গিয়ে পড়ে মহেশের কাছে। তিনি নিচু শটে গোল করেন। গোল পেয়েই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় ৫৭ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত ধরে ডেম্পোর বক্সের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন মিগুয়েল। তাঁকে উঁচু করে পাস দেন লালচুংনুঙ্গা। সেই বল ধরে দুরূহ কোণ থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন মিগুয়েল। ছ’মিনিট পরেই তাঁর শট লাগে পোস্টে। ছোট কর্নার থেকে মহেশকে বল পাস দিয়েছিলেন মিগুয়েল। ফিরতি বল পেয়ে তিনি বাঁকানো শট নেন। তা লাগে বারে। এক গোলে এগিয়ে থাকলেও তা কখনওই নিরাপদ নয়। তাই আরও গোলের জন্য আক্রমণ বাড়াতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। প্রতি আক্রমণে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে তারা। হামিদকে তুলে ডেভিড লালানসাঙ্গাকে নামিয়ে দেন অস্কার। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে গোল হজম করে ইস্টবেঙ্গল। বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন জয়েশ রানে। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ ভাগকে বোকা বানিয়ে নিচু শটে গোল করেন তিনি। কিছু করার ছিল না দেবজিতের। সংযুক্তি সময় ছ’মিনিট। তাও ইস্টবেঙ্গল আর গোল করতে পারেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles