RK NEWZ বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। চলতি বিধানসভা ভোটের আবহে বার বার কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে আবাধ এবং সুষ্ঠু ভাবে ভোট করানোই তাদের লক্ষ্য। রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন সংস্থা তল্লাশি চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে থেকে ৪৮ লক্ষ ৪৬ হাজার ১৮৩ লিটার মদ উদ্ধার করেছে। কমিশন সূত্রে খবর, গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এ বার রাজ্যে মদ উদ্ধারের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ৪১ কোটি টাকার মদ উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২১-এ প্রায় ১৩৬ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এ বার ৩৩৯ কোটি টাকার মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে আগামী বুধবার। তার আগে মদ এবং মাদক বাজেয়াপ্ত করার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে, যেখানে প্রার্থী খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে একটি কুরুচিকর ভিডিয়ো নিয়ে সক্রিয় হল কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রচারে একে অন্যের দিকে বার বার তোপ দেগেছেন দুই প্রার্থী। শনিবার চক্রবেড়িয়ায় সভা ছিল মমতার। সেই সভায় ‘বিপত্তি’ দেখা দেয়। তাঁর সভাস্থলের কিছুটা দূরে বিজেপি মাইক প্রচার শুরু করে বলে অভিযোগ। তার জেরে ওই সভায় কয়েক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়েই তা শেষ করে দেন মমতা। ওই বক্তৃতা জুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অসভ্যতামির’ অভিযোগ তোলেন তৃণমূলনেত্রী। পরের দিন, রবিবার সেই এলাকায় পদযাত্রা করেন মমতা। সূত্রের খবর, মমতাকে নিয়ে একটি কুরুচিকর ভিডিয়োর ঘটনায় পদক্ষেপ করল কমিশন। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কুরুচিকর মিমের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশকে পদক্ষেপ করতে বলল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ওই ‘মিম’টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। তা নিয়ে কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। তবে সেটি নজরে পড়তেই পুলিশকে পদক্ষেপ করতে বলেছে কমিশন। সূত্রের খবর, ওই ভিডিয়ো নিয়ে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা রুজু হতে পারে।
শেষ হয়ে গেল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারাভিযান। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং যোগী আদিত্যনাথ বিজেপির তিন ‘মহাতারকা প্রচারক’ একযোগে প্রচারের ময়দানে থাকলেন অন্তিম দিনে। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতা তথা ভবানীপুর ছুঁয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রচারাভিযান শেষ করবেন বলে যে কথা বিজেপি সূত্রে মাসখানেক আগে জানা গিয়েছিল, তা ঘটল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গ’ হিসাবে পরিচিত দক্ষিণ কলকাতায় মোদীর কোনও কর্মসূচি হল না। যেমন হল না সেই ভবানীপুরেও, যেখানে প্রার্থী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ বারের প্রচারাভিযানে মোদীর শেষ কর্মসূচি হবে দক্ষিণ কলকাতায় রোডশো, এমন পরিকল্পনার কথা বিজেপি সূত্রেই বলা হয়েছিল মার্চের শেষ সপ্তাহ নাগাদ। বিজেপির তরফে সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বিবৃতি ছিল না। কিন্তু ভবানীপুর এবং রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে মোদী প্রচার শেষ করবেন, এমন সম্ভাবনার কথা একাধিক বিজেপি সূত্র জানিয়েছিল। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ শোনা যায়, সে পরিকল্পনা বাতিল হচ্ছে। ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ এসপিজি (প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী) দক্ষিণ কলকাতায় মোদীর রোডশোয়ের অনুমতি দিচ্ছে না বলে বিজেপি সূত্র দাবি করেছিল। প্রাথমিক ভাবে শিলিগুড়ি শহরেও প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে রোডশো করানোর ভাবনা ছিল বিজেপির। কিন্তু সেটির ক্ষেত্রেও অনুমতি মেলেনি। তাই শিলিগুড়িতে মোদী জনসভা করেন। আর তার আগের সন্ধ্যায় মাটিগাড়ায় রোডশো করেন। দক্ষিণ কলকাতার ক্ষেত্রে রোডশো বা জনসভা কিছুই হল না। যদিও বিজেপির একাংশের যুক্তি, ব্রিগেড ময়দান দক্ষিণ কলকাতার অন্তর্গত। ফলে মোদী দক্ষিণ কলকাতায় সবচেয়ে বড় সমাবেশটিই করেছেন। যদিও সে সমাবেশ হয়েছিল ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণারও আগে। এবং সেটি ছিল বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির সভা। সে সভায় ভিড়ের বহর বিজেপিকে খুশিই করেছিল। তৃণমূলের ‘দুর্গ’ বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খাসতালুক’ হিসাবেই দক্ষিণ কলকাতা পরিচিত। যেখানে এ বারের ভোটে বিজেপি একাধিক ‘ওজনদার’ প্রার্থী নামিয়েছে। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু, যাঁর মনোনয়নে শামিল হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং। হাজরা মোড় থেকে মমতার বাড়ির গলির সামনে দিয়ে মিছিল করে শুভেন্দুর সঙ্গে শাহ গিয়েছিলেন আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে। সেই দিনই মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ হিসাবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত। ঘটনাচক্রে, রাসবিহারীতে স্বপনের নাম ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রতিপক্ষ তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার ইডি, আয়কর হানা এবং তলবে জেরবার। অনেকেই একে নিছক ‘সমাপতন’ হিসাবে দেখতে রাজি নন। ফলে ভবানীপুর এবং রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী রোডশো করবেন বলে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের আশা ছিল। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি। মোদী কলকাতায় রোডশো করেছেন। তবে দক্ষিণে নয়, উত্তরে। ভোট ঘোষণার পর থেকে জনসভা এবং রোডশো মিলিয়ে মোট ১৯টি কর্মসূচি করেছেন মোদী। পরিকল্পনামাফিক ২৭ তারিখে ছিল তাঁর শেষ কর্মসূচি। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে জনসভা করে প্রচারে ইতি টেনেছেন প্রধানমন্ত্রী।




