Monday, May 4, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সৌরভের ভোকাল টনিকে চাঙ্গা বাংলা!‌ রঞ্জি অভিযানে ঈশ্বরণদের বাংলার অস্ত্র বোলিং

সৌরভ মাঠে আসতেই চাঙ্গা হয়ে যান বাংলার ক্রিকেটারেরা। অভিমন্যু ঈশ্বরণদের পেপ টক দিলেন মহারাজ। বুধবার ঘরের মাঠে রঞ্জি অভিযান শুরু করছে বাংলা। প্রতিপক্ষ উত্তরাখণ্ড। পূ্র্ণশক্তির দল নিয়েই খেলতে নামছে বঙ্গ ব্রিগেড। সোমবার সকালে ইডেনে বাংলা দলের অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। চার দশকের বেশি সময় ধরে রঞ্জি ট্রফি জেতেনি বাংলা। শেষ পাঁচ মরশুমে দুইবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি জেতা হয়নি। এবার রঞ্জি জয়ের লক্ষ্য নিয়েই অভিযান শুরু করছে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল।অনুশীলনে অধিনায়ক অভিমন্যুর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মহরাজ। মহম্মদ সামি, আকাশদীপ, ঈশান পোড়েল বোলিং আক্রমণেই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মরিয়া বাংলা। সোমবার অনুশীলন করছেন আকাশ দীপও। নেটে বেশ কিছুক্ষণ বল করার পরে ব্যাটও করেন। সৌরভের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন আকাশ। মঙ্গলবার দলের অনুশীলনে যোগ দেবেন সামি। সৌরভ বলেন, সারা বছর একসঙ্গে অনুশীলন করে, পরশু থেকে মরশুম শুরু করছে। আমি এসেছিলাম ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা জানাতে। ঈশ্বরণের সঙ্গে অধিনায়কত্ব নিয়ে কোনও কথা হয়নি। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম কী দল খেলাবে। শামি-আকাশদীপরা রয়েছেন মুকেশ থাকলে আরও ভালো হত। সবাই ভারতে খেলে, ফলে রঞ্জিতে হোম অ্যাওয়ে খুব বেশি ফ্যাক্টর করে না। কয়েকদিন আগে বাংলার প্র্যাকটিসে প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক ছিলেন সৌরভ। নেটে প্রত্যেক ক্রিকেটারের ব‌্যাটিং-বোলিং আলাদা করে দেখেন। কার কোথায় সমস‌্যা সে’সব শুনেন সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেন।ঈশান পোড়েলকে বেশ কিছুক্ষণ টিপস দিলেন। অভিষেক পোড়েলকে আলাদা করে ক্লাস করান।

বাংলার ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম প্রাক্তন অলরাউন্ডার লক্ষ্মীরতন শুক্লা দলের বহু জয়ের কারিগরও। ক্রিকেট থেকে অবসরের পর এখন বাংলার কোচ। বুধবার থেকে শুরু ঘরের মাঠে রঞ্জি ট্রফি অভিযান। ইডেনে জোর কদমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। নতুন মরশুম শুরুর আগে দীর্ঘ, একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন এবিপি লাইভ বাংলাকে। বাংলার ক্রিকেট কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বললেন, কোচ নয়, আমি টিমম্যান হিসাবে কাজ করি। যখন খেলতাম, তখনও টিমম্যান ছিলাম। আমি দরকারে ছেলেদের বল থ্রো-ও করি, জল বয়ে নিয়ে যাই। এটাই আমাদের সংস্কৃতি। আমি সেটাই করার চেষ্টা করি। কোচ হিসাবে কোনওদিন চেয়ারে বসে কোচিং করাই না। কোচিং ব্যাপারটাকে ওইভাবে দেখিনি কোনওদিন। আমি সৌভাগ্যবান যে, ক্রিকেট খেলার পর বাংলাকে কোচিং করানোর সুযোগও পেয়েছি। বাচ্চাদের ভাল হলে দলের ভাল হবে, বাংলার ভাল হবে। সবার আগে নিজের ভাল করতে হবে। তাতে এমনিই দলের ভাল হবে, দেশের ভাল হবে। আমি সেটাও ছেলেদের বোঝাতে চেষ্টা করি। বলি, নিজের ভালর কথা ভাবো। আমি ওদের স্বার্থপর হতে বলি। কীরকম স্বার্থপর? ব্যাট করতে গিয়ে অফস্টাম্পের বাইরের বল খেলব না। বল করতে গিয়ে অফস্টাম্পের লাইনের বাইরে বল করব না। সেটাই চেষ্টা করছি ছেলেদের শেখানোর। অনেকটা পেরেছি। সবটা করতে হবে। পরিশ্রম আর সততার বিকল্প নেই। তুমি যেরকম, সেরকম থাকতে হবে। মৌসম্বীর রস দামি, ভিটামিন সি কম। তার চেয়ে আমলকি সস্তা, ভিটামিন সি বেশি।

আমার দর্শনটাই হল, তুমি নিজেকে সস্তা রাখো, খুব দামি ভেবো না। নিজেকে বেশি মূল্যবান ভাবলে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে। মাটিতে পা রেখে চলো। রুটি খাবে না পরোটা খাবে, সেটা তোমাকে বেছে নিতে হবে। যেদিন আমার দলের সবাই রুটিতে স্বচ্ছন্দ হবে, সেদিন দল হিসাবেও আমরা এগিয়ে যাব। যেদিন নিজেকে বুঝতে পারব, সেদিন এগোতে পারব। সফল হলেও একই রুটিন বজায় রাখতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন আর দুর্বল দল হয় না। সব দলই ভাল দল। কারণ, সবাই পেশাদার ক্রিকেটার নিয়ে আসে। ত্রিপুরাকে দেখুন। হনুমা বিহারীদের নিয়ে এসেছে। আজকের বিহার, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, কেরলের সঙ্গে আগেকার বিহার, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, কেরলের তুলনা করলে চলবে না। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে আমরা মুম্বইকে হারালাম, পাঞ্জাবকে হারালাম, কোয়ার্টার ফাইনালে অসমকে পেয়েও মোহালিতে হেরে গেলাম। কেউ ভাবতে পেরেছে? পাঞ্জাবে ১৩জন আইপিএল প্লেয়ার ছিল। অসমে সেখানে শুধু রিয়ান পরাগ। অথচ হেরে গেলাম। গ্রুপ দেখে খেলা হয় না। ক্রিকেট তোলে, ক্রিকেটই নামায়। শুরুতেই পরপর দুই ম্যাচ ইডেনে। চেনা মাঠ হোক বা অচেনা মাঠ, মোদ্দা কথা হল অফস্টাম্পের বাইরের বল ছাড়তে হবে আর অফস্টাম্পে বোলিং করতে হবে। আমরা চেনা মাঠে, ঘরের মাঠে তো রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল খেলেছিলাম। কী হয়েছিল? সৌরাষ্ট্রের কাছে হেরে গিয়েছিলাম। রানার্স হলাম। চেনা-অচেনা বড় কথা নয়, নিজেকে চিনতে হবে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের সকলের মেন্টর। সব সময় উৎসাহ দেয়।

দাদার কাজ দাদা করে যাবে, ভাইয়েদের কাজ সেটা মেনে চলা। দাদি ড্রেসিংরুমে গিয়েই নিজের হাতে ব্যাট তুলে নিল। দাদির সঙ্গে খেলেছি। ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছি। রুম শেয়ার করেছি। রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ, এরা ভীষণ ইতিবাচক। দাদি ছেলেদের বলল, বল ছাড়তে হবে। উইকেট বুঝতে হবে। নিজের ব্যাটিং বুঝতে হবে। সময় দিতে হবে। এরকম চিন্তাভাবনা করে বলেই এরা গ্রেট। অনুপ্রেরণা। এ জন্যই দাদিকে ডাকলাম। বললাম, তুমি না বললে ছেলেদের আর কে বলবে? কাকে পাচ্ছি, সেটা বড় কথা নয়। বাংলার হয়ে খেলে ওরা ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। জীবনে যা কিছু হয়েছে, বাংলার জন্য হয়েছে। ওদের সেই জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। ভারতীয় দলের তারকারা খেলছে বলে আমি খুশি, তবে উল্লসিত নই। আমার দলে কোনও তারকা নেই। তারকা প্রথায় আমি বিশ্বাস করি না। তোমাকে বাংলার হয়ে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে, পারফর্ম করতে হবে। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ভারত এ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। রুকুকে (অনুষ্টুপ মজুমদার) আমি অধিনায়ক করেছিলাম। এবার সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হয় যে, অভিমন্যুকে নেতৃত্বে আনা হবে। অনুষ্টুপ বাংলার ক্রিকেটের দারুণ এক প্রাপ্তি। ওর ব্যাটিং এখনও বাংলা দলের ভরসা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles