উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে টলিপাড়া! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টের শিরোনাম— ‘উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি’। দেব ও প্রসেনজিৎ-সহ টলিপাড়া উত্তরবঙ্গের পাশে। দুর্গাপুজোর কার্নিভালে উপস্থিত থেকে কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এ বার দেব ও টলিপাড়ার অন্য তারকাদের সঙ্গে জোট বেঁধে উত্তরবঙ্গের বন্যাবিধ্বস্তদের সাহায্যের হাত বাড়ালেন। প্রসেনজিৎ তাঁর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টের শিরোনাম— ‘উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি’। “আমরা উত্তরবঙ্গের তীব্র কান্না অনুভব করতে পারি। এই সময়ে আমরা, হাতে হাত ধরে আপনাদের যুদ্ধের অংশীদার হওয়ার তাগিদ অনুভব করেছি। কারণ উত্তরবঙ্গের মানুষদের ছা়ড়া আমাদের সিনেমা, আমাদের অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ। এই লড়াইয়ের দিনে আমরা উত্তরবঙ্গেই আমাদের মন পড়ে আছে। আমার ভৌগোলিক ভাবে অনেক দূরে থাকতে পারি, কিন্তু মনের দিক থেকে আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের সাহসই আমাদের শক্তি।”
টলিপাড়ার তারকা ও কলাকুশলীরা মিলে এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ত্রাণের জন্য ২০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছেন। এই ত্রাণের অর্থ তুলে দেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। মঙ্গলবার ‘দেবী চৌধুরানী’র বিশেষ প্রদর্শনে উপস্থিত ছিলেন দেবও। এই অনুষ্ঠানেই দেব ও প্রসেনজিৎ একসঙ্গে ঘোষণা করেন ত্রাণের কথা। দু’জনেই একজোটে জানান, টলিপাড়া এক হয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও বাংলার মানুষের প্রয়োজনে ও দুর্দিনে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন। দেব নিজেও তাঁর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ করছে দেবের সহযোগী দল। সেই সঙ্গে দেবের পোস্টারে লেখা— ‘উত্তরের বন্যায় দেব’। দেব নিজে লেখেন, “উত্তরবঙ্গের এই কঠিন সময়ে আমি পাশে আছি, প্রার্থনা করি সবাই সুস্থ থাকুক ও এই কঠিন সময় খুব তাড়াতাড়ি কেটে যাক। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই বলেছেন যে তাঁরা উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত মানুষের পাশে থাকবেন।”
বিরাট ক্ষতির মুখে উত্তরবঙ্গ। দুর্যোগে প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট। যোগাযোগ ব্যবস্থাও হয়ে পড়েছে নাজুক। আটকা পড়েছে বহু পর্যটক। এমন করুণ পরিস্থিতিতে প্রাণ কেঁদেছে উঠেছে টলিউড অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র। অভিনেত্রী নিলেন এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। মুক্তির অপেক্ষায় রুক্মিণীর সিনেমা ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’। আগামী ৬ অক্টোবর ছবিটির টিজার মুক্তির কথা। কিন্তু নিজের দেশের একাংশের মানুষজনকে এমন অসহায় অবস্থায় রেখে টিজার উদযাপনে মন সায় দেয়নি নায়িকার। তাই মুক্তি পিছিয়ে দিয়ে সমাজমাধ্যমে রুক্মিণী লিখেছেন, ‘বন্যায় উত্তরবঙ্গে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ ছবির টিজার পিছিয়ে দেওয়া হবে। টিজার কবে মুক্তি পাবে সেটা আগামী সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।’ রুক্মিণীর এই পদক্ষেপ দারুণ প্রশংসিত হয়েছে অনুরাগী মহলে। প্রযোজনা সংস্থা ও রুক্মিণী মৈত্রর এই পদক্ষেপ যে মানবিকতার কথা উল্লেখ করে, তার প্রমাণ পেয়েছেন অনুরাগীরা। অবাধ্য বাবা আর তার দায়িত্বশীল মেয়ের মান অভিমানের গল্প নিয়ে ছবিটি। মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুক্মিণী। ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ এক চিরন্তন ভালবাসার গল্প। তবে সে ভালবাসা সমবয়সী নারী-পুরুষের প্রেম নয়! বরং প্রেমের সম্পর্কের বাইরেও যে প্রতিটা সম্পর্কেই গভীর এক আত্মিক টান, দায়িত্ববোধ,পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকে সেই ভালবাসার কথা বলে এই ছবি। যে সম্পর্কগুলো সৃষ্টির আদি থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের সবার জীবনে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অথচ সবথেকে বেশি অবহেলিত, উপেক্ষিত। যে গাছের গোড়ায় ভালবাসার সার জল সরবরাহ হয় ঐশ্বরিক ভাবে যে গাছ অলক্ষ্যে, অযত্নেও ফুল-ফল দিয়ে চলে, সে গাছের কথা আমরা যেমন ভুলে যাই… ঠিক তেমনই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ যেসব সম্পর্কগুলো, সেইসব সম্পর্কেও রোজ রোজ ভালবাসার কথা বলা হয় না বহুকাল। জীবনের টানাপড়েনে ‘আছে কিন্তু নেই’-এর মতো ছায়া হয়ে থেকে যাওয়া সম্পর্কের গল্প বলবে এই ছবি। ঝাপসা হয়ে যাওয়া সম্পর্কের উপর থেকে ধুলোবালির চাদর সরিয়ে আদর, যত্ন, ভালবাসার আলপথ ধরে ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ করে পৌঁছতে হয় এই গল্পের চরিত্রদের কাছে। এই ছবিতে রুক্মিণী মৈত্রর বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। এছাড়াও গল্পে রুক্মিণীর প্রেমিকের চরিত্রে থাকছেন অভিনেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়।





