আড়াই বছর পরে স্থানচ্যুত হল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। দীর্ঘ সময় পুরুষদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল লিও মেসির আর্জেন্টিনা। কাতারে গিয়ে ইতিহাস লিখে এসেছিল নীল-সাদা জার্সিধারীরা। বৃহস্পতিবারের প্রকাশিত ফিফার ক্রমতালিকায় মেসির দেশ এখন তিন নম্বরে নেমে গিয়েছে। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে নীল-সাদা জার্সিধারীরা হেরে যায় ইকুয়েডরের কাছে। সেই ম্যাচে অবশ্য নীল-সাদা জার্সিধারীদের হয়ে ছিলেন না লিও মেসি। তার আগে ঘরের মাঠে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে খেলেছিলেন এলএম ১০। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনা অবশ্য বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে। এখন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুটি ম্যাচ খেলবে। মার্কিন মুলুকে চলতি মাসের ১১ তারিখ ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে। ১৪ অক্টোবর পোর্তো রিকোর বিরুদ্ধে নামবে নীল-সাদা জার্সিধারীরা। এই দুটি ম্যাচ যেহেতু সামনে মায়ামিতে অনুশীলন করছে আর্জেন্টিনা। ভেনিজুয়েলার সঙ্গে ম্যাচটি হবে মায়ামিতে। পোর্তো রিকার বিরুদ্ধে খেলা হবে শিকাগোতে। কিন্তু শিকাগোতে বিক্ষোভ হচ্ছে। সেই কারণে পোর্তো রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের কেন্দ্র বদল করা হয়েছে। খেলাটি হবে মায়ামিতে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা ফুটবল দল আগামী নভেম্বরেই কেরলে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চলেছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তর। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে এতদিন কোনও খবর না মিললে এবার সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মেসিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার নাম প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। সূত্রের খবর, নভেম্বরের ১২ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে যে কোনও একদিন কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচটি আয়োজিত হবে। সঠিক দিন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে আর্জেন্টিনা দলের সাপোর্ট স্টাফের একজন বুধবার কোচিতে পৌঁছবেন ভেন্যু পরিদর্শনের জন্য। কেরলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সফর ঘিরে বেশ কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে শোনা গিয়েছিল, আর্জেন্টিনা নাকি আসবে না। তবে মাসের শেষেই সেই জল্পনা কাটিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা করে, নভেম্বরে ভারতের কেরলে একটি ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলবে। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বে, ২০২৫ সালের বাকি সময়ে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে। প্রথমটি অক্টোবরের ৬ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দ্বিতীয়টি নভেম্বরে, ১০ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে, আঙ্গোলার লুয়ান্ডা ও ভারতের কেরলে আয়োজিত হবে। প্রতিপক্ষ ও শহর পরে ঘোষণা করা হবে’। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার কার্যত নিশ্চিত, কোচিতে মেসির আর্জেন্টিনা খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে কেরল। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি. আব্দুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, এই বছরের নভেম্বর মাসে ফিফা ইন্টারন্যাশনাল উইন্ডোতে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দল এবং তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসি কেরালায় এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসছেন।
নজির গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সিআর সেভেনের নতুন নজির ফুটবলের সূত্রে হলেও মাঠের কোনও কীর্তি নয়। বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার ফুটবলার হলেন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ধনকুবেরের তকমা পেয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের মোট সম্পদের ভিত্তিতে করা ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স সূচকে প্রথম বার রোনাল্ডোর সম্পদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই হিসাবে ধরা হয়েছে রোনাল্ডোর গোটা ফুটবলজীবনে খেলা থেকে আয়, বিনিয়োগ, বিজ্ঞাপন থেকে আয়। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, রোনাল্ডোর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২,৪৩২ কোটি টাকার সম্পদের মালিক পর্তুগালের অধিনায়ক। তিনিই বিশ্বের প্রথম ধনকুবের ফুটবলার হলেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বেতন বাবদ ৫৫ কোটি ডলারের (প্রায় ৪৮৮৮ কোটি টাকা) বেশি আয় করেছেন। একটি ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে রোনাল্ডোর এক দশকের বেশি চুক্তি রয়েছে। বছরে ১.৮ কোটি ডলার (প্রায় ১৬০ কোটি টাকা) করে পান সেই সংস্থার থেকে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, লিয়োনেল মেসির বেতন বাবদ এখনএ পর্যন্ত আয় ৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ৫৩২৮ কোটি টাকা (কর দেওয়ার আগে)। ২০২৩ সাল থেকে তিনি বছরে বেতন বাবদ পাচ্ছেন দু’কোটি ডলারের (প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা) বেশি। যা একই সময়ে রোনাল্ডোর আয়ের প্রায় ১০ ভাগের এক ভাগ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রোনাল্ডো সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসেরে যোগ দেন। ওই সময় তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল ২৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের (প্রায় ২১০৪ কোটি টাকা) বেশি। এ বছরের জুনে নতুন করে দু’বছরের চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্যও ৪০ কোটি ডলারের (প্রায় ৩৫৫২ কোটি টাকা) বেশি। রোনাল্ডো জানিয়েছেন, ১০০০ গোল করেও থামতে চান না। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার পরিবারের সদস্যেরা বলেন, ‘তোমার এখন থেমে যাওয়ার সময় হয়েছে। তুমি সব কিছু অর্জন করেছ। কেন আবার হাজার গোলের পিছনে ছুট?’ কিন্তু আমি এ ভাবে দেখি না বিষয়টাকে। আমি এখনও ভালই খেলছি। ক্লাব এবং জাতীয় দলকে সাহায্য করতে পারছি। তা হলে কেন থামব?’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘যখন অবসর নেব, তখন সম্পূর্ণ তৃপ্তি অনুভব করব। এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। কারণ, আমি নিজের সব কিছু উজাড় করে দিয়েছি। জানি, আর খুব বেশি দিন খেলতে পারব না। তবে যে ক’দিন খেলব, নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দেব।’’ রোনাল্ডোর এখন গোল সংখ্যা ৯৪৬। তার মধ্যে দেশের হয়ে ২২৩টি ম্যাচ খেলে করেছেন ১৪১টি গোল।





