Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মহাসপ্তমিতে অতিথিদের ভিড় ডালমিয়া বাড়ির দূর্গাপূজোয়!‌ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার ছোঁয়ায় দীর্ঘক্ষণ সময় কাটালেন তারকারা

লোকে লোকারণ্য। মন ভরে বনেদী বাড়ির পূজো উপভোগ করছেন। সকল স্তরের মানুষকে একসূত্রে বেঁধে দেন তিনিই। অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী। তিনি প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া। কিংবদন্তি প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার পুত্র। সপ্তমীর সকাল থেকেই প্রচুর মানু্ষের যাতায়াত শহরের ১০ নম্বর আলিপুর রোডে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী ডালমিয়া বাড়ির পুজোয়। কেউ অভূক্ত থেকে ফিরতে পারবেন না। ভালোবাসা ও আন্তরিকতার ছোঁয়া। মহাসপ্তমিতে ভিড় ডালমিয়া বাড়ির দূর্গাপূজোয়। প্রচণ্ড ব্যস্ততার ফাঁকে অভিষেক ডালমিয়ার দিদি বৈশালীও অতিথিদের আপ্যায়নে খামতি রাখলেন না। মহানগরের অভিজাত পূজোগুলির মধ্যে অন্যতম অভিষেক ডালমিয়ার বাড়ির দুর্গাপূজা। শহরের ১০ নম্বর আলিপুর রোডে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী পুজো কেবলমাত্র পারিবারিক আবেগ নয়, বরং কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় ডালমিয়া পরিবারের এই বাড়ি হয়ে ওঠে দর্শনার্থীদের ভিড়ের কেন্দ্রবিন্দু। সদ্য প্রাক্তন বিসিসিআই আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল মেম্বার অভিষেক ডালমিয়ার পিতা জগমহোন ডালমিয়া এই পুজোর সূচনা করেছিলেন প্রায় সাত দশক আগে। সেই সময় ছিল ঘরোয়া আবহ-ছোট করে প্রতিমা, সাদামাটা সাজসজ্জা আর আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতি। সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে পুজোর রূপ। বর্তমানে অভিষেক ডালমিয়া ও দিদি বৈশালী এই পুজোর অন্যতম প্রধান উদ্যোগী।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, অভিষেক ডালমিয়ার বাড়ির পুজোয় সকল ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত করে সবাইকে। অফিসকর্মী হোক বা ব্যবসায়ী থেকে তারকে সবাই সমানভাবে মিলিত হন এই আয়োজনে। সকল স্তরের মানুষের সম্প্রীতির এই ছবি বহু বছর ধরে বজায় রয়েছে। এই বনেদী পূজোকে স্ম্লান করতে পোনা-‌পার্শ্বে সহযোগে প্রভাবশালীদের আমন্ত্রনেও জল ঢেলেছেন ভালোবাসার আকাঙ্খী মানুষেরা। অনেকেই সেইসব কঠোর নিরাপত্তার পোনা-‌পার্শ্বের নিমন্ত্রনে বুড়িছোঁয়া হাজিরা দিয়ে, দীর্ঘক্ষণ সময় অতিবাহিত করলেন সেই ডালমিয়া বাড়িতেই। শেষমেস দুর্গাপূজাকেও সামনে রেখে প্রতিযোগিতায় নামা। নামতে নামতে আরও নীচে?‌ অথচ সুবর্ণ সন্ধ্যায় আলিবুরের বাড়িটায় নেই বিশাল বাজেটের অহংকার। নেই আড়ম্বরের দৌড়। আছে অগাধ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার ছোঁয়া। অভিষেক ডালমিয়ার বাড়ির দুর্গাপূজা দাঁড়িয়ে আছে আলাদা এক পরিচয়ে। ঐতিহ্য, আভিজাত্য, পারিবারিক আবেগ এবং সামাজিক সম্প্রীতি মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য উৎসবের আবহ।

অভিষেকের উদ্যোগে প্রতিবারই পুজো পায় নতুন মাত্রা। তবে সাজসজ্জার চাকচিক্য বাড়লেও ভক্তির আবেগ এবং পারিবারিক উষ্ণতা আজও অপরিবর্তিত। এবারের পুজোর মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ধাঁচে গড়া প্রতিমা। শিল্পী তৈরি করছেন সাবেকিয়ানা বজায় রেখে দশভূজা দুর্গা, যেখানে দেবীকে দেখা যাবে মহিষাসুরবধের রূপে। মণ্ডপ সাজানো আদি সংস্কৃতির ছোঁয়ায়। অভিষেক ডালমিয়া বলেন, “আমাদের জন্য দুর্গাপূজা কেবল দেবী আরাধনা নয়, এটি ঐক্যের উৎসব। প্রতিবছর অফিসপাড়া, আশেপাশের এলাকার মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণির দর্শনার্থীরা একসঙ্গে এসে এখানে অংশ নেন। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

পুজোর প্রতিটি দিনে ভক্তদের জন্য থাকে বিশেষ আয়োজন। মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনই চলে অঞ্জলি, ধুনুচি নাচ, সানাই আর ঢাকের বাজনা। দুপুরে ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে সবার জন্য। সপ্তমীর দূপুরে আমিষ নিরামিষ মিলিয়ে পোলাও, গলদা চিংড়ি, দইকাতলা, মার্টন, হরেক মিষ্টি। অষ্টমীর অপরাহ্নেও খিচুড়ি, লাবড়া, পায়েসের পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় পরিবারের বিশেষ পদ, যা এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। অভিষেক ডালমিয়া স্ত্রী আর অসাধারণ কণ্ঠ দিয়ে গান গেয়ে পরিবেশ মাতিয়ে তোলে। শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও সমৃদ্ধ এই পুজো। এককথায় উৎসবের কটা দিন ডালমিয়া বাড়ির দুর্গাপূজো হয়ে ওঠে সকল স্তরের মানুষজনের এক সামাজিক মিলনমেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles