Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এশিয়া কাপ নিজের পুরো অর্থ সেনাদের দিলেন স্কাই!‌ এশিয়া কাপের ট্রফি ও মেডেল নিয়ে পালালেন নকভি

পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি পেল না ভারতীয় দল। অভিযোগ, ট্রফি এবং ভারতীয় ক্রিকেটারদের মেডেল নিয়ে নিজের হোটেলের ঘরে চলে গিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। এই ঘটনায় হতবাক ভারতীয় ক্রিকেট দল। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানালেন, এমন ঘটনা তিনি জীবনে দেখেননি। এশিয়া কাপ জিতে ট্রফি ছাড়াই উল্লাস করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফেরা। ২০২৪ সালে টি২০ বিশ্বকাপ জিতে রোহিত শর্মা যে কায়দায় ট্রফি তুলেছিলেন, সেই একই কায়দায় উল্লাস করলেন সূর্যেরা। পার্থক্য একটাই। সেবার রোবিতের হাতে ট্রফি ছিল। এবার কল্পনায় ট্রফি তুললেন সূর্য। সাংবাদিক বৈঠকে সূর্য বলেন, “চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি পাচ্ছে না, ক্রিকেট খেলা শুরু করার পর থেকে জীবনে এমন ঘটনা আমি দেখিনি। তবে আমার মতে দলের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফেরাই আসল ট্রফি। সকলে বলছেন, ভারত এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন। এটাই আসল কথা।”

গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জন্য ভারতীয় সেনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন সূর্য। চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়া কাপে নিজের ম্যাচ ফি-র পুরোটাই ভারতীয় সেনাকে দান করতে চলেছেন ভারত অধিনায়ক। উল্লেখ্য, এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের জয় টেলিভিশনে দেখেছেন সেনা বাহিনীর জওয়ানেরা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অভিযোগ, সূর্যকুমারেরা ট্রফি নিতে অস্বীকার করায় এশিয়া কাপের ট্রফি ও ভারতীয় ক্রিকেটারদের মেডেল নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন নকভি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া বলেন, “যেহেতু ভরত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি রয়েছে তাই আমরা এমন কারও কাছ থেকে পুরস্কার নেব না, যিনি পাকিস্তানের মন্ত্রী। নীতিগত ভাবে এই সিদ্ধান্ত আমরা আগেই নিয়েছিলাম। তার মানে এই নয় যে ভদ্রলোক ট্রফি ও মেডেল নিয়ে পালিয়ে যাবেন। এই ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আশা করছি ভদ্রলোক দ্রুত ট্রফি ও মেডেল ভারতে ফেরত দিয়ে দেবেন। নভেম্বর মাসে দুবাইয়ে আইসিসি-র বৈঠক আছে। সেখানে আমরা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জোরাল প্রতিবাদ জানাবো।”

এশিয়া কাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পরেই শুরু হয়েছিল নাটক। ফাইনাল শেষ হওয়ার পর সকলের নজর ছিল, কার হাত থেকে ট্রফি নেন সূর্যেরা। খেলা শেষ হলেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছিল না। ভারতীয় ক্রিকেটারেরা মাঠেই দাঁড়িয়েছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। শোনা গিয়েছে, ভারত জানিয়ে দেয়, তারা নকভির কাছ থেকে ট্রফি নেবে না। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে এই একই কথা বলেছিলেন অধিনায়ক সূর্য। কিন্তু মাঠে ছিলেন নকভি। কারও সঙ্গে বেশ রেগে ফোনে কথা বলতে দেখা যায় নকভিকে। খেলা শেষ হওয়ার ১ ঘণ্টা পর সাজঘর থেকে বেরিয়ে আসেন পাক ক্রিকেটারেরা। সওয়া ১ ঘণ্টা পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

গ্রুপ স্টেজ, সুপার ফোর এবং সবশেষে ফাইনাল। একই টুর্নামেন্টে তিন তিনবার পাকিস্তান বধ করল ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে পরপর দু’বার ঘরে এল এশিয়া কাপ। প্রথম দিকে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানি বোলাররা এমন সেলিব্রেশন করলেন যে শেষের দিকে পুরোপুরি ঝুলিয়ে দিয়ে নিজেদের মান ঠিক জায়গায় রেখে দিলেন। অন্যদিকে, সময় মতো সুযোগের সদব্যবহার করে ম্যাচ পকেটে পুরে নিল ভারত। ম্যাচের হিরো চোখ বুজে তিলক ভার্মা। যোগ্য সঙ্গ দিলেন শিভম দুবে এবং ম্যাচ শেষ করলেন রিঙ্কু সিং। পাকিস্তান শুরুর দিকে ভারতীয় ব্যাটারদের সমস্যায় ফেললেও শেষের দিকে ঠিকই নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরল। পরপর ছক্কা খাওয়া, সময় মতো ক্যাচ মিস, ফিল্ডিং মিস সবই দেখা গেল। ভারতীয় ব্যাটাররা তারই সুযোগ নিয়ে নার্ভ ঠান্ডা রেখে ম্যাচ বের করলেন। রান পাননি অভিষেক শর্মা। ইনিংসের শুরুতে শাহিন আফ্রিদির ওভারের দ্বিতীয় বলেই চার মারেন তিনি। তবে দ্বিতীয় ওভারে ফাহিম আশরাফের শিকার হন। স্লোয়ার বুঝতে না পেরে সোজা ওপরে তুলে ক্যাচ আউট হন। অন্য ওপেনার শুভমান গিলকেও ফেরান ফাহিম। ফাইনালেও ফর্ম ফিরে পেলেন না অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শাহিন আফ্রিদির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্কাই। ইনিংসের হাল ধরেন সঞ্জু স্যামসন এবং তিলক ভার্মা। গোটা টুর্নামেন্টে এদিনই ভারত পাওয়ার প্লে-তে সবথেকে কম রান তুলেছিল। তবে দুই ব্যাটারই নিজেদের মতো করে সেট হচ্ছিলেন। ড্রিঙ্কস ব্রেকের সময় মাঠে দেখা যায় গৌতম গম্ভীরকেও। দশম ওভারের পর থেকে চালিয়ে খেলছিলেন সঞ্জু। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। আবরার আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৪ রানে। স্যামসনের পর ক্রিজে আসেন শিভম দুবে। পার্ট টাইম সইম আয়ুবকেও মারার রিস্ক নিচ্ছিলেন না ভারতীয় ব্যাটাররা। ভারতকে ম্যাচে ফেরালেন হ্যারিস রউফই। উস্কানিমূলক অঙ্গভঙ্গিতে মন দিতে গিয়ে বোলিংটা ভুলে গিয়েছিলেন মনে হয়। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ১৭ রান দিলেন তিনি। চাপের মুখে দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন তিলক ভার্মা। পাকিস্তানি বোলারদের পিটিয়ে এবং দরকার মতো খুচরো রান নিয়ে অর্ধশতরান করে ভারতকে ম্যাচে রেখে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে ম্যাচ ফিনিশ করে বেরোলেন তিলক। প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান তোলে ১৪৬। ফকর জামান আউট হওয়ার পর সাইম আয়ুব এবং সাহিবজাদা ফারহান যখন খেলছিলেন তখন পাকিস্তান এক উইকেট হারিয়ে ১১৪। আয়ুব এবং ফারহান আউট হতেই বাকিরাও ফিরতে বেশি দেরি করেননি। তাদের ফেরার এতটাই তাড়া ছিল দেখে মনে হচ্ছিল একটু পরেই করাচির বিমান ধরতে হবে। অবশ্য, প্রশংসা করতে হবে কুলদীপ যাদব এবং অক্ষর প্যাটেলের। দায়িত্ব নিয়ে এই জুটি ম্যাচে ফেরালেন টিম ইন্ডিয়াকে। ফকর জামান এবং বিপজ্জনক সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান বরুণ চক্রবর্তী। মিডল অর্ডারকে ফেরানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন অক্ষর এবং কুলদীপ। ১৪ রানের মাথায় সইম আয়ুব ফেরার পরেই সাজঘরে ফেরেন মহম্মদ হ্যারিস ০। ফেরেন অধিনায়ক সলমন আঘা ৮, হুসেন তালাত ১। এদিন রান পাননি শাহিন আফ্রিদি ০ এবং ফাহিম আশরাফও ০। কুলদীপ শুরুর ওভারে মার খেলেও চার ওভারে ৩০ রান চার উইকেট নেন তিনি। একদিকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের সাজঘরে ফেরার দৃশ্য দেখছিলেন মহম্মদ নওয়াজ। বুমরা সেটা বুঝতে পেরে শেষ ওভারে তাঁকে আউট করে দেন। বোল্ড করেন হ্যারিস রউফকেও। তাঁর অফ স্টাম্প ছিটকে দিয়ে তাঁর ভঙ্গিতেই সেলিব্রেশন করে বুঝিয়ে দেন ক্ষমতা। প্রথমে ব্যক্তিগত পুরস্কার দেওয়া হচ্ছিল। তার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মেডেল নিতে ডাকা হয়। সেখানেও নাটক। সঞ্চালক সাইমন ডুল জানান, পাক ক্রিকেটারদের মেডেল দেবেন নকভি। কিন্তু আদতে দেখা যায়, এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের অন্য এক কর্তা আমিরুল ইসলাম তাঁদের মেডেল দিচ্ছেন। এশিয়া কাপে রানার আপ হওয়ায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার চেক পেয়েছে পাকিস্তান। অধিনায়ক সলমন আলি আঘা সেই চেক ছুড়ে ফেলে দেন।

ভারতের কুলদীপ যাদব ম্যাচের সেরা ও অভিষেক শর্মা প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পান। তাঁরা পুরস্কার নেওয়ার পর সঞ্চালক ডুল জানান, ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়নের ট্রফি নেবে না। এর থেকে স্পষ্ট, নকভিও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরেননি। অন্য কোনও কর্তাকে তিনি ট্রফি দেওয়ার অনুমতি দেননি। সেই কারণে ভারতীয় দলও নিজেদের দাবি থেকে সরেনি। এই দৃশ্য ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনও দিন দেখা যায়নি। একটা বড় প্রতিযোগিতা জিতে জয়ী দল ট্রফিই নিল না। বোঝা যাচ্ছে, এই বিতর্ক এখনই থামবে না। এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেলেও ভারত-পাকিস্তান সংঘাত এখনও চলবে। এ বারের এশিয়া কাপের শুরু থেকেই দু’দলের মধ্যে সংঘাত চলছে। শুরুটা করে ভারত। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেই ঘটনা ভাল ভাবে নেয়নি পাকিস্তান। খেলা শেষে সূর্য প্রকাশ্যে বলেন, এই জয় পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের পরিবারকে উৎসর্গ করছেন। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন তিনি। খেলা শেষে নিজেদের সাজঘরের দরজাও বন্ধ করে দেয় ভারত। সেই ঘটনা নিয়ে আইসিসি-র দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সূর্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তারা। সূর্যের ম্যাচ ফি-র ৩০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। সেই ঘটনার বিরুদ্ধে আবেদন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিতর্কে জড়িয়েছেন সেই ম্যাচের রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফ্টও। পাক বোর্ড অভিযোগ করে, পাইক্রফ্ট গিয়ে দুই দলের অধিনায়ককে হাত মেলাতে নিষেধ করেছেন। তারা দাবি জানায়, এশিয়া কাপের কোনও ম্যাচে পাইক্রফ্টকে আর দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। যদিও পাকিস্তানের দাবি উড়িয়ে দেয় আইসিসি। পরের পাক ম্যাচের আগে পাইক্রফ্টের সঙ্গে কথা বলেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন, অধিনায়ক সলমন ও অন্য কর্তারা। সুপার ফোরে ভারত-পাক ম্যাচে বিতর্ক আরও বাড়ে। অর্ধশতরান করে ‘স্টেনগান’ উল্লাস করেন পাকিস্তানের ব্যাটার সাহিবজ়াদা ফারহান। পাক পেসার হ্যারিস রউফ দু’বার ‘প্লেন ক্র্যাশ’ সেলিব্রেশন করেন। সেই ঘটনার পর ফারহান ও হ্যারিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভারতীয় বোর্ড। ফাইনালেও যে বিতর্ক কমবে না তা বোঝা যাচ্ছিল। ফাইনাল শুরু হওয়ার আগেই ভারতের পেসার অর্শদীপ সিংহের নামে অভিযোগ করে পাক বোর্ড। অভিযোগ, সুপার ফোরের ম্যাচে ‘অশ্লীল’ ভঙ্গী দেখিয়েছেন অর্শদীপ।

ফাইনাল শুরুর আগে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার সময় খোশগল্প করছিলেন পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার হ্যারিস ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। ক্রিকেটের নিয়মে রয়েছে, অন্য দেশের জাতীয় সঙ্গীতের সময়ও সাবধান ভঙ্গীতে থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। গল্প করা যাবে না। কিন্তু পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার সেটাই করেন। তার জন্য দু’জনের সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সমর্থকদের অভিযোগ, ভারতের জাতীয় সঙ্গীতকে অসম্মান করেছেন তাঁরা। হ্যারিস ও শাহিনের শাস্তির দাবিও উঠেছে। ফাইনালে হ্যারিসকে বোল্ড করে তাঁকে জবাব দেন জসপ্রীত বুমরাহ। তিনিও ‘প্লেন ক্র্যাশ’ উল্লাস করেন। খেলার মধ্যেই যে এই বিতর্ক শেষ হবে না তা বোঝা যাচ্ছিল। হলও তাই। খেলা শেষে পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা সাজঘরে ঢুকে গেলেন। পর পর তিন ম্যাচে ভারতের কাছে হারের ধাক্কা হজম করা সহজ ছিল না। পাশাপাশি গোটা প্রতিযোগিতা জুড়ে ভারত বয়কট করেছে পাকিস্তানকে। সেই জ্বালাও হয়তো ছিল। পাক ক্রিকেটারদের মাঠে নামতে দেরি হওয়া দেখে জল্পনা শুরু হয়েছে, সলমনেরা কি অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? শেষ পর্যন্ত কি নকভির ফোনে নামেন তাঁরা? নইলে এত দেরি কেন করলেন তাঁরা। যদিও ভারতীয় ক্রিকেটারেরা আরও এক বার পাত্তা দিলেন না নকভিকে। এশিয়া কাপ জিতে ট্রফিই নিলেন না সূর্যেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles