শুক্রবারই এই বিষয়ে রায় ঘোষণা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে এশিয়া কাপে তৈরি হওয়া বিতর্কে ফের নতুন মোড়। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানিতে হাজির হলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। হ্যান্ডশেক বিতর্কে তাঁর বক্তব্য শুনেছেন ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন। শুক্রবারই এই বিষয়ে রায় ঘোষণা করতে পারেন রেফারি। শুক্রবার আবার ভারতের সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। তার আগেই রায় জানা যেতে পারে। তবে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের কোনও মূল্য নেই। কারণ, ভারত ইতিমধ্যেই ফাইনালে উঠেছে, তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আঘা সলমনের দল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা পাকা করে নেয়। অন্যদিকে, ভারতের অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার পেসার হ্যারিস রউফ ও ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের কথাও শুনবেন ম্যাচ রেফারি। দুবাইয়ে গত রবিবার ভারত -পাকিস্তান সুপার ফোর ম্যাচ চলাকালীন তাঁদের অঙ্গভঙ্গিকে প্ররোচনামূলক বলে মনে করেছে বিসিসিআই। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে অভিযোগ দায়ের করে বোর্ড। প্রত্যুত্তরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সূর্যকুমার যাদবের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ জানায়। পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার শহিদদের প্রতি সংহতি জানানো এবং টিম ইন্ডিয়ার জয়কে সেনাদের উৎসর্গ করার বিষয়টিকে রাজনৈতিক মন্তব্য বলে দাবি করে তারা। ম্যাচ শেষে পাক খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন সূর্যকুমার। তাঁর বক্তব্য, ‘কিছু বিষয় খেলোয়াড়সুলভ আচরণের থেকেও বড়।’ উল্লেখ্য,গত ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। পহেলগাঁও হামলার পর এটিই ছিল দুই দেশের প্রথম মুখোমুখি লড়াই।
এশিয়া কাপে ভারত–পাকিস্তান বিতর্ক ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা পাকা করেছে টিম ইন্ডিয়া। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাট সইফের ক্যাচ তিনবার ফেলেছেন ফিল্ডাররা। অন্যদিক থেকে পরপর উইকেট পড়তে থাকায় সেই ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হয়নি। এখনও পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে সূর্যরা অপরাজিত।ভারতকে বুধবার ১৬৮ রানে আটকে রেখেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু শ্রীলঙ্কাকে হারানো আর ভারতের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া এক ব্যাপার নয়। একাধিক ক্যাচ ফেললেন ভারতের ফিল্ডাররা। এই ক্যাচ ফেলা ভারতের হেডস্যর গৌতম গম্ভীরকে চিন্তায় ফেলতে পারে। ফাইনালের আগে ফিল্ডিং নিয়ে পড়তে হবে গম্ভীরকে। এখনও পর্যন্ত ভারত প্রাধান্য নিয়েই ক্রিকেট খেলেছে এশিয়া কাপে। চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে উঠতে আর এক কদম দূরে ভারতীয় দল। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের বল গড়ানোর আগে থেকেই তর্জন-গর্জন করছিলেন ফিল সিমন্স, মেহেদি হসানরা। সিমন্স বলেছিলেন, ‘সবারই ভারতকে হারানোর ক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশেরও রয়েছে।’ মেহেদি হাসান বলেছিলেন, ‘আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই এই ম্যাচ।’ বুধবার ভারতের ১৬৮ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ থেমে গেল ১২৭ রানে। রান তাড়া করাটা একদমই ভাল হয়নি বাংলাদেশের। হার্দিক পাণ্ডিয়ার প্রথম ওভারে ওঠে চার রান। বুমরাহ বল করতে এসেই আঘাত হানেন। তানজিদকে ফেরান চ্যাম্পিয়ন বোলার। কুলদীপ যাদবকে সুইপ মারতে গিয়ে ইমন ফেরেন অভিষেক শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে। ১৯ বলে ২১ রান করেন। বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায় ৪৬ রানে। ৬৫ রানে তৃতীয় উইকেট যায় বাংলাদেশের। এদিকে রান রেট বাড়তে শুরু করে। বড় শট খেলতে গিয়ে তৌহিদ হৃদয় আউট হন ৭ রানে।
খাতা না খুলে বোল্ড হন শামীম। জাকের আলি রান আউট হন মাত্র ৪ রানে। সইফ হাসান বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রেখে দেন। যখনই রানের দরকার তখনই ছক্কা হাঁকান তিনি। ১৫ ওভারের প্রথম বলে সইফের ক্যাচ ফেলেন শিবম দুবে। পরের বলেই সইফুদ্দিন ধরা পড়েন তিলক ভার্মার হাতে। নিজেদের অবস্থা আরও কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশ। ভাগ্য ভাল সইফের। বরুণের ওভারেই ক্যাচ তুলে বেঁচে যান তিনি। এই যাত্রায় ক্যাচ ফেলেন ভারতের উইকেট কিপার সঞ্জু স্যামসন। রিশাদ হোসেন ও তানজিম দ্রুত ফেরেন। বাংলাদেশ নিজেদের বিপন্ন করে। অন্য প্রান্তে সইফের মতো জমে যাওয়া ব্যাটার রয়েছেন অথচ রিশাদ ও তানজিম নায়ক বনতে চেয়েছিলেন। পরপর দু’বলে দুই উইকেট নেন কুলদীপ। ম্যাচ জেতা ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। সইফ একা লড়লেন। ৬৯ রানে তাঁকে ফেরান বুমরা। বাকিরা কেউই কিছু করতে পারেননি।৪১ বছরে প্রথম বার। এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান। চলতি এশিয়া কাপে তৃতীয় বার মুখোমুখি হবে দু’দল। বৃহস্পতিবারের পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ ছিল সেমিফাইনাল। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ১১ রানে হারাল পাকিস্তান। ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিতে হল বাংলাদেশকে। রবিবার এশিয়ার সেরা হওয়ার লড়াইয়ে সূর্যকুমার যাদবদের বিরুদ্ধে খেলতে নামবেন সলমন আলি আঘারা।
দুবাইয়ের মাঠে পর পর দু’দিন ম্যাচ খেলতে হল বাংলাদেশকে। পর পর ম্যাচ খেলার ধকল পড়ল ক্রিকেটারদের শরীরে। পাশাপাশি ভারতের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও খেলতে পারলেন না লিটন দাস। ফলে দলের সেরা ব্যাটারকে পেল না বাংলাদেশ। তার প্রভাব পড়ল দলের ব্যাটিংয়ে। বল ভাল করেও ম্যাচ জিততে পারল না। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি পাকিস্তানের। আরও এক বার দলের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যর্থ। ভারতের বিরুদ্ধে অর্ধশতরান করা সাহিবজ়াদা ফারহান প্রথম ওভারেই আউট হলেন। ৪ রান করলেন তিনি। ভারতের বিরুদ্ধেও প্রথম ওভারে আউট হতেন তিনি। ক্যাচ ছাড়েন অভিষেক শর্মা। এই ম্যাচে পয়েন্টে রিশাদ হোসেন ক্যাচ ছাড়েননি। আরও এক ম্যাচে শূন্য রানে ফিরলেন সাইম আয়ুব। চলতি প্রতিযোগিতায় চার ম্যাচে রানের খাতা খুলতে পারলেন না তিনি। রান পাননি ফখর জ়মান (১৩), সলমন আলি আঘা (১৯) ও হুসেন তলত (৩)। ৪৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায় পাকিস্তানের। ম্যাচ জিতলেও দলের ব্যাটিং চিন্তায় রাখবে পাকিস্তানকে।
বাংলাদেশের বোলারদের সামনে যে ভাবে পাকিস্তান ব্যাট করছিল, দেখে মনে হচ্ছিল ১০০ রানও হবে না। পাকিস্তানকে খেলায় ফেরালেন বাংলাদেশের ফিল্ডারেরা। শূন্য রানের মাথায় শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মহম্মদ নওয়াজ়ের ক্যাচ পড়ল। শাহিন ১৯ ও নওয়াজ় ২৫ রান করলেন। নজর কাড়লেন মহম্মদ হ্যারিসও। ৩১ রান করলেন তিনি। শেষ দিকে ফাহিম আশরফ করলেন ১৪ রান। শেষ ৮ ওভারে ৮০ রান করল পাকিস্তান। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান করল। প্রথম ওভারে শাহিনকে ছক্কা মারতে গিয়ে শূন্য রানে ফিরলেন পারভেজ হোসেন ইমন। ভাল দেখাচ্ছিল সইফ হাসানকে। দু’টি ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু হ্যারিস রউফের বল বুঝতে না পেরে আউট হলেন। ভারতের বিরুদ্ধে একাই লড়েছিলেন সইফ। তিনি আউট হওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধাক্কা খেল। শামিম হোসেন (৩০) ছাড়া বাংলাদেশের কোনও ব্যাটার রান পেলেন না। ভাল বল করলেন পাকিস্তানের দুই পেসার শাহিন ও হ্যারিস। দু’জনেই ৩ করে উইকেট নিলেন। তাঁদের পেস ও বৈচিত্রের কাছে হার মানতে হল বাংলাদেশকে। দুই স্পিনার সাইম ও নওয়াজ়ও ভাল বল করলেন। মাঝের ওভারে উইকেট তুললেন। একটা ভুলও করলেন বাংলাদেশের ব্যাটারেরা। প্রত্যেকে শুরু থেকে বড় শট খেলার চেষ্টা করলেন। সময় নিলেন না। তাড়াহুড়ো করে উইকেট দিয়ে এলেন। তার খেসারত দিতে হল তাঁদের। ১৩৬ রানও তাড়া করতে ব্যর্থ।





