ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজের জন্য ভারতের টেস্ট দল। দলের অধিনায়ক শুভমন গিল। ২ অক্টোবর থেকে আহমদাবাদে শুরু প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ১০-১৪ অক্টোবর, দিল্লিতে। ঘোষণা করা হল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ়ের জন্য ভারতের টেস্ট দল। প্রত্যাশামতোই দলের অধিনায়ক শুভমন গিল। প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাখা হল না বাংলার অভিমন্যু ঈশ্বরণকে। নেই বাংলার আর এক ক্রিকেটার আকাশ দীপও। সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে রবীন্দ্র জাডেজাকে। ঘোষিত ১৫ জনের দলে শুভমন (অধিনায়ক),জাদেজা (সহ-অধিনায়ক), যশস্বী জয়সওয়াল, কেএল রাহুল, সাই সুদর্শন, দেবদত্ত পাড়িক্কল, ধ্রুব জুরেল (উইকেটকিপার), ওয়াশিংটন সুন্দর, জসপ্রীত বুমরাহ, অক্ষর পটেল, নীতীশ কুমার রেড্ডি, নারায়ণ জগদীশন (উইকেটকিপার), মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং কুলদীপ যাদব। দলে দুই ক্রিকেটারের প্রত্যাবর্তন, দেবদত্ত পাড়িক্কল এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি। অস্ট্রেলিয়া সফরে দলে ছিলেন পাড়িক্কল। ইংল্যান্ড সিরিজে চোটের জন্য খেলতে পারেননি। মিডল অর্ডারে খেলার পক্ষে উপযুক্ত। করুণ নায়ারকে নিয়ে মোহভঙ্গ হয়েছে নির্বাচকদের। ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝুড়ি ঝুড়ি রান করলেও ইংল্যান্ডে গিয়ে চূড়ান্ত ব্যর্থ। একটি অর্ধশতরান ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। একই ভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাবে রান করা সরফরাজ খানকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। আপাতত পাড়িক্কলের উপরে ভরসা রাখতে চাইছেন নির্বাচকেরা। নীতীশকে ফেরানো হয়েছে অলরাউন্ড দক্ষতার কথা ভেবে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খারাপ খেলেননি। ভারতে ঘূর্ণি পিচে তাঁর মাঝারি গতির বোলিং কাজে লাগতে পারে। অভিমন্যুকে বাদ দেওয়া এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ়ের দল ঘোষণার আগে ইরানি কাপের দল জানানো হয়েছিল। সেখানে নাম ছিল অভিমন্যু ও আকাশ দীপের। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ়ে নেওয়া হবে না তাঁকে। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ় এবং ইরানি কাপ এক দিনের তফাতে শুরু হচ্ছে। এত দিন ভারতের রিজ়ার্ভ বেঞ্চে থেকেও মূল দলে সুযোগ পাননি। এ বার দলেই নেওয়া হল না অভিমন্যুকে। জাদেজার সহ-অধিনায়ক। রোহিত চলে যাওয়ার পর বুমরাহকে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। শেষমেশ দায়িত্ব পান শুভমন। ইংল্যান্ড সিরিজ়ে ঋষভ পন্থ সহ-অধিনায়ক ছিলেন। এ বার তিনি দলে নেই চোটের কারণে। দায়িত্ব পেয়েছেন জাডেজা। বুমরাহকে বিশ্রামও দেওয়া হল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তাঁর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ভাবনাচিন্তার কথা জানিয়েছিল বোর্ড। তবু ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে নেওয়া হয়েছে বুমরাহকে। এশিয়া কাপ ফাইনালে উঠেছে ভারত। ফলে ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ফাইনাল খেলেই চার দিনের মধ্যে অহমদাবাদে টেস্ট খেলতে নামবেন বুমরাহ। বিশ্রামের সুযোগ প্রায় নেই-ই। বুমরাহকে প্রথম টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হবে। সিরাজের সঙ্গে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণকে খেলানো হতে পারে। ঘরের মাঠে যেহেতু স্পিনারেরাই কার্যকর ভূমিকা নেন। দুই পেসারের বেশি খেলাতে চাইবে না ভারত। জাডেজার সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দর এবং কুলদীপ যাদব তিন স্পিনারের দায়িত্ব সামলাবেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ় ২-২ ড্র করেছে ভারতীয় দল। তার পর দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ় খেলতে চলেছে। ২ অক্টোবর থেকে আহমদাবাদে শুরু প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ১০-১৪ অক্টোবর, দিল্লিতে। শেষ বার ১৯৮৩-তে ভারতে এসে টেস্ট সিরিজ় জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সে বার অধিনায়ক ছিলেন ক্লাইভ লয়েড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। ভারত চারটি টেস্ট সিরিজ় জিতেছে তার পর। ১৯৮৭ এবং ১৯৯৪ সিরিজ় ড্র হয়েছিল। ২০১৩-য় এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ খেলে অবসর নিয়েছিলেন শচীন তেন্ডুলকর।

অভিমন্যু বা করুণের প্রয়োজন নেই ভারতীয় দলে। অভিমন্যু ঈশ্বরণ এবং করুণ নায়ারকে যেমন বাদ দেওয়া হয়েছে, তেমনই দেবদত্ত পাড়িক্কল ও নীতীশ রেড্ডিকে দলে নেওয়া হয়েছে। দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর জানিয়ে দেন। আগরকর বলেন, “ওর থেকে একটু বেশিই প্রত্যাশা করেছিলাম আমরা। আমাদের মনে হয়েছে পাড়িক্কল দলকে কিছুটা বেশিই দিতে পারে। কাউকে তো আর ১৫-২০টা টেস্ট সুযোগ দেওয়া যায় না। পাড়িক্কল বেশ কিছু দিন ধরেই টেস্ট দলে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিল। এখানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্মশালায় খেলেছে। অর্ধশতরান করেছে। ভারত এ দলের হয়েও ভাল খেলেছে। সে কারণেই ওকে নেওয়া হয়েছে। বিদেশে গেলে ১৬-১৭ জনের দল বাছা হয়। তখন তৃতীয় ওপেনার দরকার হয়। এখানে তৃতীয় ওপেনার দরকার নেই। যদি কেউ চোট পায় তা হলে তো টুক করে উড়িয়ে আনা যেতেই পারে। ওকে বাদ দিয়ে অক্ষর পটেলের মতো স্পিনার-অলরাউন্ডার নিয়েছি। তা ছাড়া কেএল রাহুল আর যশস্বী তো ওপেনিংয়ে খারাপ খেলেনি। দরকারে অভিমন্যুর কথা ভাবা হবে। টো টেস্টের দল ঘোষণা করেছি। ইংল্যান্ড সিরিজ়ের পর পাঁচ সপ্তাহের মতো বিশ্রাম পেয়েছে। শেষ টেস্টেও খেলেনি। এশিয়া কাপেও বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। বুমরাহ দুটো ম্যাচেই খেলার জন্য তৈরি।”
আগামী ছ’মাস শ্রেয়সকে লাল বলের কোনও ধরনের ক্রিকেটে দেখা যাবে না। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ়ে তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই। এমনকি রঞ্জি ট্রফির প্রথম পর্বেও না দেখা যেতে পারে। বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, “লাল বলের ক্রিকেট থেকে অন্তত ছ’মাসের বিশ্রাম চেয়ে শ্রেয়স আয়ার বোর্ডের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। ইংল্যান্ডে পিঠের অস্ত্রোপচার করানোর পর শ্রেয়সের রিকভারি ভালই হয়েছে। তবে সম্প্রতি আবার লাল বলের ক্রিকেটে খেলতে গিয়ে পিঠের ব্যথা ফিরে এসেছে তাঁর। শ্রেয়স চাইছেন মাঝের এই সময়ে শরীরের সহনশীলতা ও শক্তি বাড়াতে এবং ফিটনেসের উপরে জোর দিতে। তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ইরানি কাপের দলে নেওয়া হয়নি।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নেতৃত্ব দেবেন রস্টন চেজ। জোমেল ওয়ারিকান (সহ-অধিনায়ক), কেভলন অ্যান্ডারসন, অ্যালিক অ্যাথানেজ়, জন ক্যাম্পবেল, তেজনারাইন চন্দ্রপল, জাস্টিন গ্রিভস, শাই হোপ, টেভিন ইলমাচ, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, ব্র্যান্ডন কিং, অ্যান্ডারসন ফিলিপ, খারি পিয়ের এবং জেডেন সিলস।
ভারত এ-র ঘোষিত দল
(প্রথম এক দিনের ম্যাচ): শ্রেয়স আয়ার (অধিনায়ক), প্রভসিমরন সিংহ (উইকেটকিপার), রিয়ান পরাগ, আয়ুষ বাদোনি, সূর্যাংশ শেড়গে, বিপরাজ নিগম, নিশান্ত সিন্ধু, গুরজপনীত সিংহ, যুধবীর সিংহ, রবি বিষ্ণোই, অভিষেক পোড়েল (উইকেটকিপার), প্রিয়াংশ আর্য, সিমরজিৎ সিংহ।
(দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচ): শ্রেয়স আয়ার (অধিনায়ক), তিলক বর্মা (সহ-অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, প্রভসিমরন সিংহ (উইকেটকিপার), রিয়ান পরাগ, আয়ুষ বাদোনি, সূর্যাংশ শেড়গে, বিপরাজ নিগম, নিশান্ত সিন্ধু, গুরজপনীত সিংহ, যুধবীর সিংহ, রবি বিষ্ণোই, অভিষেক পোড়েল (উইকেটকিপার), হর্ষিত রানা, অর্শদীর সিংহ।
অবশিষ্ট ভারত দল: রজত পাটীদার (অধিনায়ক), অভিমন্যু ঈশ্বর, আরিয়ান জুয়াল (উইকেটকিপার), রুতুরাজ গায়কোয়াড় (সহ-অধিনায়ক), যশ ধুল, শেখ রশিদ, ঈশান কিশন (উইকেটকিপার), তনুশ কোটিয়ান, মানব সুতার, গুরনুর ব্রার, খলিল আহমেদ, আকাশ দীপ, অংশুল কম্বোজ এবং সারাংশ জৈন।





