বেশ কয়েকটি কাজ মহালয়ার পুণ্য তিথিতে করা উচিত নয়। তা হলে জীবনে অমানিশা নেমে আসে। তেমনই বিশেষ কিছু টোটকা যদি এ দিন পালন করা যায় তা হলে সারা বছর সুখে কাটানো যায়। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার মহালয়া। এই পবিত্র দিনে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। মহালয়ার তিথি পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করার জন্যও বিখ্যাত। শাস্ত্রমতে, এই দিনটির গুরুত্ব বিশেষ। বেশ কয়েকটি কাজ রয়েছে, যেগুলি মহালয়ার পুণ্য তিথিতে করা উচিত নয়। তা হলে জীবনে অমানিশা নেমে আসে। তেমনই বিশেষ কিছু টোটকা যদি এ দিন পালন করা যায় তা হলে সারা বছর সুখে কাটানো যায়। জেনে নিন এই দিন কী কী করতে হবে এবং কোন কাজগুলি করা যাবে না। মহালয়ার দিনটি শুভ হলেও কোনও নতুন কাজ শুরু করার জন্য দিনটি উপযুক্ত নয়। এই দিন কোনও শুভ কাজ শুরু করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই দিন কোনও নতুন জিনিস, বিশেষ করে গাড়ি, বাড়ি প্রভৃতি কেনা উচিত নয়। মহালয়ার দিন চুল-দাড়ি, নখ কাটা উচিত নয়। মহালয়ার রাতে কন্যা রাশিতে সূর্যগ্রহণ, এই রাশির উপর ঘনাতে পারে দুর্দশার কালো ছায়া! সুরক্ষিত থাকতে কী করবেন? মহালয়ার দিন পূর্বপুরুষদের মন রক্ষার উদ্দেশে অনেকেই তাঁদের ভোগ নিবেদন করে থাকেন। সেই ভোগে কোনও মতেই আমিষ খাবার রাখা যাবে না। নিজেরাও আমিষ আহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারলে ভাল হয়। এই দিন কেউ যদি আপনার কাছে কোনও রকম সাহায্য চায় তা হলে সেই মানুষকে খালি হাতে নিআ ফেরান। সাধ্যমতো কিছু না কিছু সাহায্য করার চেষ্টা।

মহালয়ার দিন বেশি বেলা পর্যন্ত ঘুমোবেন না। এই দিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়ুন। ভোরবেলার সময়কাল তর্পণ করার জন্য শুভ। এই দিন সকাল সকাল খালি পেটে তর্পণ সেরে ফেলুন। তর্পণ করার সময় অবশ্যই সাদা রঙের ধুতি পরুন। মহালয়ার দিন কোনও পশুপাখিকে খাবার খাওয়াতে পারলে খুব ভাল হয়। এই দিন সম্ভব হলে বাড়িতে পাঁচ জন বা সাত জন ব্রাহ্মণকে ডেকে খাবার খাওয়ান। এরই সঙ্গে সম্ভব হলে কিছু না কিছু দান করুন। মহালয়ার দিন সম্ভব হলে দরিদ্র মানুষদের সাধ্যমতো কিছু দান করুন। এই দিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে পারলে খুব ভাল হয়। মহালয়ার দিন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে একটা তামার ঘটিতে কাঁচা দুধ, কালো তিল, আতপ চাল, সাদা ফুল এবং গঙ্গাজল মিশিয়ে বাড়ির কোনও ফাঁকা জায়গায় ঢেলে দিন। এই কাজটা কোনও জলাশয়েও করা যেতে পারে। পুরুষ হোক বা মহিলা, উভয়েই এই কাজটি করতে পারেন। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার মহালয়ার দিনে হবে বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। মহালয়ায় অনেকেই পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করার মাধ্যমে পিতৃপুরুষদের জল অর্পণ করে থাকেন। হিন্দু ধর্মে গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্য দিকে, মহালয়ারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দুটো বিষয় একই দিনে পড়ায় অনেকেরই মনে চিন্তা জাগছে মহালয়ায় তর্পণ করা যাবে কি না। কারণ কথিত রয়েছে, গ্রহণের দিন কোনও বিশেষ কাজ করতে নেই। সে ক্ষেত্রে গ্রহণের দিন তর্পণ কি ভাবে করা যাবে। মহালয়ার দিন গ্রহণ পড়েছে বলে যে বিশেষ কোনও নিয়ম মানার প্রয়োজন রয়েছে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। এর বিশেষ কিছু নিয়ম মানার প্রয়োজন হত যদি ভারতে এই সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হত। ভারতে গ্রহণ দৃশ্যমান হলে তর্পণ করার কিছু নিয়ম মানতে হত, যেমন- গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই তর্পণের নিয়ম সেরে ফেলতে হত। গ্রহণ শুরু হয়ে গেলে পিতৃপুরুষদের জল দান, ভোজ্যদান, কোনও আচার-নিয়মই পালন করা যেত না। গ্রহণ চলাকালীন এই কাজ করলে এর কোনও শুভ ফল পাওয়া যায় না। এই সূর্যগ্রহণ ভারতে অদৃশ্য, তাই মহালয়ার দিন তর্পণ করা যেতে পারে। তর্পণের সময় মেনে এই দিন তর্পণ করা যাবে। মহালয়ার দিন গ্রহণের জন্য বিশেষ কোনও নিয়ম মানতে হবে না। দেবীপক্ষের সূচনাকালে মহাজাগতিক ঘটনার দিন ঘটবে বছরের শেষ খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ। গ্রহণ ঘটাকালীন সূর্যের অবস্থান থাকবে কন্যা রাশিতে। গ্রহণের প্রভাবে সকল রাশির জীবনেই কিছু না কিছু পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে সূর্যগ্রহণের ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে জ্যোতিষীরা। যদিও এই গ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান নয়। কন্যা রাশির অধীনে জন্মগ্রহণকারীদের এই দিন বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে চলা জরুরি বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা। সূর্যগ্রহণের ফলে কন্যা রাশির ব্যক্তিদের মানসিক চাপ বাড়তে পারে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে চাপ দেখা দেবে। কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে। পারিবারিক ঝামেলা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। গ্রহণ চলাকালীন কোনও নির্জন স্থানে একা যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সাবধানে চলাফেরা করা প্রয়োজনীয়। কন্যা রাশির ব্যক্তিদের আর্থিক ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই এই সময় চেষ্টা করুন কোনও খাতে বিনিয়োগ করা থেকে দূরে থাকতে। ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রায় হবে না বললেই চলে। গ্রহণের দিন কোনও প্রকার আর্থিক লেনদেন করা চলবে না। কোনও বড় ব্যবসায়িক চুক্তি করাও ঠিক হবে না। মহালয়ার দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিন। তার পর সূর্যপ্রণাম করুন। সূর্যদেবের কাছে নিজের সমস্ত ভুল স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন। এই দিন অবশ্যই গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করুন। গ্রহণ চলাকালীন কোনও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। এই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। এই দিন মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করুন। ঝামেলা এড়িয়ে চলবেন। কোনও পরিস্থিতিতেই মাথা গরম করা যাবে না।

বহু মানুষই পুজোর আগে ঘরকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলেন। এরই সঙ্গে পুরনো জিনিসপত্র বাড়ি থেকে বার করে দেন। আগেই বলা হয়েছে যে, বাতিল জিনিস ঘরে জমিয়ে রাখতে নেই। এতে বাস্তুর অকল্যাণ হয়। বাড়িতে নেগেটিভ শক্তির পরিমাণ বেড়ে যায়। সে রকমই ঘর সাজানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছু ব্যাপার মাথায় রাখা আবশ্যিক। না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে সেটির খোঁজ দিলেন জ্যোতিষী। সদর দরজা দিয়ে আমাদের ঘরে পজ়িটিভ শক্তি প্রবেশ করে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই সদর দরজার সামনেটা অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। সেখানে জুতো রাখা যাবে না। সেটির সামনে পাতা পাপোশটিও যাতে পরিষ্কার হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। পুজোর ক’দিন হলুদের মিশ্রণ বানিয়ে সদর দরজার পাশে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকতে পারেন। এতে বাড়িতে শুভ শক্তির সঞ্চার হবে। এরই সঙ্গে সদর দরজার উপরে আমপাতা দিয়ে তৈরি তোরণ ঝোলাতে পারেন। দেবীপক্ষ শুরুর পর বাড়ির ঝুল ঝাড়া উচিত নয় বলে মনে করা হয়। সে ক্ষেত্রে মহালয়ার আগেই ঘর পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। বাড়ির কোনও কোনায় যাতে এক ফোঁটাও ঝুল না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। একই সঙ্গে কোনও স্থানে ধুলো-ময়লা জমতে দেওয়া যাবে না। নোংরা ঘরবাড়ি মেয়ে লক্ষ্মীর সঙ্গে সঙ্গে মা দুর্গারও মোটেই পছন্দ নয়। ঘরবাড়ি ভাল করে গুছিয়ে রাখা আবশ্যিক। অগোছালো রাখা চলবে না। সব কিছু সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতে হবে। মা দুর্গার কৃপায় ফুলেফেঁপে উঠবেন, এ বার পুজোয় রাজত্ব করবেন পাঁচ রাশি! অর্থ থেকে প্রেম, সবেতেই শীর্ষে থাকবেন। এই বছর নবমীর সন্ধ্যাতেই শুরু হচ্ছে দশমীর তিথি! পুজোর বাকি দিনগুলি কবে? কী বলছে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা? এই সময় চেষ্টা করবেন হালকা রঙের, যেমন- হলুদ, ঘিয়ে, আকাশি প্রভৃতি রঙের পর্দা লাগাতে। বিছানার চাদরও হালকা রঙের বেছে নিলে ভাল হয়। বাড়িতে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দেবীও তুষ্ট হন। দেবীপক্ষের ক’দিন বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে পারেন। এই সময় বাড়িতে যদি মা দুর্গার ছবি ঝোলানোর কথা ভাবেন, তা হলে উত্তর-পূর্ব দিকের দেওয়ালটি বেছে নিতে পারেন।





