ওমান ম্যাচে চোট পান ভারতীয় তারকা। রবি সুপার ফোরে ভারত-পাকিস্তান মোকাবিলা। তার আগে বড়সড় আশঙ্কা ভারতীয় দলের জন্য। মাথায় চোট পেয়েছেন তারকা অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন কি না, সেটা নিয়েও অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে। ওমানের বিরুদ্ধে আবু ধাবিতে একটি ক্যাচ ধরার সময় চোট পান অক্ষর। হামাদ মির্জার শট অক্ষরের দিকে এগিয়ে আসে। ভারতীয় অলরাউন্ডার ক্যাচটি ধরতে পারেননি। বরং মাটিতে পড়ে মাথায় চোট পান। পাক ম্যাচে নাও খেলতে পারেন অক্ষর। ভারতের বোলিং কোচ টি দিলীপ সমর্থকদের আশ্বস্ত করছেন। তিনি ম্যাচের পর জানিয়েছেন ‘সব ঠিক আছে।’ তবে তারপরও অনেকেই আশ্বস্ত হচ্ছেন না। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পাননি অক্ষর। তবে বল হাতে কার্যকরী ভূমিকা নেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। ফখর জামান ও সলমন আলি আঘাকে ফেরান তিনি। আবার ওমানের বিরুদ্ধে ১৩ বলে ২৬ রান করেন। মাত্র ১ ওভার বল করতে পারেন। সুপার ফোরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যদি অক্ষর না খেলতে পারেন, তাহলে বিকল্প কে হবেন? স্পিনার অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বলা যায়, দলের ভারসাম্য রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁর। কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তীরা মতো স্পিনার আছেন। হাত ঘোরাতে পারেন অভিষেক শর্মা। সেক্ষেত্রে বাড়তি পেসার খেলাতে পারে ভারত। যদিও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ওয়াশিংটন সুন্দর বা রিয়ান পরাগরা আছেন। এশিয়া কাপে করমর্দন বিতর্ক এখনও থিতু হয়নি। তার মাঝেই রবিবার আবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ভারত। সেই ম্যাচের আগে সূর্যকুমার যাদবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁরা কি তৈরি? জবাব দিলেন সূর্য। পাকিস্তানের নাম মুখেও আনলেন না। ওমানকে হারিয়ে অপরাজিত থেকে সুপার ফোরে উঠেছে ভারত। খেলা শেষে সঞ্চালক সঞ্জয় মঞ্জরেকর সূর্যকে প্রশ্ন করেন, “রবিবারের ম্যাচের জন্য তৈরি তো?” জবাবে সূর্য বলেন, “সুপার ফোরের জন্য তৈরি।” আলাদা করে পাকিস্তান ম্যাচের কথা বলেননি সূর্য। স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান ম্যাচকে আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই দেখছেন। ওমানের বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে গিয়েছিল ভারত। দলের ১০ ব্যাটার ব্যাট করলেও সূর্য নামেননি। সেই প্রসঙ্গে মজা করেন মঞ্জরেকর। তিনি বলেন, “তুমি ১১ নম্বরের থেকে ভাল ব্যাটার। চেষ্টা কোরো একটু উপরে নামতে।” জবাবে সূর্য হেসে বলেন, “নিশ্চয়ই। পরের ম্যাচ থেকে উপরে নামার চেষ্টা করব।”

দুর্বল ওমানকে হারাতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে সূর্যদের। একটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল, ওমান বুঝি অঘটন ঘটিয়ে দিল। তাদের খেলায় মুগ্ধ সূর্য। ওমানের প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। সূর্য বলেন, “ওমান দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। আমি জানতাম, সুলু স্যরের (ওমানের সহকারী কোচ সুলক্ষণ কুলকর্নি। মুম্বইয়ের ক্রিকেটে পরিচিত নাম। সূর্যের সঙ্গেও খেলেছেন তিনি) অধীনে ওরা লড়াই ছাড়বে না। ওদের ব্যাটিং দেখে ভাল লেগেছে।” ম্যাচে ভারতের প্রথম একাদশে ফেরেন অর্শদীপ সিংহ ও হর্ষিত রানা। শুরুতে উইকেট তুলতে না পারলেও শেষ দিকে ভাল বল করেছেন তাঁরা। হার্দিক পাণ্ড্যও বোলিং ও ফিল্ডিং ভাল করেছেন। তাঁদের কথাও শোনা গিয়েছে সূর্যের মুখে। ভারত অধিনায়ক বলেন, “এত দিন বাইরে বসে থেকে হঠাৎ করে খেলা কঠিন। ছন্দ পেতে একটু সময় লাগে। এই গরম ও আর্দ্রতায় বল করা কঠিন। অর্শদীপ ও হর্ষিত ভাল বল করেছে। হার্দিক রান পায়নি ঠিক, কিন্তু ওকে ম্যাচের বাইরে রাখা যাবে না। ভাল বল করেছে। দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছে।” ম্যাচ শেষে দেখা যায় ওমানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলছেন সূর্য। তিনি মাঝে দাঁড়িয়ে। তাঁকে ঘিরে রয়েছেন ওমানের ক্রিকেটারেরা। একের পর প্রশ্ন করছেন তাঁরা। সূর্য জবাব দিচ্ছেন। পরে সকলের সঙ্গে ছবিও তোলেন ভারত অধিনায়ক। ওমানের অধিনায়ক জতিন্দর সিংহ বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ যে সূর্য এসে সকলের সঙ্গে কথা বলেছে। ও নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছিল। টি-টোয়েন্টি কী ভাবে খেলতে হয় সেই পরামর্শ দিচ্ছিল। সকলে ওকে প্রশ্ন করেই যাচ্ছিল। ও কিন্তু সব জবাব দিয়েছে। এতে দলের ছেলেদের অনেক উপকার হল।” জতিন্দরের জন্ম পঞ্জাবের লুধিয়ানায়। ওমানের হয়ে খেললেও প্রয়োজনে দেশের কথাই মনে পড়েছে তাঁর। ওমানের মাটিতে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ খেলতে নামবে ওমান। তার আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। জতিন্দর বলেন, “ভারতীয় বোর্ডের কাছে অনুরোধ, আমাদের জন্য বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দরজা খুলে দেওয়া হোক। তা হলে আমরা আরও ভাল ভাবে তৈরি হতে পারব। ফিটনেস, মানসিক শক্তি, প্রস্তুতি, সব ভাল হবে। ভারতের রঞ্জি দলগুলোর সঙ্গে খেলার সুযোগ পেলে আমাদের ক্রিকেট আরও উন্নত হবে। এটাই আমাদের আর্জি।”





