বছর তিনেক আগে এমনই এক বৈঠকে বোর্ড সভাপতির দৌড় থেকে সৌরভের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। এবারও কি তার পুনরাবৃত্তি হবে? স্বভাবোচিত কামব্যাক করে ফের বোর্ড প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসবেন মহারাজ? আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেটের মসনদে মহারাজ! সিএবি প্রেসিডেন্ট পদে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় অধিষ্ঠিত বতে চলেছেন ২২ সেপ্টেম্বর। পরবর্তী বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং! শনিবার অমিত শাহর বাড়িতেই বৈঠক। শনিবারের এই বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে আসছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। এই বৈঠকেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত। ২২ সেপ্টেম্বর বোর্ডের মনোনয়ন জমার শেষ দিন। আগামী চব্বিশ থেকে আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে। বোর্ড প্রেসিডেন্টের চেয়ারে কে বসবেন, তা অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই। বোর্ড প্রেসিডেন্টের দৌড়ে রয়েছেন সৌরভ। বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে একটু পিছিয়ে পড়েছেন হরভজন। বোর্ডের অন্দরমহলের খবর, তালিকায় কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রতিনিধিত্ব করা রঘুরাম ভাট। ভারতের হয়ে দু’টো টেস্ট খেলেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটমহলের একটা অংশ মনে করছে, যদি শেষপর্যন্ত রঘুরামকে প্রেসিডেন্ট করা হলে তা, হতাশাজনক বিষয়। সৌরভের মতো দেশের সেরা একজন প্রাক্তন অধিনায়কের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দু’টো টেস্ট খেলা একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের মতো হাই প্রোফাইল পোস্টে নিয়ে এলে, ভারতীয় ক্রিকেটের পক্ষে খুব ভালো বিজ্ঞাপন হবে না। সৌরভের আরও একটা প্লাস পয়েন্ট, তিনি তিন বছর বোর্ড প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলেছিলেন অত্যন্ত সফলভাবে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সফলভাবে আইপিএল আয়োজন করেছিলেন সৌরভ-জয় শাহ মিলে। ফলে বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক যথেষ্ট অভিজ্ঞ। এর আগে বোর্ড প্রেসিডেন্ট ছিলেন রজার বিনি। তিনি কর্নাটক থেকে এসেছিলেন বোর্ডে। রঘুরামও কর্নাটকের প্রতিনিধিত্ব করছেন। পরপর দু’বার একই রাজ্য থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার নজির নেই বিসিসিআই ইতিহাসে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার আগে বেসরকারিভাবে বৈঠক অমিত শাহর বাড়িতে। শাহী বৈঠকেই পরবর্তী প্রেসিডেন্টের নাম চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে ক্রিকেটমহলের মত। বোর্ড সভাপতি নির্বাচনে যাবতীয় নাটকেক পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ফের মসনদে দেখা যাবে সৌরভকে?
এদিকে, কিছুতেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সিএবিতে। মহাদেব চক্রবর্তী অভিযুক্ত সুব্রত সাহাকে সবরকম ক্রিকেটীয় কার্যকলাপ থেকে নির্বাসিত করার আবেদন নাকচ প্রাক্তন বিচারপতির। স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে বিদ্ধ সিএবি সদস্যের জরিমানা। খরচ হবে দৃষ্টিহীনদের ক্রিকেটের উন্নতিতে। স্বার্থের সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ। সিএবি-র ফিনান্স কমিটির সদস্য হয়েও নিজের হোটেলই সিএবি-কে ভাড়া দিয়ে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা রোজগার করেছেন। সিএবি-র ফিনান্স কমিটির সদস্য, বেলগাছিয়া ক্লাবের প্রতিনিধি সেই সুব্রত সাহার বড় অঙ্কের জরিমানা। সঙ্গে জরিমানা সিএবিকেও! গত মাসে সিএবি-র ওম্বুডসম্যান ও এথিক্স অফিসারের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা পড়েছিল। অভিযোগপত্রটি দিয়েছিলেন সিএবি-র অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বিদায়ী সদস্য মহাদেব চক্রবর্তী। অভিযোগ করেছিলেন, গড়িয়াহাটের একটি হোটেলের ঘরভাড়া বাবদ গত দু’বছরে ৩৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪০ টাকা মিটিয়েছে সিএবি। বিতর্ক শুরু হয়েছিল কারণ, যে হোটেলের জন্য গত দু’বছরে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার বিল মিটিয়েছে সিএবি, সেই হোটেলের অন্যতম মালিক সিএবি-রই ফিনান্স সাব কমিটির সদস্য সুব্রত সাহা। সিএবি-র সমস্ত খরচ দেখা, বিল পাশ করা, বরাদ্দ ঠিক করা, বাজেট কষা ফিনান্স সাব কমিটির দায়িত্ব। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, সিএবি-র ফিনান্স কমিটির সদস্য নিজের হোটেলই ভাড়া দিচ্ছে সিএবি-কে, এটা স্বার্থের সংঘাত। এ বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার জন্য সিএবি-র ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আর্জি জানানো হয়েছিল। শুনানির শেষে রায় ঘোষণা করেছেন সিএবি-র এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, নতুন সাব কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ফিনান্স সাব কমিটির কাজ করতে দেওয়া হবে না অভিযুক্ত সুব্রত সাহাকে। নতুন কমিটিতে তাঁকে রাখা হলেও হলফনামা জমা দিতে হবে। জানাতে হবে যে, এএসএল প্রাইম বা অন্য কোনও বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে তাঁর অর্থনৈতিক বা অন্য সম্পর্ক নেই। এক সপ্তাহের মধ্যে সুব্রত সাহাকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সিএবি-কেও ২ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় রায়ে জানিয়েছেন, সুব্রত সাহা ও সিএবি-র ২ লক্ষ টাকা করে মিলিয়ে মোট চার লক্ষ টাকা ক্রিকেটের উন্নতির জন্য দান করা হবে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমিকে। মহাদেব চক্রবর্তী অভিযুক্ত সুব্রত সাহাকে সবরকম ক্রিকেটীয় কার্যকলাপ থেকে নির্বাসিত করার আবেদন নাকচ করেছেন প্রাক্তন বিচারপতি। সুব্রত সাহা বলেন, আমি রায়ের কপি হাতে পাইনি এখনও। তবে শুনেছি। বিচারপতি যা নির্দেশ দিয়েছেন, দেখে তারপর প্রতিক্রিয়া দেব। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব কি না, এখনও জানি না। কপি পড়ে তারপর জানাব। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুব্রত কোনও আপিল করেন কিনা দেখার।





