এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্যায়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বিতর্কের অন্ত ছিল না। ভারতে একটা বড় অংশ চাইছিল এই ম্যাচটি যাতে বয়কট করা হয়। তবে ভারতীয় সরকার এই সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশের পর বিসিসিআই স্পষ্ট করে, ম্যাচ হবে। এবং ম্যাচটি হয়। পহেলগাঁও হামলা পরবর্তী সময় এই ম্যাচ অবশ্য বহু ভারতীয়র ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে পহেলগাঁও হামলায় স্বজন হারানো মানুষগুলো এই ম্যাচের বিরোধিতায় মুখ খুলেছিলেন। এই সব বিতর্কের মাঝেই ম্যাচ জিতে পহেলগাঁওয়ের নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন সূর্য। ভারতীয় অধিনায়ক এই জয় সেনাকে উৎসর্গ করেন। সূর্যকুমার যাদব বলেন, ‘আমরা পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে আছি। আর এই জয় ভারতের সামরিক বাহিনীকে উৎসর্গ করছি।’ উল্লেখ্য, ম্যাচ শেষে প্রেজেন্টেশনে সূর্যকুমার যাদব বলেন, এই জয় দেশের সাহসী সেনাদের উৎসর্গ করছি। তারা সবসময় আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তাই মাঠে সুযোগ পেলেই তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’ এদিকে নিজের খেলা নিয়ে সূর্য প্রেজেন্টেশে বলেন, ‘আমার সবসময় ইচ্ছে ছিল ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়ার। আজ সেটা করতে পেরে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে অনায়াসে ম্যাচটি জিতেছে ভারত। মাঠে এই ম্যাচে একবারের জন্যেও ভারত চাপে পড়েনি। তবে মাঠের বাইরে টিম ইন্ডিয়ার ওপর ছিল বিশাল চাপ। এই ম্যাচ জেতার চাপ শুধু নয়, এবার ছিল ‘বয়কট’ চাপ। তবে সব চাপ মাথায় নিয়েই পাকিস্তানকে কেবল উড়িয়ে দেয় সূর্যকুমার যাদবের দল। এবং সূর্যকুমার যাদব নিজে বহু ভারতীয়র মন জয় করেছেন তাঁর নো হ্যান্ডশেক বিষয়টির মাধ্যমে। গতকাল ম্যাচের শুরুতে টসের পর পাক অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্য। আর ম্যাচ শেষেও তিনি বা ভারতীয় দলের কেউ হাত মেলায়নি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে। উল্লেখ্য, গতকাল ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ কেন সূর্য। এবং সেই শট মেরেই গটগটিয়ে মাঠ ছাড়েন সূর্য। কোনও পাক ক্রিকেটারের ধারের কাছে তিনি যাননি। আর পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা যখন হাত মেলানোর জন্য ভারতীয় ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, তখন সপাটে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ম্যাচ একপেশে হলেও, ‘নাটকীয়তার’ অভাব ছিল না ম্যাচ ঘিরে। এই আবহে পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আগা ম্যাচ পরবর্তী প্রেজেন্টেশন বয়কট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রবিবার ছিল সূর্যর জন্মদিন। সেটা আরও স্পেশাল হয়ে উঠল পাকিস্তানকে হারিয়ে। তিনি নিজে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। ভারত ম্যাচ জেতে ৭ উইকেটে। আর সব শেষে এসে সূর্যর বক্তব্যে মুগ্ধ দেশের ক্রিকেটভক্তরা। তিনি বলেন, “আমরা পহেলগাঁও জঙ্গিহানায় নিহতদের পরিবারের পাশে আছি। তাঁদের জন্য আমাদের সমবেদনা রইল। আর আমাদের আজকের জয় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করতে চাই। তারা এভাবেই আমাদের অনুপ্রাণিত করুক।” সূর্যর এই মন্তব্য সব দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পহেলগাঁও জঙ্গিহানায় নিহত হয়েছিল ২৬ জন নিরীহ প্রাণ। তারপর ভারতের তরফ থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ও ঘটে। তারপরও কেন ক্রিকেট মাঠে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী? যা নিয়ে উষ্মা ছিল ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে। ‘বয়কটে’র দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। একটা অংশের মত, হিংসা আর খেলাধুলো একসঙ্গে চলতে পারে না। পাকিস্তানকে পুরোপুরি ‘বয়কটে’র কথা হচ্ছে, সেখানে ক্রিকেট মাঠে কেন ‘বয়কট’ নয়? বিসিসিআই অবশ্য বারবার ম্যাচ খেলার কথা বলেছে। সূর্যরাও এই নিয়ে আলাদা করে কিছু বলেননি। কিন্তু ওই যে বলে না, সবকিছুরই একটা মঞ্চ থাকে। বাইশ গজে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করে সূর্য সেই নিয়ে মুখ খুললেন। রবিবার নিয়মমাফিক টস করতে নামেন দুই অধিনায়ক। কিন্তু টস হয়ে যাওয়ার পর প্রথা মেনে তাঁরা করমর্দন করেননি। একে অপরকে ম্যাচের জন্য শুভেচ্ছাও জানাননি। তবে সৌজন্য না দেখালেও দুই দলের কেউই বিপক্ষকে অসম্মান করেননি।
দলের স্পিনারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের কথায়, “প্রথম কথা হল, বিশেষ এই দিনে জেতার অনুভূতিই আলাদা। এই জয় দেশবাসীকে দেওয়া রিটার্ন গিফট। স্পিনাররা অসাধারণ ছিল। ওরা ১২ ওভার বল করেছে। ওরা কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন মাঠে দেখা গিয়েছে। তিন স্পিনারকে এভাবে বোলিং করতে দেখে ভালো লেগেছে। হার্দিক আর বুমরাহ ওদের সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছে। আমরা বোলিং ইউনিট হিসাবে ভালো খেলেছি।” ১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন কুলদীপ যাদব। তাঁর সম্পর্কে সূর্যকুমার বলেন, “অসাধারণ ছিল কুলদীপ। ও টেস্ট দলেও ছিল। খেলার সুযোগ পায়নি। ফিটনেস নিয়ে খুবই খেটেছে। টানা দু’টি ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে ভারতের জয়ে বড় অবদান রেখেছে।” অন্যদিকে, ম্যাচের পর টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ বলেন, “দল হিসাবে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহতদের পাশে থাকতে চেয়েছিলাম। সেটা করে দেখিয়েছি আমরা। অপারেশন সিঁদুরের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য গর্বিত।” পাকিস্তান ম্যাচে রণংদেহি মেজাজে পাওয়া গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের। পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে বহু কিছু নিয়েই চর্চা জারি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অদৃশ্য বয়কটের পথে হেঁটেছেন সূর্যকুমার যাদবরা। টসের সময় পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গে করমর্দন করেননি ভারত অধিনায়ক।





