ভুয়ো ভোটার খোর মন্ত্রীই। ভুয়ো হিসেবে নাম থাকার অভিযোগ খোদ রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির বিরুদ্ধে। এসআইআর অর্থাৎ সার চালু হওয়ার আগেই ভুয়ো ভোটার ধরতে রাস্তায় নামল বিজেপি। হাওড়ার তেলকল ঘাট রেল কোয়ার্টারে গিয়ে বিজেপি নেতারা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির বিরুদ্ধে সরাসরি ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ আনেন। ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা, তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা থেকে শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ। বিজেপি রাজ্য সম্পাদক উমেশ রায় অভিযোগ করেন, মনোজ তিওয়ারির বাবা রেলের চাকরির সুবাদে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অবসর গ্রহণের পরে প্রায় আট বছর আগে সেই ফ্ল্যাট ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মনোজ তিওয়ারির বাবারও প্রায় আট বছর আগে মৃত্যু হয়েছে। অথচ, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের মনোনয়নপত্রে ওই ফ্ল্যাটের ঠিকানা ব্যবহার করেন মন্ত্রী। উমেশ রায়ের দাবি, ‘মনোজ বহু বছর ধরে এখানে থাকেন না। অথচ, এখানকার ভোটার লিস্টে তাঁর ও তাঁর ভাই রাজকুমার তিওয়ারির নাম রয়েছে। অর্থাৎ, তিনি ভুয়ো ভোটার। আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করব।’ এই ঘটনায় পাল্টা সরব হন তৃণমূল কর্মীরা। অভিযোগ, বিনা অনুমতিতে দুপুরবেলায় বিজেপি কর্মীরা এলাকায় ঢুকে পড়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়। তৃণমূলের দাবি, মনোজ তিওয়ারি এখানেই বড় হয়েছেন, এখানেই তাঁর খেলাধুলার জীবন শুরু। আজও তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন প্রায়ই ওই ফ্ল্যাটে আসেন। তাই বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।
প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির কথায়, ‘নির্বাচনে লড়ার সময়ে আমি পুরোনো ডকুমেন্ট জমা দিয়েছিলাম। সেই কারণেই ভোটার লিস্টে নাম রয়ে গিয়েছে। তবে, আমার নাম দু’জায়গার ভোটার লিস্টে নেই। নাম পরিবর্তনের জন্য ইতিমধ্যেই আমি আবেদন জানিয়েছি।’ ঘটনায় এলাকায় কিছুক্ষণ উত্তেজনা থাকলেও, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে রাজনীতির পারদ ফের চড়ে উঠল। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়লে, শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভুয়ো ভোটার হিসেবে নাম থাকার অভিযোগ উঠল খোদ রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির বিরুদ্ধে। যে ঠিকানায় তিনি থাকেন না, সেই ঠিকানার কথা কেন লেখা হল মনোনয়নে! প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে, মন্ত্রীর দাবি, পুরনো নথি জমা দেওয়ায় ওই ঠিকানা রয়ে গিয়েছে। ভুয়ো ভোটার খুঁজতে হাওড়ার তেলকল ঘাট রেল কোয়ার্টারে যান বিজেপির রাজ্য সম্পাদক উমেশ রাই ও বিজেপি কর্মীরা। তাঁরা যখন হাওড়া তেলকল ঘাট রেল কোয়ার্টারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির ফ্ল্যাটের ঠিকানায় যান তখন তাঁরা দেখেন ওই ফ্ল্যাটে মন্ত্রী থাকেন না। ওই ফ্ল্যাটে থাকে অন্য পরিবার।
মনোজ তিওয়ারির বাবা রেলে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে কয়েক বছর আগে মনোজ তিওয়ারি এখানেই থাকতেন। কিন্তু তাঁর বাবা অবসর গ্রহণ করার পর ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান মনোজ ও তাঁর পরিবার। তাঁর বাবা প্রায় আট বছর আগে মারা গিয়েছেন। অথচ ২০২১ সালে ভোটার মনোনয়নপত্রে তিনি ওই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ বিজেপির। যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি বিরোধীদের। বিজেপির দাবি, মন্ত্রী আসলে ‘ভুয়ো ভোটার’।





