ভূদেব মুখোপাধ্যায় বনাম সিএবি’র মামলাকে ঘিরে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়ে গেল বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায়। আর তা ঘটল নির্বাচনের ঠিক আগে-আগে। ২০২৩ বিশ্বকাপের টিকিট বণ্টনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। চব্বিশ ঘণ্টা আগে সেই মামলার রায় দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। রায়ের লিখিত কপিতে লেখা, সিএবি ওম্বুডসম্যান পুরো বিষয়টা দেখছেন। নিয়মিত শুনানি হচ্ছে। আগামী শুনানির দিন হিসেবে ১ নভেম্বরকে ধার্য করা হয়েছে। তাই বাদীপক্ষ নিজেদের সমস্ত বিষয় ওম্বুডসম্যানের কাছে পেশ করতে পারেন। সিএবি’র প্রাক্তন যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাসের জমা করা নথিপত্রের ভিত্তিতে ওম্বুডসম্যানের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। যেখানে অভিযোগ করা হয়, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় অ্যাপেক্স কাউন্সিল বৈঠকে ছয় হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ছাপানোর কথা বলা হয়। লোধা আইন দেখিয়ে। যে আইন বলে, মাঠের সমগ্র দর্শকাসনের দশ শতাংশের বেশি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ছাপানো যাবে না। কিন্তু অভিযোগ, ছ’হাজার টিকিটের কথা বলে টিকিট ছাপানো হয় ১৭ হাজার। অথচ সিএবি’র আজীবন সদস্যরা তাঁদের প্রাপ্য কমপ্লিমেন্টারি টিকিট পাননি। যা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে দেন সিএবি’র আজীবন সদস্য ভূদেব মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। আদালত সেই আবেদনকে ওম্বুডসম্যানের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, রিট পিটিশন ‘ডিসপোজড অফ’ করে দেওয়া হল। বিবিধ ব্যাখ্যা শুরু হয়ে গিয়েছে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায়। শাসকগোষ্ঠীর বক্তব্য, আদালতে মহাধাক্কা খেয়ে গেলেন দেবব্রত। ফের সম্মানহানি হল ‘অপসারিত’ সিএবি যুগ্ম সচিবের। কারণ, তাঁর মামলাটাই খারিজ হয়ে গেল। বাদীপক্ষের কেউ কেউ যা শুনে আবার পালটা বললেন, লিখিত রায়ের কপিতে কোথায় লেখা রয়েছে দেবব্রতর নাম? মামলাটা তো ভূদেব মুখোপাধ্যায় বনাম সিএবি! দ্বিতীয়ত, কোথায় লেখা রয়েছে যে বাদীপক্ষরা মামলা হেরে গিয়েছে? লেখা রয়েছে, রিট পিটিশন ডিসপোজড অফ করা হল। যার অর্থ, মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেল। যাকে খারিজ হওয়া বলে না। বাদীপক্ষের কেউ কেউ এটাও বললেন যে, এতে বরং সুবিধেই হল। কারণ, মহামান্য আদালত মামলাকারীদের সমস্ত বিষয় ওম্বুডসম্যানের কাছে পেশ করতে বলে দিয়েছেন। তাই নিজেদের ‘প্রাক্তন’ দেখিয়ে পরে আর কেউ ‘দায়মুক্ত’ হতে পারবেন না!
আইপিএলের টিকিটের দাম বাড়ছে। আগে আইপিএলের টিকিট কিনতে গেলে ২৮ শতাংশ জিএসটি দিতে হত। এ বার থেকে ৪০ শতাংশ জিএসটি দিতে হবে। অর্থাৎ জিএসটি কাঠামোর সর্বোচ্চ ধাপে রাখা হয়েছে আইপিএলের টিকিটকে। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার আইপিএলের ম্যাচকে ব্যয়বহুল বিনোদন হিসাবেই দেখছে। সবচেয়ে বেশি কর দিতে হবে। আইপিএলের কোনও ম্যাচের টিকিটের দাম ১০০০ টাকা। আগে করসমেত দিতে হত ১২৮০ টাকা। এ বার থেকে সেটাই ১৪০০ টাকা হয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে ৬৪০ টাকার টিকিটের দাম বেড়ে হচ্ছে ৭০০ টাকা। ২০০০ টাকার টিকিটের দাম ২৫৬০-এর বদলে হচ্ছে ২৮০০ টাকা। তার পরে স্টেডিয়াম ফি এবং অনলাইন বুকিং বাবদ খরচও রয়েছে। ফলে এক লাফে কয়েকশো টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বিলাসবহুল গাড়ি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট জেট, রেসিং কারের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিগারেট, চুরুট এবং তামাকজাত যাবতীয় পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ হারে জিএসটি নেওয়া হবে। জিএসটি বাড়ছে আইপিএলের টিকিটেও। আইপিএলের টিকিটের দাম বাড়লেও, সাধারণ কোনও ক্রিকেট ম্যাচের টিকিটে ১৮ শতাংশই জিএসটি নেওয়া হবে। তার কোনও পরিবর্তন হয়নি। শুধু আইপিএলের মতো ‘প্রিমিয়াম’ খেলাধুলোর ক্ষেত্রে বর্ধিত হারে কর দিতে হবে। বিনোদনের মধ্যে রয়েছে সিনেমাও। তবে সিনেমার টিকিটের দাম কমছে। আগে সিনেমার টিকিটের দামের সঙ্গে ১২ শতাংশ কর দিতে হত। এখন সেটা কমে হয়েছে পাঁচ শতাংশ। তবে ১০০ টাকা বা তার নিচের দামের ক্ষেত্রে এই কর প্রযোজ্য। টিকিটের দাম ১০০ টাকার বেশি হলে ১৮ শতাংশ কর দিতে হবে।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকেই ভারতীয় বোর্ডের নির্বাচন। আপাতত লোধা আইন মেনে। কারণ, জাতীয় ক্রীড়া আইনের নিয়মকানুন ঠিক হতে সময় লাগবে। অপেক্ষা নাকি আর করতে ইচ্ছুক নয় ভারতীয় বোর্ড। নতুন প্রেসিডেন্টের সত্তর বছর হয়ে গিয়েছে। লোধা আইনে তিনি আর প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারবেন না। প্রশ্ন, কোন হেভিওয়েট ক্রিকেটারকে প্রেসিডেন্ট করা হবে? বিনি ভারতের প্রথম বিশ্বজয়ী টিমের সদস্য ছিলেন। তাঁর আগে ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। যিনি দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত। দুই, নতুন আইপিএল চেয়ারম্যান কে? বর্তমান চেয়ারম্যান অরুণ ধুমালের ছ’বছর ক্রিকেট প্রশাসনে হয়ে যাওয়ায় বাধ্যতামূলক ‘কুলিং অফ’ পিরিয়ডে যেতে হবে। তাঁর জায়গায় আইপিএল চেয়ারম্যান হতে পারেন রাজীব শুক্লা বা এমসিএ-র প্রাত্তন সচিব সঞ্জয় নায়েক। শুক্লা আইপিএল চেয়ারম্যান হলে তাঁর জায়গায় বিসিসিআই সহ-সভাপতি হতে পারেন বিহার ক্রিকেট সংস্থার প্রধান ও বিজেপি নেতা রাকেশ তিওয়ারি। বিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির মধ্যে সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া, সহ-সচিব রোহন দেশাই এবং প্রভতেজ ভাটিয়া ছাড়া বাকি সকল সদস্যেরই কোনও না কোনও পরিবর্তন হবে। আপাতত বোর্ড থেকে পুরোপুরি বিদায় বিচ্ছেন রজার বিনি। আর কুলিং অফ পিরিয়ডে যাচ্ছেন অরুণ ধুমলও।




