চাঁদ এবং সূর্যের ঠিক মাঝে চলে আসে পৃথিবী। ছায়া পড়ে চাঁদে। সে সময় হয় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। আকাশে চোখ রাখলে দেখা যাবে চাঁদের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ। আর সেই সুযোগ মিলবে এই সেপ্টেম্বরেই। ৮২ মিনিট ধরে দেখা যাবে লাল রঙের চাঁদ। গ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে আরও বেশি সময় ধরে। তার জেরে আকাশে দেখা যাবে লাল রঙের চাঁদ, যাকে বলে ‘ব্লাড মুন’। ৭-৮ সেপ্টেম্বর রাতে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। তার উপর সূর্যের আলো পড়ে। তার পরেই তাকে দেখা যায়। এ বার পৃথিবী চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে চলে এলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপরে। তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। ৭-৮ তারিখে যে চন্দ্রগ্রহণ হবে, তা চলবে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে। সাম্প্রতিক সময়ে এত ক্ষণ ধরে চন্দ্রগ্রহণ সে ভাবে হয়নি। বিশেষ বিশেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণকে অনেক সময় ‘ব্লাড মুন’-ও বলা হয়ে থাকে। কারণ গ্রহণের ফলে চাঁদের রং হয় লাল। অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা থেকে দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ। ভারতের প্রায় সব শহর থেকেই দেখা যাবে। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, পুণে, লখনউ, হায়দরাবাদ, চণ্ডীগড় থেকে স্পষ্ট এই গ্রহণ দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অবশ্যই অনুকূল থাকতে হবে। গ্রিনিচ সময় বা ইউনিভার্সাল টাইম কোঅর্ডিনেট ইউটিসি অনুসারে ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টে ২৫ মিনিটে শুরু হবে চন্দ্রগ্রহণ। ভারতে তখন রাত ৮টা ৫৮ মিনিট। ইউটিসি অনুসারে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে শেষ হবে সেই গ্রহণ। ভারতে তখন ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২টো ২৫ মিনিট। এর মাঝে চাঁদের রং হয়ে উঠবে লাল। ভারতে সেই দৃশ্য দেখা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা থেকে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৮২ মিনিট সময় ধরে। এমনটাই জানান ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের অধিকর্তা সন্দীপকুমার চক্রবর্তী। তিনি জানালেন, ওই সময়ে চাঁদের রং থাকবে টকটকে লাল। দীর্ঘ ক্ষণ ধরে এই চন্দ্রগ্রহণ চলবে। সে সময় ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের তরফে হাজার হাজার ছবি তোলা হবে চাঁদের। সন্দীপ জানিয়েছেন, এমনিতে চাঁদের গায়ে অবিরত উল্কা আছড়ে পড়ছে। কিন্তু চাঁদের আলোর কারণে তা দেখা যায় না। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময়ে যদি তা দেখা যায়, তবে নতুন গবেষণার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি হবে। চাঁদকে লাল দেখানোর কারণ, চাঁদ এবং সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে পৃথিবী, তখন তার ছায়া পড়ে চাঁদে। সে সময় হয় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। চাঁদ পুরোপুরি কালো কিন্তু হয় না। বদলে লাল হয়ে ওঠে। সূর্য আর চাঁদের মাঝে পৃথিবী চলে এলে সূর্যের রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধাক্কা খায়। এই বায়ুমণ্ডল ছোট তরঙ্গ নীল এবং বেগুনি-কে ছেঁকে নেয়। শুধু দীর্ঘ লাল, কমলা তরঙ্গই চাঁদে গিয়ে পৌঁছোয়।
মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডই বেশি। লালচে গ্রহকে নিয়ে কৌতূহলও অনেক। মঙ্গল গ্রহের ভিতরে কী রয়েছে, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তারই খোঁজ পেয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে কোনও এক প্রকাণ্ড মহাজাগতিক বস্তু আছড়ে পড়েছিল মঙ্গল গ্রহে। ঠিক কিসের সঙ্গে মঙ্গলগ্রহ ধাক্কা খেয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মঙ্গলগ্রহের অভ্যন্তরে এখনও রয়ে গিয়েছে সেই মহাজাগতিক বস্তুর অবশিষ্টাংশ। কোনও গ্রহকে গঠনের দিক থেকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয় গ্রহের একেবারে কেন্দ্রভাগ বা ‘কোর’, পৃষ্ঠদেশ এবং এই দুইয়ের মাঝের অংশ ‘ম্যান্টল’ কেন্দ্রভাগের আবরণী। মঙ্গলের ‘কোর’ এবং পৃষ্ঠদেশের মাঝের আস্তারণে লুকিয়ে রয়েছে ধাক্কা খাওয়া মহাজাগতিক বস্তুর অবশিষ্টাংশ। মঙ্গল গ্রহের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০১৮ সালে ‘ইনসাইট’ ল্যান্ডার পাঠায় নাসা। ওই বছরের নভেম্বরে মঙ্গলে অবতরণ করে ‘ইনসাইট’, যার কাজ ছিল লাল গ্রহের ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা। ২০২২ সাল পর্যন্ত ‘ইনসাইট’ মঙ্গল গ্রহের ১৩১৯টি কম্পনকে চিহ্নিত করেছে। তা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেই মঙ্গলের ‘ম্যান্টল’-এর বিষয়ে নতুন তথ্য খুঁজে পেয়েছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ মহাকাশ বিজ্ঞানী কনস্টান্টিনোস চার্লামবুসের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গল গ্রহের আটটি ভূমিকম্পের তরঙ্গ বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় উঠে এসেছে, সৌরজগত সৃষ্টির আদি লগ্নে বড় আকারের একটি মহাজাগতিক বস্তু আছড়ে পড়েছিল মঙ্গলগ্রহে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, সেটি উল্কাপিণ্ড জাতীয় কোনও বস্তু হতে পারে। ওই মহাজাগতিক বস্তুর কিছু অংশ মঙ্গল গ্রহের ‘ম্যান্টল’-এও ঢুকে গিয়েছে এবং তা এখনও টুকরো টুকরো অবস্থায় ছড়িয়ে রয়েছে। মঙ্গল গ্রহের ‘ম্যান্টল’-এ প্রায় চার কিলোমিটার অংশজুড়ে এটি ছড়িয়ে রয়েছে। সৌরমণ্ডল সৃষ্টির লগ্নে মহাকাশে এমন অনেক বস্তুই গ্রহগুলির সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে। পৃথিবীর ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পৃথিবীর ‘ম্যান্টলে’ বর্তমানে এমন কিছুই আর আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা যায় না। গবেষকদের অনুমান, পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গল গ্রহের ‘ম্যান্টস’ তুলনামূলক ধীরগতিতে বিকশিত হয়েছে। গবেষক চার্লামবুসের কথায়, “এর আগে কোনও গ্রহের অভ্যন্তর ভাগ এত স্পষ্ট এবং সূক্ষ্ম ভাবে দেখা যায়নি। আমরা প্রাচীন সময়ের কিছু টুকরোয় ভরা একটি ‘ম্যান্টল’ দেখতে পাচ্ছি। সম্ভবত মঙ্গলের ‘ম্যান্টল’ তুলনামূলক ধীরে বিকশিত হয়েছে। সেই কারণেই এই টুকরোগুলি এত দিন পর্যন্ত রয়ে গিয়েছে। পৃথিবীর ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা আর দেখা যায় না।”




