সিএবি’র অন্দরমহলে ভোট রাজনীতি। সরগরম বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা। সভাপতির পদপ্রার্থী সৌরভ গাঙ্গুলি। নাম ঘোষণার পর থেকে সমীকরণও পাল্টাতে শুরু করছে। ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সিএবির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এক ঝাঁক ক্রিকেট তারকা। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সিএবি সভাপতি স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়, সিএবি সচিব নরেশ ওঝা, প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া ও বৈশালী ডালমিয়া, প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মী রতন শুক্লা, অশোক দিন্দা, মহিলা ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামী এবং বহু প্রাক্তন ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “এখনো মনে পড়ে, এক সময় ইডেন গার্ডেনে বসে খেলা দেখতাম, আজকাল ক্লাব হাউসে বসে দেখি। সিএবি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সব টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে, এটা অব্যাহত থাকুক।” ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস বলেন, ” ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মতো আজকে ধনধান্য অডিটোরিয়াম ভর্তি। সিএবি অনুষ্ঠানে আসলে আমার বুকে ব্যথা হয়। কারণ সৌরভ এবং ঝুলনের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটাররা বাংলায় আছেন তবুও যেন বাংলার ক্রিকেট পিছিয়ে যাচ্ছে।” শেষ কয়েক দশক রঞ্জি না জেতার আক্ষেপ করে করেন ক্রীড়ামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সিএবির জীবনকৃতি পুরস্কার, যা প্রদান করা হয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি প্রাক্তন ক্রিকেটারদের। এবছরের জীবনকৃতি পুরস্কার পান অরূপ ভট্টাচার্য ও শ্যামা সাউ। সম্মান গ্রহণ করে আবেগপ্রবণ অরূপ ভট্টাচার্য বলেন, “আমার কোচ পুলক বিশ্বাস এবং মা-বাবার অবদান ছাড়া আমি আজকের অবস্থানে আসতে পারতাম না। সিএবির প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা, যা আমাকে এই বিশেষ সম্মান দিয়েছে। পরবর্তী জন্মে বাংলাতেই ক্রিকেটার হতে চাই।” মহিলা বিভাগের জীবনকৃতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শ্যামা সাউয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক ও দু’লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। এই পুরস্কার আমি আমার ছোটবেলার কোচকে উৎসর্গ করছি।” পুরুষ বিভাগে বর্ষসেরা ক্রিকেটার সুদীপ ঘরামির হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। মহিলা বিভাগে তনুশ্রী সরকার। মহিলা ক্রিকেটে সিনিয়র উইমেন্স টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সর্বাধিক রান করেছেন তনুশ্রী সরকার। তাঁকে পুরস্কার তুলে দেন ঝুলন গোস্বামী। পুরুষদের বিভাগে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছেন সুদীপ কুমার ঘরামি। মেয়েদের বিভাগে বর্ষসেরা তনুশ্রী সরকার। ‘জেন্টলম্যান’ ক্রিকেটার শাহবাজ আহমেদ। বছরের সেরা পেসার সায়ন ঘোষ। রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার পেয়েছেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। সেই প্রতিযোগিতায় বাংলার সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক সূরজ সিন্ধু জায়সওয়াল পুরস্কার নিতে আসতে পারেননি। কারণ, পূর্বাঞ্চলের হয়ে দলীপ ট্রফি খেলছেন।

বর্ষসেরা ক্রিকেটার হওয়ার পাশাপাশি মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কারও পেলেন তনুশ্রী। মেয়েদের এক দিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন ধারা গুজ্জর। টি-টোয়েন্টি ও এক দিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের পুরস্কার দেওয়া হয় সাইকা ইশাককে। ইংল্যান্ড সফরে ভারতের জাতীয় স্কোয়াডে থাকা আকাশ দীপকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার তুলে দেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আকাশ দীপ বলেন, “এতো বড় সম্মান পেয়ে আমি সত্যিই আবেগী। আমার মা আমাকে জন্ম দিয়েছে, কিন্তু সিএবি আমার ক্রিকেটের জন্ম দিয়েছে।” বিশেষ পুরস্কার পান অভিমন্যু ঈশ্বরান, যিনি ইংল্যান্ড সফরে ছিলেন। বিসিসিআইয়ের মহিলা অনূর্ধ্ব ১৫ একদিনের ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন বাংলার দলের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পুরুষ বিভাগে বর্ষসেরা ক্রিকেটার তথা হিসেবে পুরস্কৃত হন সুদীপ ঘরামি এবং মহিলা বিভাগে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে তনুশ্রী সরকারকে পুরস্কৃত করা হয়। সিএবি’র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অরুণ লাল, ঝুলন গোস্বামীরা।




