Monday, July 27, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

গৌরীপুত্র গণেশ হলেন সৌভাগ্য, সুখ, সমৃদ্ধি, সিদ্ধির দেবতা!‌ গজমুখ নামে এক শক্তিশালী অসুর দমনে দেবতারা গণেশের শরণে!

গৌরীপুত্র গণেশ হলেন সৌভাগ্য, সুখ, সমৃদ্ধি, সিদ্ধির দেবতা। শুভ কাজে, প্রতিটি পুজোর শুরুতে সিদ্ধিদাতা গণেশের বন্দনা করা হয়। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী গণেশের জন্মতিথি। স্কন্দ পুরাণ অনুযায়ী, এই তিথিতেই গণেশের জন্ম। গণেশ চতুর্থী মহাসমারোহে পালিত হয় গোটা দেশে। তবে গণেশ আরাধনার আরও একটি চতুর্থী তিথি রয়েছে। সরস্বতী পুজোর আগের দিন, অর্থাৎ মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে গণেশের পুজো করা হয়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতেই গণেশের জন্ম হয়েছিল। একে বিনায়ক চতুর্থীও বলা হয়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের গণেশ খণ্ডে রয়েছে, স্বয়ং বিষ্ণুর ইচ্ছেয় গিরিরাজ-কন্যা পার্বতী ও মহেশ্বরের পুত্র গণেশের জন্ম। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী শ্রীবিষ্ণুকে দেখে মুগ্ধ হয়ে পার্বতী তাঁর মতো পুত্রকামনা করেন। বিষ্ণু দেবীকে ইচ্ছাপূরণের বরদান করেন। এর পরে এক দিন শিব-পার্বতী স্বগৃহে রতিক্রিয়ায় মগ্ন ছিলেন, সেই সময়ে বিষ্ণু বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বেশে ভিক্ষা চাইতে আসেন। পার্বতী তাঁকে ভিক্ষা দিতে গেলে শিবের বীর্যপাত হয়। বিষ্ণু তখন শিশুর বেশে পালঙ্কে আবির্ভূত হন। এ ভাবেই গণেশের জন্ম। দিনটি ছিল মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী। দিদাকে ছাড়া প্রথম বছর, পুজোর আয়োজন থেকে ভোগের থালি, গণেশ পুজোয় কেমন প্রস্তুতি রণিতার? দক্ষিণ ভারতে, মহারাষ্ট্রের কিছু অংশে এবং পূর্ব ভারতে মাঘ মাসে শ্রীপঞ্চমীর আগের দিন গণেশ চতুর্থী বা বিনায়ক চতুর্থী পালিত হয়। বাংলায় গণেশ পুজোর জন্য এই তিথিটি অধিক জনপ্রিয় ছিল। গোটা বঙ্গদেশে এই তিথিতেই গণেশ পূজিত হতেন। বিভূতিভূষণের কাহিনি অবলম্বনে সত্যজিৎ রায়ের ছবি ‘অপরাজিত’য় (১৯৫৬) মাঘ মাসে গণেশ পুজোর প্রসঙ্গ এসেছে। অপু তাঁর মাকে চিঠিতে জানায়, ‘কলেজে গণেশপূজায় ছুটি থাকে না। তাছাড়া আগামী মাসে আমার পরীক্ষা।’ চিঠির তারিখ ১৩ পৌষ, ১৩৩৩ সন। অর্থাৎ আসন্ন মাঘে গণেশ পুজোয় কলেজ ছুটি না-থাকার কথাই সম্ভবত অপু তাঁর মাকে জানাচ্ছিলেন বাড়িতে না যাওয়ার কারণ হিসেবে। এটাই প্রমাণ করে মাঘের শুক্ল চতুর্থীতে বাংলায় গণেশ পুজোর প্রচলন ছিল। ধীরে ধীরে তা হ্রাস পেয়েছে। তবে কিছু কিছু বনেদি বাড়িতে আজও মাঘের শুক্ল চতুর্থীতে পুজো পান গণেশ। খাস কলকাতায় ভবানীপুরের মল্লিক বাড়িতে শ্রীপঞ্চমীর আগের দিন সিদ্ধিদাতার পুজো করা হয়।

দুর্গাপুজোর সময় মা দুর্গার বাহন সিংহের সঙ্গে যেমন কার্তিকের বাহন ময়ূর, লক্ষ্মীর পেঁচা এবং সরস্বতীর হাঁস থাকে, তেমনই গণেশের বাহন হিসেবে ইঁদুরকে দেখা যায়। এই বিশাল আকারের দেবতার জন্য এমন একটি ছোট প্রাণীকে কেন বাহন হিসাবে বেছে নেওয়া হল, তার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনি এবং কিছু প্রতীকী বার্তা। পুরাণ অনুসারে, গজমুখ নামে এক শক্তিশালী অসুর ছিল – যে ছিল দেবতাদের প্রবল প্রতিপক্ষ। গজমুখকে দমন করার জন্য দেবতারা গণেশের শরণে যান। এরপর গণেশ তার সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। কিন্তু, গজমুখকে কোনও অস্ত্র দিয়েই পরাস্ত করা যাচ্ছিল না। তাই গণেশ নিজের একটি দাঁত ভেঙে গজমুখের দিকে ছুড়ে মারেন। সেই দাঁতের আঘাতে গজমুখ নিজের অহংকার ছেড়ে গণেশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তখন গণেশ তাকে বলেন, ‘তোমার অহংকার চূর্ণ হয়েছে। এখন থেকে তুমি আমার বাহন হবে।’ গজমুখ তখন একটি বিশাল ইঁদুরের রূপ ধারণ করে এবং চিরদিনের জন্য গণেশের বাহন হয়ে যায়! ক্রৌঞ্চ নামে এক গন্ধর্ব স্বর্গীয় গায়ক ছিলেন। যিনি তাঁর প্রতিভা নিয়ে খুব অহংকারী ছিলেন। একবার তিনি এক ঋষির পায়ের উপর দিয়ে হেঁটে যান। এতে ঋষি ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে একটি বিশাল ইঁদুর হওয়ার অভিশাপ দেন। অভিশাপের ফলে ক্রৌঞ্চ ইঁদুর হয়ে পৃথিবীতে চলে আসেন এবং তাঁর ধ্বংসাত্মক স্বভাবের কারণে মানুষের ফসল ও সম্পদ নষ্ট করতে শুরু করেন। সেই ইঁদুররূপী ক্রৌঞ্চ গণেশের আশ্রমে হানা দেন, তখন গণেশ একটি ফাঁস দিয়ে তাঁকে কাবু করেন। ক্রৌঞ্চ নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান। গণেশ তখন তাঁকে ক্ষমা করে বলেন, ‘তুমি এখন থেকে আমার বাহন হবে।’ সেই থেকেই ইঁদুর গণেশের বাহন। ইঁদুর অত্যন্ত ছোট হলেও খুবই ক্ষিপ্র এবং যেকোনও জায়গায় ঢুকে যেতে পারে। সেইসঙ্গে, ছোট্ট এই প্রাণীটি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিজের ধারাল দাঁত দিয়ে নষ্ট করতে সক্ষম। অন্যদিকে গণেশ হলেন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতীক। এই বিশাল শরীরের দেবতাকে একটি ছোট ইঁদুর বহন করে। যার প্রতীকী অর্থ হল জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে যেকোনও ক্ষুদ্র মানসিকতা বা ধ্বংসাত্মক শক্তিকে বশ করা যায়। অনেক পণ্ডিত মনে করেন, ইঁদুর হল মানব মনের প্রতীক। মন খুব চঞ্চল এবং তা নানা ধরনের কামনা-বাসনার পিছনে ছুটে বেড়ায়। ঠিক যেমন ইঁদুর সব সময় কিছু না কিছু খুঁজতে থাকে। গণেশ ইঁদুরের উপর বসে আছেন, যার অর্থ হল তিনি চঞ্চল মন এবং কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। বাহন হিসাবে ইঁদুরকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে গণেশ দেখিয়েছেন যে তিনি কেবল বাধা দূর করেন না। বরং, অহংকার, ক্ষয় এবং চাঞ্চল্য়কে বশ করে জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন।

গণেশ পুজোতে সাধারণত চাঁদ দেখা বারণ। প্রচলিত আছে, গণেশকে দেখে চাঁদের হাসি পেয়েছিল বলে গণেশ তাকে অভিশাপ দেন, যে কেউ চাঁদ দেখলেই তার জীবনে নেমে আসবে মিথ্যা অপবাদ। তাই পুজো চলাকালীন চাঁদ থেকে চোখ সরিয়ে রাখুন। যদি ভুলবশত চাঁদ দেখে ফেলেন, তা হলে মিথ্যা অপবাদ থেকে বাঁচতে শ্রীমদ্ভাগবতের ‘স্যমন্তক মণি’-র গল্পটি শোনা বা পড়া যেতে পারে। গণেশ-সরস্বতীর সঙ্গে বদল কার্তিক-লক্ষ্মীর! পূর্ববঙ্গের প্রাচীন পারিবারিক পুজোয় কেন এই উলটপুরাণ? এ ছাড়া, ভুল করেও গণেশ পুজোয় তুলসী ব্যবহার করা যাবে না। এক পৌরাণিক গল্প অনুসারে, তুলসী গণেশকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। গণেশ রাজি না হওয়ায় তুলসী অভিশাপ দিয়েছিলেন যে গণেশের দু’টি বিয়ে হবে। তার পর থেকে আর গণেশ পুজোয় তুলসী পাতা দেওয়া হয় না। পুজোয় ব্যবহৃত মূর্তি যেন ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আকার যতই ছোট হোক, মূর্তির অবস্থা ভাল থাকা জরুরি। ভক্তরা বলেন, এতে পুজোয় সাফল্য আসে। সন্ধ্যার পরে নৈবেদ্য দেওয়াও অনেকে এড়িয়ে চলেন। বিশ্বাস, দিনের আলোতেই দেবতাকে ভোগ অর্পণ শুভ। ধনতেরসে একত্রে দু’জনের পুজো, বাস্তু মেনে কী ভাবে লক্ষ্মী-গণেশ মূর্তি একসঙ্গে বসাবেন? গণেশের আর এক প্রিয় জিনিস হল মোদক। তাই তাঁর পুজোয় মোদক দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে মোদক নিরামিষ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে পুজোর দিনে কোনও জীবকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। হিংসা থেকে দূরে থাকাই ভাল। গণেশ পুজোয় কখনও কালো পোশাক পরা উচিত নয়। কারণ কালো রং শোকের প্রতীক। এই রঙের পোশাক পরলে পুজোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলার সঙ্গে শিঙারার পরিচয় নিয়ে একটা দারুণ গল্প আছে। জানেন, কী ভাবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে বাংলায় এই মুখরোচক পদের রাজপাট শুরু? তিনকোনা ময়দার পুঁটলির পেটের মধ্যে পুর ঠাসা। ঘি বা তেলে ফেলে সোনালি করে ভেজে নেওয়া। একখানা কামড় তাতে পড়লে যেন পেটের ভিতর থেকেই বেরিয়ে আসে ধোঁয়া! বাঙালি বাড়ির সান্ধ্য আড্ডার মৌতাত হোক বা অতিথি আপ্যায়নের রসদ– উৎসবে-অনুষ্ঠানে একটু নোনতা নোনতা, ঝাল-ঝাল বললেই যার চাহিদা সব থেকে বেশি থাকে, তারই নাম শিঙারা। বাংলার সঙ্গে শিঙারার পরিচয় নিয়ে একটা দারুণ গল্প মুখে মুখে ফেরে। সাল ১৭৬৬। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রর মুখে কোনও স্বাদ নেই। রক্তে চিনির গুঁতোয় একে মিষ্টি খাওয়া বন্ধ, তাতে নাস্তায় ঠান্ডা লুচি পেয়ে হালুইকরের উপর গেলেন বেজায় চটে। হালুইকর রাজাকে শান্ত করতে মিষ্টান্ন বানিয়ে দিতে চাইলেন। মিষ্টির নাম শুনে রাজা আরও অগ্নিশর্মা। হালুইকরকে শূলে চরানোর আদেশ দিলেন। কেঁদেকেটে, পায়ে পড়ে সে প্রাণদণ্ড থেকে রক্ষা পেলেও রাজার হুকুম তিন রাতের মধ্যে দেশত্যাগ করতে হবে। হালুইকরের বউ ধরিত্রী বেহরা বললেন যেতে যখন হবেই, এক বার শেষ চেষ্টা করতে ক্ষতি কী! দ্বিতীয় দিন সকালে পৌঁছলেন রাজদরবারে। রাজাকে বললেন, তিনি এমন কৌশলে লুচি তরকারি বানাবেন যে, আধ ঘণ্টা পরেও তা গরম থাকবে। রাজা বললেন, তাই হোক। কিন্তু যখনই বলা হবে, তখনই উপস্থিত করতে হবে। কোমরে আঁচল পেঁচিয়ে ধরিত্রী কাজে লেগে পড়লেন। পাচককে বললেন তরকারি বানাও। আর নিজে বসলেন ময়দার তাল নিয়ে। ছোট ছোট গোল গোল লেচি কেটে দশটা লুচি বেললেন। কাঁচা লুচির মধ্যে তরকারি ভরে তাকে ত্রিভুজের আকৃতি দিলেন। এ বার গরম ঘিয়ে ফেলে সোনালি করে তাদের ভাজা হল। রাজার আদেশ পেয়ে অদ্ভুত দর্শন নতুন এই খাবার পরিবেশন করা হল সোনার থালায়। রাজা হাতে নিলেন একটি। ধরিত্রী দেবী বললেন, “উঁহু, এক বারে নয়। ছোট্ট করে একটা কামড় দিন। জিভ পুড়ে যাবে নইলে। আর খেয়ে বলুন, কেমন স্বাদ হয়েছে। রাজা স্বাদের কথা কিছু বললেন না বটে, তবে ৬ মাস পর সেই দিন প্রথম বার রাজার মুখে রসনাতৃপ্তির হাসি দেখা দিল। খুশি হয়ে তিনি তিন ছড়া মুক্তোর মালা দিলেন ধরিত্রীর হাতে। ধরিত্রী এই খাদ্যের নাম বললেন সমভুজা। ভাষা গবেষকেরা মনে করেন, এই সমভুজাই ভাষার বিবর্তনের ফলে শিঙারা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলা তথা ভারতে যে শিঙারা পাওয়া যায়, তার মধ্যে আলু আর অন্যন্য সবজির পাশাপাশি ঝাল লঙ্কা এবং কিছু মশলা ব্যবহার করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজদের আগমনের পর থেকেই এ দেশে আলুর বহুল ব্যবহার শুরু হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বঙ্গভূমিতে পুর হিসেবে সাধারণত আলু, মটরশুঁটি, লঙ্কা ও বিভিন্ন সবজির তরকারি দেওয়া হয়। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলাদা আলাদা স্বাদের শিঙারা পাওয়া যায়। কোথাও তাতে পনির ব্যবহার করা হয়, তো কোথাও শুকনো ফল। মাছের পুর, মাংসের কিমা ভরা শিঙারা তৈরিরও রেওয়াজ হয় পরবর্তী কালে। ক্ষীরের পুর দেওয়া মিষ্টি শিঙারারও চল আছে। এখন আবার চাউমিনের পুর দিয়েও শিঙারা তৈরি করা হয়। ভারতে শিঙারার আবির্ভাব হল কী ভাবে, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। যেমন, বলা হয়, ফার্সি শব্দ ‘সংবোসাগ’ থেকেই এই শিঙারা শব্দের উৎপত্তি। আবার কোনও কোনও ইতিহাসবিদের দাবি, গজনবী সম্রাটের দরবারে এক ধরনের নোনতা পেস্ট্রি পরিবেশন করা হতো। তার মধ্যে পুর হিসাবে কিমা ও শুকনো বাদাম গোছের কিছু দেওয়া হতো। আবার কোথাও বলা হয়, শিঙারার আবিষ্কার হয় পারস্যে। বিরিয়ানি-মোগলাই খাবারের মতোই শিঙারাও ভারতে এসেছে মুঘল দরবারের হাত ধরে। সেখানে এর নাম ছিল ‘সমুচা’। তার পরে এক ভারতীয় নাস্তা কারিগরের হাত ধরে সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। পনেরোশো খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে জনৈক সিং সমুচার মতো সুস্বাদু একটা খাদ্যবস্তু বানান, নাম দেন শিঙারা। এই শিঙারা ছিল নিরামিষ। তার দেখাদেখি দিল্লির নিজামে আমিষ-নিরামিষ, দুই ধরনের শিঙাড়াই চালু করেন ওই এলাকার মুসলিম নাস্তার দোকানিরা। সেখানে আমিষ পুর তৈরির জন্য কলিজা, আর নিরামিষ পুরের জন্য চিনা বাদাম ও আলুর ব্যবহার ছিল। অপুর্ব স্বাদের কারণে দ্রুত সারা ভারতে সমোসার নাম ছড়িয়ে পড়ে। ভাষাতাত্ত্বিকেরা বলেন, এই সমুচাই নাম বদলে সমোসা হয়ে গিয়েছে। আর এক মত অনুযায়ী, আজকের শিঙারা আসলে ‘সাম্বুসা’ নামের একটি ইরানি খাবার, যা পরে ভারতীয় উপমহাদেশে আসে। নামে কী বা আসে যায়! সমভুজা, সমুচা, সমোসা বা শিঙারা যে নামেই ডাকা হোক, লাল চাটনির সাথে জুড়িদার এই পদই আজও বাঙালির কাছে সেরা মুখরোচক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles