বাংলার ক্রিকেট সংস্থার ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম সচিব পদে থাকাকালীন কাউকে সাসপেন্ড করা হল। বৃহস্পতিবার সিএবি-তে গিয়েছিলেন দেবব্রত। সেখান থেকে বার হওয়ার সময় তাঁর ঘরে থাকা ঠাকুরের ছবি-সহ নিজস্ব জিনিসপত্র তিনি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন। শোকজের পর আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সময় চেয়েছিলেন দেবব্রত। সেই সময় দিতে রাজি হয়নি অ্যাপেক্স কমিটি। বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে বাংলার ক্রিকেট সংস্থা জানিয়েছে, ছ’মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে বাংলার ক্রিকেট সংস্থায় কোনও পদে থাকতে পারবেন না দেবব্রত। কোনও কার্যকলাপে যোগ দিতেও পারবেন না তিনি। ২৩ আগস্ট আবার বৈঠক হবে। সেখানেই এই ঘটনা নিয়ে পরবর্তী আলোচনা করা হবে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলার ক্রিকেটে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। শুধু দেবব্রত নন, পাশাপাশি বাংলার ক্রিকেট সংস্থার কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী ও অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধেও আর্থিক কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। গত ৬ আগস্ট ছিল সিএবি-র অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠক। সেখানে শোকজ করা হয়েছিল দেবব্রতকে। টিকিটের বকেয়া টাকা তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। সেই শোকজ়ের জবাব দেওয়ার জন্য কয়েক দিন সময় চেয়েছিলেন দেবব্রত। অ্যাপেক্স কমিটি জানিয়ে দিয়েছে, সময় দেওয়া যাবে না। তার পরেই তাঁকে নিলম্বিত করা হয়েছে। সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ প্রবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিজের ক্লাব উয়াড়ি থেকে তিনি নিজের নামে টাকা তুলেছেন। কিন্তু যে হেতু এটা উয়াড়ি ক্লাবের আভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই তাতে নাক গলায়নি বাংলার ক্রিকেট সংস্থা। তবে ক্লাবের অনুদান বন্ধ রেখেছে সিএবি। অম্বরীশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। তাই তিনিও কোনও শাস্তি পাননি। তবে শাস্তি পেলেন দেবব্রত। অ্যাপেক্স কমিটি শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড করল সিএবি’র যুগ্ম-সচিব দেবব্রত দাসকে৷ যতদিন তদন্ত চলবে ততদিন রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থায় প্রবেশ করতে পারবেন না৷ সিএবি’র ইতিহাসে এই প্রথম কুর্সিতে থাকা কোনও সচিবকে এভাবে নিলম্বিত করা হল৷ নিলম্বিত হওয়ার নোটিশ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ঠাকুরের মূর্তি ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে যান দেবব্রত দাস৷ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত সিএবি’র যুগ্ম-সচিব দেবব্রত দাস। বলে গেলেন, ‘আমি রাজনীতির শিকার।’ সঙ্গে জোড়েন, ‘আমার কাছে যা তথ্য আছে, সামনে আনলে খুনও হয়ে যেতে পারি!’ এক সময়ে ঋদ্ধিমান সাহাকে বাংলা ছাড়া করার ক্ষেত্রেও দেবব্রত দাসের বড় ভূমিকা ছিল। যদিও সেই সময়ে সিএবি তাঁর পাশে ছিল।

বিতর্কে থাকা সিএবির যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস। যাঁর কথায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে বাংলা ছেড়ে ত্রিপুরায় চলে গিয়েছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। ম্যাচ গড়াপেটা-সহ নানা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সিএবির এই যুগ্ম সচিব। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগ তুলে সিএবিকে চিঠি পাঠায় আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস। এমনকী সিএবির ওম্বুডসম্যানের কাছেও জমা পড়ে অভিযোগ, আর্জি জানানো হয় তদন্ত শুরুর। সবমিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি বলে আশঙ্কা। সিএবি-র পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। বাংলা দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্রিকেটারদের থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তুলেছেন। একটি অ্যাকাডেমির সঙ্গে সিএবি অনুমোদিত কোনও ক্লাবের চুক্তি করিয়ে সেই অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীদের ময়দানে খেলার সুযোগ করে দেবেন কথা দিয়ে ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। সিএবি-তে তাঁর বিরুদ্ধে জমা পড়েছে জোড়া অভিযোগপত্র। একটি দিয়েছে তাঁর নিজের ক্লাব টাউন ক্লাব। অন্যটি, আদিত্য স্কুল অফ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নামের একটি অ্যাকাডেমি। সিএবি-র বিতর্কবিদ্ধ সেই যুগ্মসচিব দেবব্রত দাস সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। দাবি করছেন, তাঁকে কালিমালিপ্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাঁর ভাবমূর্তি কলুষিত করার জন্য এমনকী, টাউন ক্লাবের লেটারহেড জাল করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করলেন দেবব্রত। ২ জুলাই সিএবি-র ওম্বাডসম্যানের কাছে একটি চিঠি দেন টাউন ক্লাবের সভাপতি বিশাখ ঘোষ (মোহর)। তিনি অভিযোগ করেন, ক্রিকেটারদের বাংলা দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি টাকা তুলেছেন সিএবি-র যুগ্মসচিব, টাউন ক্লাবের প্রতিনিধি দেবব্রত। তিনি বাংলার দল নির্বাচনী সভায় থাকেন এবং সেই সূত্রে বাংলা দলে টাকার বিনিময়ে সুযোগ করে দেবেন বলে কথা দেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি টাউন ক্লাবে খেললে বাংলা দলে সুযোগ মিলবে বলেও ক্রিকেটারদের থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ দেবব্রতর বিরুদ্ধে। টাউন ক্লাবের খাবারের বিল সিএবি-র খাবারের খরচের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া, টাকার বিনিময়ে সিএবি-তে কোনও ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি – দেবব্রতর বিরুদ্ধে চার দফা অভিযোগ তুলে দু’পাতার চিঠি জমা দেন বিশাখ। গত ২৪ এপ্রিল সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে দু’পাতার একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন আদিত্য স্কুল অফ স্পোর্টসের প্রতিনিধি শচীন ঢোন্ডগেও।

চক্রান্তের পাল্টা অভিযোগ তুলে দেবব্রত বলেছিলেন, ‘অভিযোগপত্র যে লেটারহেডে দেওয়া হয়েছে, সেখানে টাউন ক্লাবের যুগ্মসচিব হিসাবে সুরঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও স্বপন দে-র নাম রয়েছে। যদিও টাউন ক্লাবের আসল লেটারহেডে সুরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের কোনও উল্লেখ নেই। চিঠিটা ভিত্তিহীন।’ প্রসঙ্গত, টাউন ক্লাবের যুগ্মসচিব সুরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ রয়েছে। তিনি টাউন ক্লাবের পদাধিকারী হওয়ার পাশাপাশি সিএবি-র কিউরেটরও। টাউন ক্লাবের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ। সিএবি সূত্রে খবর, টাউন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বিশাখ আগেও দেবব্রতর নামে সিএবি-তে নালিশ করেছিলেন। বিশ্বকাপ ও আইপিএলের প্রায় ৭ লক্ষ টাকার টিকিট কিনে সিএবি-তে সেই দাম মেটাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। যা নিয়ে সিএবি-র ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য একটি শুনানিও করেছেন। সেই শুনানিতে ৩ লক্ষ টাকার টিকিটের রশিদ দেখানো হয়। বাকি ৪ লক্ষ টাকার রশিদ দেখতে চান ওম্বাডসম্যান। টাকার বিনিময়ে তিনি কি ক্রিকেটারদের বাংলা দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? দেবব্রত বলেছিলেন, ‘সিএবি-র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল নির্বাচনী বৈঠকে তো আমার সই করার ক্ষমতা নেই। আমি বাংলা দলের কোচ, অধিনায়ক নই। সিএবি সচিব বা প্রেসিডেন্টও নই। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। খেলাটাকে ভালবাসি। ২২ বছর ধরে টাউন ক্লাবের ক্রিকেট দল দেখছি। নিজের জন্য একটা টাকাও নিইনি কখনও। যা খরচ করেছি সব ক্রিকেটের জন্য। টাউন ক্লাবের পাশাপাশি বড়িশা স্পোর্টিং ক্লাবের দলও করেছি কয়েকবছর ধরে। আর সেটা করেছি ক্রিকেট ভালবাসি বলে।’ দাবি, যে ক্রিকেটারের বাবার কাছ থেকে তিনি ৩০-৪০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ, সেটার সঙ্গে ক্রিকেটের কোনও সম্পর্ক নেই। দেবব্রত বললেন, ‘ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার অনেক পুরনো সম্পর্ক। অনেকদিন ধরে চিনি। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে ক্রিকেটের কোনও সম্পর্ক নেই।’ যোগ করলেন, ‘আদিত্য অ্যাকাডেমির কাছে কোনও টাকা নিইনি।’ মহম্মদ সামি, মুকেশ কুমারদের উত্থানের নেপথ্যে অভিযুক্ত সিএবি কর্তার অবদান রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। দেবব্রত বলছিলেন, ‘নিজের টাকায় সামির পরিচর্যা, মুকেশ কুমারের জুতো কিনে দেওয়া, অনেক কিছুই করেছি। কখনও ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখিনি। অভিযোগপত্র ওম্বাডসম্যানের কাছে জমা পড়েছে কি না, বা কোনও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে কি না বলতে পারব না। হাতে এখনও কিছুই পাইনি। ডাকা হলে যা বলার বলব।’ অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে বাংলা ক্রিকেটের ময়দান সরগরম। সিএবি-র একাংশ সব শুনে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলছে। বলা হচ্ছে, দেবব্রত বাংলা দলে কিংবা ক্লাব ক্রিকেটে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়েছেন প্রমাণিত হলে তাঁর শাস্তি প্রাপ্য। তবে ঘুষ দিয়ে ক্লাব বা বাংলা দলে ঢোকার চেষ্টা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার বা অ্যাকাডেমির বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। ১৯ জুলাই ওম্বাডসম্যানের কাছে সেটিরও শুনানি রয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভা হচ্ছে না বলে সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট অমলেন্দু বিশ্বাসের উত্তরপল্লি মিলন সংঘের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গত এপ্রিল মাসে সিএবিতে চিঠিটি পাঠিয়েছে আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস। প্রতিলিপিতে অভিযোগ? দেখে নেওয়া যাক। আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের তরফে চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে সচিন ধন্দগের। অভিযোগ, এই সংস্থার থেকে চার লক্ষ টাকা নিয়েছেন দেবব্রত। বিনিময়ে তিনি আশ্বাস দেন, আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস সিএবি স্বীকৃত ক্লাবের মর্যাদা পাবে। সংস্থাটি ভেবেছিল এর ফলে শিক্ষার্থীরা সিএবি অনুমোদিত বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাবেন এবং মিলবে যথাযথ স্বীকৃতি। যদিও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দেবব্রত দাস প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস। এমনকী এই সময়কালে সংস্থার তরফে দেবব্রত দাসকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজের উত্তর দেননি। ফলে বিশ্বাসভঙ্গের পাশাপাশি দেবব্রত দাস নিজের পদের অপব্যবহার করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ। সিএবির মতো প্রতিষ্ঠানকে এমন কেলেঙ্কারিতে যেভাবে জড়ানোর চেষ্টা হলো তাতে বিস্মিত আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠিতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত দেবব্রত দাসের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানোর পাশাপাশি চার লক্ষ টাকা তাঁর কাছ থেকে আদায় করে ফেরত দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি। এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে যথাযথ শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ সিএবি করবে এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করবে বলে আশা আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টসের। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে এপ্রিল মাসে। তারপর মাস দুয়েক পেরিয়ে গেলেও বহাল তবিয়তে দেবব্রত দাস ঘুরছেন বলে জানতে পেরেছে সংস্থাটি। এমনকী বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। গত ২ জুলাই সিএবির ওম্বুডসম্যানের কাছে জমা পড়ে চাঞ্চল্যকর একাধিক অভিযোগ। টাউন ক্লাবের সভাপতি বিশাখ ঘোষের তরফে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ, দল নির্বাচনী বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকেন এবং নির্বাচকদের প্রভাবিত করেন বলে দাবি করে দেবব্রত বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। বাংলার বিভিন্ন দলে সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এই টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের নথিও জমা পড়েছে ওম্বুডসম্যানের কাছে।নিজের পদের অপব্যবহার করে বিশেষ করে বছর দেড়েক ধরে দেবব্রত যে অনৈতিক কাজ চালাচ্ছেন, দুর্নীতি করছেন, শৃঙ্খলাভঙ্গ করছেন তা টাউন ক্লাব ও সিএবির গরিমায় আঘাত বলে উল্লেখ। টাউন ক্লাবের তরফে আরও অভিযোগ, সৌম্যদীপ মণ্ডল, গীত পুরীর মতো ক্রিকেটারদের দেবব্রত বাধ্য করেছেন টাউন ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য। তাঁদের আশ্বাস দেন টাউনের হয়ে খেললে বাংলা দলে সুযোগ মিলবে। তবে তাঁদের যে অর্থের বিনিময়ে টাউন ক্লাবের হয়ে খেলতে বলা হয়েছিল সেই অর্থ বকেয়া রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। আবার এমন অভিযোগও আছে যে, অনেকের কাছ থেকে দেবব্রত এই আশ্বাস দিয়ে টাকা নিয়েছেন যে তাঁদের সিএবি অনুমোদিত ক্লাবে খেলার বন্দোবস্ত করে দেবেন। প্রতারিত হয়ে, বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হয়ে আর্থিক লেনদেনের কপি-সহ ক্রিকেটার ও অভিভাবকরা অভিযোগ জানিয়েছেন টাউন ক্লাবে। এমনকী টাউন ক্লাবের ক্রিকেটারদের খাবারের বিল তিনি সিএবির ক্যান্টিন বিলে যোগ করেছেন বলে অভিযোগ। সেই বিলগুলিতে দেবব্রত নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। এ বিষয়ে ওম্বুডসম্যানের কাছে যথাযথ তদন্তের আবেদন। আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টসের মতো মুর্শিদাবাদের মিলন, কালীঘাট ক্লাবের সমীরণ দাস, রিয়াল এস্টেটের মালিক অমিত গুপ্ত সিএবির যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন সিএবি সভাপতির কাছে। বিষয়টি জানতে পেরেছে টাউন ক্লাবও। এএকাধারে সিএবির যুগ্ম সচিব, অন্যদিকে টাউন ক্লাবের কর্তা হিসেবে দেবব্রত দাস যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন তাতে তা স্বার্থের সংঘাত বলে দাবি টাউন ক্লাবের। সিএবির ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও শীর্ষ পদাধিকারী বা অফিস বেয়ারার সাসপেন্ড হলেন। সিএবি যে দুর্নীতির প্রশ্নে নো-টলারেন্স নীতি মেনে চলছে, সব কিছুতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে তা ফের একবার প্রমাণিত হলো। দেবব্রত ইডেন ছাড়ার সময় জগমোহন ডালমিয়া, দেব-দেবীর ছবি ও ডায়েরি নিয়ে বাড়ির পথ ধরলেন। বললেন, এগুলো সিএবির নয়, আমার। এক পক্ষে থাকায় রাজনীতির শিকার হলাম। উল্লেখ্য, দেবব্রতর পুত্র দেবানিক নিজেই বাবার কৃতকর্মে বিতৃষ্ণা পোষণ করেন। দেবব্রত বললেন, ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব না। আর মিলমিশ সম্ভব নয়। আমি কয়েকদিনের মধ্যেই সাংবাদিকদের ডেকে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনব। আর মাঠ করব না।

রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা সিএবি’র গত একবছরে আয় ৬৫ কোটি টাকা৷ যা বিগত বছরের তুলনায় চোদ্দ কোটি টাকা বেশি বলে জানিয়েছেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল বার্ষিক সাধারণ সভা ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দু’দিন পিছিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর সিএবি’র বার্ষিক সভা আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গলে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওইদিন যদি নতুন কমিটি গঠনে নির্বাচন হয়, তাহলে লোধা কমিটির আইন মেনেই তা হবে বলে জানানো হয়েছে। আকাশদীপ এবং অভিমন্যু ঈশ্বরণকে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে সিএবি’র তরফে।




