Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ছবির পরিবেশক এবং হলমালিকদের লক্ষ্মীলাভে ভাটা পড়বে? খুশি টলিউড? আদৌ খুশি পরিচালক, প্রযোজক, পরিবেশক, হলমালিকেরা?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজোট হয়ে চিঠি দিয়েছিলেন টলিউডের প্রথম সারির তারকারা। তার পরেই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মুখোমুখি বসেন দেব, শ্রীকান্ত মোহতা, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, মহেন্দ্র সোনি, পিয়া সেনগুপ্ত, পরিবেশক প্রীতম জালান, হলমালিক নবীন চৌখানি-সহ টলিউডের রথী-মহারথীরা। বক্তব্য ছিল দুটো, বড় বাজেটের হিন্দি ছবি বাংলায় মুক্তি পেলেই বাংলা ছবির ‘আতঙ্ক’। প্রাইম টাইম-সহ সব ক’টি শো বলিউডের দখলে। বাংলা ছবি নিজের রাজ্যেই কোণঠাসা। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ঠিক হয়, প্রত্যেক দিন একটি করে প্রাইম টাইম শো বাংলা ছবিকে দিতে হবে। বৈঠকের পরে সে কথা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়েও দেন মন্ত্রী। ‘ধূমকেতু’ মুক্তির ঠিক আগে নবান্ন থেকে খুশির খবর। মন্ত্রীর বক্তব্য এ দিন বিজ্ঞপ্তি আকারে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত হয়। সেই অনুযায়ী প্রাইম টাইমের সময় নির্ধারিত হয় বিকেল ৩টে থেকে রাত ৯টা। এই সময়ের মধ্যে একটি শো বাংলা ছবিকে দিতে হবে। পাশাপাশি, মাল্টিপ্লেক্সে যতগুলো স্ক্রিন থাকবে তার একটিতে বাংলা ছবি দেখাতেই হবে। দুটো নির্দেশই বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি একটি কমিটির শীর্ষে ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। বাকি সদস্যদের মধ্যে প্রথম সারির সমস্ত প্রযোজনা সংস্থা, হলমালিক, পরিবেশকেরা রয়েছেন। কোন ছবি কখন মুক্তি পাবে সেটা ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব এই কমিটির কাঁধে। সন্তুষ্ট ‘কিলবিল সোসাইটি’র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “এটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। বহু রাজ্যেই আছে। এই রাজ্যেও সেটা হল।” সরকারি পদক্ষেপ ভাল বাংলা ছবি বানানোর তাগিদ বাড়িয়ে দিল? উপলব্ধি, ভাল ছবি বানানোর তাগিদ অবশ্যই বেড়ে গেল এতে। একই সঙ্গে স্বাধীন পরিচালকদের পক্ষে গেল এই পদক্ষেপ। একই ভাবে উপকৃত হবেন ছোট প্রযোজকেরাও। এর ফলে সারা বছর ধরে তাঁরা তাঁদের ছবি দেখাতে পারবেন। এতে ছবির সংখ্যাও বাড়বে। বড় বাজেটের বাংলা এবং হিন্দি ছবির দাপটে যাঁরা ছবি হলে দেখানোর সুযোগ পান না তাঁরাও এতে উপকৃত হবেন।

বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়ে একমত সৃজিত বলেন, “ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক দিক থেকে এ বছর বাংলা ছবি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ‘ধূমকেতু’র আগে পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি আয় করেছে ইন্ডাস্ট্রি।” দেব-শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি সেই পালে হাওয়া দেবে, এটা তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। এই প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ দেন ‘একেন’, ‘আমার বস’, ‘কিলবিল সোসাইটি’র মতো ব্লকবাস্টার ছবির। যা প্রথম ছ’মাসে বাংলা ছবির বাণিজ্যিক মান ঘুরিয়ে দিয়েছে। ‘পুরাতন’, ‘গৃহপ্রবেশ’, ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’-ও সেই তালিকায় রয়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে পুজো এবং বড়দিনের ছবিগুলি। সৃজিতের বিশ্বাস, এ বছর বাংলা ছবির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বছর। সৃজিত জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা স্তরে কথা চলছে। শহর থেকে শহরতলি হয়ে গ্রাম— সর্বত্র প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা আশু বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পিয়া সেনগুপ্তর কথায়,“আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। পাশাপাশি, সুবিধাও হল। এতে ছবিমুক্তি নিয়ে এত দিন ধরে যে অদৃশ্য লড়াই চলত, সেই ল়ড়াই আর থাকবে না।” এত দিন হিন্দি ছবি একচেটিয়া প্রাইম টাইম শো পেত। এ বার সেটা ভাগ করে নিতে হবে বাংলা ছবির সঙ্গে। ছবির পরিবেশক এবং হলমালিকদের লক্ষ্মীলাভে কি ভাটা পড়বে? “একেবারেই না”, বললেন বিনোদিনী স্টার প্রেক্ষাগৃহের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। সরকারি নির্দেশিকা পাওয়ার আগেই চারটি শো ‘ধূমকেতু’কে দিয়েছেন। দর্শকদের স্বস্তিতে সিনেমা দেখার জন্য প্রেক্ষাগৃহে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সংখ্যাও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন। জয়দীপের কথায়, “বাংলা ছবির স্বার্থ সব সময় দেখেছি। আগামী দিনেও দেখব। আমার হলের দর্শকেরা বাংলা ছবি দেখতেই ভালবাসেন।” নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও বাংলা ছবি বাণিজ্যে ব্যর্থ হলেও সেটিকে প্রাইম শো দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে, ‘সইয়ারা’র মতো সফল ছবিও দুটো প্রাইম টাইম শো পাবে না। বাণিজ্যে ব্যর্থ বাংলা ছবির সঙ্গে তাকে শো ভাগ করে নিতে হবে। এতে আখেরে ক্ষতি তো হলমালিকেরই? বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহের কর্ণধার জানিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে আলোচনা করে সেই বাংলা ছবি সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে হলমালিক, পরিবেশকদের। পরিবেশক প্রীতম জালান জানান, “যা হয় ভালর জন্যে হয়। এই পরিবর্তনে বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকে লাভবান হবে। বাকিদের মতো আমিও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি।”

পশ্চিমবঙ্গের সব সিনেমা হলে দিনে অন্তত একটি বাংলা ছবি দেখানো বাধ্যতামূলক। সারা বছর ধরেই তা করে যেতে হবে। ‘প্রাইম টাইমে’ অন্তত একটি বাংলা ছবি দেখাতেই হবে বলে নির্দেশিকা জারি নবান্নর। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর থেকে এই নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, ‘‘রাজ্যের সব সিনেমা হল এবং মাল্টিপ্লেক্সের সমস্ত স্ক্রিনে ৩৬৫ দিন ধরেই প্রাইম টাইমে অন্তত একটি বাংলা ছবি দেখাতেই হবে।’’ রাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রাইম টাইম বলতে বোঝায় দুপুর ৩টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, ওই সময়ের মধ্যে অন্তত একটি বাংলা ছবি দেখানো বাধ্যতামূলক। ১৯৫৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র আইন মেনে এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, জারি হওয়ার মুহূর্ত থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে হবে এবং যত দিন না নতুন কোনও নির্দেশিকা জারি হচ্ছে, তত দিন এটাই কার্যকর থাকবে। বাংলা ভাষাও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আঙিনায় ঢুকে পড়েছে। রাজনৈতিক আলোচনায় ঢুকে পড়েছে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচিতিও। এ নিয়ে শাসকদল তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে এই নির্দেশ সম্পর্কযুক্ত বলেই মনে করছেন অনেকে। দেশের অন্তত ৫-৭টি রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপরে নিগ্রহের অভিযোগে আলোড়ন চলছেই। এ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রী মমতার নির্দেশে ‘ভাষা আন্দোলন’ কর্মসূচিও নিয়েছে তৃণমূল। মমতা বলেছেন, ‘‘বাংলায় প্রতিভা আছে বলে বাংলার মানুষের উপরে অত্যাচার। আমরা এটা মানব না।’’ ভাষা- বিতর্ককে সরাসরি রাজনীতির মাঠে নিয়ে গিয়ে তিনি এ-ও বলেছেন, ‘‘বাঙালি যখন ইংরেজের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন তোমরা (বিজেপি) কোথায় ছিলে? ইংরেজের দালালি করছিলে?’’ বাংলা ভাষার পক্ষে আন্দোলনকে আরও বৃহত্তর বৃত্তেও নিয়ে যেতে চেয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছেন, ‘‘আমি সমাজের বিদ্বজ্জনেদের অনুরোধ করব, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সবাইকে, আপনারাও পথে নামুন। রাজনৈতিক মঞ্চে করার (প্রতিবাদ) দরকার নেই, আপনারা আপনাদের মতো করে প্রতিবাদ করুন, প্রতিরোধ করুন এবং বাংলা যে হার মানে না, সেটা বুঝিয়ে দিন।’’ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে তৃণমূল হাতিয়ার করতে চায় বাংলা ভাষা এবং বাঙালি অস্মিতাকে। তাই প্রতি শনি এবং রবিবার তৃণমূলের সর্ব স্তরের নেতা-কর্মীদের ভাষা আন্দোলনের নামে মিছিল করে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে বলেছেন মমতা। এ বার প্রশাসনিক স্তরেও পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। এর আগে কলকাতা পুরসভা এলাকার বিভিন্ন দোকান এবং প্রতিষ্ঠানে বাংলায় লেখা সাইনবোর্ড বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে পুর কর্তৃপক্ষ। এ বার সমস্ত সিনেমা হলে বাংলা ছবি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হল।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles