অর্জুন তেন্ডুলকর এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন। জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন শচীন পুত্র। মুম্বইয়ের পরিচিত ব্যবসায়ী রবি ঘাইয়ের নাতনি সানিয়া চন্দোকের সঙ্গে বাগ্দান পর্ব সারলেন সচিন তেন্ডুলকরের ছেলে। ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সম্পন্ন হয়েছে বাগ্দান পর্ব। উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ অল্প কিছু আত্মীয় এবং বন্ধু। ভারতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং হোটেল শিল্পে মুম্বইয়ের ঘাই পরিবার অত্যন্ত পরিচিত। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল এবং ব্রুকলিন ক্রিমারি আইসক্রিম ব্র্যান্ডের মালিক ঘাই পরিবার। সেই পরিবারের জামাই হলেন সচিন-পুত্র। ২৫ বছরের অর্জুন পেশাদার ক্রিকেটার। বাঁহাতি জোরে বোলার। ব্যাটের হাতও খারাপ নয়। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলেন। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন গোয়ার হয়ে। ১৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। লিস্ট ‘এ’ ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছেন ১৮টি। সানিয়াও ব্যবসায়ী। তাঁর নিজের একাধিক সংস্থা রয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্বও সামলান। সমাজমাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় নন সানিয়া। খুব বেশি আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপনও পছন্দ করেন না। সাধারণ ভাবে থাকতে ভালবাসেন। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি এবং অর্জুন সম্পর্কে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুই পরিবারের সম্মতিতে চার হাত এক করার সিদ্ধান্ত হয়। শচীনের মেয়ে সারা তেন্ডুলকরকে নিয়ে নানা জল্পনা মাঝে মধ্যে শোনা যায়। এক সময় শোনা গিয়েছিল, শুভমন গিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন সারা।

ঘাই-চান্দোক পরিবার মুম্বইয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি রবি ঘাইয়ের নাতনি সানিয়া। ঘাই পরিবার মুম্বইয়ে পরিচিত হোটেল শিল্প, নিজেদের আইসক্রিম ব্র্যান্ডের জন্য। সানিয়া নিজেও ব্যবসায় তুখোড়। শোনা যায়, দক্ষতার সঙ্গে সংস্থার কাজ-কর্মের দেখভাল করেন তিনি। অর্থাৎ এবার ব্যবসায়ী পরিবারের জামাই হচ্ছেন ক্রিকেটের বাঁ-হাতি বোলার। বয়স এখন দু’ দশক আর তিন দশকের মাঝামাঝি। বোলার। বেশ জোরে বল করেন বলেই খেলার মাঠের খবর। অর্জুন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলেছেন। ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তাঁকে দলে নিয়েছিল। এপ্রিল মাসে, অর্থাৎ এই মাসখানেক আগে অর্জুন প্রসঙ্গে যুবরাজ সিংয়ের বাবা যোগরাজের এক মন্তব্য নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, শুধু শুধু বোলিং করিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে ক্রিকেট ঈশ্বরের পুত্রকে। তাঁকে ব্যাটিং করতে দেওয়া উচিত। তারও আগে, যোগরাজ বলেছিলেন, ‘অর্জুন তেণ্ডুলকর যদি আমার কাছে এখন আসে, আমি ওকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান বানিয়ে দেব ছ’ মাসের মধ্যে। ওর ব্যাটের হাত কত ভাল, তা অনেকেই জানেন না। ও আমার সঙ্গে ১২ দিন ছিল, রঞ্জি ট্রফির অভিষেকে শতরান করে অর্জুন। কিছু বুঝলেন?’ কীভাবে শচীন-পুত্রর দায়িত্ব নিয়েছিলেন যোগরাজ। যোগরাজ বলেছিলেন, ”শচীন আর যুবরাজ এসে আমাকে অনুরোধ করে অর্জুন তেণ্ডুলকরের দায়িত্ব নাও। আমার সঙ্গে ১০-১২ দিন ছিল। আমার মতে, অর্জুন দুর্দান্ত একজন ব্যাটসম্যান। ওকে কেন বোলিংয়ে ফেলে রাখা হয়েছে? বোলিং করিয়ে ওর মতো প্রতিভাকে কেন নষ্ট করা হচ্ছে?”

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টেস্টে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। ডান পায়ের পাতার চোটের জন্য খেলতে পারেননি গুরুত্বপূর্ণ ওভাল টেস্ট। এশিয়া কাপেও অনিশ্চিত ভারতীয় দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতির এই সময় রান্নায় হাত পাকানোর চেষ্টা করছেন পন্থ। পায়ের সমস্যা থাকলেও হাত চলছে পন্থের। চোটের জন্য ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতিতে রয়েছেন পন্থ। অনুশীলন শুরু করার মতো জায়গায় এখনও নেই তিনি। এই সুযোগে রান্নায় মন দিয়েছেন জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন পন্থ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এক পেশাদার রাঁধুনী। তাতে পন্থকে পিৎজা তৈরি করতে দেখা গিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে পন্থের পিৎজা তৈরির ভিডিয়ো। ভিডিয়োয় পন্থ বলেন, ‘‘আমাকে শেফের মতো দেখতে লাগছে! আজ আমি তোমাদের পিৎজা তৈরি করা দেখাব। একটু ধৈর্য ধরো। ভাবছি নিরামিষ পিৎজা তৈরি করব। কারণ আমি নিরামিষ পছন্দ করি। তবে আমি জানি না, ঠিক কী ভাবে তৈরি করতে হয়। মনে হয় কয়েকটা তৈরি করলে শিখে যাব।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘বন্ধুরা, খুব গরম লাগছে। ভাঙা পা নিয়ে আমি এটুকুই করতে পারছি। পিৎজা বেক করছি। আমার মা নিশ্চই ভাবছেন, বাড়িতে কখনও রান্না করিনি। অথচ এখানে পিৎজা তৈরি করছি!’’ ভিডিয়োটি কোথায় করা হয়েছে, তা জানাননি পন্থ। তবে তাঁর পোস্টে কিছু ইটালীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। চোট সারিয়ে পন্থের মাঠে ফিরতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজেও অনিশ্চিত। ইংল্যান্ডে ভাল ফর্মে থাকা পন্থ ক্রিস ওকসের বল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন।
বেআইনি বেটিং অ্যাপের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুরেশ রায়নাকে সমন পাঠিয়েছিল ইডি। তদন্তে সাহায্য করতে বুধবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজিরা দেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁকে ১০টি প্রশ্ন করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। বেআইনি বেটিং অ্যাপটির প্রচারের অন্যতম মুখ ছিলেন রায়না। তাঁর বিরুদ্ধে মানুষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ ছিল। অভিযুক্ত সংস্থাটির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রায়নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকেরা। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে রায়নাকে জিজ্ঞেস করা ১০টি প্রশ্ন প্রকাশ করেছে। দেখে নেওয়া যাক প্রাক্তন অলরাউন্ডারকে কী কী প্রশ্ন করেছেন ইডি আধিকারিকেরা? অ্যাপের প্রসার এবং প্রচারে আপনার কী ভূমিকা ছিল? আপনি কি এই ধরনের আরও অনলাইন বেটিং অ্যাপের প্রচার করেছেন? আপনি কি জানেন, আপনি যে বেটিং সংস্থাগুলোর হয়ে প্রচার করেছেন, সেগুলোকে ভারতের আইন অনুযায়ী বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল? আপনি কি অভিযুক্ত সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক বা আর্থিক চুক্তি বা আর্থিক লেনদেনের বিবরণ দিতে পারবেন? বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা কিউআর কোড বা ছদ্মনাম ব্যবহারকারীদের বৈআইনি অ্যাপে নিয়ে যেত। এ ব্যাপারে কি আপনাকে অবহিত করা হয়েছিল? প্রচারের কাজ করার জন্য আপনি কি টাকা পেয়েছেন? যদি টাকা পেয়ে থাকেন, তা হলে কী ভাবে বা কোন অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছিল? আপনি বা আপনার প্রতিনিধিরা কি বেটিং প্ল্যাটফর্মের প্রচারে সম্মত হওয়ার আগে তার বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছিলেন? আপনি কি জানেন এই প্ল্যাটফর্মগুলো কারচুপি করা অ্যালগরিদম ব্যবহার করত? দক্ষতা ভিত্তিক খেলার পরিবর্তে জুয়া হিসাবে চিহ্নিত করত? প্রচারের কাজ চলার সময় আপনার সঙ্গে কি প্ল্যাটফর্মের অপারেটরদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল? যে সব জায়গায় অনলাইন বেটিং নিষিদ্ধ, সেই সব জায়গাতেও কি আপনি প্রচার করেছেন? না কি শুধু সেই সব জায়গায় প্রচার করেছেন, যে সব জায়গায় দক্ষতা-ভিত্তিক খেলাগুলো আইনত অনুমোদিত? সংস্থাটির হয়ে বিজ্ঞাপন করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ, যুবরাজ সিংহ, অভিনেতা সনু সুদ এবং উর্বশী রৌতেলা। তদন্তের স্বার্থে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন ইডি আধিকারিকেরা।




