হাসপাতালে ভর্তি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মা। মঙ্গল রাতে বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মা নিরুপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইডেনে এসেছিলেন সৌরভ। কিন্তু মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছে যান। হাসপাতালে যান দাদা স্নেহাশীষ এবং মহারাজের স্ত্রী ডোনা। স্নেহাশিসের স্ত্রী অর্পিতা বিলাসপুরে কর্মসূত্রে থাকলেও জানিয়েছেন, উদ্বেগের কিছু নেই, চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চিকিৎসা চলছে। কেন হাসপাতালে ভর্তি করাতে হল মহারাজের মাকে? পরিবার সূত্র থেকে খবর, গত বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর এবং গলা ব্যথার সমস্যায় ভুগছিলেন নিরূপাদেবী। চিকিৎসকের অধীনে থাকলেও শারীরিক পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হচ্ছিল না। অবশেষে মঙ্গল রাতে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তাঁকে ভর্তি করানো হল হাসপাতালে। সৌরভের বৌদি অর্পিতা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, নিরুপাদেবীর শরীর বেশ কয়েকদিন ধরেই খারাপ ছিল। হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই সবকিছু করা হচ্ছে। ইউরিনাল ইনফেকশন হয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মায়ের। ইনফেকশন থেকেই এসেছে জ্বর। তবে আপাতত তিনি অনেকটাই সুস্থ। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এখন থাকবেন।

মহামারী চলাকালীন ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সৌরভ এবং স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়েরর মা। গত বছরেও বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল। পরে জানা গিয়েছিল, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গত বছর প্রায় ১৭ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌরভ-স্নেহাশিসের মা নিরুপা দেবীর ৭৬ বছর বয়স। জন্মদিনও কেটেছিল হাসপাতালে। মায়ের জন্মদিনে হাসপাতালেই কেক নিয়ে গিয়ে উদযাপন করেছিলেন সৌরভ। হৃদযন্ত্রে সমস্যার পাশাপাশি ছোটখাটো অসুস্থতায় ভুগছেন বেশ কিছুদিন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ইউরিনাল ইনফেকশনের সমস্যাও রয়েছে নিরুপা গঙ্গোপাধ্যায়ের। বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যা থাকায় দরকার বাড়তি সাবধানতার। তাই বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত। আপাতত তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে নিয়ে বেশ চিন্তিত গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার।

২০১৩ সালে দীর্ঘ দিনের অসুস্থতার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাবা চন্ডীদাস গঙ্গোপাধ্যায়। বাবার মৃত্যুর পর সৌরভ এবং স্নেহাশীষের গোটা জীবন জুড়েই শুধুমাত্র মা। স্বাভাবিকভাবেই মায়ের অসুস্থতায় ভীষণ উদ্বিগ্ন দুই ভাইই।




