‘আমি অনেক ইতিবাচক দিক দেখছি। ধারণাটা সবসময় হওয়া উচিত আরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার। যাতে ক্রীড়া জগতের সেরা মানুষরা প্রশাসনের অংশ হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।উদাহরণস্বরূপ, এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে বহু বছর ধরে মানুষ অযোগ্য থেকেছেন। সেক্ষেত্রে যদি আইনটি কিছুটা শিথিল হয় এবং যারা তাদের জীবন ক্রিকেটকে উৎসর্গ করেছেন, তারা যদি কোনোভাবে ফিরে আসার সুযোগ পান, তবে সেটিকে সাদরে গ্রহণ করা উচিত এবং স্বাগত জানানো উচিত।’ বললেন আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য অভিষেক ডালমিয়া। প্রসঙ্গত, লোকসভায় পাস জাতীয় ক্রীড়া বিল। ক্রীড়া প্রশাসনের পদে ফিরতে পারবেন রাজনৈতিক নেতারা, সংস্থান নতুন বিলে। একটি সংস্থায় প্রশাসনিক পদে সর্বোচ্চ ১২ বছর থাকা যাবে। ৪ বছর কুলিং অফ পিরিয়ড শেষে ফের সংস্থায় ফিরতে পারেন কর্তারা। প্রশাসনিক পদে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর, উল্লেখ বিলে। স্বাধীনতার পর ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংস্কার, মন্তব্য ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর লোকসভায় পাস জাতীয় ক্রীড়া বিল। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীর বর্ণনা করলেন ‘স্বাধীনতার পর ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংস্কার’ বলে। লোকসভা জাতীয় ডোপিং-বিরোধী সংশোধনী বিলও পাস। বিল পাসের পর মাণ্ডবী বলেন, “স্বাধীনতার পর ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংস্কার হল। এই বিলের সাহায্যে ক্রীড়া সংস্থাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা, বিচার নিশ্চিত করা এবং সেরা প্রশাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ভারতের খেলাধুলোর বাস্তুতন্ত্রে এই বিলের তাৎপর্য অপরিসীম। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিল এবং সংস্কারে বিরোধী পক্ষ অংশ নিল না। ১৯৭৫ এং ১৯৮৫ সালেও এই চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রথম খসড়া তৈরি ছিল। তবে খেলাধুলো বরাবরই ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু মন্ত্রী এই বিল পেশ করার চেষ্টা করলেও সফল হননি। ২০১১ সালে জাতীয় ক্রীড়াবিধি তৈরি হয়। তার পরে আবার বিল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। মন্ত্রীসভায় পৌঁছনোর পর আবার বিল পেশের সময় পিছিয়ে যায়।” লোকসভায় এই বিল পেশ হওয়ার সময় বিরোধী দলগুলির বেশির ভাগ সদস্য হাজির ছিলেন না। এসআইআর-এর বিরোধিতায় তাঁরা যখন নির্বাচন সদনের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁদের আটক করা হয়। দু’জন সাংসদ বিলের সপক্ষে মুখ খোলার সময় বিরোধী দলগুলোর সদস্যেরা লোকসভায় আসেন এবং স্লোগান তুলে থাকেন। তার মধ্যে ধ্বনিভোটে এই বিল পাস হয়ে যায়। মাণ্ডবীয় ভাষণ দেওয়ার সময়েও বিরোধীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের জন্য বিড করবে ভারত। তার আগে ক্রীড়া বিল হওয়া দরকারি ছিল বলে মনে করেন মাণ্ডবীয়। এই বিলে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে নিয়মিত কর্মসমিতির নির্বাচন করতে হবে। না হলে তাদের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হবে। প্রতি বছর অডিট করাতে হবে। জাতীয় ক্রীড়া ট্রাইব্যুনাল গড়ে তোলা হবে, যেখানে ক্রীড়াক্ষেত্রে যাবতীয় মামলার মীমাংসা করা হবে। আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য অভিষেক ডালমিয়া বলেছেন, ‘এই বিলে আমি অনেক ইতিবাচক দিক দেখছি। এর ফলে আরও বেশি করে ক্রীড়া জগতের সেরা মানুষরা প্রশাসনের অংশ হওয়ার সুযোগ পাবেন।’

রাজ্যসভায় ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য। তিনি বলেন, ‘২০ দেশের নিজস্ব স্পোর্টস বিল আছে। আশা করি, রাজ্যসভার অনুমোদন পেয়ে ভারত সেই তালিকায় ২১ নম্বর জায়গাটা নেবে। দু’ঘণ্টা ধরে বিল নিয়ে আলোচনা হয়। কয়েকজন প্রশ্ন তোলেন, এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র দেশের খেলাধুলোয় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ক্ষমতা প্রদর্শন করার চেষ্টা করছে। ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্র দেশের খেলাধুলোয় ক্ষমতা দখল করতে চেষ্টা করছে না। এই বিলের মাধ্যমে চেষ্টা করা হবে খেলাধুলোয় স্বচ্ছতা আনা ও পাশাপাশি সবাইকে সঠিক পরিকাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।’ লোকসভা ও রাজ্যসভাতে এই বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পরে এই বিল আইনে পরিণত হতে দরকার শুধু রাষ্ট্রপতির সই। রাজনীতিবিদদের ধারণা, সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। এই বিলকে স্বাগত জানান, রাজ্যসভার দুই ক্রীড়া প্রশাসক ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট পিটি ঊষা ও এআইএফএফের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল প্যাটেল। ঊষা বলেছেন, ‘এই বিল খেলাধুলোয় স্বচ্ছতা আনবে। দায়বদ্ধতা বাড়াবে। সঙ্গে খেলার মাঠে লিঙ্গ বৈষম্য ঘটাতে দেবে না।’ প্রফুল্ল বলেছেন, ‘এই বিল খুব জরুরি ছিল দেশের খেলাধুলোকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে।’ নয়া বিলে এখনই বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরতে হচ্ছে না রজার বিনিকে। গত মাসেই বিনি ৭০ বছরে পা রেখেছেন। আগের নিয়মে তাঁকে এখনই পদত্যাগ করতে হতো। কিন্তু নয়া বিলে সেই বয়স বাড়িয়ে ৭৫ করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থার খবর, বিসিসিআই ঠিক করেছে, বিনিকে এখনই সরতে হচ্ছে না। সেপ্টেম্বর বোর্ডের এজিএম পর্যন্ত তিনিই কাজ চালাবেন।




