Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলার ক্রিকেটার বলেই এই বঞ্চনা? অভিমন্যু ঈশ্বরণকে হতাশ হতে না করলেন গম্ভীর!‌

অভিমন‌্যু ঈশ্বরণ। বাংলার ক্রিকেটার। ভারতীয় স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন বছর দুয়েকের কাছাছাছি। তারপর থেকে অন্তত জনা পনেরো ক্রিকেটারের টেস্ট অভিষেক হয়েছে। অভিমন‌্যুর ভাগ্যে জুটেছে শুধুই উপেক্ষা। বছরের পর বছর তাঁকে টিমের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সুযোগ দেওয়া হয় না। অনেক বছর পর টেস্ট টিমে প্রত‌্যাবর্তন ঘটেছে করুণ নায়ারের। টেস্ট অভিষেক হয়েছে সাই সুদর্শনের। অভিমন‌্যুকে উপেক্ষিত থাকতে হয়েছে। ভারতীয় ‘এ’ দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল বঙ্গ ওপেনারকে। ভারতীয় এ টিমের হয়ে রানও করেছিলেন। তারপরও টেস্ট টিমে জায়গা হয়নি। গত বছর অস্ট্রেলিয়া সফরেও তাই হয়েছিল। ওই সফরে ঠিকমতো ব‌্যাটিংও দেওয়া হত না অভিমন‌্যুকে। সব ক্রিকেটারের নেট হয়ে যাওয়ার পর আলাদা করে ব‌্যাটিং করতে যেতেন। বেশিরভাগ বোলাররা থাকতেন না। জনা কয়েক নেট বোলার আর থ্রোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে শুধু ট্রেনিং করতেন অভিম‌ন‌্যু। যা নিয়ে অনেকেই বলতে শুরু করে দিয়েছেন, তাহলে কি বাংলার ক্রিকেটার বলেই এই বঞ্চনা? রনজি ট্রফিতে প্রচুর রান করেছেন। ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে রান করেছেন। তারপরও বারবার ব্রাত্য থাকতে হয়েছে তাঁকে। বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলছিলেন, “অবশ‌্যই সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল অভিমন‌্যুর। এ টিমের অধিনায়ক ছিল। ভালো পারফর্ম করেছে। তাহলে কেন ওকে সুযোগ দেওয়া হবে না? অনেকেই একটা কথা বলেন। অভিমন‌্যু নাকি সেমিফাইনাল-ফাইনালে রান করে না। তাঁদের উদ্দেশ‌্য বলব, এরকম অনেক ক্রিকেটার রয়েছে, যাঁরা সেমিফাইনাল-ফাইনাল এমনকী আরও অনেক ম‌্যাচেও রান করে ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছে। তাহলে অভিমন‌্যু রান করার পরও কেন সুযোগ পাবে না?”

বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রনজি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ‌্যোপাধ‌্যায় এক সময় জাতীয় নির্বাচকও ছিলেন। অভিমন‌্যুর টিমে না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “স্কোয়াড বাছাইয়ের পর নির্বাচকদের আর তেমন কোনও ভূমিকা থাকে না। প্রখম একাদশ কী হবে, সেটা পুরোটাই নির্ভর করে কোচ-অধিনায়কের উপর। মানছি ইংল‌্যান্ডের কন্ডিশনে ওপেনিংয়ে যশস্বী জয়সওয়াল আর লোকেশ রাহুল খুব ভালো খেলেছে। তবে তিন নম্বরে তো অভিম‌ন‌্যুকে খেলানোই যেত। ওপেন আর তিন নম্বরের মধ্যে খুব একটা পার্থক‌্য নেই। আমি তো বলব চতুর্থ আর পঞ্চম টেস্টে অভিমন‌্যুকে অবশ‌্যই খেলানো উচিত ছিল।” বাংলার প্রাক্তন তারকা তথা অনূর্ধ্ব-১৯ টিমের কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী বলেন, “অভিমন‌্যুর সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা সত্যিই দুর্ভাগ‌্যজনক। এখানে একটা কথা বলব, এতদিন যখন ওকে অপেক্ষা করতে হয়েছে, তখন যেন প্রাপ্য সুযোগ পায়, সেটা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে দেখতে হবে। অভিমন‌্যুকে হঠাৎ করে বাদ দিয়ে দিলে চলবে না। অস্ট্রেলিয়া, ইংল‌্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের মতো স্কোয়াডে অভিমন‌্যুকে রাখা হয়েছে। সেটা ও নিজেই অর্জন করেছে। যে ক্রিকেটারকে এতদিন অপেক্ষা করানো হয়েছে, তাকে যেন নিজেকে প্রমাণের জন‌্য যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়।” ছেলের সুযোগ না পাওয়া নিয়ে ফেটে পড়া অভিম‌ন‌্যুর বাবা আরপি ঈশ্বরণও বিস্ফোরণ ঘটান, “পারফরম‌্যান্সের বিচারে যারা অভিম‌ন‌্যুর থেকে পিছিয়ে, তারা ওর আগে ভারতীয় টিমে সুযোগ পেয়েছে। ভারতীয় টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার ব‌্যাপারে আইপিএল প্রাধান‌্য পাচ্ছে। আমি জানি না, এটা কেন হয়। আমার মত, রনজি, ইরানি, দলীপ ট্রফি আর ভারতীয় এ দলের পারফরম‌্যান্স দেখে টেস্ট টিম নির্বাচন করা উচিত। আইপিএল কখনও টেস্ট টিম নির্বাচনের মাপকাঠি হতে পারে না। ইংল‌্যান্ডে এ দলের হয়ে রান করেছে। দলীপ ট্রফিতে রান করেছে। ইরানি ট্রফিতে রান করেছে। ভারতীয় টিম ম‌্যানেজমেন্ট হঠাৎ করে মিডল অর্ডারের একজন ব‌্যাটারকে টপ অর্ডারে খেলিয়ে দিচ্ছে। অভিমন‌্যু সেখানে টপ অর্ডার ব‌্যাটার হয়ে তিন নম্বরে খেলতে পারবে না? এটা কোথায় লেখা রয়েছে? দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে তিন নম্বরে ব‌্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি করেছে। মিডল অর্ডারের ব‌্যাটার তিন নম্বরে ব‌্যাট করতে পারে, কিন্তু অভিমন‌্যু ওপেন করে বলে তিন নম্বরে খেলতে পারবে না?”

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাল পারফরম্যান্সের সুবাদে অভিমন্যু ঈশ্বরণ ডাক পেয়েছিলেন ভারতের টেস্ট দলে। সেই ২০২২ সাল থেকে প্রায় তিন বছর প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ সফরে দলে থেকেছেন। এখনও টেস্ট অভিষেক হয়নি বাংলার প্রাক্তন অধিনায়কের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে সাই সুদর্শন, অংশুল কম্বোজদের অভিষেক হয়েছে। অথচ অপেক্ষা শেষ হয়নি অভিমন্যুর! ইংল্যান্ড সফরের মাঝেই ছেলের প্রতি বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়েছিলেন ঈশ্বরণের বাবা রঙ্গনাথন ঈশ্বরণ। আশা করেছিলেন, পঞ্চম টেস্টে খেলার সুযোগ পাবেন। তা-ও না হওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অভিমন্যু। তবে ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর নাকি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, অভিমন্যুর প্রতি তিনি অবিচার করবেন না। এক সাক্ষাৎকারে জানান রঙ্গনাথন। অভিমন্যুর বাবা বলেছেন, ‘‘গম্ভীর আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশ্বাস দিয়েছেন, অবিচার হবে না। গম্ভীর আমার ছেলেকে বলেছেন, ‘তুমি ঠিক কাজ করছ। সঠিক পথে আছ। তোমার সুযোগ আসবেই। দীর্ঘ দিন খেলবে তুমি। এক-দুটো ম্যাচ দেখে কাউকে সরিয়ে দিই না। তোমাকে যথেষ্ট সুযোগ দেব।’ অভিমন্যু আমাকে বলেছে, জাতীয় দলের সব কোচিং স্টাফেরাই ওকে আশ্বস্ত করেছেন। ঠিক সময় পর্যাপ্ত সুযোগ ওকে দেওয়া হবে। বলতে পারেন এটুকুই প্রাপ্তি। আমার ছেলে চার বছর ধরে অপেক্ষা করছে। ২৩ বছর কঠোর পরিশ্রম করেছে ও। আপাতত অভিমন্যু বেঙ্গালুরু যাবে। ওখানে ১০-১২ দিন থাকবে। দলীপের প্রস্তুতি নেবে। তার পর কয়েক দিনের জন্য বাড়ি ফিরবে। দেহরাদূনে কয়েকটা দিন বিশ্রাম নেবে। তার পর খেলতে চলে যাবে। ইংল্যান্ড সফরে শেষ টেস্টেও খেলার সুযোগ না পেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অভিমন্যু। ইংল্যান্ডে পঞ্চম টেস্টে সুযোগ না পেয়ে মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়েছিল অভিমন্যু। ছেলেটার মনে একটা আশা তৈরি হয়েছিল। ফোন তুলেই অভিমন্যু আমাকে বলেছিল, ‘বাবা এ বারও সুযোগ পেলাম না।’ ওকে বললাম, তুই তোর স্বপ্নপূরণ করেছিস। বাকিটা তোর হাতে নেই। ও উত্তরে আমাকে বলেছিল, ‘আমি বুঝতে পারছি বাবা। ২৩ বছর ধরে স্বপ্নপূরণের জন্য পরিশ্রম করেছি। একটা বা দুটো ম্যাচে খেলতে না দিলে আমি ভেঙে পড়ব না।’’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পঞ্চম টেস্টে খেলার সুযোগ না পাওয়ার পর অভিমন্যু দলীপ ট্রফি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। ২০২৫ সালে ভারতের আরও দুটো টেস্ট সিরিজ রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে দু’টেস্টের সিরিজ় খেলবেন শুভমন গিলেরা। ১০৩টে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৭৮৪১ রান করা ব্যাটারের কি সুযোগ হবে?

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর চাঙ্গা ভারতীয় দল। আপাতত মাস দু’ই বিশ্রাম। তারপর সোজা নামতে হবে এশিয়া কাপে। টেস্ট থেকে সরাসরি টি-২০ ফরম্যাটে। দলে একাধিক বদল আসতে চলেছে। টি-২০ দলে এমন একাধিক তারকার কামব্যাক হতে পারে যারা দীর্ঘদিন টি-২০ খেলেননি। শেষবার ভারত ফেব্রুয়ারি মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ খেলেছিল। সেই ম্যাচে কোচ গম্ভীর তুলনায় তরুণ-আনকোরা মুখ দিয়ে দল সাজিয়েই ইংরেজদের পরাস্ত করেন। গত ছ’মাসে ভারতীয় ক্রিকেটে বহু বদল এসেছে। আস্ত একটা আইপিএল হয়ে গিয়েছে। একাধিক ক্রিকেটার ফর্ম ফিরে পেয়েছেন। বহু ক্রিকেটার হয়তো এখন আর ভালো ছন্দে নেই। সেই মতোই এশিয়া কাপের দল সাজানো হবে।দীর্ঘদিন বাদে টিম ইন্ডিয়ার প্রত্যাবর্তন হতে পারে শ্রেয়স আইয়ার, যশস্বী জয়সওয়াল এবং শুভমান গিলের। শ্রেয়স এই মুহূর্তে শুধু ওয়ানডেতে নিয়মিত খেলেন। টেস্ট এবং টি-২০ দলে দীর্ঘদিন সুযোগ পাননি। সূত্রের দাবি, শ্রেয়সকে শুধু টি-২০ নয়, টেস্টেও ফেরানোর ব্যাপারে ভাবছেন নির্বাচকরা। সেই সঙ্গে দলে ফিরতে পারেন যশস্বী জয়সওয়াল এবং টেস্ট অধিনায়ক শুভমান গিলও। আসলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নিয়মিত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এখনও ফিট নন। এশিয়া কাপের আগে তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন কিনা সংশয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে সূর্যর বদলে দলে ঢুকতে পারেন গিল। সূর্য ফিট হলে অবশ্য গিলের সম্ভাবনা কম। হার্দিক পাণ্ডিয়া এবং অক্ষর প্যাটেল, দলের দুই অবিচ্ছেদ্য অংশ। এশিয়া কাপেও তাঁদের কেন্দ্র করেই দল সাজানো হবে। এর বাইরে ওয়শিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদবেরও টি-২০ দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এশিয়া কাপেও খেলবেন না বুমরাহ। সেক্ষেত্রে পেস বিভাগে অর্শদীপ সিংয়ের সঙ্গে থাকতে পারেন হর্ষিত রানা। মহম্মদ সিরাজকেও বিশ্রাম দেওয়া হবে এশিয়া কাপে। সেক্ষেত্রে অন্য কোনও তরুণ পেসার সুযোগ পেতে পারেন। স্পিনারদের মধ্যে বরুণ চক্রবর্তীর খেলা নিশ্চিত। মিডল অর্ডারে রিঙ্কু সিং এবং তিলক বর্মার খেলাও কমবেশি নিশ্চিত। দলে থাকবেন সঞ্জু স্যামসনও। কেএল রাহুলকে নিয়েও ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। সূর্য আনফিট হলে দলের অধিনায়কের দৌড়ে রয়েছেন সহ-অধিনায়ক হার্দিক, অক্ষর প্যাটেলরা। সদ্য টেস্টের দায়িত্ব পাওয়া শুভমান গিলকেও দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles