Friday, July 24, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিতর্কের ঢেউ!‌ সিএবি-ও নিষ্কণ্টক হতে পারছে না!‌ অভিযোগের তালিকায় নাম জুড়ল দক্ষিন দিনাজপুরের গৌতম গোস্বামীর?‌

বিতর্ক বারবার। একের পর এক অভিযোগ। কিছুতেই পিছু ছাড়ে না সিএবিতে অভিযোগের পাহাড়? কোনও না কোনও কর্তা কলুষিত করছেন সিএবির মর্যাদাকে। একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। আর্থিক দুর্নীতি, স্বার্থের সংঘাত, তথ্য গোপন, এবং অর্থের বিনিময়ে দলে সুযোগ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলির কারণে সিএবি বর্তমানে সমালোচিত এবং বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। সিএবি-র কোষাধাক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগও। যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা তাদের পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। সিএবি-র বিরুদ্ধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগ।

এবার অভিযোগের তালিকায় নাম জুড়ল দক্ষিন দিনাজপুরের গৌতম গোস্বামীর?‌ দক্ষিন দিনাজপুর ডিস্ট্রিক্ট প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বিজয় কুমার সাহা টি২০ ক্রিকেট ছিল সম্পূর্ণ অনৈতিক। দিবারাত্রিব্যাপি এই ক্রিকেট, যা বিসিসিআই এর নিয়ম মেনে হয়নি বলে অভিযোগ। অভিযোগের তীর দক্ষিন দিনাজপুর ক্রিকেটের প্রধান গৌতম গোস্বামীর দিকেই। তিনি সিএবির কমিটি মেম্বার এবং অ্যপেক্স কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্যও।

দক্ষিন দিনাজপুর ডিস্ট্রিক্ট প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত টুর্ণামেন্টে খেলানো হয়েছিল বাংলা, ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, দিল্লি, হরিয়ানা এমনকি ভারতের বাইরে বাংলাদেশের দলের খেলোয়াড়দেরও। অর্থাৎ বাংলার ক্রিকেটার ও দেশের বাইরের ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত হয়। অভিযোগ, দক্ষিন দিনাজপুর ডিস্ট্রিক্ট প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান গৌতম গোস্বামী আয়োজন করেছিলেন এমনই এক টুর্ণামেন্ট, যা কখনোই বিসিআই অনুমোদিত নয়।

এমনকি এই প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন সিএবি আম্পায়াররাও। অভিযোগের চিঠি প্রেরিত হয়েছে বিসিসাআই সচিবকে। এছাড়াও বিসিসিআই ওম্বুডসম্যান, সিএবি ওম্বুডসম্যান, বিসিসিআই সিইও থেকে সকল আধিকারীকে। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর রয়েছে অরূপ কুমার দত্তের। সুপ্রিম কোর্টের নিয়মকে ভায়োলেশন করেই এই টুর্ণামেন্টের আয়েজন করেছেন দক্ষিন দিনাজপুর ক্রিকেটের প্রধান গৌতম গোস্বামী বলে তীব্র অভিযোগ।

সিএবিতে নবাগত কর্তা অম্বরিশ মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ। অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ সিএবি-তে। বাংলার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার দফতরে চিঠি দিয়েছেন মহম্মদ আজহারউদ্দিন। অম্বরীশের সঙ্গে বিতর্কিত চ্যাট প্রকাশ্যে, সেখানে এই আজহারউদ্দিনের নাম রয়েছে। অম্বরীশ সিএবি-র স্টেডিয়াম কমিটি এবং বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ কমিটির সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে এ রাজ্যের উঠতি ক্রিকেটারদের থেকে টাকা তোলার অভিযোগ তুলেছেন আইনজীবী সুমন কীর্তনিয়া। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে, আজহারউদ্দিনকে টাকা তোলার কথা বলছেন অম্বরীশ। আজহারউদ্দিন সিএবি-কে দেওয়া জবাবে এই টাকা তোলার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, উঠতি ক্রিকেটারদের যাতে জার্সি, খাবার এবং অনুশীলনের যথাযথ সুযোগ পেতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই জন্যই তাঁরা টাকা তুলেছেন। সিএবি-র ওমবুড্সম্যান, সভাপতি এবং সচিবকে লেখা দু’পাতার জবাবে আজহারউদ্দিন নিজেকে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বলেছেন, এখন তিনি সিএবি-র সঙ্গে যুক্ত থেকে ক্রিকেটের উন্নতিতে কাজ করছেন। অম্বরীশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। মোট ১০ পয়েন্টের জবাবের তৃতীয় পয়েন্টে আজহারউদ্দিন লিখেছেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি এবং অম্বরীশ যত রকম ভাবে সম্ভব, ক্রিকেটের সেবা করার চেষ্টা করেছেন। সেটা করতে গিয়ে আরও নানা কাজের সঙ্গে টাকাও তুলেছেন। সেখানেই তিনি লিখেছেন, উঠতি দরিদ্র ক্রিকেটারেরা যাতে জার্সি, খাবার এবং অনুশীলনের যথাযথ সুযোগ পায়, সেই জন্যই তাঁরা টাকা তুলেছেন। অম্বরীশের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগে কলকাতা ময়দানের হাই কোর্ট ক্লাবের নাম উঠেছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আজহারউদ্দিন জানিয়েছেন, গত ক্রিকেট মরসুমে এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অম্বরীশ। হাই কোর্ট ক্লাবের ক্রিকেট সংক্রান্ত বিষয়ে যাতে উন্নতি হয়, সেই কারণেই তাঁরা দু’জন টাকা তুলেছেন এবং ক্লাবকে তা দিয়েছেন। এই টাকা অম্বরীশের জন্য নয়, দেবনিক দাসের (এঁর নামও চ্যাটে রয়েছে) জন্যও নয়। আজহারউদ্দিনের ব্যাখ্যা, তিনি যে টাকা তুলেছেন, তা অনলাইনে অম্বরীশের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে এই সংক্রান্ত সাতটি আর্থিক লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। সেগুলি হল, ৫০,০০০ টাকা (৩০ অগস্ট, ২০২৪), ৫০,০০০ টাকা (৩১ অগস্ট, ২০২৪), ৪০,০০০ টাকা (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪), ৫০,০০০ টাকা (১৬ অক্টোবর, ২০২৪), ৪৯,০০০ টাকা (৭ নভেম্বর, ২০২৪), ১ টাকা (৭ নভেম্বর, ২০২৪) এবং ৪০,০০০ টাকা (তারিখ উল্লেখ নেই)। চিঠির শেষে আজহারউদ্দিন লিখেছেন, তাঁর এবং অম্বরীশের ব্যাক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে আসায় তিনি অবাক। তাঁর বক্তব্য, ময়দানের অধিকাংশ ক্লাব এ ভাবেই অনুদানের উপর নির্ভর করে চলে। এটা দুর্নীতি হিসেবে দেখানোয় তিনি বিস্মিত। সিএবি-র আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভার কথা উল্লেখ করে আজহারউদ্দিন বলেছেন, ‘‘সেপ্টেম্বরে যে সিএবি-র এজিএম আছে সেটা আমি জানি। তার আগে আমার এবং অম্বরীশ মিত্রের ভাবমূর্তিতে কালি লাগানোর জন্য এই অভিযোগ করা হয়েছে। অম্বরীশের সততা এবং সদিচ্ছা নিয়ে আমার কোনও সংশয় নেই। সিএবি-র কাছে আমার অনুরোধ, ওঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ খারিজ করা হোক।’’

সিএবির কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাতে জড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগের পাহাড় সাজিয়ে রাখা আইনজীবীর দল। আম্পায়ারের মতো যে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সিএবি-র এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএবি-র সচিবের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে থানা, আদালত ও সিএবি-র দ্বারস্থ হয়েছিলেন উয়াড়ি ক্লাবের একদল সদস্য। অভিযোগ এক, লোঢা কমিটির সুপারিশ মেনে গঠিত সিএবি-র সংশোধিত গঠনতন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একসঙ্গে দুই পদে বিরাজমান প্রবীর চক্রবর্তী। সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ হওয়ার পাশাপাশি তিনি উয়াড়ি ক্লাবের সচিবও। অভিযোগ দুই, ধারে ও ভারে যা আরও মারাত্মক, প্রবীর চক্রবর্তী সিএবি-র উয়াড়ি ক্লাবের জন্য বরাদ্দ অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ। সিএবি-র কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই আর্থিক বেনিয়মের এত বিস্ফোরক অভিযোগ উঠছে, বঙ্গ ক্রিকেটের ইতিহাসে এ ঘটনা আগে ঘটেছে কি না, মনে করতে পারছেন না ময়দানের কেউই। সিএবি-র এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮ জুন গোটা ঘটনার শুনানি করেন। সেদিন অভিযুক্তের তরফে আরও সময় চাওয়া হয়েছিল বলেই খবর। প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় ২৮ জুন, শনিবার ফের একটু শুনানি ডেকেছিলেন। যে শুনানিতে প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে দাবি করা হল যে, তিনি উয়াড়ি ক্লাবের সচিব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ আর খাটে না।শুনানিতে ছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব নরেশ ওঝা। সিএবি-র আইনজীবী সম্রাট সেন এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহায়তা করার (অ্যাসিস্ট) জন্য ছিলেন। প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে ছিলেন আইনজীবী দীপকরঞ্জন মুখোপাধ্যায়। উয়াড়ি ক্লাবের অভিযোগকারীদের তরফেও ছিলেন এক ঝাঁক আইনজীবী। শুনানিতে শোনা যায়, প্রবীর চক্রবর্তীর আইনজীবী এথিক্স অফিসারের হাতে উয়াড়ি ক্লাবের সচিব পদ থেকে অভিযুক্তের ইস্তফাপত্রের কপি দেন। শোনা গেল, এথিক্স অফিসার জানান, ইস্তফা দিয়ে দিলে তো স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নের অবসান। যদিও উয়াড়ি ক্লাবের অভিযোগকারীদের আইনজীবীরা জানান, একসঙ্গে দুই পদে থাকাটাই যেখানে অবৈধ, সেখানে টাকা নয়ছয় করা হয়েছে স্বার্থের সংঘাত থাকাকালীন। সওয়াল করা হয়, কী করে কেউ অন্যায় করার পরে পদ ছেড়ে দাবি করতে পারেন যে, তিনি ইস্তফা দিয়েছেন এবং আর কোনও দায় তাঁর নেই! প্রবীর চক্রবর্তী ইস্তফাপত্রের যে কপি এথিক্স অফিসারকে দিয়েছেন, সেটি ১৬ জুনের। ঘটনা হচ্ছে, ৩০ মে প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। পরে ১৬ জুন আরও কিছু অভিযোগ যুক্ত হয়। প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে বলা হচ্ছে, অভিযোগ উঠতেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি ক্লাবকে পদের ফায়দা নিয়ে কোনও সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেননি বলেও জানান। প্রশ্ন থামছে না। কেন লোঢা কমিটির সুপারিশ জানার পরেও স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়েছিলেন প্রবীর চক্রবর্তী? কেন তিনি অভিযোগ ওঠার পর ইস্তফা দিলেন? তিনি কী করে ক্লাবের জন্য বরাদ্দ টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে পারেন? কেন সিএবি-র কোষাধ্যক্ষের পদে থেকে এতবড় আর্থিক বেনিয়ম করলেন? কেন প্রায় ১০ বছর উয়াড়ি ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা হয়নি? প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং একাধিক তদন্ত ও মামলা চলছে জেনেও কেন তাঁকে সাময়িকভাবে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না, জোরাল প্রশ্ন উঠছে। বলা হচ্ছে, অতীতে যখন সহকারী সচিব থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোশেন্ট পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, তাঁকে তৎক্ষণাৎ সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেবার সিএবি প্রশাসকেরা স্বচ্ছতা আঁকড়ে ধরলে এবার পারছেন না কেন?

বিতর্কে থাকা সিএবির যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস। যাঁর কথায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে বাংলা ছেড়ে ত্রিপুরায় চলে গিয়েছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। ম্যাচ গড়াপেটা-সহ নানা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সিএবির এই যুগ্ম সচিব। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগ তুলে সিএবিকে চিঠি পাঠায় আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস। এমনকী সিএবির ওম্বুডসম্যানের কাছেও জমা পড়ে অভিযোগ, আর্জি জানানো হয় তদন্ত শুরুর। সবমিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি বলে আশঙ্কা। সিএবি-র পদাধিকারী। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। বাংলা দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্রিকেটারদের থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তুলেছেন। একটি অ্যাকাডেমির সঙ্গে সিএবি অনুমোদিত কোনও ক্লাবের চুক্তি করিয়ে সেই অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীদের ময়দানে খেলার সুযোগ করে দেবেন কথা দিয়ে ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। সিএবি-তে তাঁর বিরুদ্ধে জমা পড়েছে জোড়া অভিযোগপত্র। একটি দিয়েছে তাঁর নিজের ক্লাব টাউন ক্লাব। অন্যটি, আদিত্য স্কুল অফ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নামের একটি অ্যাকাডেমি।সিএবি-র বিতর্কবিদ্ধ সেই যুগ্মসচিব দেবব্রত দাস সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। দাবি করছেন, তাঁকে কালিমালিপ্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাঁর ভাবমূর্তি কলুষিত করার জন্য এমনকী, টাউন ক্লাবের লেটারহেড জাল করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করলেন দেবব্রত। ২ জুলাই সিএবি-র ওম্বাডসম্যানের কাছে একটি চিঠি দেন টাউন ক্লাবের সভাপতি বিশাখ ঘোষ (মোহর)। তিনি অভিযোগ করেন, ক্রিকেটারদের বাংলা দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি টাকা তুলেছেন সিএবি-র যুগ্মসচিব, টাউন ক্লাবের প্রতিনিধি দেবব্রত। তিনি বাংলার দল নির্বাচনী সভায় থাকেন এবং সেই সূত্রে বাংলা দলে টাকার বিনিময়ে সুযোগ করে দেবেন বলে কথা দেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি টাউন ক্লাবে খেললে বাংলা দলে সুযোগ মিলবে বলেও ক্রিকেটারদের থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ দেবব্রতর বিরুদ্ধে। টাউন ক্লাবের খাবারের বিল সিএবি-র খাবারের খরচের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া, টাকার বিনিময়ে সিএবি-তে কোনও ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি – দেবব্রতর বিরুদ্ধে চার দফা অভিযোগ তুলে দু’পাতার চিঠি জমা দেন বিশাখ। গত ২৪ এপ্রিল সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে দু’পাতার একটি অভিযোগপত্র জমা দেন আদিত্য স্কুল অফ স্পোর্টসের প্রতিনিধি সচিন ঢোন্ডগেও। চক্রান্তের পাল্টা অভিযোগ তুলে দেবব্রত বলেন, ‘অভিযোগপত্র যে লেটারহেডে দেওয়া হয়েছে, সেখানে টাউন ক্লাবের যুগ্মসচিব হিসাবে সুরঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও স্বপন দে-র নাম রয়েছে। যদিও টাউন ক্লাবের আসল লেটারহেডে সুরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের কোনও উল্লেখ নেই। চিঠিটা ভিত্তিহীন।’ প্রসঙ্গত, টাউন ক্লাবের যুগ্মসচিব সুরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ রয়েছে। তিনি টাউন ক্লাবের পদাধিকারী হওয়ার পাশাপাশি সিএবি-র কিউরেটরও। টাউন ক্লাবের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে শোনা গেল।

সিএবি সূত্রে খবর, টাউন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বিশাখ আগেও দেবব্রতর নামে সিএবি-তে নালিশ করেছিলেন। বিশ্বকাপ ও আইপিএলের প্রায় ৭ লক্ষ টাকার টিকিট কিনে সিএবি-তে সেই দাম মেটাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। যা নিয়ে সিএবি-র ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য একটি শুনানিও করেছেন। সেই শুনানিতে ৩ লক্ষ টাকার টিকিটের রশিদ দেখানো হয়। বাকি ৪ লক্ষ টাকার রশিদ দেখতে চান ওম্বাডসম্যান। টাকার বিনিময়ে তিনি কি ক্রিকেটারদের বাংলা দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? দেবব্রত বললেন, ‘সিএবি-র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল নির্বাচনী বৈঠকে তো আমার সই করার ক্ষমতা নেই। আমি বাংলা দলের কোচ, অধিনায়ক নই। সিএবি সচিব বা প্রেসিডেন্টও নই। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। খেলাটাকে ভালবাসি। ২২ বছর ধরে টাউন ক্লাবের ক্রিকেট দল দেখছি। নিজের জন্য একটা টাকাও নিইনি কখনও। যা খরচ করেছি সব ক্রিকেটের জন্য। টাউন ক্লাবের পাশাপাশি বড়িশা স্পোর্টিং ক্লাবের দলও করেছি কয়েকবছর ধরে। আর সেটা করেছি ক্রিকেট ভালবাসি বলে।’দেবব্রতর দাবি, যে ক্রিকেটারের বাবার কাছ থেকে তিনি ৩০-৪০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ, সেটার সঙ্গে ক্রিকেটের কোনও সম্পর্ক নেই। দেবব্রত বললেন, ‘ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার অনেক পুরনো সম্পর্ক। অনেকদিন ধরে চিনি। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে ক্রিকেটের কোনও সম্পর্ক নেই।’ যোগ করলেন, ‘আদিত্য অ্যাকাডেমির কাছে কোনও টাকা নিইনি।’ মহম্মদ সামি, মুকেশ কুমারদের উত্থানের নেপথ্যে অভিযুক্ত সিএবি কর্তার অবদান রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। দেবব্রত বলছিলেন, ‘নিজের টাকায় সামির পরিচর্যা, মুকেশ কুমারের জুতো কিনে দেওয়া, অনেক কিছুই করেছি। কখনও ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখিনি। অভিযোগপত্র ওম্বাডসম্যানের কাছে জমা পড়েছে কি না, বা কোনও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে কি না বলতে পারব না। হাতে এখনও কিছুই পাইনি। ডাকা হলে যা বলার বলব।’ অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে বাংলা ক্রিকেটের ময়দান সরগরম। সিএবি-র একাংশ সব শুনে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলছে। বলা হচ্ছে, দেবব্রত বাংলা দলে কিংবা ক্লাব ক্রিকেটে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়েছেন প্রমাণিত হলে তাঁর শাস্তি প্রাপ্য। তবে ঘুষ দিয়ে ক্লাব বা বাংলা দলে ঢোকার চেষ্টা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার বা অ্যাকাডেমির বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। ১৯ জুলাই ওম্বাডসম্যানের কাছে সেটিরও শুনানি রয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভা হচ্ছে না বলে সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট অমলেন্দু বিশ্বাসের উত্তরপল্লি মিলন সংঘের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গত এপ্রিল মাসে সিএবিতে চিঠিটি পাঠিয়েছে আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস। প্রতিলিপিতে অভিযোগ? দেখে নেওয়া যাক। আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের তরফে চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে সচিন ধন্দগের। অভিযোগ, এই সংস্থার থেকে চার লক্ষ টাকা নিয়েছেন দেবব্রত। বিনিময়ে তিনি আশ্বাস দেন, আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস সিএবি স্বীকৃত ক্লাবের মর্যাদা পাবে। সংস্থাটি ভেবেছিল এর ফলে শিক্ষার্থীরা সিএবি অনুমোদিত বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাবেন এবং মিলবে যথাযথ স্বীকৃতি। যদিও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দেবব্রত দাস প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস। এমনকী এই সময়কালে সংস্থার তরফে দেবব্রত দাসকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজের উত্তর দেননি। ফলে বিশ্বাসভঙ্গের পাশাপাশি দেবব্রত দাস নিজের পদের অপব্যবহার করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ। সিএবির মতো প্রতিষ্ঠানকে এমন কেলেঙ্কারিতে যেভাবে জড়ানোর চেষ্টা হলো তাতে বিস্মিত আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টস। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠিতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত দেবব্রত দাসের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানোর পাশাপাশি চার লক্ষ টাকা তাঁর কাছ থেকে আদায় করে ফেরত দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি। এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে যথাযথ শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ সিএবি করবে এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করবে বলে আশা আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টসের। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে এপ্রিল মাসে। তারপর মাস দুয়েক পেরিয়ে গেলেও বহাল তবিয়তে দেবব্রত দাস ঘুরছেন বলে জানতে পেরেছে সংস্থাটি। এমনকী বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা গিয়েছে‌। গত ২ জুলাই সিএবির ওম্বুডসম্যানের কাছে জমা পড়ে চাঞ্চল্যকর একাধিক অভিযোগ। টাউন ক্লাবের সভাপতি বিশাখ ঘোষের তরফে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ, দল নির্বাচনী বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকেন এবং নির্বাচকদের প্রভাবিত করেন বলে দাবি করে দেবব্রত বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। বাংলার বিভিন্ন দলে সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এই টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের নথিও জমা পড়েছে ওম্বুডসম্যানের কাছে।নিজের পদের অপব্যবহার করে বিশেষ করে বছর দেড়েক ধরে দেবব্রত যে অনৈতিক কাজ চালাচ্ছেন, দুর্নীতি করছেন, শৃঙ্খলাভঙ্গ করছেন তা টাউন ক্লাব ও সিএবির গরিমায় আঘাত বলে উল্লেখ। টাউন ক্লাবের তরফে আরও অভিযোগ, সৌম্যদীপ মণ্ডল, গীত পুরীর মতো ক্রিকেটারদের দেবব্রত বাধ্য করেছেন টাউন ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য। তাঁদের আশ্বাস দেন টাউনের হয়ে খেললে বাংলা দলে সুযোগ মিলবে। তবে তাঁদের যে অর্থের বিনিময়ে টাউন ক্লাবের হয়ে খেলতে বলা হয়েছিল সেই অর্থ বকেয়া রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। আবার এমন অভিযোগও আছে যে, অনেকের কাছ থেকে দেবব্রত এই আশ্বাস দিয়ে টাকা নিয়েছেন যে তাঁদের সিএবি অনুমোদিত ক্লাবে খেলার বন্দোবস্ত করে দেবেন। প্রতারিত হয়ে, বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হয়ে আর্থিক লেনদেনের কপি-সহ ক্রিকেটার ও অভিভাবকরা অভিযোগ জানিয়েছেন টাউন ক্লাবে। এমনকী টাউন ক্লাবের ক্রিকেটারদের খাবারের বিল তিনি সিএবির ক্যান্টিন বিলে যোগ করেছেন বলে অভিযোগ। সেই বিলগুলিতে দেবব্রত নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। এ বিষয়ে ওম্বুডসম্যানের কাছে যথাযথ তদন্তের আবেদন। আদিত্য স্কুল অব স্পোর্টসের মতো মুর্শিদাবাদের মিলন, কালীঘাট ক্লাবের সমীরণ দাস, রিয়াল এস্টেটের মালিক অমিত গুপ্ত সিএবির যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন সিএবি সভাপতির কাছে। বিষয়টি জানতে পেরেছে টাউন ক্লাবও। একাধারে সিএবির যুগ্ম সচিব, অন্যদিকে টাউন ক্লাবের কর্তা হিসেবে দেবব্রত দাস যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন তাতে তা স্বার্থের সংঘাত বলে দাবি করেছে টাউন ক্লাব। দেবব্রতকে শোকজ করা ও তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত তদন্ত শুরু করে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের অনুরোধ জানানো হয়েছে টাউন ক্লাবের কাছে। এই অভিযোগ নিয়ে দেবব্রতর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সিএবিতে বার্ষিক সাধারণ সভা তথা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। এই আবহে এমন গুরুতর অভিযোগে শোরগোল বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থায়।‌

প্রবীর চক্রবর্তী, দেবব্রত দাস, অম্বরীশ‌ মিত্রর পর সিএবিতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মহাদেব চক্রবর্তীর নামে। সিএবির ওম্বুডসম্যান, সিএবি সচিব ও কলকাতা পুলিশ ক্লাবের সচিবের কাছে চিঠি পাঠান লেকটাউনের বাসিন্দা তথা ক্রিকেট অনুরাগী শ্যামল দাস। গত ১৮ জুলাই। অভিযোগ, সিএবির নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মহাদেব চক্রবর্তী বাংলার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য হয়ে রয়েছেন। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের এসিপি (ওএসডি) পদে আসীন থাকা অবস্থায় কীভাবে মহাদেব চক্রবর্তী সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য হয়ে গেলেন তা নিয়েই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিযোগকারী। এমনকী তিনি মনোনয়নের সময় বা হলফনামায় যথোপযুক্ত নথি জমা দিয়েছিলেন কিনা, তাতে কোনও গরমিল আছে কিনা তা নিয়ে উপযুক্ত তদন্তের আর্জিও জানানো হয়েছে। সিএবির নিয়মের চতুর্থ চ্যাপ্টারে ৩৪(৩)(ডি) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ মূলত উঠেছে মহাদেবের বিরুদ্ধে। এই নিয়মে উল্লেখ রয়েছে, যদি কোনও সরকারি কর্মচারী স্পোর্টস কোটায় নিযুক্ত হয়ে থাকেন একমাত্র সে ক্ষেত্রেই তিনি অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য বা সিএবির পদাধিকারী হতে পারবেন। আবেদনকারীর সংশয় এই জায়গাতেই। ফলে ক্লিনচিট পেতে মহাদেব এখন যথোপযুক্ত নথি পেশ করেন কিনা বা তিনি কী পদক্ষেপ করেন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। আবেদনকারীর আর্জি, মহাদেবকে সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে রেখে শৃঙ্খলা সংক্রান্ত তদন্ত অবিলম্বে শুরু হোক। প্রয়োজনে ফৌজদারি পদক্ষেপ শুরু করা যেতে পারে বলেও আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, মহাদেবের নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে তাঁর সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বছর বাহাত্তরের ওই অভিযোগকারী। শুধু তাই নয়, এমন গুরুতর অভিযোগে দোষী প্রতিপন্ন হলে মহাদেব যাতে ভবিষ্যতে সিএবিতে কোনওভাবে যুক্ত থাকতে না পারেন সেই ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার আর্জিও জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিএবির কেউ কিংবা অভিযুক্ত মহাদেব চক্রবর্তী মুখ খোলেননি।

সিএবি-র একের পর এক পদাধিকারীকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় জমা হচ্ছে কেন? একাধিক ক্লাবের বিরুদ্ধে এজিএম না করার অভিযোগপত্র জমা পড়েছে সিএবি-তে। সার্বিকভাবে বাংলার ক্রিকেটকে ঘিরে এত বিতর্ক, এত জলঘোলা কেন? ক্রিকেট কোথাও পিছনের সারিতে চলে যাচ্ছে না তো?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles