৪৮৪০০০০০০০ টাকা। ৪৮৪ কোটি টাকা। অনুদানের ১ লাখ ১০ হাজার। রাজ্যের ৪৪ হাজার সর্বজনীন পুজো কমিটি। আরও বিপুল পরিমাণ লক্ষ্মীলাভ। ক্লাবগুলোকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্যুতে ৮০ শতাংশ ছাড়। পাশাপাশি পুরসভা ও দমকলের ফি-মকুব। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় কমিটিগুলি লালে লাল। ১০ হাজার থেকে ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাবে ক্লাবগুলো। পুজো কর্তারা প্রকাশ্যে লক্ষ্মীলাভের কথা স্বীকার করেছেন। কলকাতা থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলা। দুর্গাপুজো এখন আর শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। রাজ্যের অর্থনীতিতে ৮০ হাজার কোটি টাকার টার্নওভার? বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব। ছোট ও মাঝারি পুজো আয়োজন বলে কিছু রইল না। উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স, কোচবিহার, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বোলপুর, হাওড়া, মেদিনীপুর, হুগলির পুজোকমিটির কর্তারা উচ্ছ্বসিত। পুজোয় তিলোত্তমা কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে যে বিপুল সংখ্যক হোর্ডিং লাগানো হয় সেখানেও বছর কয়েক আগে থেকে ‘বিজ্ঞাপন কর’ পুরোপুরি মকুব। পুজোর সময় শহরজুড়ে লাগানো বিশাল মাপের সমস্ত হোর্ডিং থেকে কর আদায় করা হত। খাস কলকাতা পুরসভা কমপক্ষে ১০-১২ কোটি টাকা আয় করত। টাকার পুরোটাই ঘুরপথে পুজেকমিটিগুলির তহবিলেই যাচ্ছে বলে জানান পুরসভার মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজোয় কমিটিগুলিকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু করেন। করোনাকালে তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার। এবছর অনুদান ১ লাখ ১০ হাজার ঘোষণা। রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী সরকারের অনুদান ঘোষণার পর থেকেই বামজমানায় পুজো ঘিরে যে চাঁদার জুলুম দেখা যেত তা এখন কার্যত বন্ধ। ঝালদা সীমান্তের পুরুলিয়ার তুম্বা-ঝালদা বোলতলা দুর্গাপুজো কমিটির পুজোর বাজেট মাত্র দেড় লাখ। মুখ্যমন্ত্রী তো প্রায় সবটাই ব্যবস্থা করে দিলেন। চাঁদা তোলার কোনও দরকার হবে না। পুজো বাজেট তৈরি করা অনেকটাই সহজ হয়ে গেল। পরোক্ষে আরও দু’লাখ টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা। কলকাতার অন্যতম সেরা পুজো ত্রিধারা সম্মিলনীর কর্ণধার তথা রাজ্যের ডেপুটি চিফ হুইপ দেবাশীষ কুমার জানান, কলকাতার নামী বস্তি থেকে অন্ত্যজ গ্রামের পুজো, সবর্ত্রই মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ও সিদ্ধান্তে উপকৃত কয়েক কোটি উৎসবমুখর পুজো। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘দুর্গাপুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অঙ্গ। পুজোর দিনগুলিতে শিল্প ও বাণিজ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে এই উৎসবকে ঘিরে।’’
৮৫ হাজার থেকে এক লাফে ১ লাখ ১০ হাজার। ক্লাবগুলোর জন্য। মমতাময় উপহার পূজো উপলক্ষে। ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হল। দুর্গাপুজোর জন্য উদ্যোক্তাদের এ বছর ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্যুতের ছাড়। পুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুতের মাসুলেও ৮০ শতাংশ ছাড়। সিইএসই এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন পর্ষদকে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপুজো শুরু। ২ অক্টোবর বিজয়া দশমী। ৫ অক্টোবর পুজো কার্নিভাল হবে কলকাতায়। ২, ৩ এবং ৪ অক্টোবর তিন দিন প্রতিমা বিসর্জন। নেতাজি ইন্ডোরে পুজো কমিটিগুলিকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আরজি কর আন্দোলনের আবহে রাজ্য সরকারের দেওয়া পুজোর অনুদান ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কিছু পুজো কমিটি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যারা অনুদান নেবে না, তাদের বাদ দিয়ে নতুন পুজো কমিটিদের অনুদান দেওয়া হবে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। মুখ্যমন্ত্রী গলায় সতর্কতার সুর, ‘‘ভিড়ের প্রতিযোগিতা করবেন না, মানুষকে মণ্ডপ দেখান। প্রতিটি মণ্ডপে যেন অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ থাকে। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম রাখতে হবে, যাতে কারও কোনও সমস্যা হলে তা ঘোষণা করা যায়। হেল্পলাইন নম্বর ভালোভাবে ঘোষণা করবেন। মণ্ডপে দমকলের বড় গাড়ি ঢুকতে অসুবিধা থাকলে মোবাইল বাইক রেডি রাখতে হবে। মহিলা নিরাপত্তায় যেন বাড়তি নজর থাকে পুলিশের।” রেড রোডে বড় করে প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। বিদেশি অতিথিরাও। এবারও তাঁদের সকলকে নিয়ে কার্নিভাল করতে চান মুখ্যমন্ত্রী।
এখন ‘প্যান্ডেল হপিং’য়ের দিন গোনা। কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষকর্তারা, কলকাতা পুরসভা, দমকল বিভাগ, সিইএসসি, পুলিশ প্রশাসন, পরিবহণ ও স্বাস্থ্য দফতরের মতো পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। সরকারি অনুদান থেকে শুরু করে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মহিলাদের জন্য পিঙ্ক পুলিশ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই পুজোর সময় নজরদারি। নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোমণ্ডপগুলিতে কড়া নজরদারি, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে। মণ্ডপে আসা মহিলাদের নিরাপত্তা, প্রবীণদের সুবিধার দিকটিও পুজো কমিটিগুলিকে খেয়াল রাখতে নির্দেশ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‘কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে যেন সমন্বয় থাকে। সব কন্ট্রোলরুমকে সারা ক্ষণ সক্রিয় রাখতে হবে। ভিড় এড়াতে প্রবেশ এবং বেরোনোর আলাদা পথ রাখতে হবে। পুজোমণ্ডপে পাবলিক অ্যাড্রেসাল সিস্টেম যাতে থাকে, দেখতে হবে সেটাও। বিদেশিদের যাতে কোনও ভাবে সম্মানহানি না হয়। পরিবহণ দফতরকে বলব বেশি গাড়ি চালাতে, যাতে মানুষ সময়ে সময়ে গাড়ি পান বাড়ি ফেরার জন্য। মেট্রোয় একটু বেশি ক্ষণ চলার বিষয়ে আধিকারিকদের কথা বলতে বলবেন। লোকাল ট্রেনও যাতে পাওয়া যায় রাতে। পুজোমণ্ডপগুলিতে অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখতে বলব। পদপিষ্টের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটাও দেখতে হবে। বিসর্জনের জায়গায় আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।’’ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “১ লাখ ১০ কেন, ২ লাখ ১০ দিন। তাতে কিছু এসে যায় না । আগে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মিটিয়ে দিন। ৬ লক্ষ সরকারি শূন্যপদ পূরণ করুন। তবে আপনারা দেখবেন আগামী দিনে ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ৫০০ টাকা করে ভাতা বেড়ে যাবে।”
দুর্গাপুজোয় জেলা থেকে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ে। দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে পুজোর সময় সারাক্ষণ মেট্রো পরিষেবার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিষয়ে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতা শহরের অনেকাংশে মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছে। জুড়েছে পাশের শহর হাওড়াও। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সবার কথা মাথায় রেখে এই নির্দেশ মমতার। জেলার লাইফ লাইন লোকাল ট্রেনও যাতে বেশি চলে সেই দিকটিও দেখতে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা ট্রান্সপোর্ট দপ্তরকে পরিবহণ দিকে বাড়তি নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাস্তায় প্রয়োজন মতো বাস ও অন্যান্য যান চলাচলের বিষয়টাও দেখার জন্য বলেন। পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলির দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য জব কার্ড দেওয়া হবে। কর্মশ্রী প্রকল্পের কাজ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সবই দেওয়া হবে। বুধবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও জানিয়েছেন, “ফিরে আসা সবার পেটে ভাত, সবার হাতে কাজ, সবার মাথায় ছাদ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”পুজো উদ্যোক্তাদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ”ওঁদেরও পারলে পুজোয় নতুন জামাকাপড় দিন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো উদ্যোক্তাদের প্রতি আর্জি জানালেন, ”ওঁদেরও (পরিযায়ী শ্রমিক) পুজোয় নতুন জামাকাপড় দেবেন।”
থিম ‘বীজ অঙ্গন’। পুজোর থিমের নাম রাখলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শতবর্ষের পুজোয় টালা প্রত্যয়। মণ্ডপে প্রতিমার চক্ষুদান থেকে পুজো উদ্বোধন। একাধিক পুজোর জন্য লিখেছেন থিম সঙ্গীতও। প্রথমবার কোনও পুজোর থিমশিল্পের নামকরণ। শতবর্ষের পুজো উদযাপনে টালা প্রত্যয়। উত্তর কলকাতার এই জনপ্রিয় পুজো সাজিয়ে তোলার দায়িত্বে প্রখ্যাত শিল্পী ভবতোষ সুতার। তাঁর পুজো শিল্পেরই নামকরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারের থিম ‘বীজ অঙ্গন’। টালা প্রত্যয়ের পুজোর থিমে নামকরণের নেপথ্য কাহিনি। গতবছরই মুখ্যমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন শতবর্ষ নিয়ে ক্লাবের কী পরিকল্পনা। এরপর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। সেখানেই এবারের থিম নিয়ে আলোচনা হয়। থিমের মধ্যে দিয়ে সবুজ রক্ষার বার্তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। দীর্ঘক্ষণ মন দিয়ে সম্পূর্ণ থিমভাবনা শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেন, এই সৃজনের দারুণ একটা নাম হতে পারে। তা হল বীজ অঙ্গন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ লুফে নেয় ক্লাব। গত তিনবছর মুখ্যমন্ত্রীই টালা প্রত্যয়ের পুজোর উদ্বোধন করেছেন। পুজোর থিমের এই নামকরণ নিয়ে উচ্ছ্বসিত শিল্পী ভবতোষ সুতার।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কঠিন লড়াইয়ের মুখে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরীক্ষিত নেতা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপরেই দায়িত্ব দিয়েছে পদ্মশিবির। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ওয়ার্ড এবং বুথের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে সমীক্ষা শুরু করিয়েছেন শুভেন্দু। দক্ষিণ কলকাতার সমীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্টও হাতে পেয়ে গিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। ভবানীপুর বিধানসভাকে অনেকে ‘মিনি ভারতবর্ষ’ বলে অভিহিত করেন। ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় বাস করেন বাঙালি, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাতি, মরাঠি, ওড়িয়া এবং মুসলিম-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। শুভেন্দুর সমীক্ষায় ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ভাষা এবং জাতিভিত্তিক বিষয়গুলিও রাখা হয়েছে। ভবানীপুরে কত শতাংশ ব্রাহ্মণ, কত শতাংশ কায়স্থ, কত শতাংশ চামার বা মুচি সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন, সবই সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী ভবানীপুরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় ভোট রয়েছে কায়স্থ সমাজের। ২৬.২ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব। মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিত্ব ২৪.৫ শতাংশ। পূর্বাঞ্চলীয় ভোটার ১৪.৯ শতাংশ, মারোয়াড়ি ১০.৪ শতাংশ এবং ব্রাহ্মণ ৭.৬ শতাংশ। ভবানীপুরের জন্য শুভেন্দুর কথামতোই ভবানীপুরে দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যবহার করবেন জেপি নড্ডা এবং অমিত শাহরা। ভবানীপুরের ওড়িয়াপাড়া দইপট্টিতে ওড়িয়াভাষী ভোটারদের সঙ্গে ‘উৎকল দিবস’ পালন করতে ওড়িশার যুব মোর্চার সভাপতি অভিলাষ পন্ডাকে আনা হয়েছিল এপ্রিলে। শুভেন্দুর পরামর্শেই ভবানীপুরের ওড়িয়া ভোটারদের সঙ্গে জনসংযোগ করতে ভুবনেশ্বর থেকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল। আহমদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণীর মৃত্যু হলে ভবানীপুরে বিজেপি-র আয়োজিত স্মরণসভায় হাজির হয়ে গুজরাতি সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন শুভেন্দু নিজে। প্রয়োজনে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে ভবানীপুরে এসে জনসংযোগ করতে পারেন পদ্মশিবিরের সব সম্প্রদায়ের নেতারা। সেই কাজে কার্যকরী হতে পারে বিরোধী দলনেতার করানো সমীক্ষা।
মমতার ‘কেষ্ট’ ফিরলেন স্বমহিমায়, বীরভূম তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক প্রাক্তন সভাপতি অনুব্রত, কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড নিয়ে ভবানীপুর বিধানসভা। সেগুলি ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বাদ দিলে সব ওয়ার্ডেই ভোট রয়েছে বিজেপি-র। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী মালা রায় ৬,৩৩৪ ভোটে বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরীর থেকে এগিয়ে থাকলেও পাঁচটি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল পদ্মশিবির। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। পাশাপাশি ছ’টি ওয়ার্ড থেকে জোড়াফুলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র ৭০ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়েছিলেন রুদ্রনীল। ২০২১ সালে মমতার উপনির্বাচনে আটটি ওয়ার্ডেই জোড়াফুল ফুটেছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, সব ওয়ার্ডে ‘ব্যাপক রিগিং এবং সন্ত্রাস’ করে মুখ্যমন্ত্রী ওই ভোটে জয়ী হন। বিজেপি-র ভরসা ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের ফলাফল। ২০১৪ সালে সকলকে চমকে দিয়ে দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায়। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডেও জয় পেয়েছিল বিজেপি। ২০১৯ সালে সাড়ে তিন হাজার ভোটে তৃণমূল প্রার্থী মালা এগিয়ে গেলেও, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড-সহ ছ’টি ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিলেন পদ্ম প্রতীকের প্রার্থী চন্দ্রকুমার বসু। এমনই সব ভোটের পরিসংখ্যানে ভরসা করে শুভেন্দুকে ভবানীপুরের ময়দানে নামিয়েছে বিজেপি।
সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইলামবাজারের সভা থেকে এনিয়ে অনুব্রত মণ্ডল-কাজল শেখদের ময়দানে নামার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আসল কারও নাম যেন বাদ না পড়ে এলাকায় গিয়ে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ। বীরভূমের ইলামবাজারে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে জয়দেব সেতু-সহর উদ্বোধন-সহ একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। সরকারি অনুষ্ঠানের মাঝেই ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে বাঙালি ‘নির্যাতন’, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “অসম, ওড়িশা, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ-সহ সমস্ত ডবল ইঞ্জিন সরকার অর্থাৎ বিজেপি শাসিত রাজ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে বাঙালিদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। আসলে বাংলায় প্রতিভা, পরিশ্রমের সঙ্গে পেরে উঠছে না বলে এত অত্যাচার। হিংসার তো কোনও ওষুধ নেই। যাঁরা ওই সব রাজ্যে কাজ করেন, তাঁরা দীর্ঘ ২০, ২৫ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন। সব বৈধ নথি রয়েছে। তা সত্ত্বেও ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হচ্ছে, থানায় ঘোরানো হচ্ছে। আমি বলছি, তাঁরা সবাই ফিরে আসুক। চাইলে রাজ্য সরকার গাড়িভাড়াও দেবে। তারপরই বোঝা যাবে, কে সত্যি বলছে, কে মিথ্যে। সবাই নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন। আসল লোকের নাম যেন বাদ না যায়। এভাবে এনআরসি চালুর ষড়যন্ত্র চলছে। অসমেও হয়েছে, বাংলাতেও ওরা চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রাণ থাকতে আমরা এনআরসি হতে দেব না, রুখে দেব। কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে প্রতিবাদ করবেন, বিএলও-কে বলবেন। বলবেন, এটা আপনার সাংবিধানিক অধিকার, আপনার রক্ষাকবচ। যেসব সংখ্যালঘুরা বাইরে কাজ করেন, তাঁরাও নাম তুলুন। সকলে ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন। যদি নাম বাদ যায়, তাহলে প্রতিবাদ করুন। বিএলও-কে জানান। অসম, ওড়িশা, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ-সহ সমস্ত ডবল ইঞ্জিন সরকার অর্থাৎ বিজেপি শাসিত রাজ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে বাঙালিদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। আসলে বাংলায় প্রতিভা, পরিশ্রমের সঙ্গে পেরে উঠছে না বলে এত অত্যাচার। হিংসার তো কোনও ওষুধ নেই। যাঁরা ওই সব রাজ্যে কাজ করেন, তাঁরা দীর্ঘ ২০, ২৫ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন। সব বৈধ নথি রয়েছে। তা সত্ত্বেও ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হচ্ছে, থানায় ঘোরানো হচ্ছে। আমি বলছি, তাঁরা সবাই ফিরে আসুক। চাইলে রাজ্য সরকার গাড়িভাড়াও দেবে। তারপরই বোঝা যাবে, কে সত্যি বলছে, মিথ্যে বলছে।”




