Friday, July 24, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জলমগ্ন হাওড়া!‌ ধসে গেল ঘর, খালের গার্ডওয়াল ভেঙে বিপত্তি?‌ গঙ্গার তলা দিয়ে হাওড়া-এসপ্ল্যানেড রুটে ছুটবে চালকবিহীন মেট্রো

‌খালের গার্ডওয়াল ভেঙে মাটিতে গঙ্গার জল ঢুকে ধসে গেলে রাস্তা ও বস্তির একাধিক ঘর। ঘটনায় ৮টি একতলা পাকা ঘর একেবারে ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও প্রায় ৫৭টি ঘরে ফাটল দেখা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার শালিমারের ফরশোর রোডের বালুঘাট এলাকায়। প্রবল বৃষ্টির জেরে এলাকার স্বর্ণময়ী খালের গার্ডওয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করেছিল। গার্ডওয়াল একেবারে ভেঙে পড়ে। ফলে ওই বস্তির প্রচুর বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়েই জেলা প্রশাসন ও হাওড়া পুরসভা বাসিন্দাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মহিলা, শিশু-সহ বাসিন্দারা ক্লাব ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তরফে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরি, হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া ও হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্য সরকারের সেচ দপ্তর ও পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। গৃহহীন বাসিন্দাদের এলাকার ফাঁকা জায়গা ও ক্লাবে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির জন্যই খালের গার্ডওয়াল ধসে মাটিতে জল ঢুকে রাস্তা ধসিয়ে বস্তির ঘরগুলিতে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে। সেচ দপ্তর আপাতত শালবল্লা দিয়ে গার্ডওয়ালটিকে দাঁড় করাবে তার পর ধীরে ধীরে তা মেরামত করা হবে।’’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যদি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা নতুন করে তাঁদের ঘর তৈরি করে দিতে বলেন, তাহলেও জেলা প্রশাসন সেই নতুন ঘর তৈরি করে দিতে প্রস্তুত। জেলা প্রশাসনের তরফে বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার লম্বা স্বর্ণময়ী খালটি আন্দুল রোড থেকে শুরু হয়ে শালিমারের ভিতর দিয়ে গিয়ে পদ্মপুকুর এলাকায় গিয়ে মিশেছে। খালের মাঝখানে একটি লকগেটও রয়েছে। আতঙ্কিত বস্তির বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জলিল বলেন, ‘‘একদিকে লকগেট খারাপ হয়ে যাওয়ায় খালে প্রচুর জল হয়ে মাটি ধসে যাচ্ছে। অন্যদিকে খালের পাশেই একটি বেসরকারি সংস্থা বড় আবাসন তৈরির কাজ শুরু করেছে। ফাঁকা জমিতে দিনের পর দিন পাইলিংয়ের কাজ হওয়ার জন্যও মাটি বসে গিয়ে এই বিপত্তি হয়েছে।’’ স্থানীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।

হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর, বর্ধমান-সহ পাঁচ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দামোদর নদীর পূর্ব দিকের বাধ উঁচু করা-সহ নানা ধরনের সংস্কার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বিশ্ব ব্যাঙ্কের দেওয়া তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকায় এই কাজ। ভরা বর্ষায় এর সুফল পাচ্ছেন আমতা দু নম্বর ব্লক ও উদয়নারায়নপুর এলাকার বাসিন্দারা। মেজর ইরিগেশন এন্ড ফ্লাড প্রোজেক্টের দরুন সংস্কার হওয়া নালা খাল বেয়ে দ্রুত গতিতে নেমে যাচ্ছে জমা জল। বৃষ্টির জলে ডুবে যাওয়া ফসলের খেত থেকে জল নেমে যাচ্ছে। দুশ্চিন্তার কালো মেঘ দ্রুত সরে যাওয়ায় খুশি কৃষকরা। দাবি, ডিভিসির জল ছাড়া বন্ধ রাখলে বা নদীতে জলের চাপ কম থাকতো তাহলে আরও দ্রুত হারে জল নামত। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বছর কয়েক আগে শুরু হয় দামোদরের পূর্ব দিকের বাদ উঁচু করা-সহ নানা ধরনের সংস্কার। এছাড়াও মুণ্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ মজবুতিকরণ এবং মজা দামোদর, রামপুর ক্যানেল, মান্দারিয়া খাল, টুকুর খাল, মহিষামুড়ি খাল-সহ একাধিক খালের সংস্কার করা হয়। ভরা বর্ষাতেও মজা দামোদর খাল দিয়ে ডিহিভুরসুট, কুরচি শিবপুর, কানুপাট, সিংটি-সহ একাধিক এলাকায় জল নামছে। অন্যান্য খাল দিয়েও আমতা উদয়নারায়ণপুরের বিভিন্ন জায়গার জমা জল বেরিয়ে যাচ্ছে রূপনারায়ন এবং দামোদর নদ হয়ে হুগলি নদীতে। উদয়নারায়ণপুরের কুরচি শিবপুর এলাকার বিনোদবাটীর এক কৃষক সুকুমার মুখ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমিও কয়েক বিঘা ধান চাষ করেছি। কিন্তু যেভাবে বৃষ্টি হয়েছে তাতে রোয়া ধান গাছ ডুবে গিয়েছিল। চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। যাই হোক দেখছি জমি থেকে জল নেমে যাচ্ছে। আশা করা যায় চাষের কোনও ক্ষতি হবে না।” সেচদপ্তরের এক কর্তা বলেন, “খালগুলো সংস্কারের ফলে নিঃসন্দেহে খালের জল ধারণ ক্ষমতা বেড়েছে। যার ফলে সহজেই উদয়নারায়নপুর, আমতা এলাকার জমা জল বের হতে পারছে।” বিশ্বব্যাঙ্কের তিন হাজার কোটি টাকার মধ্যে আমতা ও উদয়নারায়ণপুরেই বড় অঙ্কের টাকার কাজ হয়েছে। মিলছে তার সুফলও। আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল বলেন, ” আমতা-উদয় নারায়ণপুরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জানাই। এই প্রকল্পের কারণে হাওড়ার গ্রামীণ এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উদয় নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত দাস ও উদয় নারায়ণপুর এলাকা থেকে নির্বাচিত হাওড়া জেলা পরিষদের সদস্য মৃত্যুঞ্জয় সামন্তও।

গঙ্গার তলার মেট্রো নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই যাত্রীদের। মেট্রোর মুকুটে নাকি জুড়তে চলেছে নয়া পালক। ট্রায়াল রানে পাশ করলেই হাওড়া-এসপ্ল্যানেড রুটে ছুটবে চালকবিহীন মেট্রো। মেট্রো রেল সূত্রে খবর, আগামী রবিবার বন্ধ থাকবে হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল‌্যানেড মেট্রো স্টেশন। অটোমেটেড ট্রেন অপারেশনের কাজের জন‌্য ওইদিন এই পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। চালকবিহীন মেট্রো বা অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন (এটিও) ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রুটে। মেট্রোসূত্রে খবর, ৪ আগস্ট থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট রুটে যাত্রী পরিষেবা শেষ হওয়ার পর খালি রেক চালক ছাড়াই দুই প্রান্তিক স্টেশনের মধ্যে চলাচল করবে। টানা ২ সপ্তাহ চলবে এই মহড়া। তবে কবে থেকে হাওড়া ময়দান-সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত রুটে যাত্রী পরিষেবা শুরু হবে সেবিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি। এটিও বা অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন একটি আধুনিক প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে মেট্রোর দরজা খোলা ও বন্ধ, মেট্রো স্টেশনে দাঁড়ানো, মেট্রোর যাত্রাপথের গতি নিয়ন্ত্রণ হবে। চালক থাকবেন মোটরভ্যানে। তবে তিনি এই কাজগুলির কোনওটাই করবেন না। বলে রাখা ভালো, বর্তমানে এই কাজগুলি চালকই করে থাকেন। কলকাতার কোনও মেট্রো রুটে এই আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়নি। গত ২০২০ সালে দিল্লিতে প্রথম চালকবিহীন মেট্রো চালু হয়। যা ভারতের মধ্যে প্রথম। এবার লক্ষ্য হাওড়া-এসপ্ল্যানেড মেট্রোকে চালকবিহীন রুটে পরিণত করার। ট্রায়াল রানের উপরেই নির্ভর করছে সব কিছু। যদি ট্রায়াল রান সফল হয় তবে এটি হবে ভারতের প্রথম জলের নিচে চলা চালকবিহীন মেট্রো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, ট্রায়াল রানে সফল হলে আগামী কয়েকমাসেই নয়া প্রযুক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে যাতায়াতকারীদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles