২০২২ সাল। প্রথম বার ভারতের টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। অভিষেক হয় না বাংলার ক্রিকেটারের। ৯৬৫ দিনে ধরে রিজার্ভ বেঞ্চে অভিমন্যু! চোখের সামনে অভিষেক ১৫ জনের। শিকে ছিঁড়ল না বাংলার ক্রিকেটারের। প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ সফরে দলের সঙ্গে যান অভিমন্যু ঈশ্বরণ। পুরো সিরিজ জুড়ে বেঞ্চেই বসে থাকতে হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলায় লাল বলের দলে জায়গা হয়েছিল। অথচ অভিষেক হয়নি। প্রায় তিন বছর প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ সফরে দলে থেকেছেন। প্রথম একাদশে জায়গা পাননি বাংলার ব্যাটার। সবকটি সিরিজ জুড়ে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ৯৬৫ দিনে অভিমন্যুর চোখের সামনে অভিষেক হয়েছে ১৫ জনের। টেস্টের টুপি পাননি। অভিমন্যু ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়ার পর যে ১৫ জনের অভিষেক হয়েছে। শ্রীকর ভরত, সূর্যকুমার যাদব, যশস্বী জয়সওয়াল, ঈশান কিশন, মুকেশ কুমার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, রজত পাটীদার, সরফরাজ় খান, ধ্রুব জুরেল, আকাশদীপ, দেবদত্ত পড়িক্কল, নীতীশ কুমার রেড্ডি, হর্ষিত রানা, সাই সুদর্শন ও অংশুল কম্বোজ। এই ১৫ জনের মধ্যে ছ’জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার। বিকল্প ওপেনার হিসাবে রাখা হয়েছে অভিমন্যুকে। এই ৯৬১ দিনে দু’জন ওপেনারের অভিষেক হলেও তাঁকে ওপেনার হিসাবে ভাবেনি দল। বাংলার মুকেশ ও আকাশদীপের অভিষেক হলেও রাজ্য দলের সতীর্থ অভিমন্যুর জায়গা হয়নি।

প্রথম ডাক পান তখন ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও কোচ রাহুল দ্রাবিড়। রোহিত অবসর নিয়েছেন। নতুন অধিনায়ক শুভমন গিল। দ্রাবিড়ের বদলে কোচ গৌতম গম্ভীর। অভিমন্যু জায়গা পাননি। দুজন অধিনায়ক বা কোচের অধীনেই ব্রাত্য থেকেছেন অভিমন্যু। ইংল্যান্ড সিরিজে ভারতের দল নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা সৌরভের, কোন দু’জনকে দেখতে চেয়েছিলেন দাদা। দুটো বড় সিরিজের অংশ ছিলেন অভিমন্যু। গত বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়া সফর ও ইংল্যান্ড সফর। দুটো সিরিজেই পাঁচটা করে টেস্ট খেলে ভারত। অস্ট্রেলিয়ায় দুটো টেস্ট খেলেননি ওপেনার রোহিত। বাকি তিনটে টেস্টের মধ্যেও দুটো টেস্টে মিডল অর্ডারে খেলেছেন। একটা টেস্টে তিনি ওপেন করেছেন। রোহিত না থাকায় যশস্বীর সঙ্গে রাহুলকে ওপেন করানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় মিডল অর্ডারে খেলা রাহুলকে দিয়ে ওপেন করালেও অভিমন্যুর কথা ভাবা হয়নি। ইংল্যান্ডেও সেই ছবিটাই দেখা যাচ্ছে। যশস্বী ও রাহুল ওপেন করছেন। অভিমন্যু বেঞ্চে। বিদেশ সফরের আগে ভারত যে এ দলকে সে দেশে পাঠায় সেই দলে খেলেন অভিমন্যু। অধিনায়কত্বও করেন। ইংল্যান্ডেও ভারত এ দলের হয়ে রানও করেরেও প্রথম একাদশে জায়গা পাননি। কেন বার বার তিনি ব্রাত্য থাকেন তার কারণ অজানা। অভিমন্যুও এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। অপেক্ষায় রয়েছেন টেস্ট অভিষেকের।
ভারতের টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার পর অভিমন্যু ঈশ্বরণ প্রায় তিন বছর ধরে দলের সঙ্গে ঘুরলেও অভিষেক হয়নি বাংলার ব্যাটারের। ওভালেও জায়গা পাননি। পুত্র সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পিতা। গৌতম গম্ভীরদের দিকে আঙুল তুলেছেন অভিমন্যুর পিতা রঙ্গনাথন ঈশ্বরণ। ওভালে ভারতীয় দলে ফিরেছেন করুণ নায়ার। আরও একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছে সাই সুদর্শনকে। প্রশ্ন তুলেছে রঙ্গনাথন বলেন, “আমি এখন আর দিন গুনি না। বছর গুনি। তিন বছর হয়ে গেল ও জায়গা পেল না। একজন ব্যাটারের কাজ কী? রান করা। অভিমন্যু সেটাই করেছে। তার পরেও জায়গা পায়নি। আমার ছেলেকে আর কী প্রমাণ দিতে হবে?”
অস্ট্রেলিয়া সফর ও ইংল্যান্ড সফর। দুই সিরিজের মাঝে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিমন্যু রান করেছেন। রঙ্গনাথন বলেন, “গত অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ভারত এ দলের হয়ে অভিমন্যু দুটো ম্যাচে রান পায়নি। তাই প্রথম একাদশে ঢুকতে পারেনি। মানলাম। কিন্তু সেই সিরিজ় ও ইংল্যান্ড সিরিজ়ের মাঝে দলীপ ও ইরানি ট্রফিতে ও ৮৬৪ রান করেছে। সেখানে তো করুণ খেলার সুযোগ পায়নি। তার মানে অভিমন্যুর করা রান কোনও গুরুত্ব পেল না। সেই রান কি কেউ দেখতে পাচ্ছেন না? ওরা করুণকে সুযোগ দিল। ও রঞ্জিতে ৮০০-র উপর রান করেছে। তাই নির্বাচকেরা ওর উপর ভরসা দেখিয়েছে। মেনে নিলাম। কিন্তু বার বার সুযোগ না পেয়ে আমার ছেলে হতাশ হয়ে পড়ছে। কয়েক জন আইপিএলে খেলে দলে ঢুকে যাচ্ছে। টেস্টের দল নির্বাচনের সময় আইপিএলের পারফরম্যান্স দেখাই উচিত নয়। রঞ্জি, দলীপ, ইরানি দেখে সুযোগ দেওয়া উচিত।” আইপিএলের পারফরম্যান্স দেখে কাউকে টেস্ট দলে জায়গা দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন রঙ্গনাথন। গত আইপিএলে কমলা টুপির মালিক সাই সুদর্শন টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন। বড় রান করতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ১০৩ ম্যাচে ৭৮৪১ রান করেছেন অভিমন্যু। ৪৮.৭০ গড়ে ২৭ শতরান ও ৩১ অর্ধশতরান করেছেন তিনি। গত ১০ ইনিংসে তিনি যথাক্রমে অপরাজিত ১২৭, ১৯১, ১১৬, ১৯, অপরাজিত ১৫৭, ১৩, ৪, অপরাজিত ২০০, ৭২ ও ৬৫ রান করেছেন। অর্থাৎ, গত ১০ ইনিংসে একটা দ্বিশতরান, চারটে শতরান ও দুটো অর্ধশতরান করেছেন বাংলার ব্যাটার। তার পরেও ভারতীয় দলে ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন। মানতে পারছেন না অভিমন্যুর বাবা।




