Friday, July 24, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দুর্গাপুজোর জন্য প্রতি ক্লাবকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা!‌ বিধানসভা নির্বাচন নজরে রেখেই ক্লাবগুলোকে অনুদানের অঙ্ক বাড়ল?‌ বিদ‍্যুৎ বিলেও ছাড় বেড়ে ৮০ শতাংশ

৮৫ হাজার থেকে এক লাফে ১ লাখ ১০ হাজার। ক্লাবগুলোর জন্য। মমতাময় উপহার পূজো উপলক্ষে। ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হল। দুর্গাপুজোর জন্য উদ্যোক্তাদের এ বছর ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্যুতের ছাড়। পুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুতের মাসুলেও ৮০ শতাংশ ছাড়। সিইএসই এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন পর্ষদকে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপুজো শুরু। ২ অক্টোবর বিজয়া দশমী। ৫ অক্টোবর পুজো কার্নিভাল হবে কলকাতায়। ২, ৩ এবং ৪ অক্টোবর তিন দিন প্রতিমা বিসর্জন। নেতাজি ইন্ডোরে পুজো কমিটিগুলিকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আরজি কর আন্দোলনের আবহে রাজ্য সরকারের দেওয়া পুজোর অনুদান ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল কিছু পুজো কমিটি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যারা অনুদান নেবে না, তাদের বাদ দিয়ে নতুন পুজো কমিটিদের অনুদান দেওয়া হবে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। মুখ্যমন্ত্রী গলায় সতর্কতার সুর, ‘‌‘‌ভিড়ের প্রতিযোগিতা করবেন না, মানুষকে মণ্ডপ দেখান। প্রতিটি মণ্ডপে যেন অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ থাকে। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম রাখতে হবে, যাতে কারও কোনও সমস্যা হলে তা ঘোষণা করা যায়। হেল্পলাইন নম্বর ভালোভাবে ঘোষণা করবেন। মণ্ডপে দমকলের বড় গাড়ি ঢুকতে অসুবিধা থাকলে মোবাইল বাইক রেডি রাখতে হবে। মহিলা নিরাপত্তায় যেন বাড়তি নজর থাকে পুলিশের।” রেড রোডে বড় করে প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। বিদেশি অতিথিরাও। এবারও তাঁদের সকলকে নিয়ে কার্নিভাল করতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

এখন ‘প্যান্ডেল হপিং’য়ের দিন গোনা। কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষকর্তারা, কলকাতা পুরসভা, দমকল বিভাগ, সিইএসসি, পুলিশ প্রশাসন, পরিবহণ ও স্বাস্থ্য দফতরের মতো পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। সরকারি অনুদান থেকে শুরু করে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মহিলাদের জন্য পিঙ্ক পুলিশ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই পুজোর সময় নজরদারি। নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোমণ্ডপগুলিতে কড়া নজরদারি, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে। মণ্ডপে আসা মহিলাদের নিরাপত্তা, প্রবীণদের সুবিধার দিকটিও পুজো কমিটিগুলিকে খেয়াল রাখতে নির্দেশ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‘কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে যেন সমন্বয় থাকে। সব কন্ট্রোলরুমকে সারা ক্ষণ সক্রিয় রাখতে হবে। ভিড় এড়াতে প্রবেশ এবং বেরোনোর আলাদা পথ রাখতে হবে। পুজোমণ্ডপে পাবলিক অ্যাড্রেসাল সিস্টেম যাতে থাকে, দেখতে হবে সেটাও। বিদেশিদের যাতে কোনও ভাবে সম্মানহানি না হয়। পরিবহণ দফতরকে বলব বেশি গাড়ি চালাতে, যাতে মানুষ সময়ে সময়ে গাড়ি পান বাড়ি ফেরার জন্য। মেট্রোয় একটু বেশি ক্ষণ চলার বিষয়ে আধিকারিকদের কথা বলতে বলবেন। লোকাল ট্রেনও যাতে পাওয়া যায় রাতে। পুজোমণ্ডপগুলিতে অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখতে বলব। পদপিষ্টের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটাও দেখতে হবে। বিসর্জনের জায়গায় আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।’’ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “১ লাখ ১০ কেন, ২ লাখ ১০ দিন। তাতে কিছু এসে যায় না । আগে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ মিটিয়ে দিন। ৬ লক্ষ সরকারি শূন্যপদ পূরণ করুন। তবে আপনারা দেখবেন আগামী দিনে ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ৫০০ টাকা করে ভাতা বেড়ে যাবে।”

দুর্গাপুজোয় জেলা থেকে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ে। দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে পুজোর সময় সারাক্ষণ মেট্রো পরিষেবার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিষয়ে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতা শহরের অনেকাংশে মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছে। জুড়েছে পাশের শহর হাওড়াও। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সবার কথা মাথায় রেখে এই নির্দেশ মমতার। জেলার লাইফ লাইন লোকাল ট্রেনও যাতে বেশি চলে সেই দিকটিও দেখতে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা ট্রান্সপোর্ট দপ্তরকে পরিবহণ দিকে বাড়তি নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাস্তায় প্রয়োজন মতো বাস ও অন্যান্য যান চলাচলের বিষয়টাও দেখার জন্য বলেন। পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলির দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য জব কার্ড দেওয়া হবে। কর্মশ্রী প্রকল্পের কাজ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সবই দেওয়া হবে। বুধবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও জানিয়েছেন, “ফিরে আসা সবার পেটে ভাত, সবার হাতে কাজ, সবার মাথায় ছাদ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”পুজো উদ্যোক্তাদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ”ওঁদেরও পারলে পুজোয় নতুন জামাকাপড় দিন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো উদ্যোক্তাদের প্রতি আর্জি জানালেন, ”ওঁদেরও (পরিযায়ী শ্রমিক) পুজোয় নতুন জামাকাপড় দেবেন।”

থিম ‘বীজ অঙ্গন’। পুজোর থিমের নাম রাখলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শতবর্ষের পুজোয় টালা প্রত্যয়। মণ্ডপে প্রতিমার চক্ষুদান থেকে পুজো উদ্বোধন। একাধিক পুজোর জন্য লিখেছেন থিম সঙ্গীতও। প্রথমবার কোনও পুজোর থিমশিল্পের নামকরণ। শতবর্ষের পুজো উদযাপনে টালা প্রত্যয়। উত্তর কলকাতার এই জনপ্রিয় পুজো সাজিয়ে তোলার দায়িত্বে প্রখ্যাত শিল্পী ভবতোষ সুতার। তাঁর পুজো শিল্পেরই নামকরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারের থিম ‘বীজ অঙ্গন’। টালা প্রত্যয়ের পুজোর থিমে নামকরণের নেপথ্য কাহিনি। গতবছরই মুখ্যমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন শতবর্ষ নিয়ে ক্লাবের কী পরিকল্পনা। এরপর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। সেখানেই এবারের থিম নিয়ে আলোচনা হয়। থিমের মধ্যে দিয়ে সবুজ রক্ষার বার্তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। দীর্ঘক্ষণ মন দিয়ে সম্পূর্ণ থিমভাবনা শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেন, এই সৃজনের দারুণ একটা নাম হতে পারে। তা হল বীজ অঙ্গন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ লুফে নেয় ক্লাব। গত তিনবছর মুখ্যমন্ত্রীই টালা প্রত্যয়ের পুজোর উদ্বোধন করেছেন। পুজোর থিমের এই নামকরণ নিয়ে উচ্ছ্বসিত শিল্পী ভবতোষ সুতার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles