Thursday, July 23, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পরকীয়া, যৌন নিপীড়ন বাড়ছে!‌ অন্য মহিলা বা পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা ক্রমবর্দ্ধমান

বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ। বিশ্বাস হারাচ্ছে সম্পর্ক। ফলে বাড়ছে বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদের মূল কারণ পরকীয়া। পরপুরুষ কিংবা অন্য মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে ক্রমাগত। তার ফলে অপর প্রান্তে থাকা মানুষটি কষ্ট পাচ্ছেন। কখনও তিনি মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করছেন। আর সহ্যের শেষ সীমায় পৌঁছলে সম্পর্কের ভবিতব্যই বিচ্ছেদ। কেন বাড়ছে পরকীয়া? মনোবিদদের মতে, যেকোনও সম্পর্কে প্রথম প্রথম যেমন উষ্ণতা থাকে, তা একটা সময় পর কমে যায়। কারণ, নিয়মিত এক সম্পর্কে মানুষ একঘেয়ে হয়ে যায়। বিশেষত দাম্পত্যের ক্ষেত্রে চাল, ডাল, নুন, চিনির হিসাবের মাঝে যেন প্রেম উধাও হয়ে যায়। ফলে একরাশ খোলা হাওয়ার মতো দম্পতির মাঝে চলে আসেন তৃতীয় ব্যক্তি। সোশাল মিডিয়া, ডেটিং অ্যাপের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে পরকীয়া বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কেউ কেউ। এত বিবাহবিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রথমেই আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে। এখন বেশিরভাগ মানুষই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। কারও সঙ্গে আপস করে সংসার করার প্রবণতা কমেছে। দ্বিতীয়ত, মানুষ অনেক বেশি স্বাধীনচেতা। তৃতীয়ত, লোকলজ্জার ভয়ও এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। গ্লোবাল ডেটিং প্ল্যাটফর্ম অ্যাসলি ম্যাডিসন পরকীয়া নিয়ে একটি সমীক্ষা করে। কোন শহরের মানুষ পরকীয়ায় সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে পড়ছেন, রিপোর্ট প্রকাশ্যে। পরকীয়ার নিরিখে নাকি সবচেয়ে বেশি এগিয়ে তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম। পরকীয়া প্রায় ঘরে ঘরে। গত বছর এই ছোট্ট শহরটি পরকীয়ার নিরিখে ১৭ তম স্থানে ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে আবার পরকীয়ার নিরিখে বাণিজ্যনগরী মুম্বই বেশ পিছিয়ে। জয়পুর, রায়গড়, কামরূপ, চণ্ডীগড়ে ক্রমশ বাড়ছে পরকীয়া। এই অ্যাসলি ম্যাডিসনের তালিকায় তিলোত্তমা কলকাতা নেই।

যৌন মিলনে সম্মতির বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা হোক, আবেদন জমা পড়ল সুপ্রিম কোর্টে। পকসো আইনের এই সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে আপত্তিও তোলা হল। সিনিয়র আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে এ বিষয়ে তাঁর আবেদন লিখিত আকারে জমা দিয়েছেন। ইন্দিরার বক্তব্য, পকসো আইনে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে যৌন কার্যকলাপকে অপরাধের পর্যায়ে ফেলা হয়। কিশোর-কিশোরীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে সম্মতিসূচক প্রেমের সম্পর্কের অধিকারের জন্য লড়ছেন ইন্দিরা। জানান, কিশোর বয়সের প্রেমকে হেনস্থার পর্যায়ে ফেলছে বর্তমান আইন, যা সঠিক নয়। এতে কৈশোরের মানসিক পরিণতি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে অস্বীকার করা হয়। সম্মতির বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সে নিয়ে যাওয়ার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ বা অভিজ্ঞকালব্ধ তথ্য নেই। ৭০ বছর ধরে সম্মতির বয়স ১৬ ছিল। এসডিও-কে নির্দেশ দিয়ে মামলার নিষ্পত্তি করল কোর্ট। ইন্দিরা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ফৌজদারি সংশোধন আইন আসার আগে পর্যন্ত সম্মতির বয়স ১৬ ছিল। এই বয়ঃসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে কোনও আলোচনা ছাড়াই। বিচারপতি বর্মা কমিটির সুপারিশেও এই বয়ঃসীমা ১৬ রাখা হয়েছিল, জানান ইন্দিরা। এ বিষয়ে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক এবং সামাজিক তথ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন তিনি। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্‌থ সার্ভের তথ্য বলছে, কৈশোরে যৌন কার্যকলাপ অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইন্দিরার দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পকসো আইনে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ১৮০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ অভিযোগই বাবা-মায়েদের করা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলি কন্যার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন জাতি এবং ধর্মের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের নজিরও রয়েছে।’’ ইন্দিরার মতে, এই আইনের ফলে কিশোর-কিশোরীরা প্রেম লুকোতে, পালিয়ে যেতে, বিয়ে করে ফেলতে বা অন্য আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আইনে ব্যতিক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ইন্দিরা। শীর্ষ আদালতে আবেদন, কিশোর-কিশোরীর মধ্যে সম্মতিসূচক প্রেমকে পকসো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles