Wednesday, July 22, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

১১বছর ৬০ দিন!‌ রেকর্ডে মোদি!‌ টপকে গেলেন ইন্দিরা গান্ধীকে?‌ টানা প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ারর রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদি

টানা প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাসে নতুন নজির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দখলে সেই নজির। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে একটানা প্রধানমন্ত্রী থাকার তালিকায় দ্বিতীয়। টপকে গেলেন ইন্দিরা গান্ধীর নজির। দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থানে। কারণ প্রথমে রয়েছেন জওহরলাল নেহেরু। টানা প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাসে নতুন নজির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দখলে সেই নজির। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে একটানা প্রধানমন্ত্রী থাকার তালিকায় দ্বিতীয়। টপকে গেলেন ইন্দিরা গান্ধীর নজির। দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থানে। কারণ প্রথমে রয়েছেন জওহরলাল নেহেরু। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে একটানা ৪০৭৮ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন মোদি। স্বাধীনতার পর ১৯৬৪ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু একটানা ১৬ বছর ২৮৬ দিন। নেহরুর পর দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির রয়েছে ইন্দিরা গান্ধীর। প্রথম দফায় ১১ বছর ৫৯ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮০ সালের নির্বাচনে জিতে আরও ৪ বছর ২৯১ দিন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন। ১১ বছর ৬০ দিন ধরে প্রধানমন্ত্রিত্বে। ‌প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইতিমধ্যেই একাধিক নজির গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতের স্বাধীনতার পর জন্মগ্রহণ করা প্রথম প্রধানমন্ত্রী। প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে কুর্সিতে থাকার নজিরও রয়েছে। এছাড়াও অহিন্দিভাষী রাজ্য থেকে আসা নেতা হিসাবেও দীর্ঘতম সময় প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়েছেন তিনি। একমাত্র অকংগ্রেসি নেতা হিসাবে টানা দুই দফা প্রধানমন্ত্রিত্ব পূর্ণ করেছেন। লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া একমাত্র অকংগ্রেসি হিসাবেও নজির গড়েছেন মোদি। নজির গড়ার দিনে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত করতে ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী। এরপর যাবেন মালদ্বীপ সফরে।

জওহরলাল নেহরু- ১৬ বছর ২৮৬ দিন
নরেন্দ্র মোদি- ১১ বছর ৬০ দিন
ইন্দিরা গান্ধী-১১ বছর ৫৯ দিন
মনমোহন সিং- ১০ বছর ৪ দিন
অটলবিহারী বাজপেয়ী-৬ বছর ৬৪ দিন

ব্রিটেন সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে। একটি গাছ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী। উপহার হিসেবে ‘সোনোমা ডাভ ট্রি’ দেওয়ার পিছনে মোদির ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি। স্যান্ডরিংহ্যাম হাউসে সাক্ষাৎ হয় চার্লস-মোদির। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের পর মোদির পরবর্তী গন্তব্য মালদ্বীপ। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, রাজার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। আয়ুর্বেদ, যোগ ও মিশন লাইফ পরিবেশের জন্য লাইফস্টাইল সম্পর্কে ব্রিটেনেও প্রচার করার কথা হয়েছে। গত বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বুদ্ধজয়ন্তী পার্কে একটি চারা পুঁতে ‘এক পেড় মা কে নাম’ নামের প্রকল্পের সূচনা করেন মোদি। সারা বিশ্বে যেভাবে গাছ কাটা হচ্ছে তা বিশ্ব উষ্ণায়নের মাত্রা আরও বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গাছ রোপণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, বলেছেন পরিবেশবিদরা। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু হয়েছে এই প্রকল্প। প্রকল্পের অংশ হিসেবেই রাজা চার্লসকে গাছ উপহার দিলেন মোদি। গাছটিতে সুদৃশ্য সাদা ফুল হয়। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত দুই দেশের মধ্যে। বহু বছর ধরেই মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দর কষাকষি শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দুই রাষ্ট্রনায়ক স্বাক্ষর করলেন বহু প্রতীক্ষিত ওই চুক্তিতে। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে স্টার্মারের বিদেশনীতির প্রধান বিষয় ছিল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বহু প্রতিক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে বছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। প্রধামনন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের নয়া পথ খুলবে। ভারত ও ব্রিটেন দু’দেশই এর উপকার পাবে। চুক্তির ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। কৃষক, মৎসজীবীরাও উপকার পাবেন। ভারত থেকে ব্রিটেনে রপ্তানি সামুদ্রিক খাবার, টেক্সটাইল, রত্ন, গয়না, চামড়াজাত পণ্য, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ শুক্ল ফ্রি হয়ে যাবে। উপকৃত হবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। উলটো দিকে ব্রিটেন থেকে ভারতে আমদানি করা চিকিৎসাজাত দ্রব্য, মহাকাশ গবেষণার যন্ত্রাংশ, গাড়ি, হুইস্কি, চকোলেট-সহ বিভিন্ন পণ্যগুলি বিনাশুল্কে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করবে। ফলে গড়ে শুল্কের পরিমাণ ১৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসবে। অ্যালকোহল ও মোটরগাড়ির উপর ভারতের আরোপিত আমদানি শুল্ক হ্রাস করা এবং কাজের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে ব্রিটেন অভিমুখী কর্মপ্রার্থীদের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ। অ্যালকোহল ও মোটরগাড়ির উপর আমদানি শুল্ক হ্রাসে নরম মনোভাব দেখালেও ‘অভিবাসন’ (ইমিগ্রেশন) ইস্যুতে ভারতের কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা প্রথম থেকেই বেশি ছিল। ২০২১ সালে বরিস জনসনের আমলে নতুন করে দু’দেশের মধ্যে এই চুক্তি আলোচনা শুরু হয়। তারপর লিজ ট্রাসের জমানাতেও জট খোলার কোনও সম্ভাবনা দেখা যায়নি। তাঁর মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম‌্যান মন্তব্য করেছিলেন যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হলে ব্রিটেনে ভারতীয় অভিবাসনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। ব্রিটেনের ভারতীয়দের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার জেরে ব্রাভারম‌্যান পদত্যাগ করেন। তারপর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল না দিতে পারার ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে লিজ ট্রাসকেও সরে যেতে হয়। ২০২২ সালে ব্রিটেনের ক্ষমতায় আসেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক। ফের নতুন করে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ২০২৩ সালে দিল্লি অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে মোদির সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূও হয়েছিল। এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল দুদেশের মধ্যে। ব্রিটেনে ক্ষমতায় আসে স্টার্মারের লেবার পার্টি। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে স্টার্মারের বিদেশনীতির প্রধান বিষয় ছিল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। পথ প্রশস্ত করার পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা-সহ নানা ক্ষেত্রে দিল্লির সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। স্টার্মারের জমানাতেই জট কাটল বহু প্রতীক্ষিত এই চুক্তির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles