কলকাতা ফুটবলে ফের গড়াপেটার ছায়া। এই ইস্যুতে প্রিমিয়ার ডিভিশনের দুই ক্লাবের তিন ফুটবলারকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত করেছে আইএফএ। সঙ্গে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এক ক্লাবের সহকারী কোচের ক্ষেত্রেও। অভিযোগের তদন্তের বিষয়টি কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নির্বাসনের আওতায় থাকবেন ওই চার জন। ঘটনার কেন্দ্রে ময়দানের দুই পুরনো ক্লাব। খিদিরপুর ও মেসারার্স। খিদিরপুরের ফুটবলার অভিক গুহ এবং মেসারার্সের দুই ফুবলার মুসলিম মোল্লা ও সান্নিক মুর্মুর বিরুদ্ধে গড়াপেটার অভিযোগ উঠেছে। আইএফএ যে গড়াপেটা বিরোধী এজেন্সির সঙ্গে কাজ করে, তাদের তরফেই এই তিন ফুটবলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে খবর। এরমধ্যে খিদিরপুর বনাম ইউনাইটেড কলকাতা ম্যাচে অভিকের ভুল থেকে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি পাওয়া নিয়ে ওই এজেন্সির সন্দেহ রয়েছে বলে খবর। তিন ফুটবলারের বিরুদ্ধে দিল্লির লিগেও এমন অভিযোগ উঠেছিল বলে আইএফএ সূত্রে জানা গিয়েছে। মেসারার্সের সহকারী কোচ রাজীব দে-র বিরুদ্ধে গড়াপেটার অভিযোগে নির্বাসিত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। ওই নির্বাসিত ব্যক্তি মেসারার্সের প্র্যাকটিসে গিয়ে রাজীবের সঙ্গে কথা বলেন বলেও অভিযোগ। তার ভিত্তিতেই আপাতত তাঁকে নির্বাসিত করা হয়েছে। এপ্রসঙ্গে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, “এজেন্সি এই চারজনের বিরুদ্ধে সন্দেহের কথা আমাদের জানিয়েছে। তাই আমরা তদন্তের ভার কলকাতা পুলিশকে দেওয়ার পাশাপাশি এই চারজনকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত করেছি। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।” সঙ্গে দুই ক্লাবকেই শো-কজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএফএ। যদিও দুই ক্লাবের দাবি, তাদের আইএফএ-র তরফে শো-কজ করা হয়নি।

কলকাতা লিগের ডার্বিতে মহিলা দর্শকদের জন্য টিকিট প্রতি পঞ্চাশ টাকা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইএফএ। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের পরামর্শ মেনে মাঠে মহিলা দর্শকদের উপস্থিতি বৃদ্ধিতেই সিদ্ধান্ত। ডার্বিতে মহিলা দর্শক টানতে অভিনব উদ্যোগ। বড় ম্যাচের টিকিটে বিশেষ ছাড় পাবেন মহিলারা। বুধবার ঘোষণা করেছে বঙ্গ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। ডার্বিতে টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। তবে মহিলাদের জন্য বিশেষ গোলাপি টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। অর্থাৎ মহিলা সমর্থকদের আরও বেশি করে ফুটবল দেখতে উৎসাহিত করতে ৫০ টাকা ছাড় দিচ্ছে বঙ্গ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। বুধবার রাতে আইএফের তরফে জানানো হয়, ডার্বি সংক্রান্ত বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার আইএফএকে মহিলা দর্শকদের মাঠে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার ফলে অবাঞ্ছিত হিংসার সম্ভাবনা কমবে বলে তাঁর মত। সেই পরামর্শের কথা মাথায় রেখেই মহিলাদের জন্য টিকিটের দাম কমানো হয়েছে। কলকাতা ডার্বি পিছিয়ে গিয়েছে এক সপ্তাহ। ১৯ তারিখ যে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল সেটাই হবে আগামী শনিবার। এই সময়ের মধ্যে কল্যাণী স্টেডিয়ামে দ্রুত বড় ম্যাচের পরিকাঠামো তৈরি করে ম্যাচ আয়োজনে নেমে পড়েছে আইএফএ। প্রথম পর্যায়ের টিকিট নিঃশেষিত। সিদ্ধান্ত, দশ হাজার দর্শক দেখতে পাবেন ডার্বি। এই দশ হাজারের মধ্যে দুই প্রধানকে এক হাজার করে টিকিট দেবে রাজ্য ফুটবল সংস্থা। বাকি আট হাজার টিকিটের মধ্যে কিছু আইএফএ অফিস বেয়ারার ও ক্লাবগুলোর জন্য রেখে বাকি টিকিট অনলাইনে বিক্রি করবে।
ভারতের নতুন ফুটবল কোচের দৌড়ে ১৭০ জনের মধ্যে বাছাই, তিনে সুনীলদের প্রাক্তন কোচ খালিদ। মানোলো মার্কেজ় ইস্তফা দেওয়ার পর নতুন ফুটবল কোচ বেছে নিতে চলেছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। ১৭০ জনের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে তিন জনকে। শীঘ্রই ভারতের নতুন ফুটবল কোচ বেছে নেবে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা (এআইএফএফ)। মানোলো মার্কেজ় পদত্যাগ করার পর নতুন দায়িত্ব পেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন ১৭০ জন। তিন জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই তিন জনের মধ্যে থেকেই সুনীল ছেত্রীদের পরবর্তী কোচের নাম ঘোষণা করা হবে। বেছে নেওয়া তিন জনের মধ্যে এক জনই ভারতীয়। খালিদ জামিল। ভারতীয় দলের কোচিং না করালেও ভারতীয় ফুটবলে খালিদ পোড়খাওয়া কোচ। আইলিগ ও আইএসএলে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভারতের প্রাক্তন কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইন দীর্ঘ দিন ভারতীয় দলের কোচিং সময়েই ভারত ফিফা ক্রমতালিকায় সবচেয়ে উপরে (৯৮) উঠেছিল। ভারতের পর পাকিস্তানের ফুটবল দলেরও কোচিং করিয়েছেন কনস্টানটাইন। স্লোভাকিয়া ও কিরগিজস্তানের প্রাক্তন প্রধান কোচ স্টিফান তারকোভিচকেও রাখা হয়েছে তিন জনের তালিকায়। এর আগে ভারতীয় ফুটবলে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। কিন্তু বিশ্বফুটবলে তিনি পরিচিত কোচ। বড় দলকে কোচিং করিয়েছেন। ফলে তাঁকেও বেছে নিতে পারে ফেডারেশন। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন একটা বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এআইএফএফ-এর টেকনিক্যাল কমিটি ভার্চুয়াল বৈঠকে ভারতের ফুটবল দলের জন্য তিন কোচকে বেছে নিয়েছে। এই মাসের শুরুতে যে ১৭০ জন আবেদন করেছিলেন, তাঁদের খতিয়ে দেখে তিন জনকে বাছা হয়েছে। তাঁরা হলেন খালিদ জামিল, স্টিফেন কনস্টানটাইন ও স্টিফান তারকোভিচ। এই তিন জনের নাম এগজ়িকিউটিভ কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা ঠিক করবে ভারতের ফুটবল দলের পরবর্তী কোচ কে হবেন।”এশিয়া কাপ সেপ্টেম্বরেই, আবার একই গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান! প্রতিযোগিতা হবে কোথায়? ২০১৭ সালে আইজল এফসি-কে দ্বিতীয় ডিভিশন থেকে আইলিগে তুলেছিলেন খালিদ। আইএসএলে নর্থইস্ট ইউনাইটেড ও জামশেদপুর এফসি-কে কোচিং করানোর দক্ষতা রয়েছে তাঁর। দুটো দলকেই আইএসএলের সেমিফাইনালে তুলেছেন তিনি। জামশেদপুরকে গত মরসুমে সুপার কাপের ফাইনালেও তুলেছিলেন খালিদ। কনস্টানটাইন দু’বার ভারতের কোচিং করিয়েছেন। প্রথম বার ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় বার ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সুনীলদের কোচ ছিলেন তিনি। তাঁর সময়ে ১৭৩ থেকে ৯৮-এ উঠেছিল ভারত। ২০১৯ সালের এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতাঅর্জন করেছিল ভারত। তারকোভিচ আবার কিরগিজস্তানকে ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপে তুলেছেন। কাকে বেছে নেয় কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বাধীন কমিটি।




