২০২৮ সালে বৃহত্তম টি-২০ বিশ্বকাপ হতে চলেছে। জয় শাহদের আইসিসি ৬ সদস্যের গড়া একটি কার্যকরী কমিটিতে আলোচনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা টি-২০ বিশ্বকাপ ২০ দল থেকে বাড়িয়ে ৩২ দলের করার কথা ভাবছে। আইসিসির বার্ষিক সভায় একপ্রস্ত এ নিয়ে আলোচনা। নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের রজার টোসি। ভারত, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলির প্রতিনিধি আছেন। আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে ৩২ দলের বিশ্বকাপ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে ওই ৬ সদস্যের কমিটিতে। কমিটি প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিলে প্রস্তাবিত ৩২ দলের বিশ্বকাপ নিয়ে এগোবে আইসিসি। ২০২৮ সালে বৃহত্তম টি-২০ বিশ্বকাপ হতে চলেছে। সর্ববৃহৎ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাও হতে পারে। ২০২৬ সালে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে ২০ দল। মেজর লিগ ক্রিকেটের সাফল্যও আইসিসিকে উৎসাহ দিচ্ছে। ইটালির মতো দল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইটালির সাফল্যই দেখিয়ে দিল ইউরোপ বা আফ্রিকার মতো এলাকায় ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই এলাকার দেশগুলিকে বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি করে তুলে আনতে চায় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলি আসার পর ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ভারতীয় বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ফিরতে পারেন রজার বিনি! ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি ক্রিকেটমহলে। শনিবার ৭০ বছরের জন্মদিন পালন করেছেন বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন ক্রিকেটার। লোধা আইন অনুসারে যেহেতু, সত্তর বছর হয়ে গেলে কেউ আর বোর্ডের প্রশাসনিক পদে থাকতে পারেন না। বিনিকে সরে যেতে হবে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের শেষে বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভা হয়ে থাকে। আচমকা বোর্ড সভাপতিহীন হয়ে পড়ায়, সেই প্রচলিত প্রথা এবার ভাঙতে হতে পারে বলে খবর বোর্ডমহলে। সর্বজনবিদিত যে, বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লা অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পূর্বতন বোর্ড প্রেসিডেন্টের প্রস্থানের পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে হয় বোর্ডকে। অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট পঁয়তাল্লিশ দিনের বেশি সভাপতি পদে থাকতে পারেন না। সেপ্টেম্বর মাসের গোড়াতেই অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শুক্লার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। নতুন করে বোর্ড সভাপতি নির্বাচনের দরকার। বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফের বার্ষিক সভা করবে না বোর্ড। রাজীব শুক্লা অন্তবর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট থাকতে-থাকতে মেয়াদের শেষ দিকে বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ জারি করে দিতে পারেন। আইনসম্মতভাবেই আবারও বোর্ডের মসনদে ফিরতে পারেন বিনি। নির্বাচনে জিতলে ফের বোর্ড প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, এমন ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। মাস দেড়-দুইয়ের মধ্যে স্পোর্টস বিল পাশ হয়ে যাওয়া। একবার হয়ে গেলে বোর্ড পদে থাকার বয়সসীমা সত্তর থেকে পঁচাত্তর। বিনি আবারও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হয়ে যেতে পারেন!বিনি পর্ব আপাতত শেষ হয়ে গেলেও পুরোপুরি শেষ না-ও হতে পারে।ক্রীড়া বিল পাশ হয়ে গেলে তাঁর ভাগ্য খুললেও খুলতে পারে ফের। বিনির মেয়াদ শেষ নিয়ে সরকারিভাবে এখনও কিছুই বলেনি বোর্ড।
চোট সমস্যায় ভারতীয় শিবির। অনুশীলনে চোট পাওয়া অর্শদীপ সিংর জায়গায় দলে নেওয়া হয়েছে অংশুল কম্বোজকে। চোটের জন্য ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট থেকে অনিশ্চিত আকাশ দীপও। তিন দিন পর শুরু চতুর্থ টেস্ট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টেস্টের আগে কুঁচকির চোটে ভুগছেন আকাশ দীপ। লর্ডস টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন কুঁচকিতে চোট পেয়েছিলেন আকাশ। চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর মাঠে ফিরলেও বোলিং করেননি। এজবাস্টন টেস্টে ১০ উইকেট পেয়েছিলেন বাংলার এই পেসার। লর্ডসে ছন্দে ছিলেন না। দু’টি ইনিংস মিলিয়ে মাত্র একটি উইকেট শিকার করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে চোট পেয়ে তিন মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। আকাশের চোটের কারণে জশপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে পরিকল্পনা বদল করতে বাধ্য হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। “বুমরাহ এবং আকাশ বাকি দু’টি টেস্ট একসঙ্গে খেলবে না। ইংল্যান্ড সফরের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ওয়ার্কলোডের কারণে বুমরাহ এই সিরিজে কেবল তিনটি টেস্ট খেলবে। এখন আকাশের পিঠের চোটের কারণে তাঁরা একসঙ্গে প্রথম একাদশে খেলবে না। বুমরাহ যদি ম্যাঞ্চেস্টারে খেলে, তাহলে আকাশ বাইরে থাকবে। ওভালে আকাশ ফিরলে বুমরাহ বিশ্রাম নেবে।” আকাশ দীপ না খেললে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ প্রথম এগারোয়। অর্শদীপের জায়গায় সুযোগ পাওয়া অংশুলকে খেলাবে ভারত? ইংল্যান্ড সফরে দু’টি টেস্টে সুযোগ পেলেও প্রসিদ্ধর পারফরম্যান্স হতশ্রী।

বেকেনহ্যামে জুরেলের কিপিং ব্যাটিংয়েরই মতো। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জুরেল-পন্থ দু’জনেই নামলে জুরেল থাকবেন কিপার-ব্যাটারের ভূমিকায়। পন্থ স্পেশালিস্ট ব্যাটার। করুণ নায়ার। নীতীশ রেড্ডি। ওয়াশিংটন সুন্দর। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বল টার্ন করে। সুন্দরের বসার সম্ভাবনা কম। নীতীশ ব্যাট হাতে কিছু না করতে পারলেও লর্ডসে বল হাতে উইকেট নিয়েছেন। করুণ নায়ার তিন টেস্টের ছ’ইনিংসে কিছুই করতে পারেননি। বেকেনহ্যামের কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট মাঠ। ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম সেরা বিজ্ঞাপন ধ্রুব জুরেল! ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল বল করলেন জুরেলকে। কুড়ি গজ দূর থেকে ভারতীয় কিপার-ব্যাটারকে বল করতে শুরু করলেন মর্নি। স্টাম্পে যেমন বোলিং করছিলেন দীর্ঘদেহী প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকা পেসার। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেশের মাঠে গত বছর জুরেল টেস্ট অভিষেকে সফল হয়েছিলেন। টেকনিক অনায়াস ছন্দে আক্রমণ ও ডিফেন্স করতে সাহায্য করে। জুরেলের পিতা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। ভারতীয় সেনার ডাকাবুকো মনোভাব কোথাও গিয়ে জুরেলের মধ্যেও সঞ্চারিত। জুরেলের চিবুক কখনও ঝুঁকে থাকে না, শির কখনও নত থাকে না। হাঁটাচলাতেও একটা স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের ছাপ থাকে। ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজে প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি জুরেলের। মূলত, ঋষভ পন্থের কারণে। চলতি ইংল্যান্ড সিরিজের স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন পন্থ। লিডস টেস্টে দু’ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন। লর্ডসেও চোট পাওয়া আঙুল নিয়ে প্রথম ইনিংসে ৭৪ রান করেন। আঙুলে চোট থাকায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পন্থকে দিয়ে টানা কিপিং করানো নয়ে সন্দেহ। লর্ডসে পন্থ চোট পাওয়ার পর কিপিং করছিলেন জুরেল। রবীন্দ্র জাদেজার বলে অলি পোপকে দুর্ধর্ষ ভাবে আউটও করেন স্টাম্পের পিছনে।দুই টেস্টের মধ্যে আট দিনের বিশ্রাম পেয়েছে ভারত। ভারত সিরিজ়ে ১-২ পিছিয়ে রয়েছে। চতুর্থ টেস্ট সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ়ে টিকে থাকতে হলে এই টেস্ট জিততেই হবে। ম্যাঞ্চেস্টারে এখনও পর্যন্ত কোনও দিন জেতেনি ভারত। এই মাঠে ন’টা টেস্ট খেলে চারটে হেরেছে ভারত। পাঁচটা ড্র। প্রথম বার ম্যাঞ্চেস্টারে জিততে চাইছেন শুভমন গিলেরা। ফলে দলে বুমরাহের থাকা খুব দরকার। বোলিং আক্রমণে বদল করতে হচ্ছে গৌতম গম্ভীরদের।




