ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন কেএল রাহুল। ভারতীয় ব্যাটার লর্ডসে আরও একটা সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে লর্ডসের ঐতিহাসিক ময়দানে দুটি সেঞ্চুরি করলেন। প্রাক্তন ক্রিকেটার দিলীপ বেঙ্গসরকর তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টে ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন রাহুল। সোয়েব বশিরের বলে আউট হন। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ৩৮৭ রান তাড়া করতে নেমে কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় ভারতীয় দল। দ্রুত ফিরে যান শুভমন গিল। প্রথম দুই টেস্টে তিনটে শতরান তরুণ নেতার। দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার শুক্রবার লর্ডসে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ১৬ রানে আউট হন। ওকসের বলে স্মিথের হাতে ধরা পড়েন। রান পাননি যশস্বী জয়েসওয়ালও। তিনটে চার মেরে শুরু করলেও দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ১৩ রানে আউট হন। তিন নম্বরে নেমে শুরুটা ভাল করেন করুণ নায়ার। কিন্তু লম্বা ইনিংস খেলতে ব্যর্থ। ৬২ বলে ৪০ রান করে আউট হন। দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের রান ছিল ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৫। যশস্বী জয়সওয়াল, করুণ নায়ার, শুভমান গিলরা ব্যর্থ। কেএল রাহুলের ব্যাটে ধ্রুপদী সুর। ঠান্ডা মাথায় বল ছেড়েছেন, আবার প্রয়োজনে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনের শেষে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন রাহুল। এদিন লর্ডসে একটু আগ্রাসী ভূমিকায় ব্যাট করতে শুরু করেন। পরপর চারও মারেন। অন্যদিকে ঋষভ পন্থও হাত খোলা শুরু করেন। অযথা তাড়াহুড়ো করে রান আউট ঋষভ পন্থ। আঙুলে চোট নিয়েও যে লড়াইটা থামল ৭৪ রানে। কেএল রাহুল ব্যাট করছিলেন ৯৮ রানে। লাঞ্চের সময় ভারতের রান ছিল ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪৮। মধ্যাহ্নভোজনের জোফ্রা আর্চারের বলে শর্ট রান নিয়ে সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২১ সালে লর্ডসে সেঞ্চুরি করেছিলেন রাহুল, ১২৯ রান। ভারত সেই ম্যাচ জিতেও ছিল। এবার ফের লর্ডসে সেঞ্চুরি রাহুলের। তারপরই ১০০ রানের মাথায় সোয়েব বশিরের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ইংল্যান্ডের রানের ধারেকাছে পৌঁছতে কেএল রাহুল এবং ঋষভ পন্থের ভরসায় ছিল টিম ইন্ডিয়া। মান রাখেন দু’জনেই। তৃতীয় উইকেটে ১৪১ রান যোগ করে এই জুটি। লর্ডস টেস্টে দ্বিতীয় দিনের শেষে ২৪২ রানে পিছিয়ে ছিল ভারত। ৩ উইকেট হারিয়ে টিম ইন্ডিয়ার রান ছিল ১৪৫। কিছুটা চাপে ছিল ভারত। রাহুল-পন্থ জুটি দলকে ট্র্যাকে ফেরায়। আঙুলের চোট নিয়ে অর্ধশতরান পন্থের। ১১২ বলে ৭৪ রান করে আউট হন। জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে নয়া নজির গড়েন। লাঞ্চের ঠিক আগের ওভারে রান আউট হন। রাহুল ১৭৭ বলে ১০০ করে আউট হন। ইনিংসে ছিল ১৩টি চার। এই দুইয়ের কাঁধে ভর করে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টিম ইন্ডিয়া। নীতিশ কুমার রেড্ডি ৩০ রানে ও রবীন্দ্র জাদেজা ৭২ রানে আউট হন। ওয়াশিংটন সুন্দর ২৩, আকাশদীপ ৭, জসপ্রীত বুমরাহ ০, মহম্মদ সিরাজ ০ রান করেন। ইংল্যান্ডের রান টপকাতে পারল না নতুন টিম ইন্ডায়া। ভারতের রান ৩৮৭।
ইংল্যান্ড সফরে রেকর্ডের পর রেকর্ড। আরও একবার রেকর্ডবুকে নাম তুললেন ঋষভ পন্থ। এবার ছক্কার রেকর্ড। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে ৩৪টি ছয় হাঁকানোর নজির গড়লেন ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটার। ছাপিয়ে গেলেন ভিভিয়ান রিচার্ডসকে। ১৭ বছরের দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৬টি টেস্ট খেলেছেন ক্যারিবিয়ান তারকা। হাঁকান ৩৪টি ছয়। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ১২তম টেস্টেই এই সংখ্যা ছাপিয়ে যান পন্থ। তাঁর নামের পাশে এখন ৩৫টি ছয়। ৫৯তম ওভারের শেষ বলে বেন স্টোকসকে ছয় মেরে এই রেকর্ড করেন। টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ছয় মারার তালিকায় ঋষভ পন্থ, ভিভ রিচার্ডসের পর রয়েছেন টিম সাউদি, যশস্বী জয়েসওয়াল এবং শুভমন গিল। ৩০টি ছয় মারেন কিউয়ি তারকা। ২৭ এবং ২৬ যশস্বী ও শুভমনের। লর্ডসে আরও দুটো নজির গড়েন পন্থ। ছাপিয়ে যান এমএস ধোনিকে। ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে ইংল্যান্ড সফরে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড করলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট সিরিজে প্রথম ভিজিটিং উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে ৪০০ রান পেরিয়ে যান। ছয়ের সংখ্যায় ছুঁয়ে ফেলেন রোহিত শর্মাকে। টেস্টে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছয় মারার তালিকায় প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ঋষভ। দু’জনের ছয়ের সংখ্যা ৮৮। নিজের ৪৬তম টেস্টে এই মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলেন পন্থ। রোহিতের লেগেছিল ৬৭টি টেস্ট। ৯০টি ছক্কা হাঁকিয়ে এক নম্বরে বীরেন্দ্র শেহবাগের রেকর্ড ভাঙা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। হাতের চোটের তোয়াক্কা না করে সাহসী ব্যাটিং তারকা ক্রিকেটারের।
ডিউক বল নিয়ে যে ভারতীয় ক্রিকেটাররা সন্তুষ্ট নন। চলতি অ্যান্ডারসন-তেণ্ডুলকর ট্রফিতে বল নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে বারবার। কখনও অধিনায়ক শুভমান গিল আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলছেন। কখনও মহম্মদ সিরাজকে দেখা যাচ্ছে ক্ষোভ প্রকাশ করতে। টিম ইন্ডিয়ার সহ-অধিনায়ককেও দেখা গিয়েছে ডিউক বল নিয়ে মন্তব্য করতে। ডিউক বল নিয়ে ভারতকে কাঠগড়ায় তুলে ইংরেজ তারকা জো রুট বলেন, “বারবার এভাবে বল নিয়ে আম্পায়ারদের কাছে অভিযোগ করা যায় না। এতে খেলার গতি কিন্তু কমে যায়। তাই আমার মনে হয়, বল নিয়ে এত বিতর্ক করে লাভ কিছু নেই। এতে অনেকটা সময় নষ্ট হয়। আমার তো মনে হয় এসব সময় নষ্টের অজুহাত। ওদের খেলার দিকে বেশি মন দেওয়া উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি প্রত্যেক ৮০ ওভারে তিনটি করে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকুক। অর্থাৎ বল নিয়ে নিয়ে আম্পায়ারের কাছে তিনবারের বেশি অভিযোগ জানানো যাবে না। এর উপর ভিত্তি করে বদল করা হবে বল। একমাত্র এটাই সমাধানের পথ বলে আমার মনে হয়। তাই নির্মাতাদের দায়ী করা ঠিক নয়।” প্রস্তুতকারী সংস্থাও ভারতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। ডিউক বলের নির্মাতা দিলীপ জাজোদিয়া পন্থের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন,“এখন তো দেখছি বল নিয়ে সমালোচনা করা একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উইকেট নিতে না পারলে তো আম্পায়ারদের উপর চাপ তৈরি করা হয়। অথচ বোলারদের দক্ষতা বা উইকেটের মান নিয়ে কেউ কোনও কথাই বলে না। উইকেটে পাঁচটা সেঞ্চুরি হচ্ছে আর দোষ দেওয়া হচ্ছে বলকে। ৮০ ওভার পর নতুন বল নেওয়া হয়। মনে হয়, এই নিয়মের বদল করা প্রয়োজন। ৮০ ওভারের পরিবর্তে ৬০-৭০ ওভারে বল পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবা উচিত। তবে কেউ যদি মনে করে বল অতক্ষণ শক্ত থাকবে, সেটা তো আর হতে পারে না। বিশ্ব ক্রিকেটে তিনটি সংস্থা বল তৈরি করে ডিউক, এসজি ও কোকাবুরা। বল বানানো অতো সহজ নয়, তাহলে শত শত সংস্থা বল বানাত। আমাদের বলে কোনও সমস্যা নেই। চামড়া, কর্ক আর রাবারের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে বল তৈরি করা হয়। আমাদের টেকনিক্যাল দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও জায়গাই নেই। কিন্তু আবহাওয়া কেমন থাকবে, সেটা আমাদের বল বানানোর সময় বিবেচ্য থাকে না। ভারতের অধিনায়ক সবচেয়ে বেশি রান করেছে। দু’জন বোলার ৬টা করে উইকেট পেয়েছে।” গাভাসকর বলেন, “যদি এই ধরনের ঘটনা ভারতে ঘটত, তাহলে ব্রিটিশ মিডিয়া এতক্ষণে রে রে করে ছুটে আসত। যদি আগের বলের মতো পর্যাপ্ত বল না থাকত, তাহলে ওরা বিষয়টা ফলাও করে লিখত। বল খুব তাড়াতাড়ি নরম হয়ে যাচ্ছে। বলের আকার বদলে যাচ্ছে। কিছু একটায় তো ঠিক করা দরকার। যদি ১০ ওভারও কোনও বল না টেকে, আর একই সমস্যা প্রায়ই হতে থাকে, তাহলে সেটা ভালো বিষয় নয়। বলের জন্য তো বটেই, ক্রিকেটের জন্যও।”কুম্বলের আরও বক্তব্য, “আমার মতে পাঁচ বছর আগে যে ডিউক বল ছিল, সেটাই ফিরিয়ে আনা উচিত। এটা করলে নিশ্চয়ই ভালো হবে। বল রিভার্স করার সুযোগও বাড়বে। এখন অনেক জায়গাতেই বল রিভার্স করা কমে গিয়েছে।” প্রাক্তন ইংরেজ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডও ডিউক বল নিয়ে সমালোচনা করেছেন।




