উইম্বলডনের নতুন রানি ইগা শিয়নটেক। রেকর্ড গড়ে তিনি পরাস্ত করলেন অ্যামান্ডা আনিসিমোভাকে। তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ১১৪ বছরের পুরনো নজির। একই সঙ্গে স্পর্শ করলেন কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফের ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ডও। শনিবার মহিলাদের সিঙ্গেলসের ফাইনালে মার্কিন তারকা আনিসিমোভাকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে দিয়েছেন ২৪ বছর বয়সি পোল্যান্ডের ‘টেনিস সেনসেশন’। খেলার ফলাফল ৬-০, ৬-০। আনিসিমোভাকে হারাতে মাত্র ৫৭ মিনিট সময় নেন শিয়নটেক। তাঁর সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন আনিসিমোভা। উইম্বলডনের ফাইনালে প্রতিপক্ষকে ডাবল বাগেল ‘উপহার’ দিয়েছেন পোলিশ তারকা। এই স্কোরলাইন প্রথমবার দেখা গিয়েছিল ১৯১১ সালে। উইম্বলডনের ফাইনালে ডোরা বুথবিকে ৬-০, ৬-০ গেমে হারিয়েছিলেন ডরোথি ল্যাম্বার্ট-চ্যাম্বার্স। ১১৪ বছরের ‘বিরল’ রেকর্ডও স্পর্শ করলেন অষ্টম বাছাই এই টেনিস তারকা। ১৯৮৮ সালে নাতাশা জভেরেভার বিরুদ্ধে একই স্কোরলাইনে পরাস্ত করে ফরাসি ওপেন জিতেছিলেন স্টেফি গ্রাফ। গোটা প্রতিযোগিতায় দুর্দান্তভাবে নিজেকে মেলে ধরলেও ফাইনালে খেই হারিয়ে ফেললেন আনিসিমোভা। চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হল ২৩ বছরের তারকাকে।
ক্রমতালিকায় ১৩ নম্বরে থাকলেও কেরিয়ারে এই প্রথম বার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠেছিলেন আনিসিমোভা। সেমিফাইনালে যে ভাবে তিনি সাবালেঙ্কার পাওয়ার টেনিস সামলে জিতেছিলেন, তা নজর কেড়েছিল। ফাইনালেও তিনি অঘটন ঘটাতে পারেন কি না, সে দিকে নজর ছিল টেনিসপ্রেমীদের। পারলেন না আনিসিমোভা। হয়তো প্রথম বার ফাইনালের চাপ সামলাতে পারলেন না তিনি। নইলে সেমিফাইনালে যে খেলাটা খেলেছিলেন, তার ১০ শতাংশও এ দিন খেলতে পারেননি তিনি। তার খেসারত দিতে হল। ‘ডবল ব্যাগেল’-এ টেনিসে ০-৬ হারলে তাকে বলা হয় সিঙ্গল ব্যাগেল। এ ক্ষেত্রে দুটো সেটে ০-৬ হওয়ায় ডবল ব্যাগেল শিয়নটেকের কাছে হারলেন। শিয়নটেক নিজের প্রথম সার্ভিস কাজে লাগিয়েছেন। গোটা ম্যাচে তাঁর ৭৮ শতাংশ প্রথম সার্ভিস নির্ভুল হয়েছে। ৭২ শতাংশ সার্ভিসে পয়েন্ট তুলেছেন। এক বারও তাঁর সার্ভিস ভাঙার সুযোগ পাননি আনিসিমোভা। গোটা ম্যাচে মাত্র তিনটে ‘এস’ মেরেছেন শিয়নটেক। তা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, জোরের বদলে নির্ভুল টেনিস খেলার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাতে সফল শিয়নটেক। উল্টো দিকে সার্ভিস সমস্যায় ফেলেছে আনিসিমোভাকে। খুব খারাপ হয়েছে প্রথম সার্ভিস। দ্বিতীয় সার্ভিসের পরিসংখ্যানও ভাল নয়। তার ফলেই গোটা ম্যাচে ন’বার তাঁর সার্ভিস ভাঙার সুযোগ পেয়েছেন শিয়নটেক। ভেঙেছেন ছ’বার। আনিসিমোভার ২৮ আনফোর্সড এররও কাজে লাগিয়েছেন শিয়নটেক।
আনিসিমোভা ২৩ ও শিয়নটেকের ২৪ বয়সের ব্যবধান বেশি নয়। অভিজ্ঞতার বিশাল পার্থক্য। কেরিয়ারে এর মধ্যেই ছ’টা গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলেছেন শিয়নটেক। ফাইনালে তাঁর রেকর্ড ১০০ শতাংশ। প্রথমবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠেছিলেন। সেমিফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন। ফাইনালে তাঁর দিকে নজর ছিল সবার। আনিসিমোভাকে হেলায় হারিয়ে কেরিয়ারের ছ’নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয় করলেন শিয়নটেক। গোটা ম্যাচে ৭৮ শতাংশ প্রথম সার্ভিস নির্ভুল রেখেছিলেন। সার্ভিসে পয়েন্ট তুলেছেন ৭২। প্রথমবার উইম্বলডন জয়ের স্বাদ পেলেন। আগে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ২০২২ সালে। ফ্রেঞ্চ ওপেন জয় করেছেন চারবার। আগামী মরশুমে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। শিয়নটেকের লক্ষ্য ট্রফিও জয়।




