Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে!‌ একজন পাইলটের প্রশ্ন, ‘‌আপনি জ্বালানি বন্ধ করলেন কেন?’‌ অপরজনের জবাব, ‘‌আমি তো করিনি।’‌

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১-এর দুর্ঘটনার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো রিপোর্টে দাবি, বিমানটি আকাশে ওড়ার পরই একজন পাইলট বুঝতে পেরেছিলেন যে টেকঅফের সময় উভয় ইঞ্জিনের জ্বালানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর এএআইবি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, এআই১৭১ ফ্লাইটে নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এক বিবৃতি, ‘এআই১৭১ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারগুলির পাশে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। আমরা এখনও শোকস্তব্ধ। এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা। এএআইবি দ্বারা প্রকাশিত ১৫ পৃষ্ঠার প্রাথমিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সহ সকল অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। টাটা গোষ্ঠীর উড়ান সংস্থা বলে, তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আমরা এএআইবি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে চলেছি। তদন্ত নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার। এই নিয়ে সংস্থা বলে, তদন্ত এখনও জারি আছে। নির্দিষ্ট কোনও বিষয় সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারছি না এবং তদন্ত সংক্রান্ত যে কোনও প্রশ্নের ক্ষেত্রে এএআইবিকে যোগাযোগ করার আবেদন জানাচ্ছি। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান বা জিই জিইএনএক্স-১বি ইঞ্জিন অপারেটর এবং নির্মাতাদের নিয়ে কোনও নিরাপত্তা সুপারিশ জারি করেনি এএআইবি। প্রাসঙ্গিক স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে সংগৃহীত আরও প্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনার পরেই এএআইবি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিপর্যয়ের ঠিক এক মাস পরে প্রকাশিত হয়েছে এই ১৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি। বিমান দুর্ঘটনার চূড়ান্ত মুহুর্তের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবরণ সরবরাহ করা হয়েছে এই রিপোর্টে। একই সাথে সেই বিমানে দুটো ইঞ্জিনেরই বন্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে এই প্রতিবেদন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে ককপিটে এক পাইলট অপরজনকে জিজ্ঞেস করেন, কেন ইঞ্জিনে জ্বালানি প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে। অপর পাইলট জ্বালানি সরবরাহ করার কথা অস্বীকার করেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে বিমানের প্রথম ইঞ্জিনের ‘রিকভারির’ ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে পাইলটদের অনেক চেষ্টাতেও বিমানের দ্বিতীয় ইঞ্জিন চালু হওয়ার কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে দুপুর ১টা ৩৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে বিমানের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ নট বা ৩৩৩.৩৬ কিমিতে পৌঁছেছিল। ইঞ্জিন এবং এয়ারক্রাফ্ট ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্য নিশ্চিত করেছে যে ঘটনার সময় উভয় ইঞ্জিনেই N2 মান ন্যূনতম নিষ্ক্রিয় গতির নীচে নেমে গিয়েছিল। ইঞ্জিন এবং এয়ারক্রাফ্ট ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্যে দেখা গেছে যে জ্বালানি সরবরাহ ‘রান’-এ ফিরে যাওয়ার পরে উভয় ইঞ্জিনেই এক্সহস্ট গ্যাস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল। অর্থাৎ রিলাইট প্রচেষ্টার সময় যে কম্বাশন হচ্ছিল। তদন্তের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, আমদাবাদে দুর্ঘটনার সময় ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের জরুরি ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। এটি ব়্যাম এয়ার টারবাইন নামে পরিচিত। ড্রিমলাইনারের ম্যানুয়াল অনুযায়ী, উভয় ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে বা তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমের চাপ কম থাকলে বিমানের জরুরি ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হতে পারে। এদিকে বিমানের ফ্ল্যাপ সঠিক ‘৫ ডিগ্রি’ অবস্থানে ছিল। এদিকে ল্যান্ডিং গিয়ার বিমানের চাকা ‘ডাউন’ ছিল। তবে বিমানে পাখির ধাক্কা খাওয়ার কোনও চিহ্ন পাওয় যায়নি।

এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এএআইবি প্রাথমিক রিপোর্টে জানিয়েছে, ১২ জুন আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনার সময় বিমানের দুটি ইঞ্জিনই বিকল হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ে দুই পাইলটের শেষ যে কথোপখতন রের্ড করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়েছে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানটি ভেঙে পড়ার কয়েক মুহূর্ত আগে দুই পাইলটের মধ্যে যে সংক্ষিপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল তা ধরা পড়ে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে। ১৫ পৃষ্ঠার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে সেই বিষয়ে বলা হয়, একজন পাইলট অপর জনকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি জ্বালানি বন্ধ করলেন কেন? জবাবে অপরজন বলেন, আমি তো করিনি। কথোপকথনের পরই বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের সুইচ ‘কাটঅফ’ থেকে ‘রান’-এ পরিবর্তন করা হয়। অর্থাৎ, ইঞ্জিনে ফের জ্বালানি সরবরাহ চালু করা হয়। তবে তা করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন পাইলট ‘মে ডে’ কল করেন। তার পরপরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ‘মে ডে’ কলের কারণ জানতে চায়। অপরদিক থেকে আর কোনও জবাব আসেনি। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি পরিচালনা করেছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল। তিনি একজন লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন ছিলেন। তাঁর ৮,২০০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানের অভিজ্ঞতা ছিল। এবং তাঁকে সহায়তা করেছিলেন ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডার। তাঁর ১,১০০ ঘণ্টা ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে উভয় পাইলটই চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ছিলেন এবং তাঁদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।

১২ জুন গুজরাতের অহমদাবাদে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমান। বোয়িং সংস্থার সেই ড্রিমলাইনার বিমান রানওয়ে ছাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে পড়ে। মৃত্যু হয় ২৬০ জনের। বিমানটি অহমদাবাদ থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। দুর্ঘটনার এক মাসের মাথায় প্রকাশ্যে এল তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। বিমানটি যেখানে ভেঙে পড়েছিল, সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল দু’টি ব্ল্যাকবক্স। তার মধ্যে একটি ছিল ককপিট ভয়েস রেকর্ডার। দুর্ঘটনার মুহূর্তে ককপিটে পাইলটদের মধ্যে কী কথা হচ্ছে, তাই এই যন্ত্রে রেকর্ড হয়। তার তথ্য উদ্ধার করে জানা গিয়েছে, বিমান ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জ্বালানির সুইচ ‘রান’ (চালু) থেকে ‘কাটঅফ’ (বন্ধ)-এ চলে এসেছিল। এই সময়ে এক পাইলট অন্য পাইলটকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘কেন তুমি বন্ধ (জ্বালানি) করে দিলে?’’ অন্য জন উত্তর দেন, ‘‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’’ তদন্ত-রিপোর্ট অনুযায়ী, ইঞ্জিন-১ এবং ইঞ্জিন-২ রানওয়ে ছাড়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায়। বিমানটি যখন গতি নিয়ে নিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে দু’টি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইঞ্জিনে জ্বালানি পৌঁছোচ্ছিল না। মুহূর্তের মধ্যে বিমানের গতি এবং উচ্চতা কমতে থাকে। পাইলটেরা সেই মুহূর্তে দু’টি জ্বালানির সুইচই আবার ‘কাটঅফ’ থেকে ‘রান’-এ নিয়ে এসেছিলেন। ইঞ্জিন চালু করার মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। ইঞ্জিন-২ সাময়িক ভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেওছিল। কিন্তু ইঞ্জিন-১ আর চালু করা যায়নি। পাওয়া যায়নি ‘থ্রাস্ট’। ১৫ পাতার তদন্ত রিপোর্টে পাখির ধাক্কার কোনও উল্লেখ নেই। বিমানের উড়ান-পথে কোনও পাখি ছিল না বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। বিমানটির সামনের দিকের এক্সটেন্ডেড এয়ারফ্রেম ফ্লাইট রেকর্ডার ইএএফআর উদ্ধার করা হয়েছে। সফল ভাবে তা ডাউনলোডও করা হয়। কিন্তু পিছনের দিকের ইএএফআর এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, তা থেকে কোনও তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আপাতত যে সমস্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি পৃথক করা হয়েছে। বোয়িং সংস্থা বা ইঞ্জিন অপারেটরদের এখনও কোনও নোটিস জারি করা হয়নি। ঠিক কী কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, জ্বালানির সুইচে গোলমাল হওয়ার কারণ সন্ধানে তদন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles