লর্ডসে প্রথম ইনিংসে রান পেলেন না শুভমন। ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা কাজে লাগল। উইকেটরক্ষককে উইকেটের কাছে এনে বল করছিলেন ক্রিস ওকস। তাঁর বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে ক্যাচ দেন শুভমন। ভাল ক্যাচ ধরেন জেমি স্মিথ। ১৬ রানে আউট ভারত অধিনায়ক। আকাশ দীপরা যেমন বোলিংয়ে উইকেট পেলেন না, তেমনই ব্যাটিংয়ের ব্যর্থ শুভমান গিল, যশস্বী জয়সওয়ালরা। ইংল্যান্ডের ৩৮৭ রানের জবাবে লর্ডসে দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের রান ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৫। ২৫১ রানে ৪ উইকেটে নিয়ে খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। প্রথম দিনের শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন জো রুট। সেঞ্চুরি দ্বিতীয় দিনের প্রথম বলেই। জশপ্রীত বুমরাহর বল গালি দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে টেস্টে ৩৭তম সেঞ্চুরি করে ফেললেন জো রুট। তবে সেই বুমরাহর বলেই ১০৪ রানে আউট হন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ‘ওয়ার্কলোডে’র জন্য দলে ছিলেন না বুমরাহ ৭৪/৫। তৃতীয় টেস্টে ফিরেই পাঁচ উইকেট নিয়ে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুললেন। ইংরেজ অধিনায়ক বেন স্টোকসের উইকেট ছিটকে দিলেন। পরের বলেই ক্রিস ওকস ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ। সব শেষে জোফ্রা আর্চারের স্টাম্পও উড়িয়ে দেন। দুই উইকেট নেন সিরাজ ৮৫/২। হাফসেঞ্চুরি করা দুই ব্যাটার জেমি স্মিথ ৫১ ও ব্রাইডন কার্স ৫৬, দুজনেই সিরাজের শিকার। ডিউক বল বিতর্ক ও বল সামান্য পুরনো হতেই ভারতীয় বোলারদের ভেদশক্তির অভাবে ইংল্যান্ডের টেলএন্ডাররা রান করে গেলেন। ২৭১ রানে ৭ উইকেট থেকে ইংল্যান্ডের রান পৌঁছল ৩৮৭-তে। উইকেট পাননি ভারতের এজবাস্টন টেস্ট জয়ের নায়ক আকাশ দীপ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা আগ্রাসী ভঙ্গিতেই করেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল ১৩। চারবছর পর টেস্টে ফেরা জোফ্রা আর্চারের বল স্লিপে খোঁচা দিয়ে আউট হন। তিন নম্বরে নামা করুণ নায়ারের সঙ্গে জুটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন কেএল রাহুল। প্রথম দুটি ম্যাচে ব্যর্থ করুণ স্টোকসের বলে ৪০ রানের মাথায় খোঁচা দিলেন। জো রুটের বাঁহাতে মাটি থেকে ছোঁ মেরে বল হাতে জমিয়ে নেন। শুভমান গিলকে ১৬ রীতিমতো পরিকল্পনা করে আউট করলেন ক্রিস ওকস। ফ্রন্টফুটে এগিয়ে এসে ভালো ডিফেন্স করছিলেন ভারত অধিনায়ক। উইকেটকিপার জেমি স্মিথকে সামনে ডেকে নেন ওকস। ক্রিজের বাইরে বেরিয়ে খেলা বন্ধ হয়ে যায় গিলের। সেই সুযোগে হালকা সিমে গিলকে পরাস্ত করেন ওকস। গিল এগিয়ে গিয়ে ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যাটে লেগে স্মিথের হাতে চলে যায়। ঋষভ পন্থ উইকেটকিপিংয়ের সময় আঙুলে চোট নিয়ে সংশয় ছিল। সংশয় উড়িয়ে ব্যাট করতে নামেন পন্থ। ব্যাট করছেন ৩৩ বলে ১৯ রানে। অন্যদিকে ভারতের ব্যাটিংয়ের হাল ধরে রেখেছেন কেএল রাহুল অপরাজিত ৫৩ রানে। তৃতীয় দিনে বড় রানের আশায় টিম ইন্ডিয়া।
টেস্টে অপরিহার্য জশপ্রীত বুমরাহ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ‘ওয়ার্কলোডে’র জন্য দলে ছিলেন না। তৃতীয় টেস্টে ফিরেই পাঁচ উইকেট নিয়ে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তুললেন। সেই সঙ্গে ভেঙে দিলেন কপিল দেবের রেকর্ডও। লিডসে প্রথম টেস্টে তিনি ছিলেন অনবদ্য। এজবাস্টনের দ্বিতীয় টেস্টে বিশ্রামে ছিলেন টিম ইন্ডিয়ার এই ‘বোলিং ফিগারহেড’। লর্ডসে তৃতীয় টেস্টে ফিরেই পাঁচ ইংরেজ ব্যাটারকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে নয়া নজির গড়লেন জশপ্রীত বুমরাহ। ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হল ৩৮৭ রানে। প্রথম দিনে বুমরাহ দখলে ছিল শুধু হ্যারি ব্রুকের উইকেট। দ্বিতীয় দিনে নতুন বলে বোঝালেন ‘জসসি য্যায়সা কই নেহি’। ইংরেজ অধিনায়ক বেন স্টোকসের উইকেট ছিটকে দিলেন। সেঞ্চুরি করা জো রুটকে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার পথ থেকে আটকালেন। তাঁকেও বোল্ড করলেন। ঠিক পরের বলেই ক্রিস ওকস ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ চলে এসেছিল। সব শেষে জোফ্রা আর্চারের স্টাম্পও উড়িয়ে দেন। ১৫ বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এর মধ্যে ১৩টিই দেশের বাইরে। যার ফলে তিনি টপকে গেলেন পূর্বজ কপিল দেবকে। টেস্টে বিদেশের মাটিতে ১২ বার এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট বা তার বেশি পেয়েছেন কপিলও। তাছাড়াও তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সেনা দেশগুলিতে (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া) এশিয়ান বোলার হিসেবে সর্বাধিক উইকেট শিকারি হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছেন বুমরাহ। সেনা দেশগুলিতে আক্রমের উইকেট সংখ্যা ১৫১টি। জো রুটকে টেস্টে সবথেকে বেশিবার আউট করার কৃতিত্বেও বুমরাহর নাম বসল। সেটা অবশ্য যৌথভাবে, ১১বার আউট করা প্যাট কামিন্সের সঙ্গে। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও একটি রেকর্ড করতে পারেন বুমরাহ। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে ইংল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি উইকেট রয়েছে ইশান্ত শর্মার উইকেট সংখ্যা ৪৮। বুমরাহও সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আর একটি উইকেট নিলেই ইশান্তকে ছাড়িয়ে যাবেন।
২৫১ রানে ৪ উইকেটে নিয়ে খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। প্রথম দিনের শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন জো রুট। এদিন সেঞ্চুরি পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না তাঁকে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম বলেই সেই অপেক্ষার অবসান হল। জশপ্রীত বুমরাহর বল গালি দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে টেস্টে ৩৭তম সেঞ্চুরি করে ফেললেন জো রুট। সেই সঙ্গে ভেঙে দিলেন একাধিক রেকর্ড। ১৯২ বলে শতরান হাঁকালেন তিনি। ৪৪ রানে ২ উইকেটে ক্রিজে এসে বেন স্টোকসের সঙ্গে ইংল্যান্ডের ইনিংসকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার মূল কাণ্ডারি। শেষ পর্যন্ত বুমরাহর বলে আউট হন ১০৪ রানে। ইংরেজ অধিনায়ক বেন স্টোকস। ব্যক্তিগত ৪৪ রানে জশপ্রীত বুমরাহর বলে বোল্ড হন তিনি। প্রথম দিনের শেষে অপরাজিত দুই ব্যাটার সাতসকালে সাজঘরে ফেরায় নামেন জেমি স্মিথ। নিজের ৫ রানের মাথায় মহম্মদ সিরাজের বলে আউট হয়ে যেতে পারতেন তিনি। স্লিপে দাঁড়ানো কেএল রাহুল সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। সেই স্মিথ ৫৬ বলে ৫১ রানের উপযোগী ইনিংস খেললেন। ব্রাইডন কার্স করেন ৫৬ রান। তাঁকে আউট করেন সিরাজ। বুমরাহর ৫ উইকেট ছাড়া ২টি করে উইকেট পান সিরাজ এবং আকাশ দীপ। ১টি উইকেট শিকার করেন রবীন্দ্র জাদেজা।
লর্ডসে ভারত বনাম ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল ডিউক বলের খারাপ গুণমান। ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল ও পেসার মহম্মদ সিরাজ আম্পায়ারদের সঙ্গে একপ্রকার উত্তপ্ত আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন, বলের অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ। ৮০তম ওভারের মাথায় দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়া হয়। ভারতের খেলোয়াড়রা ওই নতুন বলের অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ জানাতে শুরু করেন, কারণ বলটি মাত্র ১০ ওভার পুরনো হলেই সেটা ভীষণ নরম হয়ে পড়েছিল এবং খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। আম্পায়াররা ‘হুপ টেস্ট’ করার পর বলটি বদল করেন। গিল নতুন বলের আকারেও সন্তুষ্ট হননি। তিনি আম্পায়ারের সঙ্গে সরাসরি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি তিনি আম্পায়ারের হাত থেকে বল কেড়ে নেন, যেটা টেলিভিশন সম্প্রচারে স্পষ্ট ধরা পড়ে। স্টাম্প মাইকে শোনা যায় সিরাজ বলছেন, ‘এইটা ১০ ওভার পুরনো বল? সিরিয়াসলি?’ এই মুহূর্তে ধারাভাষ্যে থাকা শুভমন গিলদের সঙ্গে একমত হন সুনীল গাভাসকর। তিনি বলেন, ‘এটা ১০ ওভারের বল? দূর থেকেও দেখলে বোঝা যায় বলটা কমপক্ষে ২০ ওভারের মতো দেখাচ্ছে।’ সিরিজ শুরুর আগেই ভারতের সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্ত ডিউক বলের গুণগত মান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। ঋষভ পন্তের মন্তব্য, ‘গেজটা (বল মাপার যন্ত্র) একই হওয়া উচিত, ডিউক হোক বা কুকাবুরা। কিন্তু হালকা ছোট হলে ভালো (হাসি)। বলগুলো এত সমস্যা দিচ্ছে, এটা বিশাল সমস্যা। বল বারবার ডি-শেপড (আকৃতি বিকৃত) হচ্ছে। যখন বলটা নরম হয়ে যায়, তখন সেটা বোলারদের একদম সাহায্য করে না। আবার বল পাল্টানোর পর আচমকা অনেক বেশি সুইং বা মুভমেন্ট শুরু হয়। একজন ব্যাটারের পক্ষে বারবার মানিয়ে নেওয়া কষ্টকর।’ পন্ত বলেন, এটা শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, ক্রিকেটের জন্যও ‘ভালো নয়’।




