রাজ্যে ক্ষমতাবদলের ডাক দিয়ে স্লোগান তুললেন, ‘‘উনিশে হাফ, ছাব্বিশে সাফ’’! ২০২৬ সালেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বিজেপিতে শমীকের যাত্রাপথ অন্তত ৪২ বছরের। দিলীপ সে তুলনায় বিজেপিতে অনেকটাই নবীন। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি দিলীপ ঘোষ। কয়েকদিন ধরেই বাংলার রাজনীতিতে ঝড় তুলেছেন। দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ৮ জুলাই বিজেপির অফিসে গিয়ে সদ্য নিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করে এলেন দিলীপ ঘোষ। দিল্লিতে যাচ্ছেন। দিলীপের নতুন চমক! ক্ষোভ ভুলে বিজেপি দফতরে গিয়ে শমীককে শুভেচ্ছা, বললেন, ‘উনিশে হাফ, ছাব্বিশে সাফ’ দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘কোনও না কোনও ২১-এর মঞ্চে তো থাকব’। ২১ জুলাই রাজ্যের বহু জায়গায় কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপিও। এই আবহে দল বদলের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছিলেন দিলীপ। ৮ তারিখ শমীকের সঙ্গে দেখা করে সেই সব জল্পনায় নিজেই জল ঢাললেন। স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি বিজেপিতে আছেন এবং থাকবেন। শমীকের সঙ্গে দেখা করার পরই দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। বাংলায় বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই আবহে দিলীপ ঘোষকে দলে নতুন কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয় কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। শমীকের সঙ্গে দেখা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির প্রশ্নই নেই। বিজেপির অফিস থেকে গাড়ি দিয়েছে। আমি যে সিকিউরিটি পাই তাও দলের তরফেই দেওয়া হয়েছে। আবেগ দিয়েই পার্টি দাঁড়া করিয়েছি। ১৫০ কর্মী প্রাণ দিয়েছেন। বাংলার লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষের মনে আগুন আছে। নিভতে দেব না।’ দিলীপ ঘোষ তৃণমূলে যেতে পারেন বলে জল্পনা চললেও ক্রমাগত তৃণমূল কংগ্রেসকে একাধিক ইস্যুতে বিঁধে এসেছেন সাম্প্রতিককালে।দিলীপ ঘোষকেই সাম্প্রতিককালে মোদীর জনসভা দেখা যায়নি। শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতি ঘোষণার দিনও দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। শমীক দায়িত্ব নিয়েই বলেন, দিলীপ ঘোষকে ফেরানোর কী আছে, তিনি তো বিজেপিতেই আছেন। শমীকের সঙ্গে দেখা করে দিলীপের গলাতেও সেই একই সুর। লোকসভা ভোটে আসনবদল ও পরাজয়ের পর থেকে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে দিলীপের। এপ্রিলে বিয়ে, বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই দিঘায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। ক্ষোভ এবং বিতর্কের অধ্যায় পিছনে রেখে মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ে হাজির হলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দলের নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ‘শুভেচ্ছা জানাতে’ দিলীপ যে মঙ্গলবার রাজ্য দফতরে যান। অনেক বিজেপি কর্মী ভিড় জমিয়েছিলেন বিধাননগর সেক্টর ফাইভের দফতরে। জয়ধ্বনির মধ্যে দিয়েই দলীয় দফতরে প্রবেশ করলেন দিলীপ। উত্তরীয় এবং ফ্রেমে বাঁধানো দলীয় প্রতীকের ছবি দিয়ে প্রাক্তন সভাপতি সংবর্ধনা জানালেন নতুন সভাপতিকে। শমীককে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দেন দিলীপ। শমীকের হাতে তুলে দেন ফ্রেমবন্দি ‘পদ্ম’ প্রতীকের ছবি। শমীককে এই শুভেচ্ছা জানানোর সময়ে দিলীপ বলেন, ‘‘আমাদের একটাই নেতা, নাম পদ্মফুল। তাই নতুন সভাপতির হাতে পদ্মফুলের ছবিই তুলে দিলাম।’’ রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি আরও বলেন, ‘‘শমীকের নেতৃত্বেই আমরা কাজ করব।’’ রাজ্যে ক্ষমতাবদলের ডাক দিয়ে স্লোগান তুললেন, ‘‘উনিশে হাফ, ছাব্বিশে সাফ’’! ২০২৬ সালেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বিজেপিতে শমীকের যাত্রাপথ অন্তত ৪২ বছরের। দিলীপ সে তুলনায় বিজেপিতে অনেকটাই নবীন। তিনি আরএসএসের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ প্রচারক ছিলেন। আরএসএস থেকেই তাঁকে বিজেপিতে পাঠানো হয়। ২০১৫ সালে বিজেপিতে শামিল হয়ে দিলীপ প্রথমে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৬ সালে রাজ্য সভাপতি হন। পরে বিধায়ক, সাংসদও হন। ২০২১ সালের শেষ দিকে দিলীপকে সরিয়ে সুকান্ত মজুমদারকে রাজ্য সভাপতি করা হয়। দিলীপকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়। পরে সেই দায়িত্ব থেকেও অব্যহতি দেওয়া হয়। অন্য দিকে, দিলীপ দলের আসার আগেই শমীক বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। বিধায়কও হয়েছিলেন। দিলীপের সভাপতিত্বকালে বরং শমীকের উপরে বড় কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল না। শুধু রাজ্য দলের প্রধান মুখপাত্র ছিলেন। সুকান্তর জমানায় শমীক রাজ্যসভার সাংসদ হন। গত ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের রাজ্য সভাপতি ঘোষিত হয়েছেন। বয়স এবং দলে থাকার মেয়াদ, দু’দিক দিয়েই দিলীপের চেয়ে শমীক প্রবীণ। সেই প্রবীণের নেতৃত্বেই যে তিনি চলবেন, সে কথা দিলীপ আনুষ্ঠানিক ভাবে মঙ্গলবার উচ্চারণ করলেন। সেই সুবাদে বেশ কয়েক মাস পরে দলের রাজ্য দফতরে পদার্পণও করলেন। দলের ঘোষিত লাইনের বিপরীতে হেঁটে গত ৩০ এপ্রিল দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক হাজির হয়েছিলেন দিলীপ। নাম না-করে সে দিনই তাঁর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা রাজ্য বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুকান্তও জানিয়েছিলেন, দিলীপের এই দিঘা সফর তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, একে দল অনুমোদন করছে না। পর দিন দিঘা থেকে ফেরার পথে কোলাঘাটে দিলীপের চা-চক্র ভেস্তে গিয়েছিল দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভে। তার পর থেকে দলের নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে দিলীপ সপ্তাহ খানেক ধরে লাগাতার তোপ দাগতে শুরু করেছিলেন। ফলে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে। কোনও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই তিনি আর ডাক পাচ্ছিলেন না। এমনকি নতুন রাজ্য সভাপতি বাছাই পর্বেও দিলীপ পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিলেন। শমীকের মনোনয়ন পেশের দিনে এবং সভাপতি হিসেবে ঘোষিত হওয়ার দিনে অন্য দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অসীম ঘোষ এবং রাহুল সিংহ একেবারে সামনের সারিতে থেকেছেন। দিলীপ ডাক পাননি। দিলীপের প্রকাশ্য ‘নির্ঘোষ’ শুরু হয়েছিল গত লোকসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই। দল তাঁকে জেতা কেন্দ্র মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে লড়তে পাঠিয়ে দেয়। দিলীপ হেরে যান। হেরেই বলেন, ‘‘আমাকে কাঠি করা হয়েছে।’’ তার পর থেকে নানা ভাবে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েই গিয়েছে। তাই মঙ্গলবার বিকেলে দলের রাজ্য দফতরে দিলীপের পদার্পণ ঘটনাপ্রবাহে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ মোড় বলে বিজেপির অনেকেই মনে করছেন। দলীয় কার্যালয়ে দিলীপ ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট ছিলেন। শমীকের সঙ্গে দিলীপের দু’দফায় বৈঠক। দু’দফাতেই মিনিট ১৫ করে কথাবার্তা চলে। প্রথম দফার কথাবার্তা সেরে শমীক নেমে আসেন কার্যালয়ের গাড়িবারান্দায়। কর্মী-সমর্থকদের উৎসুক ভিড় যে নেতৃত্বের কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করছে, সে কথা বুঝতে পেরেই শমীক নেমে এসেছিলেন। একটি চেয়ারের উপরে দাঁড়িয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি কর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যের বার্তা দেন। আদি-নব্য দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে বার্তা দেন। যাঁরা বিজেপির পতাকা ধরে রয়েছেন, তাঁদের কাউকে ‘অন্য দলের লোক’ বলে দাগিয়ে না-দেওয়ার পরামর্শ দেন। তৃণমূল বা সিপিএমের যে সাধারণ সমর্থকরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদেরও বিজেপিতে টেনে আনতে সচেষ্ট হওয়ার নির্দেশ দেন। দিলীপ দলবদল করবেন কি না, সে সংক্রান্ত জল্পনা গত কয়েক দিন ধরে অনেকে চালাচ্ছিলেন। সে প্রসঙ্গ সরাসরি উচ্চারণ না-করেও শমীক জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করেন। বলেন, ‘‘দিলীপ ঘোষ বিজেপিতে ছিলেন, বিজেপিতে রয়েছেন, বিজেপিতেই থাকবেন।’’
ইউনুস সরকার সভ্যতার শত্রু! ‘আমি কিছুই করতে পারিনি’। সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তাল বাংলাদেশ। একাধিকবারের আর্জিতেও জামিন পাননি তিনি। ঘটনার আঁঁচ পড়েছে বাংলাতেও। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেপ্তারি নিয়ে একরাশ আক্ষেপ প্রকাশ করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বললেন, “ওঁর মতো মানুষের সঙ্গে যারা (ইউনুস সরকার) এটা করেছে তারা সভ্যতার শত্রু।” রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য-রাজনীতির পাশাপাশি পড়শি দেশের প্রসঙ্গও ওঠে। চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেপ্তারি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হলেন শমীক। তিনি বলেন, “এখন যেখানে বসে আছি এই ঘরে এসেছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ। নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। গ্রেপ্তারির ২০ দিন আগেও এসেছিলেন। এখানে বসেই জীবনানন্দের কবিতা বলেছেন। ওই দৃশ্য ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়।” তারপরই তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারির দিন হঠাৎ ফোন এল। ধরে সৌজন্য জানাতেই ওপ্রান্ত থেকে অন্য কণ্ঠ। বলল, স্বামীজিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই মাত্র। ওর ফোনটা আমি নিয়ে নিলাম।” কার্যত ভেঙে পড়লেন শমীক। একরাশ হতাশা ভরা কণ্ঠে বললেন, “ওর গ্রেপ্তারি মানবতার কাছে চ্যালেঞ্জ। যারা ওকে গ্রেপ্তার করেছে তারা সভ্যতার শত্রু। আমি ব্যর্থ, আমি কিছু করতে পারিনি। একজন সন্ন্যাসী, যিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে জীবনানন্দের কবিতা বলছেন, জন্মভূমির প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধা, আকুতির পরিণতি জেল! এতে আমি ব্যথিত।” হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছেই। এই অত্যাচারের প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠেছিলেন ইসকন তথা সম্মিলিত হিন্দু জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। গত ২৫ নভেম্বর বিকালে তাঁকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এখনও জেলবন্দি।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নম্র, বাগ্মী শমীক ভট্টাচার্যকেই রাজ্য বিজেপির সভাপতির আসনে বসানো হয়েছে। আর সেই দায়িত্ব পেয়েই সব ধর্মকে একসঙ্গে নিয়ে বাংলায় বদলের ডাক দিয়েছেন শমীক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও রাজনৈতিকভাবেই লড়াই করবেন। কারণ ব্যক্তিগত আক্রমণে তিনি বিশ্বাসী নন। রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে নাম ঘোষণার দিন থেকেই ‘গোবলয়ের দলে’র তকমা সরিয়ে বিজেপিকে বাঙালির ঘরের করে দেখানোর চেষ্টা করছেন শমীক। মঞ্চের পিছনে রেখেছিলেন মা কালীর ছবি। একইসঙ্গে বলেছিলেন, সংখ্যালঘুদেরও বুঝতে হবে যে বিজেপি তাদের শত্রু নয়। হিন্দুত্ববাদের জিগির তোলা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উলটো পথেই হাঁটতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বিজেপির ‘আদি’ নেতা শমীক বিধানসভায় একা বিজেপির গড় সামলেছেন। শমীক বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা রাজনীতির কাজ নয়। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনীতির কাজ নয়। রাজনীতি মানে একটা মতাদর্শের সঙ্গে আরও একটি মতাদর্শের লড়াই। একটি কর্মসূচির সঙ্গে আরও একটি পালটা কর্মসূচির লড়াই। একটা ভাবনার সঙ্গে আরও একটি ভাবনার লড়াই। এটাই রাজনীতি।” শমীকের এই ভাবনাকে তাঁর দলেরই অনেকে মানেন না। সাম্প্রতিক অতীতে এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। গেরুয়া শিবিরের বেশ কিছু নেতা, বলা ভালো ‘নব্য’ বিজেপির নেতারা একাধিক সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ। সেই আক্রমণ যতটা না রাজনৈতিক, তার চেয়েও বেশি ব্যক্তিগত। নেতা-বিধায়কদের বলবেন লড়াই হবে রাজনীতির মাঠে, ব্যক্তিগত আক্রমণে নয়? আগামী বছরই বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে তাঁর রণকৌশল কী হবে, আর আংশিক আভাস মিলেছে। তবে আজকের দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলা কথা তিনি রাখবেন নাকি অন্য নেতাদের মতোই ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে যাবেন, সেটা সময় বলবে। তবে শমীক দায়িত্ব নিয়েই বিজেপিকে আরও বাঙালির কাছের করতে যে উদ্যোগী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ব্রাজিলের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত মোদী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য ন্যাশনাল অর্ডার অফ দ্য সাউদার্ন ক্রস’ প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর করতে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে মোদীর অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার। প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে মোদী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আজ ব্রাজিলের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হওয়া কেবল আমার জন্যই নয়, ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জন্যও অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমি তাঁকে (প্রেসিডেন্ট লুলা), ব্রাজিল সরকার ও ব্রাজিলের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুলাকে ‘ভারত-ব্রাজিল কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থপতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘এই সম্মানটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উন্নত করার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।’ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও নয়া উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার জন্যই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।’
২০১৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোদী এই নিয়ে ২৬টি দেশের থেকে আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছেন। সম্প্রতি প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ক্রিস্টিন কার্লা কাঙ্গালু মোদীকে এই সম্মানে ভূষিত করেছিলেন।




