Thursday, July 16, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ধর্ষন, খুন, চুরি, লুট, তোলাবাজি মদ সংস্কৃতিতে ডুবে সমাজ!‌ অসৎ কাজে আসক্তি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবণতা বাড়ছে দিন দিন?‌ কারণ কী?‌

সংবাদের শিরোনামে ধর্ষন। সম্প্রতি আরজিকর কাণ্ডের পরও আবার ধর্ষনকারীরা বেশ দাপটের সঙ্গে আরও একটা ধর্ষন করে দেখিয়ে দিল। সমাজকে বোঝাতে চাইছে, এটা একটা মামুলি বিষয়। মাথার উপরে হাত আছে বড় রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিরা। কুছ পরোয়া নেই। নির্দ্বিধায় চালাতে পারা যায় যে কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। ধর্ষনের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছেই। সমীক্ষা বলছে, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ৭৩৬ জন মেয়ে শিশুসহ মোট ১ হাজার ৫৫৫ জন নারী নির্যাতনের শিকার। ৩৪৫ শিশুসহ ৪৮১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ৬১ শিশুসহ হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩২০ জন নারী। মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া জুন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে দেশে ধর্ষণ ও গণপিটুনিতে হত্যার সংখ্যা বেড়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণসহ নারীর প্রতি নির্যাতনও কমেনি এ মাসে। শারীরিক নির্যাতন, নিগ্রহ বেড়েছে। দেশে অজ্ঞাতপরিচয় লাশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যাও কমেনি। ধর্ষণের শিকার শিশু, কিশোরী, নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার। ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে।

নেশায় আসক্তি ও অনিবার্য পরিণতি। শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্ষতিকর এবং একই সঙ্গে নিজের ক্ষতি হবে জেনেও এসব কাজের প্রতি ব্যবহারকারীর অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষার পুনরাবৃত্তি ঘটে। অনৈতিক কাজের আসক্তি বা নেশা। সাধারণভাবে নেশা বা আসক্তি বলতে প্রচলিত অর্থে বুঝি বাহ্যিকভাবে শরীরে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করিয়ে একটা ইল্যুশন তৈরি করা বা সে রকম কিছু যা মস্তিষ্কের কাজ করার পদ্ধতি পরিবর্তন করে। যার ফলে হৃদরোগ, যকৃতের ক্ষতি ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়াও জুয়াও এক ধরনের নেশা। যেকোনো ধরনের নেশায় মানুষকে স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেয় অর্থাৎ জীবন-যাপনকে ব্যাহত করে। মদ, জুয়া ও নেশা মহাদোষ। মানুষের জন্য উপকারের চেয়ে দোষই বেশি। মদ, জুয়া, ভাগ্য পরীক্ষার ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং বর্জন করলেই সফল। শয়তান তো মদ ও জুয়ার দ্বারা শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে নিবৃত্ত হবে না।

খেজুর গাছ ও আঙুর থেকে মদও পাওয়া যায় আবার ভালো খাবারের নিদর্শনও রয়েছে। যাদের বোধশক্তি নেই। দুঃসাহস দেখায়। মূর্খ সম্প্রদায়ের জ্ঞানও নেই যে, মৃত্যু পথযাত্রী অসুস্থ কে ওষুধের প্রয়োজনে প্রয়োগ ছাড়া এর ব্যবহারে কোনো উপকারিতা থাকতে পারে না। উপনিষদে ঔপনিষদিক ঋষির পুত্র শ্বেতকেতুর কথা জানতে পারি। তিনিই প্রথম মদ ও সুরা পানকে নিষিদ্ধ করেন সমাজে শৃঙ্খলা আনার জন্য। চিন্তার মধ্যেও থাকে নেশা। যেমন শব্দের খেলার নেশা। একজন কবি সে কবিতা লেখার নেশায় মগ্ন থাকতে পারে। লেখক উপন্যাস লেখার নেশায় পড়তে পারে। যে নেশা তাকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। তাকে হতাশা, বিমর্ষতা ও একাকি করে দিতে পারে। এমনকি বেঁচে থাকার ইচ্ছাও কেড়ে নিতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, এই নেশা তাকে সামাজিক ও বাস্ত জীবনের স্বচ্ছ নৈতিকতার পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন ও দায়িত্ববোধ থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- ভ্লাদিমির মায়াকভস্কির কথা। তাঁর জীবনীতে জানা যায়, কবিতা লেখার নেশায় তিনি একটার পর একটা অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন আর লিখেছেন অসাধারণ জনপ্রিয় কবিতা। অনৈতিক জীবন তাকে করেছে আরও বিমর্ষ। শেষ পরিণতি ঘটেছে আত্মহত্যায়। জীবনানন্দ দাশ যিনি অসাধারণ একজন কবি। তাঁর ‘দেশপ্রেম’ কবিতার মাদকের নেশায় পড়েনি এমন তরুণ-তরুণীর সংখ্যা কম। নিজেই তিনি ছন্দের ও শব্দের নেশায় এমনই আসক্ত ছিলেন যে, তাঁর অতি ভালোবাসার বিয়ে করা জীবনসঙ্গী থেকে দূরে সরে গেছেন ধীরে ধীরে। ফলে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনের বাইরে থাকতে থাকতে ক্রমশ হতাশা তাকে ঘিরে ধরে। সেই হতাশা বিমর্ষতা থেকে সৃষ্টি হতে থাকে অসাধারণ বিষণ্ন ভাবাপন্ন কবিতা। শেষে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ। সিলভার প্লাথ-এর ক্ষেত্রে। কবিতা আর বিষণ্নতা যার সঙ্গী ছিল। আর আত্মহত্যা ছিল যার পরিণতি। সক্রেটিসের নামও এই লিস্টে দেয়া যায়। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে জ্ঞানের নেশায় সংসার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছেন। হ্যামলোক পান তো আত্মহত্যাই।
তাঁর শিষ্যরা বন্দিশালা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পথ করে দিয়েছিলেন। তিনি সেই সুযোগ নেননি। জীবন থেকে পালানোকেই বেছে নিয়েছেন। গৌতম বুদ্ধ যিনি কথা দিয়ে জীবন বদলে দিতে পারতেন, সেই একই শব্দের নেশায় ভাবের জগতে নিরবচ্ছিন্ন চলাচল আর সংসার থেকে পলায়ন। যে আসক্তি তাকে নিয়ে যায় অতিথি হয়ে জেনেশুনে বিষাক্ত খাবার গ্রহণ করার পথে। যার পরিণতি মৃত্যু। জীবকে হত্যা করা যদি মহাপাপ হয়, তাহলে নিজেকে হত্যা করা মহাপাপ। অসংখ্য আত্মহত্যার তালিকা। নেশায় নিজেকে ধ্বংস করেছেন। সমাজে কিছু মানুষ সামাজিকতা, ধর্মীয় অনুশাসন ও পারিবারিক বন্ধনের অবমাননা করে গর্বের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। যার পরিণতি ভোগ করছে নিজে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পারিবারিক বন্ধন অটুট রেখে সম্প্রসারণে নিজেকে নিয়োজিত রাখাটাই বাঞ্ছনীয়। যেকোনো নেশা থেকে মুক্ত হয়ে মানবধর্ম পালন করাই শ্রেয়। মানুষ তার সীমার মধ্যে থাক। সীমা লঙ্ঘন করো না। সীমা লঙ্ঘনকারীরা সবসময় শেষ।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দুর্নীতি অন্যায়, অনিয়মের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। নেতাকর্মীরা রাজনীতির জগতে ন্যায় ও নীতির বর্জ্জন করার পক্ষপাতি। জাতীয়ভাবে যে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচার। অন্যায়ের প্রতিবাদকারীর সংখ্যায় কমই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রাজনৈতিক শাসক দলের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা ধর্ষনের ইচ্ছাশক্তিকে বাড়িতে তুলেছে। তবেই না, আরজিকরের ঘটনার মতো এক নৃসংশ ঘটনার পরও রাজনৈতিক দলের ছাত্রনেতা আবার নিজেকে ধর্ষন করার মতো তাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে। মাথার উপর বড় হাত থাকার নিশ্চয়তা। হুমকি জনভোগান্তি। হুমকির কারণে ভয়জনিত কারণে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হবে। সেদিন রাতে নারী নির্যাতন ও খুনের ভয়, রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নারী শিক্ষার্থীরা সেদিন গভীর রাতে প্রতিবাদে বেরিয়ে পড়ে। রাজা তখন অস্তিত্ব হারানো ভয়ে কম্পিত। আবার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। লাঠি, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত। পুলিশ আন্দোলন চত্বর আটকায়। সংকটপূর্ণ একটা সময় অতিবাহিত।

খবরের দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, সমাজ দিনদিন অপরাধের দিকে ধাবিত। সন্ধ্যা নামলেই ক্লাবে ক্লাবে মদ আর জুয়া কালচার। খেলার মাঠগুলো ফাঁকা। যত্রতত্র মদের ঠেক খুলে বসে রয়েছে সমাজবিরোধীরা। পরপর সংবাদগুলোর দিকে খেয়াল রাখলেই বোঝা যাবে অপরাধ ক্রমবর্দ্ধমান।

ক্লাস চলাকালীন ছাত্রীদের তুলে নিয়ে যেত মনোজিৎ

আইন কলেজের ভিতরে গণধর্ষণের অভিযোগ। ভয়ঙ্কর এই অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য। অভিযুক্ত কারা? সেই কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র ও কলেজের বর্তমান আইনের পড়ুয়ারা। মারাত্মক এই অভিযোগ ওঠার পর চারিদিকে প্রতিবাদের ঝড়। কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসছে কেউটে। মনোজিতের প্রভাবশালী যোগ, বেপরোয়া হাবভাব, একের পর এক অপরাধের অভিযোগ। সব জেনেশুনেও কলেজ কর্তৃপক্ষের নীরব থাকা। ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ সামনে আসছে প্রতিদিন। মহিলাদের সম্মানহানি করার একের পর এক অভিযোগ। রোজই প্রকাশ্যে আসছে, আইন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, প্রাক্তন টিএমসিপি নেতা, অধুনা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মনোজিতের অন্যায্য কাজের হাড়হিম করা ভিডিও। মনোজিতের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অপরাধমূলক কাজকর্ম নিয়ে একে একে মুখ খুলছেন কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে নিরাপত্তা রক্ষী, শিক্ষক-শিক্ষিকা অনেকেই। মনোজিতের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ তুলেছেন, নির্যাতিতার সহপাঠী এবং কসবার আইন কলেজেরই প্রথম বর্ষের আরেক ছাত্রীও। আইন নিয়ে পড়াশোনা করবেন, এই স্বপ্ন নিয়ে, ২০২৪-এ কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন সাউথ ক্য়ালকাটা ল কলেজে। কিন্তু ঢোকার কয়েকদিনের মধ্য়েই, মনোজিতদের জন্য়ই কলেজের ভিতরের পরিবেশ তাঁর কাছে অসহ্য় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। তাঁরও দাবি, ‘মনোজিত বলেছিলেন, যে, তোমার মধ্যে তো অনেক ট্য়ালেন্ট আছে, তুমি ইউনিয়ন জয়েন করতে পরো। আমি বলেছিলাম, না, আমার এইসব বিষয়ে কোনও ইচ্ছা নেই। আমি পড়াশোনা করতে এসেছি, আমি পড়াশোনা করব, বাড়ি চলে যাব। তো, উনি, বললেন, ও… ঠিক আছে। দেখে নেব। কোনও কিছুতেই আমি ভাগও নিতাম না, আমি যেতামও না। একপ্রকার ক্লাস করতে হয়, ক্লাস হত, তাই যেতাম অ্যাটেনডেন্সের জন্য়। ব্যাস, বাড়ি চলে আসতাম।’ ২০২৩ সালে এরকমই একটি কলেজ পিকনিকে গিয়ে মনোজিৎ মিশ্রর হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজেকই আরেক ছাত্রী। কলেজেরই আরেক ছাত্রীর অভিযোগ, কাউকে কোনও তোয়াক্কা করতেন না মনোজিৎ মিশ্র। ক্লাস চলাকালীন, অধ্য়াপকদের সামনে থেকে যে কোনও কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যেতেন। ছাত্রীর কথায়, ‘ক্লাস চলাকালীন উনি (মনোজিৎ মিশ্র) আসতেন। ওঁর চ্যালা-চামুণ্ডারা কিছু লোকজন ছিলেন, তাঁরাও আসতেন। এসে এরকম শুধু হাতের ইশারা করতেন। টিচাররা ওখানেই দাঁড়িয়ে বলত, যাও, তুমি চলে যাও। তোমাকে ডাকছে, তুমি চলে যাও। ব্যাস। কেউ কোনও কথাও বলত না। কেউ কিছু বলতও না। কঠোর থেকে কঠোর টিচারও কিছু বলত না। এসে শুধু হাতের ইশারা করতেন, তাতেই মানুষজন চলে যেত। আজকে যে আমরা মনোজিৎ… এদেরকে বলছি, এদেরকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষ সবকিছুই ওঁদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন। কী আর বলব! উনি হর্তা-কর্তা বিধাতা বলতে যাকে বোঝায়, মানে, আপনি স্টুডেন্ট, আপনাকে ঢুকেই বলে দেওয়া হবে ভাই তুই রণে বনে জলে জঙ্গলে যেখানে বিপদে পড়বি, সেখানেই আমার দর্শন পাবি। ‘ যেখানে জীবন গড়ার পাঠ দেওয়া হয়, সেখানেই জীবন নিয়ে কার্যত আতঙ্কে থাকতে হত বলে অভিযোগ করছেন এই ছাত্রী।

বিকৃতকাম ‘‌এম এম’‌, নিজের সঙ্গমের মুহূর্তের ভিডিয়ো দেখিয়ে নিত ‘কৃতিত্ব’!

পুলিসের জেরায় মনোজিতের ২ শাগরেদ প্রমিত ও জায়েবের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি। স্বীকারোক্তিতে তারা জানিয়েছে, পরিকল্পনা করেই ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতন। ঘটনার দিন দুয়েক আগেই পরিকল্পনা করে মনোজিৎ। ওই ছাত্রীর সঙ্গে যে সে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়, সেকথা দুদিন আগে নিজের দুই শাগরেদকে জানায় মনোজিৎ। ছাত্রী রাজি না হলে যে সে জোর করেই তা করবে, সেটাও প্ল্যান করে রেখেছিল মনোজিৎ। ইতিমধ্যে তার বিভিন্ন বিকৃত কামের উদাহরণও সামনে এসেছে। নিজের সঙ্গমের মুহূর্তের ভিডিয়ো দেখিয়ে নিত ‘কৃতিত্ব’! রাখত ‘হিসেব’! ধর্ষক মনোজিতের ভয়াবহ বিকৃত কাম। ভয়ংকর উদাহরণ। মারধর, যন্ত্রণার ভিডিয়ো দেখতে এবং দেখাতে ভালোবাসত মনোজিৎ মিশ্র। ক্লোজড সার্কলে আপত্তিকর ছবি-ভিডিয়ো শেয়ার করে মজা নিত। কসবা ল’ কলেজে গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে সময় যত গড়াচ্ছে, তত একদিকে যেমন উঠে আসছে অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত একের পর এক তথ্য। তেমনই সামনে আসছে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের বিকৃত মানসিকতার একের পর এক উদাহরণ। বিকৃত কাম ছিল মনোজিতের। যার দাবি করেছে তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বন্ধুবান্ধব ও কলেজের জুনিয়ররা। তারা বলছেন, মনোজিতের বিকৃত কামের তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই বাধ্য হতো তাদের সহপাঠী ছাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অংশের আপত্তিকর ছবি তুলে সেসব মনোজিৎকে দেখাতে। এমনকি মনোজিৎ নিজেও মহিলাদের নানা অঙ্গের ছবি তুলে মোবাইলে রাখত! ক্লোজড সার্কলে সেইসব আপত্তিকর ছবি-ভিডিয়ো শেয়ার করে মজা নিত। শুধু তাই নয়, লোকজনকে মারধর করে সেই ভিডিয়োও মোবাইল জমিয়ে রাখত মনোজিৎ। সূত্রের খবর, এই ঘটনা প্রথম নয়। মনোজিৎ এর আগেও বহু ছাত্রীকে হেনস্থা করেছে। সেই হেনস্থার ভিডিয়োও সে নিজের মোবাইলে তুলে রেখে পরবর্তীতে নিজেও দেখত ও শাগররেদদেরও দেখাত। কলেজ ক্যাম্পাসে কোনও নতুন ছাত্রীকে পছন্দ হলেই সে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিত বলে অভিযোগ। বলত, ‘তুই আমাকে বিয়ে করবি?’ ঠিক যেভাবে নির্যাতিতাকেও বিয়ের প্রস্তাব দেয় মনোজিৎ। আর সে রাজি না হতেই শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। বিভিন্ন সময়ে অনেকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে মনোজিৎ। তাঁর সেই বিকৃত কামের হাত থেকে রেহাই পাননি তাঁরাও। অভিযোগ, নিজেদের সঙ্গমের মুহূর্তের ভিডিয়ো তুলে রাখত মনোজিৎ। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সেই ছবি-ভিডিয়ো অন্যদের দেখিয়ে ‘কৃতিত্ব’ নিত মনোজিৎ। হিসেব রাখত কতজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছে সে! মনোজিৎ মিশ্র বিকৃত কাম! শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে, কলেজ ট্রিপে গিয়েও মনোজিতের ‘শিকারি’ চোখ তার ‘শিকার’ খুঁজে বেড়াত। যে কারণে লুকিয়ে থাকতেও বাধ্য হন এক ছাত্রী। তাঁর কথায়, ৫ ঘণ্টা ধরে মনোজিৎ আমাকে খুঁজে বেড়ায়। কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রের কথায়, মারধর, যন্ত্রণার ভিডিয়ো দেখতে এবং দেখাতে ভালোবাসত মনোজিৎ মিশ্র। পছন্দ ছিল ‘নোংরা যৌনতা’। শুধু তাই নয়, ২০১৩ সালে মনোজিৎ মিশ্র এক ক্যাটারিং কর্মীকে ছুরি দিয়ে মেরে তাঁর আঙুল কেটে ফেলেন বলেও অভিযোগ। এরপর ৩ বছর ধরে নিখোঁজ ছিল সে।

মুখ চেপে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ! শাসনের ঘটনা।

ধৃত শাহজাহান নামের ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে বধূকে উত্যক্ত করত বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব, পথেঘাটে উত্যক্ত করা। প্রতিবাদের মুখে পড়েও সতর্ক হয়নি যুবক। শেষমেশ নিজের লালসা চরিতার্থ করতে মুখ চেপে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ! বারাসতের শাসনের যুবকের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে মধ্যমগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম শাহজাহান আলি, বয়স ৪৫ বছর। অভিযোগ, শাসনের বাসিন্দা শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের পথে প্রতিবেশী ওই গৃহবধূকে উত্যক্ত করত, কুপ্রস্তাব দিত। গৃহবধূ বিষয়টি পরিবারকে জানায়। তাঁরা বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদও করেছিল। তারপরও শাহজাহানের আচরণে কোনও বদল হয়নি। এরই মধ্যে গত ১২ মে সন্ধ্যা নাগাদ ওই গৃহবধূ এলাকার একটি দোকানে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই সময় রাস্তায় গৃহবধূর মুখ চাপা দিয়ে তুলে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে শাহজাহান ধর্ষণ করে। এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ জানানো হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তের হদিশ পেতে তল্লাশি শুরু করে। শেষে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মধ্যমগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে অভিযুক্ত শাহজাহান। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার ধৃতকে বারাসত আদালতে পেশ করা হলে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এই ঘটনায় আতঙ্কিত নির্যাতিতা গৃহবধূ। পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। অভিযুক্ত যুবকের কঠোরতম সাজার দাবিতে সরব নির্যাতিতার পরিবার।

নাবালিকার স্নানের ছবি ভাইরালের হুমকি দিয়ে যৌন নির্যাতন!

প্রথমে নাবালিকাদের স্নান দৃশ্য লুকিয়ে মোবাইলবন্দি করা। তারপর তা ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল। অতঃপর লাগাতার যৌন নির্যাতন। ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষী হুগলি। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত। এই ‘বাথরুম গ্যাং’য়ের মূল টার্গেট ছিল নাবালিকা ছাত্রীরা। দিনের পর দিন দল বেঁধে অত্যাচার চালাত এই গ্যাং। কিন্তু কেউ কিচ্ছুটি টের পায়নি। জানাজানি হওয়ার ভয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া কিশোরীরা সব মুখ বুজে সহ্য করেছে। এবার সাহস করে সেই ‘বাথরুম গ্যাং’য়ের কুকীর্তি প্রকাশ্যে এনেছে মগরা থানা এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক নির্যাতিতা। গ্রেফতার হয়েছে গ্যাংয়ের মূল অভিযুক্ত সঞ্জিত দাওয়ান ওরফে ছোটকা ও আরেক সাগরেদ রোহিত অধিকারী ওরফে হুলো। তবে, দলের বাকিরা এখনও অধরা। রাজ্যের শিশু কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল হুগলির মগরা থানায় গিয়ে তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে। ‘বাথরুম গ্যাং’য়ের তোলা অশ্লীল ভিডিও-সহ যাবতীয় কুকীর্তির প্রমাণ সংগ্রহের নির্দেশ দেয়। কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। যদিও তাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি চক্র পুলিশকে ভুল বুঝিয়ে এই গ্যাংয়ের কুকীর্তিকে আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে। ছোট ঘটনা বলে বিষয়টি লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছে। অথচ শুধু তাদের মেয়েই নয়, এলাকার একাধিক নাবালিকা এই ‘বাথরুম গ্যাং’য়ের লালসার শিকার। অথচ বাকিরা লোকলজ্জার ভয়ে সেই কথা প্রকাশ্যে আনছে না। কমিশনের গাইডলাইন মেনে পুলিশ অবশ্য তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল ঘুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে শিশু কমিশনের একটি দলও। নির্যাতিতা জানায়, তাদের স্নানের জায়গা বাড়ির বাইরে। আর সে যখন স্নান করছিল সেই সময় লুকিয়ে তার স্নানের ভিডিও করা হয়। পরে তাকে ওই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে সঞ্জিত দাওয়ান ও তার সাগরেদরা ভয় দেখায়। কিন্তু সে রাজি হয়নি। এরপর একদিন সঞ্জিত তাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সঞ্জিতের দেওয়া জল খাওয়ার পর আর কিছু জানতে পারেনি সে। প্রথমে বাড়িতে ভয়ে কিছু বলতে পারেনি। এরপর এই ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি বাড়তেই থাকে। এরপর তাকে ভয় দেখিয়ে আরেক অভিযুক্ত হুলোর সঙ্গে অন্য কোথাও চলে যেতে বলা হয়। ওই নাবালিকাকে হুলো তার কাকার বাড়ি নিয়ে যায়। এরপর ওই নাবালিকা ফোনে তার মাকে সমস্ত ঘটনা জানায়। মগরা থানার পুলিশ গিয়ে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে ও হুলোকে গ্রেপ্তার করে। এই বিষয়ে ওই নাবালিকার মা বলেন, “ছোটকাদের ভাইয়ের মতো দেখতাম। মেয়েদের বলতাম ওরা মামা হয়। আর এখন জানতে পারছি এরাই আমার মেয়েদের সর্বনাশ করেছে। আরও অনেকের সঙ্গে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। এদের কঠিন থেকে কঠিন সাজা হোক, এটাই চাই।”

ভোটের পরে নাবালিকাকে ধর্ষণ তৃণমূল নেতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের

নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি শোনানো হল অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক তৃণমূল নেতাকে। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কোনও মামলায় এই প্রথম রায় দিল আদালত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবল থেকে মুক্তি পায়নি নয় বছরের একরত্তি শিশুটিও। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় স্কুলশিক্ষকের কাছে ধর্ষিতা হয় সে। কারণ সে বিজেপি নেতার মেয়ে। সেই স্কুলশিক্ষক তৃণমূল নেতাকে এবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি শোনাল মালদা জেলা আদালত। নাবালিকা ধর্ষণ মামলা ভোট পরবর্তী একাধিক হিংসার মধ্যে একটি ছিল। এই প্রথম ভোট পরবর্তী কোনও হিংসার ঘটনায় রায় শোনাল আদালত। অবসরপ্রাপ্ত ওই স্কুলশিক্ষক তৃণমূল নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ৫ জুনের ঘটনা। ওই নাবালিকাকে ফাঁকা ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, তারা বিজেপি সমর্থক বলেই কন্যা ধর্ষণের শিকার। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তার পর থেকেই কারাগারে বন্দী অভিযুক্ত। স্থানীয়দের কথায়, আগে সিপিএম করতেন অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম। পরে তৃণমূলে যোগ দেয়। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির ঘটনা ঘটে। একের পর এক সেইসব অশান্তির ঘটনায় মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। রাজ্যের শীর্ষ আদালত সেই সময় প্রতিটি ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় মোট ৫৫টি মামলার তদন্তভার তারা পেয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল মালদার মানিকচক ব্লকের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ। নয় বছরের একরত্তি শিশু বিজেপি নেতার কন্যা বলে তাকে ধর্ষণ করে স্থানীয় তৃণমূল নেতা। তিনি আবার ঘটনাচক্রে স্কুলশিক্ষক।সাজা শোনাল জেলা আদালত। মালদহের অতিরিক্ত নগর দায়রা আদালতের দ্বিতীয় (এডিজে-২ কোর্ট) বিচারক রাজীব সাহা বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা রফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সাজা ঘোষণা করা হয় শুক্রবার। সিবিআইয়ের আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মোট বাইশ জন এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই প্রথম সিবিআইয়ের তরফে দায়ের করা ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত কোনও মামলায় সাজা ঘোষণা।

সন্দেশখালিতে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ বান্ধবীর বাবার বিরুদ্ধে

কসবা গণধর্ষণ-কাণ্ডে উত্তাল রাজ্য। সন্দেশখালিতে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ বান্ধবীর বাবার বিরুদ্ধে।
নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগ। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। বান্ধবীর বাবার হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হল এক নাবালিকাকে। বর্তমানে মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ন্যাজাট থানার অন্তর্গত আগারআটি গ্রামে মামার বাড়িতে থাকে। তার বাবা-মা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। অভিযোগ, রবিবার দুপুরে মেয়েটিকে এলাকার এক নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যায় তার বান্ধবীর বাবা। সেখানেই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পাশ দিয়ে যাওয়া কয়েকজন মহিলা মেয়েটির আর্তনাদ শুনতে পেয়ে ছুটে আসেন। তাঁরা মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। যদিও অভিযুক্ত বুঝতে পেরে চম্পট দেয়। তাকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়রাই মেয়েটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও এমন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু ভয় দেখিয়ে বারবার মেয়েটিকে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছিল। পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ন্যাজাট থানায়। থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকাইত জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ছবি ও পরিচয় বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীর দ্রুত শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর।

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা, প্রতিবেশী যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিল আদালত

১৪ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছিল প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা। দোষীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ বর্ধমানের পকসো আদালতের। আদালতের রায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য। জরিমানা না দিলে আরও এক বছরের জেল খাটতে হবে দোষীকে। বিচারক দেবশ্রী হালদার রায়ে জানান, জরিমানার টাকা নির্যাতিতার জন্য ব্যয় করতে হবে। এছাড়া পকসো আইনের নিয়ম অনুযায়ী, নাবালিকার পুনর্বাসন ও কল্যাণের জন্য তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। এই মামলার সরকারি কৌঁসুলি গৌতমকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, অভিযুক্ত ধর্ষিতার পূর্বপরিচিত। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির শেষে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ১৩ অগস্ট নাবালিকা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক জানান, সে অন্তঃসত্ত্বা। এই কথা শুনে হতবাক পরিবার জানতে চায়, এমন কী ঘটেছিল! তখন মেয়েটি জানায়, ঘটনার মাস দুয়েক আগে পাশের বাড়ির এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেছিল। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরদিনই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সে জামিনে ছাড়া পায়।
২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গাইনি বিভাগে গর্ভপাত করানো হয় মেয়েটির। তখন তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়। এরপর করা হয় ডিএনএ টেস্টও। তদন্তের দায়িত্বে থাকা অফিসার মীর মুজিবুর রহমান ওই বছরের ৩১ অক্টোবর চার্জশিট জমা দেন। পরে ২০১৭ সালের ৯ অগস্ট মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটও আদালতে পেশ করেন তিনি। এই মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষ্য দেন। তাঁদের বক্তব্য বিচারক গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন। সব তথ্য ও প্রমাণ বিচার করে অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(এ)(এফ) ও পকসো আইনের ৪ এবং ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সাজা ঘোষণার সময় বিচারক জানান, অভিযুক্ত যতদিন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য জেলে ছিলেন, সেই সময়সীমা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

পরকীয়ায় বাধা, প্রতিশোধ নিতে বৈদ্যবাটির যুগলকে খুন

হুগলির বৈদ্যবাটিতে খুনই করা হয়েছে যুগলকে। পরকীয়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অবশেষে প্রতিহিংসা। তার জেরেই এই খুনের ঘটনা। তদন্তে নেমে দেড় দিনের মধ্যেই ঘটনাটি পুরোপুরি উদ্ঘাটন করল পুলিশ। খুনের অভিযোগ পুলিশ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। ধৃতেরা হল অর্জুন পাশোয়ান ও নাসিরুদ্দিন শেখ। তাদের মধ্যে অর্জুন হল নিহত তরুণীর বোনের প্রাক্তন প্রেমিক। ঘটনাটি ঘটে বৈদ্যবাটি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীতারাম বাগান এলাকায়। সেখানকার একটি ভাড়াবাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে উদ্ধার হয় ৩৫ বছরের মনীশ ভাদুড়ি এবং ৩২ বছরের অপর্ণা মাঝির রক্তাক্ত দেহ। তাঁরা দুজনই আর্তনাদ করেন। কিন্তু, প্রতিবেশীরা সেখানে পৌঁছতেই তাঁদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দু’জনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অপর্ণার ছোট বোন রিম্পা একসময় নিজের স্বামীকে ছেড়ে হাওড়ার বাসিন্দা অর্জুন পাশোয়ানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। অর্জুন পেশায় গাড়িচালক। প্রেমপর্ব চলাকালীন তাঁরা কিছুদিন তেলেঙ্গানাতেও ছিলেন। তবে কিছু সময় আগে রিম্পা সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসেন। অর্জুন তা মানতে পারেনি। বারবার রিম্পাকে বিরক্ত করছিল সে। এই পরিস্থিতিতে অপর্ণা বোনের পাশে দাঁড়িয়ে অর্জুনকে সতর্ক করেন। এখান থেকেই বেঁধে যায় মূল বিবাদ। খুনের ঠিক তিনদিন আগে অর্জুন বৈদ্যবাটিতে এসে অপর্ণার সঙ্গে তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যেই অপর্ণা তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ। সেই অপমানই তাঁর মনে গভীর ক্ষোভ তৈরি করে। পুলিশের অনুমান, এরপরই খুনের পরিকল্পনা করে অর্জুন। বুধবার শিয়ালদা থেকে ছুরি কিনে বৈদ্যবাটিতে আসে অর্জুন। রাতভর এলাকায় ঘুরে ভোররাতে চুপিসারে ঢুকে পড়ে অপর্ণাদের ঘরে। এরপর ঘুমিয়ে থাকা অপর্ণা ও মনীশের ওপর একের পর এক ছুরি চালায়। দু’জনের শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রে অর্জুন ও তার এক সহযোগী নাসিরুদ্দিন শেখের নাম জানতে পারেন। এরপর জগদীশপুর ও মহেশতলায় আলাদা দুটি দল অভিযান চালিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার ধৃতদের শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হয়। পুলিশ মনে করছে, সম্পর্কভঙ্গ ও অপমানের জেরে প্রতিশোধ নিতে গিয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে অর্জুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles