মনোজিতের যৌনাচার, দৌরাত্ম্য আর অপকর্ম কি কলেজের গভর্নিং বডি জানত? তদন্তে গোয়েন্দারা। কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে কসবা ল’কলেজের গর্ভনিং বডির রেজিস্টার বুক বাজেয়াপ্ত করল কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ। বুধবার বিকেলে জেনারেল বডির মিটিংয়ের রেজিস্ট্রার খাতা বাজেয়াপ্ত করা হয়। জিবির মিটিংয়ের মিনিটসে নজরে কলকাতা পুলিসের। জিবির সুপারিশে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে এই কলেজে চাকরি পেয়েছিল মনোজিৎ। ২০২৪ সালের ৩০ অগস্টের। মিটিংয়ে সেই কাজের মেয়াদ রিনিউ করা হয়েছিল। অ্যাপোয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত কাগজে সই ছিল ভিসি ও অশোক দেবের। তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে চাইছে, এই মিটিং শেষ কবে হয়েছিল এই জঘন্য ঘটনার আগে। মিটিং চলাকালীন সারা কলকাতা শহরে মনোজিতের নামে যে অভিযোগ জমা পড়েছে, পাশাপাশি, কলেজেও যে তার দৌরাত্ম্য চলত- এই বিষয়ে তার নামে কোথাও কোনও অভিযোগ জমা পড়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। কেউ কোনও অভিযোগ করেও থাকে, তাহলে গভর্নিং বডি মনোজিতের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদি না নেওয়া হয়ে থাকে তাহলে কেন নেওয়া হয়নি তা তদন্ত করছে পুলিস। আর এই কারণেই গর্ভনিং বডির রেজিস্টার বুক খতিয়ে দেখছে পুলিস। মনোজিৎ মিশ্র, কসবা কলেজে গণধর্ষণকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত। অথচ তার ফেসবুক প্রোফাইলে গেলে দেখা যায়, সেখানে জ্বলজ্বল করছে লেখা, ‘ক্রিমিনাল লইয়ার’। নিজেই এখন মূল অভিযুক্ত একটি ধর্ষণ মামলায়। শুধু তাই নয়, ধৃত মনোজিতের বিরুদ্ধে আগেও ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ। সামনে এসেছে তার বিকৃত কামের বিভিন্ন উদাহরণও। এদিকেই এই মনোজিত-ই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীবাদী! সোশ্যাল মিডিয়ায় শালীনতার মুখোশ পরে থাকত মনোজিৎ মিশ্র। যাতে মেয়েরা তার দ্বারা প্রাভাবিত হয়, তাই সবসময়ই একটা ভদ্রতার মুখোশ পরে বা ভদ্রতার মোড়কে থাকত সে। সেখানে নেতাসুলভ ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা। জনসাধারণের সাহায্যে এগিয়ে আসা! আরজি কর কাণ্ডের পর অভিযুক্ত সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবিতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিল মনোজিৎ মিশ্র। গত ১৬ অগাস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোজিৎ একটি পোস্টে ধর্ষকদের ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানায় সে। এখন কসবা গণধর্ষণকাণ্ড সামনে আসার পর তার সেই পোস্ট ভাইরাল। এবার সে নিজের জন্য কী চাইবে, প্রশ্ন নেটিজেনদের!

কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় শোরগোল। মামলার তদন্তে প্রথমে বিশেষ তদন্তকারী দল সিট গঠন। তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে। শুক্র ভোররাতে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ চালালেন তদন্তকারীরা। ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা বুঝতেই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করলেন তদন্তকারীরা। এ দিন সকাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে সেই প্রক্রিয়া। পুলিশ ভোর তিনটে নাগাদ মূল অভিযুক্ত ‘এম’-সহ আরও তিন অভিযুক্ত ‘পি’, ‘জে’ এবং এক নিরাপত্তারক্ষীকে নিয়ে পৌঁছে যায় কলেজে। গোটা এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। কলেজ চত্বরে ঢুকে অভিযুক্তদের সঙ্গে সে দিনের পরিস্থিতি ধাপে-ধাপে মিলিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। পুনর্গঠনের প্রতিটি মুহূর্ত ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়। পাশাপাশি থ্রিডি স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমেও ঘটনাস্থলের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারী এক অফিসার জানান, পুনর্গঠনের সময় অভিযুক্তদের বয়ান ও গতিবিধি খতিয়ে দেখা হয়েছে। নির্যাতিতার যে বিবৃতি পুলিশের কাছে আছে, সেটির সঙ্গে মেলানো হবে পুনর্নির্মাণে পাওয়া প্রতিটি তথ্য। তদন্তে তা বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মত গোয়েন্দাদের। এর আগে নির্যাতিতাকে কলেজে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্গঠন করানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কলেজ চত্বরে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। প্রথমে ইউনিয়ন রুমে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়। পরে রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ওই সময় রক্ষীর কাছে সাহায্য চেয়েও পাননি তিনি। উলটে তাঁকে ঘরের সামনে বসিয়ে রেখে ওই নারকীয় ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার দাবি, বাধা দিলে তাঁকে হকি স্টিক দিয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ঘটনায় ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল নয়না চট্টোপাধ্যায়ও আছেন। ঘটনাস্থলের সাত ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়েছে। ধৃত চার অভিযুক্তের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ‘এম’ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। সে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যুক্ত ছিল। বাকি দুই অভিযুক্ত ‘পি’ ও ‘জে’ এখনও ওই কলেজেই পড়ে। প্রত্যেকেই তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন থানায় তাঁর নামে ১১টি মামলা নথিভুক্ত। আগে একাধিকবার মহিলাদের হেনস্থা করেছেন বলেও অভিযোগ। তদন্তকারী দল মনে করছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা নির্যাতিতার অভিযোগ ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হবে।

কসবা কাণ্ডের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্যে। এই ঘটনার পর শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শিলিগুড়ির কলেজগুলোও আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না। নিরাপত্তা বাড়াতে এবার আরও বেশি করে নজরদারি চালাতে উদ্যোগী হল শহরের একাধিক কলেজ। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেসব জায়গায় এখনও সিসিটিভি নেই, সেসব জায়গায় অবিলম্বে ক্যামেরা বসানো হবে। আর যেসব কলেজে ক্যামেরা আছে, সেগুলো আপডেট করে আরও কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একাধিক কলেজ কর্তৃপক্ষ। শিলিগুড়ির নামী কলেজগুলোতে জেলার বাইরের বহু ছাত্রছাত্রী পড়তে আসেন। কিন্তু অধিকাংশ কলেজেই এখনও পর্যন্ত নজরদারির জন্য পর্যাপ্ত ক্যামেরা নেই। ফলে বিভিন্ন কোণা-ঘুপচি নজরদারির বাইরে রয়ে যায়। এই পরিস্থিতি আর রাখতে চায় না কলেজ কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে তারা চাইছেন কলেজ চত্বরের প্রতিটি অংশ ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনা হোক। ক্লাসরুম, করিডোর, ক্যান্টিন, লাইব্রেরি থেকে শুরু করে প্রবেশদ্বার বা বাইরের গেট সব জায়গাতেই নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত ঘোষ জানান, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ খুবই চিন্তিত। কলেজে যেসব জায়গায় এখনও ক্যামেরা বসানো হয়নি, সেখানে দ্রুত আরও প্রায় ৭০টি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে কলেজের প্রতিটি কোনা-কানাচে নজর রাখা যায়। খুব শিগগিরি কাজ শুরু হয়ে যাবে। সূর্যসেন কলেজও যথেষ্ট সক্রিয় নিরাপত্তার বিষয়ে। ওই কলেজে আগে থেকেই ১৪২টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে সেগুলোও আপডেট করে আরও শক্তিশালী নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূর্যসেন কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, কলেজের প্রতিটি জায়গায় ক্যামেরা রয়েছে, ক্লাসরুম, ক্যান্টিন, কলেজের ভিতর ও বাইরের অংশ সবখানেই। সবকটি ক্যামেরা সচল অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে এই কলেজে কোনও সমস্যা না থাকর কথা।

সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজ এখন ক্রাইম সিন বা প্লেস অফ ওকারেন্স। অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গভর্নিং বডির। ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসেছে। দুই শিফটে মাত্র ১ জন করে নিরাপত্তারক্ষী। স্রেফ গেটে মহিলা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন নয়, কলেজে ঢোকার সময়ে সচিত্র পরিচয় দেখানোরও দাবি ওঠেছে। সমস্ত দিক বিবেচনা করে নয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করে কলেজ খুলতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। আপাতত বন্ধ রাখা হল কলেজ। কসবা কাণ্ডের জের। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজ। গর্ভনিং বডির সিদ্ধান্তে উষ্মা প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বললেন, ‘পঠনপাঠন প্রক্রিয়া চালু থাকার কথা। পরিচালন সমিতি, কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাকে খোঁজ নিতে হবে। আশা করছি, ছাত্র ছাত্রীরা দ্রুত, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে’। আরজি কর কাণ্ডে বছর ঘুরতে না ঘুরতে ফের কলকাতায় ‘গণধর্ষণ’! এবার কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজ। পুলিসেক জালে মূল অভিযুক্ত মনোজিত্ মিশ্র। ওই ল’কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র সে। আবার ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তও। বাকি দুই অভিযুক্ত হল জইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়। তাঁদেরকেও গ্রেফতার করেছে পুলিস। তদন্তে উঠে আসছে একে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

যৌনাঙ্গের ভিতরে মিলল ক্ষত। নির্যাতিতার দ্বিতীয় মেডিক্যাল টেস্ট রিপোর্টও ভয়ংকর! শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে বায়োকেমিক্যাল টেস্টের জন্য ফের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজের নির্যাতিতার দ্বিতীয় মেডিকোলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টও ভয়ংকর। বিতর্ক এড়াতে এবার কলকাতা মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিন এবং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে দিয়ে মেডিকোলজিজ্যাল টেস্ট করা হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে বায়োকেমিক্যাল টেস্টের জন্য ফের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নির্যাতিতার নখ এবং মাথার বিভিন্ন জায়গারও পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় মেডিকোলজিক্যাল পরীক্ষাতেও যৌনাঙ্গের ভিতরের অংশে ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। বুক ও ঘাড়ের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে। সর্বোপরি যৌন নির্যাতনের যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে নির্যাতিতার শরীর থেকে। এমনটাই খবর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে। পাশাপাশি, হকি স্টিক, পোশাক সহ বিভিন্ন বাজেয়াপ্ত জিনিস এদিন পাঠানো হলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। পুলিসের জেরায় মনোজিতের ২ শাগরেদ প্রমিত ও জায়েবের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি। স্বীকারোক্তিতে তারা জানিয়েছে, পরিকল্পনা করেই ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতন। ঘটনার দিন দুয়েক আগেই পরিকল্পনা করে মনোজিৎ। ওই ছাত্রীর সঙ্গে যে সে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়, সেকথা দুদিন আগে নিজের দুই শাগরেদকে জানায় মনোজিৎ। ছাত্রী রাজি না হলে যে সে জোর করেই তা করবে, সেটাও প্ল্যান করে রেখেছিল মনোজিৎ। ইতিমধ্যে তার বিভিন্ন বিকৃত কামের উদাহরণও সামনে এসেছে।

নিজের সঙ্গমের মুহূর্তের ভিডিয়ো দেখিয়ে নিত ‘কৃতিত্ব’! রাখত ‘হিসেব’! ধর্ষক মনোজিতের ভয়াবহ বিকৃত কাম। ভয়ংকর উদাহরণ। মারধর, যন্ত্রণার ভিডিয়ো দেখতে এবং দেখাতে ভালোবাসত মনোজিৎ মিশ্র। ক্লোজড সার্কলে আপত্তিকর ছবি-ভিডিয়ো শেয়ার করে মজা নিত। কসবা ল’ কলেজে গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে সময় যত গড়াচ্ছে, তত একদিকে যেমন উঠে আসছে অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত একের পর এক তথ্য। তেমনই সামনে আসছে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের বিকৃত মানসিকতার একের পর এক উদাহরণ। বিকৃত কাম ছিল মনোজিতের। যার দাবি করেছে তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বন্ধুবান্ধব ও কলেজের জুনিয়ররা। তারা বলছেন, মনোজিতের বিকৃত কামের তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই বাধ্য হতো তাদের সহপাঠী ছাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অংশের আপত্তিকর ছবি তুলে সেসব মনোজিৎকে দেখাতে। এমনকি মনোজিৎ নিজেও মহিলাদের নানা অঙ্গের ছবি তুলে মোবাইলে রাখত! ক্লোজড সার্কলে সেইসব আপত্তিকর ছবি-ভিডিয়ো শেয়ার করে মজা নিত। শুধু তাই নয়, লোকজনকে মারধর করে সেই ভিডিয়োও মোবাইল জমিয়ে রাখত মনোজিৎ। সূত্রের খবর, এই ঘটনা প্রথম নয়। মনোজিৎ এর আগেও বহু ছাত্রীকে হেনস্থা করেছে। সেই হেনস্থার ভিডিয়োও সে নিজের মোবাইলে তুলে রেখে পরবর্তীতে নিজেও দেখত ও শাগররেদদেরও দেখাত। কলেজ ক্যাম্পাসে কোনও নতুন ছাত্রীকে পছন্দ হলেই সে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিত বলে অভিযোগ। বলত, ‘তুই আমাকে বিয়ে করবি?’ ঠিক যেভাবে নির্যাতিতাকেও বিয়ের প্রস্তাব দেয় মনোজিৎ। আর সে রাজি না হতেই শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। বিভিন্ন সময়ে অনেকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে মনোজিৎ। তাঁর সেই বিকৃত কামের হাত থেকে রেহাই পাননি তাঁরাও। অভিযোগ, নিজেদের সঙ্গমের মুহূর্তের ভিডিয়ো তুলে রাখত মনোজিৎ। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সেই ছবি-ভিডিয়ো অন্যদের দেখিয়ে ‘কৃতিত্ব’ নিত মনোজিৎ। হিসেব রাখত কতজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছে সে! মনোজিৎ মিশ্র বিকৃত কাম! শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে, কলেজ ট্রিপে গিয়েও মনোজিতের ‘শিকারি’ চোখ তার ‘শিকার’ খুঁজে বেড়াত। যে কারণে লুকিয়ে থাকতেও বাধ্য হন এক ছাত্রী। তাঁর কথায়, ৫ ঘণ্টা ধরে মনোজিৎ আমাকে খুঁজে বেড়ায়। কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রের কথায়, মারধর, যন্ত্রণার ভিডিয়ো দেখতে এবং দেখাতে ভালোবাসত মনোজিৎ মিশ্র। পছন্দ ছিল ‘নোংরা যৌনতা’। শুধু তাই নয়, ২০১৩ সালে মনোজিৎ মিশ্র এক ক্যাটারিং কর্মীকে ছুরি দিয়ে মেরে তাঁর আঙুল কেটে ফেলেন বলেও অভিযোগ। এরপর ৩ বছর ধরে নিখোঁজ ছিল সে।

সামনে আসছে আরও ভয়ংকর জানা গিয়েছে, মনোজিতের ছাত্রী ধর্ষণ কাণ্ডের দিন বিকেল থেকে সন্ধে পর্যন্ত কসবা ল’ কলেজে ছিলেন ১৭ জন। সকলেই সেদিন বিকেল ৪টের পর থেকে সন্ধে পর্যন্ত কসবা ল কলেজে ছিল বলে জানতে পেরেছে বিশেষ তদন্তকারী দল ‘সিট’। সতেরো জনের তালিকা তৈরি করেছে ‘সিট’ তথা ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম’। ১৭-র দু’জনকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিস। বাকিদেরও করা হবে। বিস্ফোরক সব ঘটনা। যেমন, জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন নিরাপত্তারক্ষীর ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কোথাও যাতে তিনি খবর দিতে না পারেন, তাই এই ব্যবস্থা। জেরায় এমনই দাবি ইতিমধ্যেই ধৃত নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এভাবেই সামনে আসছে কীর্তিমান মনোজিতের আরও নানা কীর্তি। যেমন, ঘটনার দুমাস আগে পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর করেছিল এই মনোজিৎই। জামিন অযোগ্য ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কিন্তু কী আশ্চর্য, তা সত্ত্বেও দিনের দিনই মুক্তি পেয়েছিল মনোজিৎ! কসবা থানার হাতেই গ্রেফতার হয়েছিল মনোজিৎ। পিসিআর ভ্যান ভাঙচুর, পুলিসকে মারধর করেও গ্রেফতারের পর একই দিনে কীভাবে জামিন হয় মনোজিতের? তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, কীভাবে মুক্তি পেয়েছিল মনোজিৎ? মনোজিতের মাথায় কার হাত?




