বিজেপির ইতিহাসে এর আগে কোনও মহিলা সর্বভারতীয় সভাপতি হননি। সংঘ এবং দল এবার কোনও মহিলাকে ওই পদে বসালে সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মহিলা সভাপতি হলে মহিলা ভোটারদেরও একাত্মতার বার্তা দেওয়া যাবে। সম্ভবত সেকারণেই কোনও মহিলাকে দলের শীর্ষপদে বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার উত্তরসূরির নামও চলতি মাসের শেষের দিকে ঘোষণা করে দিতে পারে বিজেপি। সভাপতি হওয়ার দৌড়ে একাধিক নাম শোনা যাচ্ছিল। বিজেপি এবার কোনও মহিলাকে সর্বভারতীয় সভাপতি করার কথা ভাবছে। তাতে সায় রয়েছে আরএসএসেরও। মহিলা হওয়ার পাশাপাশি আরও দুই শর্ত পূরণ করতে হবে গেরুয়া শিবিরের হবু সর্বভারতীয় সভাপতিকে। এক, দক্ষিণ ভারতের হতে হবে। কারণ উত্তর ভারত জয়ের পর এবার গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য দাক্ষিণাত্য দখল। দুই, দক্ষিণের হলেও হিন্দি ভাষায় দখল থাকতে হবে। কারণ, উত্তরের রাজনীতিতে হিন্দিটা গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই শর্ত পূরণ করে সভাপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন জনা তিনেক প্রভাবশালী বিজেপি নেত্রী।
নির্মলা সীতারমণ: অরুণ জেটলির প্রয়াণের পর থেকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলাচ্ছেন নির্মলা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আস্থাভাজন। জাতীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। বিজেপির শীর্ষ পদাধিকারীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। মহিলা কোনও সভাপতি বাছা হলে লড়াইয়ে সবার উপরে রয়েছে নির্মলার নাম।
ডি পূর্ণেশ্বরী: সাংসদ। অন্ধ্রপ্রদেশ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। সাবলীল ভাবে হিন্দি বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভরসার পাত্রী। অপারেশন সিঁদুরের প্রতিনিধি দলেও ছিলেন।
ভনথি শ্রীনিবাসন: তামিলনাড়ু বিজেপির অন্যতম মুখ। বিজেপির মহিলা মোর্চার প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি। বর্তমানে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য। মহিলা কাউকে সভাপতি হিসাবে বাছা হলে তাঁর নামটাও চর্চায় আসতে পারে।

তৃণমূলের ভরা জমানায় রাজ্যে বিজেপিকে লোকসভা ভোটে আসন সংখ্যার মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ সাফল্য এনে দেওয়া প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিই দলের নয়া সভাপতির অভিষেকের সভায় ডাক পেলেন না! বৃহস্পতিবার কলকাতায় নয়া বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে মহা সমারোহে বরণ করার অনুষ্ঠানে দলের সফলতম রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ব্রাত্যই রইলেন। তিনি দিনভর কোথায় ছিলেন? রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, এই সেদিনও বঙ্গ বিজেপির জনপ্রিয়তম মুখ দিলীপকে এদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি ‘উচ্চতর’ নেতৃৃত্বের নির্দেশে। অথচ, সুকান্ত মজুমদারের পর কার হাতে যাচ্ছে রাজ্য বিজেপির ব্যাটন, সেই চর্চায় দলের অন্দরেই প্রবল ভাবে উঠে এসেছিল দিলীপের নাম। শোনা গিয়েছিল, একদা প্রচারক দিলীপকে ফের রাজ্য সভাপতি পদে চাইছিল বঙ্গ আরএসএসের একটি বড় অংশ। তারপরও এহেন সিদ্ধান্ত, এমন কি অনুষ্ঠানে আসার ডাক পর্যন্ত না পাওয়া নিয়ে জল্পনা চলেছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও দলের একটি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আপত্তিতেই সাম্প্রতিক কালে দিলীপকে কোনও দলীয় কর্মসূচিতে ডাকা হচ্ছে না। আর সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজের ভাষণে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিদের নাম নিলেও এড়িয়ে গিয়েছেন দিলীপের নাম। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘অতীত যদি কেউ ভুলে যায়, তার ভবিষ্যৎ ভাল হতে পারে না। তাই আমি প্রাক্তন সভাপতিত্রয়, বর্ষীয়ান অধ্যাপক অসীম ঘোষ, দাদা রাহুল সিনহা এবং সতীর্থ সুকান্ত মজুমদারকে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই, অভিনন্দন জানাই।’’ পূর্বসূরি দিলীপের নাম দু’বার শোনা গিয়েছে সুকান্তর মুখে। রাজ্য বিজেপির বিদায়ী সভাপতি বলেন, ‘‘চার বছর আগে এই রকম একটি অনুষ্ঠানে দিলীপদা সকলকে দিয়ে ‘সুকান্ত মজুমদার জিন্দাবাদ’ বলিয়েছিলেন। আজ আপনাদের সকলকে ‘শমীক ভট্টাচার্য জিন্দাবাদ’ বলতে বলছি। ২০২৬-এর লড়াই শমীকদার নেতৃত্বে হবে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হবে।’’

অথচ, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বরণের অনুষ্ঠানেও ডাক পাননি। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, যা পরিস্থিতি তাতে ফুল বদলে তৃণমূলে চলে যাবেন না তো দাবাং বিজেপি নেতা? জবাবে দিলীপ নিজেই জল্পনা উসকে দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পার্টি ঠিক করবে, ভগবানের খাতায় সব লেখা আছে।” নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণে দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ সারেন। তৃণমূলে যোগ প্রসঙ্গে বললেন, “আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পার্টি ঠিক করবে। ভগবানের খাতায় লেখা আছে। আমাকে বিজেপি নিয়ে এসে একটা জায়গা দিয়েছিল। আমি নিজে থেকে আসিনি। পার্টি চেয়েছে তাই আমি এসেছি। পার্টি আমাকে রাজ্য সভাপতি করেছে, বিধায়ক করেছে, সাংসদ করেছে, জাতীয় নেতা করেছে। আমি নিজে থেকে কিছু চাইনি। পার্টি আমাকে গাড়ি দিয়েছে, সিকিউরিটি দিয়েছে। আমি নিজে এগুলোর কোনওটাই চাইনি। পার্টি যদি মনে করে আমি এখন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করব, তাহলে তাই করব। আমাকে ডাকলে আমি যাই। না ডাকলে যাই না।” অর্থাৎ অভিমান যে একরাশ জমেছে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন দিলীপ। দলের সঙ্গে দূরত্ব ও দিলীপ ঘোষের সস্ত্রীক জগন্নাথ মন্দির দর্শন। দিলীপ বললেন, “আমাকে মুখ্যসচিব চিঠি দিয়েছিলেন। আমি একজন সম্মানীয় নাগরিক। সেই হিসেবে গিয়েছি। সরকারি প্রকল্প। কিন্তু আমি মনে করি, ওই মন্দির তৈরিতে আমার ট্যাক্সের টাকা আছে। এটা কারুর পৈতৃক সম্পত্তি নয়। বহু লোক আমাকে ডাকে।”

ত্রিনিদাদ প্রধানমন্ত্রী কমলা বিসেসারকে ‘বিহারের কন্যা’ বলে সম্বোধন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী সেদেশের প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসরকে ‘বিহারের কন্যা’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘কমলা বিসেসারের পূর্বপুরুষরা বিহারের বক্সার জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি নিজেও একবার বক্সার সফর করেছেন। বিহারের মানুষ তাঁকে নিজের মেয়ে বলেই মনে করে।’ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কুভার ন্যাশনাল সাইক্লিং ভেলোড্রোমে প্রবাসী ভারতীয়দের এক বিশাল সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মোদী এই মন্তব্য করেন। এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমলা প্রসাদ-বিসেসার নিজেও। সঙ্গে ছিলেন ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর রাষ্ট্রপতি ক্রিস্টিন কার্লা কাঙ্গালু ও একাধিক সংসদ সদস্য। ভারত ও ত্রিনিদাদের সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে মোদী বলেন, ‘আমরা শুধু রক্ত বা উপাধির মাধ্যমে যুক্ত নই, আত্মীয়তার মাধ্যমে যুক্ত। ভারত সবসময় আপনাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, আপনাদের স্বাগত জানায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিহার শুধু ভারতেরই নয়, গোটা বিশ্বের গর্ব। এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন জ্ঞান, সাহস, সংস্কৃতি আর নেতৃত্বের প্রতীকরা। একবিংশ শতাব্দীতেও বিহার নতুন সম্ভাবনার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।’ এছাড়াও, অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে ত্রিনিদাদে প্রবাসী হিন্দুদের আবেগকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে রেখেছি, রাম মন্দির নির্মাণের সময় আপনারা পবিত্র জল পাঠিয়েছিলেন। এবার আমি ফিরিয়ে আনলাম সেই ভালোবাসার প্রতীক।অযোধ্যার রাম মন্দিরের একটি প্রতিরূপ এবং সরযূ নদীর কিছু জল। ৫০০ বছর পর রামলালার অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন কেবল ভারতের নয়, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত। আপনাদের ভক্তি, নিষ্ঠা এবং সংযোগ আমাদের মুগ্ধ করেছে।’প্রবাসী ভারতীয়দের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদী বলেন, গিরমিটিয়া প্রজন্মের উত্তরসূরিরা আজ সংগ্রামের প্রতীক নন, তারা আজ সফলতা, সেবা ও মূল্যবোধের মুখ। ত্রিনিদাদ ও টোবাগো যে আজ সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিকভাবে এত সমৃদ্ধ তার পেছনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের অবদান অনস্বীকার্য। সফরে নরেন্দ্র মোদীকে দেওয়া হবে দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘দ্য অর্ডার অফ দ্য রিপাবলিক অফ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো’। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজার হাজার প্রবাসী ভারতীয়ের মধ্যে গভীর আবেগ ছড়িয়ে দেয়। মোদী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এই সম্মান আমার একার নয়, ১৪০ কোটি ভারতীয়র। আমি ত্রিনিদাদ সরকার ও এখানকার জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
ঘানার সংসদে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান অর্পণ করা হয়। সেই সফরে অংশ হিসাবেই ঘানার সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোদী বলেন, ভারতে কতগুলি রাজনৈতিক দল রয়েছে, তার সংখ্যাটা। যে সংখ্যা শুনে ঘানার সংসদে বেশ গুঞ্জন হতে দেখা যায়। সেই সময় কী ঘটে? ঘানার সংসদে ওই ভাষণে নরেন্দ্র মোদী জানান, ভারতে মোট ২,৫০০ টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানাব, ২০ টি পৃথক রাজনৈতিক দল আলাদা আলাদা রাজ্যে শাসন করে। এছাড়াও ভারতের অফিশিয়াল ভাষার সংখ্যাও তিনি জানান। ঘানার সংসদের ভাষণে ঠিক কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? দেখা যাক। নরেন্দ্র মোদী বলেন,’ ভারত হল গণতন্ত্রের জননী। আমাদের কাছে গণতন্ত্র কেবল একটি সিস্টেম নয়, এটি আমাদের মৌলিক মূল্যবোধের একটি অংশ… ভারতে ২,৫০০ টিরও বেশি রাজনৈতিক দল, ২০টি ভিন্ন ভিন্ন দল বিভিন্ন রাজ্য পরিচালনা করে, ২২টি সরকারী ভাষা, হাজার হাজার উপভাষা রয়েছে। এই কারণেই ভারতে আসা মানুষদের সর্বদা খোলা হৃদয়ে স্বাগত জানানো হয়ে থাকে।” মোদী যখন ঘানার সংসদে এই রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ঘোষণা করছেন, তখন সেই সংখ্যা শুনে সংসদে গুঞ্জন শুরু হয়। খানিকক্ষণ বিষয়টি নজর করেন মোদী। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতেই বলেন,’ আই রিপিট.. ভারতে রাজনৈতিক দলের মোট সংখ্যা ২৫০০ টি।’ এই বিষয়টি জেনে উপস্থিত সকলের গুঞ্জন দেখে প্রধানমন্ত্রীর মুখেও দেখা যায় মৃদু হাসি। এরই সঙ্গে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু বক্তব্য রাখেন মোদী। ঘানার সংসদের ভাষণে ঋগ্বেদের এক অংশের কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘ সব দিক থেকে ভালো চিন্তা ভাবনা আসুক। এই আদর্শের জন্য মনখোলা মনোভাবই আমাদের গণতন্ত্রের মূল।’ মোদী বলেন,’প্রকৃত গণতন্ত্র আলোচনা ও বিতর্ককে উৎসাহিত করে। এটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। এটি মর্যাদাকে সমর্থন করে এবং মানবাধিকারকে উৎসাহিত করে।’ প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ভারত এবং ঘানার ইতিহাস ঔপনিবেশিক শাসনের ক্ষত বহন করে, কিন্তু তাদের আত্মা সর্বদা স্বাধীন এবং নির্ভীক ছিল। ‘আগামী কয়েকদিনে একগুচ্ছ দেশে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ঘানা থেকে শুরু হয়েছে সেই সফর। বৃহস্পতিবার ঘানা থেকে ত্রিনিদাদ এবং টোব্যাগোর উদ্দেশে রওনা দেন মোদি। সেখানে একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই সফর, জানিয়েছেন মোদি। শনিবার সেখান থেকে তিনি পৌঁছবেন আর্জেন্টিনায়। তারপর ব্রাজিলে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষে নামিবিয়া সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।




