উদ্বোধনে বলিউডের শাকিরা’ সুনিধি চৌহান| সমাপ্তি অনুষ্ঠানে কোনও বড় চমক না থাকলেও, ইনিংস বিরতিতে মিনিট তিনেকের লেজার শোয়ের সঙ্গে আতশবাজির প্রদর্শনী ছিল চোখ জুড়ানো| যা হাজার পাঁচেক দর্শকের কাছে ছিল হাজার তারার রোশনাই! বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের দ্বিতীয় সংস্করণ পেয়ে গেল এক জোড়া চাম্পিয়ন| টানটান ম্যাচ। গতবারের চ্যাম্পিয়ন মুর্শিদাবাদ কিংসকে হারিয়ে ছেলেদের বিভাগের চ্যাম্পিয়ন অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স। অন্যদিকে দুপুরের ম্যাচে সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদাকে হারিয়ে মেয়েদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স। ইডেন গার্ডেন্সে, টুর্নামেন্টের পুরুষ এবং মহিলাদের ফাইনাল ঘিরে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ছিল ফ্যানদের সমাগম| বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেও ক্রিকেটপ্রেমীরা বাংলার ২২ গজের লড়াই’ দেখতে এসেছিলেন ক্রিকেটের ননন্দনকাননে। পুরুষদের ফাইনালে অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স ও গতবারের চাম্পিয়ন মুর্শিদাবাদ কিংস মুখোমুখি হয়েছিল| খেলা শুরুর আগে প্রয়াত স্পিনের শিল্পী দিলীপ দোশীকে শ্রদ্ধা জানায় সিএবি| হাওড়া টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৫০ রান তোলে| আদিত্য পুরোহিত ২০ বলে ৩০, অরিন্দম ঘোষ ২৩ বলে ২৬ ও শাকির গান্ধী ২৫ বলে ৩১ ব্যাট হাতে অবদান রাখেন| মুর্শিদাবাদের হয়ে ঋষভ চৌধুরী দুই উইকেট নিয়েছেন| একটি করে উইকেট পেয়েছেন সক্ষম চৌধুরী, তৌফিক মন্ডল, বিকাশ সিং ও অনিকেত সিং| মুর্শিদাবাদ এদিন জোড়া লোপ্পা ক্যাচ হাতছাড়া না করলে হাওড়া এই রানও তুলতে পারত না যদিও! হাওড়ার রান তাড়া করতে নেমে মুর্শিদাবাদ যে ব্যাটিংটা শুরু করেছিল, তা দেখে এদিন একবারও মনে হয়নি যে গতবারের চাম্পিয়ন টিম ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্যে ফাইনালে নেমেছে| ৯ ওভারের মধ্যে ৫৮ রান তুলতে গিয়ে চার উইকেট চলে যায়| হাওড়ার একেবারে মাপা বোলিং ও দুরন্ত ফিল্ডিংয়ের জালেই ধরা পড়ে যায় মুর্শিদাবাদ| কিংসের হয়ে একমাত্র আলো জ্বাললেন তন্ময় প্রামাণিক ৩৩ বলে ৪৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে দলকে জেতানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন| তবে বৈতরণী পার করতে পারেননি| শেষ ওভারে জেতার জন্য মুশির্দাবাদের ২৩ রান প্রয়োজন ছিল| অন্তিম ৬ বলে আসে ১৩ রান! হাওড়া ফাইনাল জিতল ৯ রানে|

দুপুরে মহিলাদের ফাইনালের ফয়সালা হয় ডিএলএস মেথডে| লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স ১৬ রানে হারিয়েছে সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদহকে| ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হয়ে কলকাতা টাইগার্স বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগ নিজেদের খেতাব ধরে রাখল| ইডেনে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে, ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করে ম্যাচের সেরা হয়েছেন কলকাতা টাইগার্স ক্যাপ্টেন মিতা পাল| ৫২ বলে ৫১ রান করার সঙ্গেই ১২ রান খরচ করে জোড়া উইকেট তুলে নিয়েছেন| বিজয়ী হওয়ায় কলকাতা টাইগার্স পেয়েছে ৩০ লক্ষ টাকার নগদ পুরস্কার| রানার্স সোবিস্কো স্ম্যাশার্স পেয়েছে ২০ লক্ষ টাকা| ইডেনের আইকনিক বেল বাজিয়ে ম্যাচ শুরু করেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। চ্যাম্পিয়ন টিমের হাতে ট্রফি তুলে দেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। ইডেনে হাজির ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। ছিলেন ঝুলন গোস্বামীও।

সুনীধি চৌহানের জাঁকজমক পারফরম্যান্সে বোধন হয়েছিল বেঙ্গল প্রো টি-20 লিগের। মাঝে কয়েকটি ম্যাচ বৃষ্টি কাঁটায় বাধাপ্রাপ্ত হলেও চলতি বছর মোটের উপর বাংলার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ সাবলীল গতিতেই এগিয়েছে৷ শেষদিন সকালে মেঘলা আকাশ ফের শঙ্কা জাগালেও তা অমূলক প্রমাণিত হয়। সন্ধ্যায় প্রয়াত প্রাক্তন ক্রিকেটার দিলীপ দোশিকে স্মরণ করা হয় ক্রিকেটের নন্দনকাননে৷ বেল বাজিয়ে ইডেনে ফাইনালের বল গড়ানো শুরু করেন মাইকেল ক্লার্ক৷ এরপর আতসবাজি প্রদর্শন ও লেজার শো’য়ে বেঙ্গল প্রো টি-20 লিগের দশমীও জমজমাট৷ নিজের জন্মদিনে ইডেনকে দারুন উপহার দিয়েছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গাঙ্গুলি। হাজির করিয়েছিলেন বলিউডের শাকিরাকে। ফাইনালেও হবে ইডেনে ধামাকা। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের জাঁকজমক উদ্বোধনের সাক্ষী ছিল কলকাতার ক্রিকেটভক্তরা। প্রথম বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনও চাকচিক্য ছিল না। ক্রিকেটের নন্দনকানন মাতালেন সুনিদি চৌহান। টানা এক ঘন্টা দশ মিনিট ননস্টপ পারফর্ম করেন বলিউডের শাকিরা। একাই একশো। অনেক আগে থেকেই শুধু ‘গায়িকা’ ট্র্যাগ গা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন। এখন তিনি একজন কমপ্লিট পারফর্মার। ধুম মাচালে দিয়ে শুরু। বিড়ি জ্বালাইলেতে শেষ। মাঝে একের পর এক হিট গান। মুগ্ধ ইডেনে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শক। সুনিধিকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত ছিলেন ভক্তরা। ক্রেজি কিয়া রে, দেশি গার্ল, ইশক সুফিয়ানা, বে ইন্তেহান, বলম সামি, শিলা কি জওয়ানি..তাঁর গানের তালে তালে নাচল ইডেন। শুধু মাত্র আইটেম নম্বর নয়, সুরেলা গানও উপহার দেন সুনিধি। মস্ত থেকে ধুম, মিশন কাশ্মিরের জনপ্রিয় গানের নন স্টপ ঝড়ো পারফরম্যান্স সুনিধির। শুধুমাত্র লেটেস্ট গান নয়, নয়ের দশকের গানও গান। মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। লাফিয়ে, ছুটে বেড়ালেন বলিউডের শাকিরা। যখন মঞ্চে ওঠেন, পড়ন্ত বিকেল। সূর্যাস্তের সময় মায়াবী পরিবেশে সন্ধে ৬.৫০ পর্যন্ত টানা পারফর্ম করেন।

১১ জুন থেকে ২৮ জুন কলকাতার ঘরোয়া ক্রিকেটের টি-২০ যুদ্ধ। ছেলে এবং মেয়েদের আট দলের বাইশ গজের লড়াইয়ের শুরুতে মাঠে ট্রফি নিয়ে প্রবেশ করেন ঝুলন গোস্বামী এবং ঋদ্ধিমান সাহা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। ছিলেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলি এবং সচিব নরেশ ওঝাও। ছেলে এবং মেয়েদের আট দলের অধিনায়কদের মঞ্চে ডাকা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমন্ত্রিত থাকলেও আসতে পারেননি। ক্রিকেটীয় যুদ্ধের আগে যে আঁচ সুনীধি চৌহান ছড়িয়েছিলেন মোহময়ী পারফরমেন্স। গতবারের দুই যৌথ বিজয়ী সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা এবং মুর্শিদাবাদ কিংস ম্যাচ দিয়ে বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের ঢাকে কাঠি পড়েছিল। ২৮ জুন দুপুর দেড়টায় ইডেনেই দু’টি ফাইনাল।

বেঙ্গল প্রো টি ২০ লিগ বাংলার বুকে সাড়া জাগানো টুর্নামেন্ট। ক্রিকেট প্রতিভা তুলে আনার অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় গত বছর থেকে শুভ সূচনা বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের। বাংলার এই সর্ববৃহৎ আইপিএল ধাঁচের লিগ। গত বারের মতোই পুরুষ ও মহিলাদের প্রতিযোগিতা আইপিএলের ধাঁচে এই টি ২০ লিগ। বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের ম্যাসকট হল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কমিক ‘বাঁটুল দি গ্রেট’। নায়ারণ দেবনাথের সৃষ্ট চরিত্রকে সামনে রেখে বাংলার ২০ ওভারের লিগকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল সিএবি। দ্বিতীয় বছরের প্রতিযোগিতার ড্রাফটে ছিল ৮০২ জন ক্রিকেটারের মধ্যে থেকে পছন্দের ক্রিকেটারদের বেছে নিয়েছে দলগুলি। শহরের এক হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের দ্বিতীয় সংস্করণে পুরুষদের ৮০২ জন ক্রিকেটারের থেকে বেছে ড্রাফট করা হয়। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলির উপস্থিতিতে হয় ড্র। সহ-সভাপতি অমলেন্দু বিশ্বাস, সচিব নরেশ ওঝা, কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক দেবব্রত দাস, সিএবি ট্যুর, ফিক্সচার এবং টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস সহ বিভিন্ন সিএবি কমিটির চেয়ারপার্সন, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এবং সিএবির বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলি, মহিলা ক্রিকেট আইকন ঝুলন গোস্বামী সহ বিভিন্ন সিএবি কমিটির চেয়ারপারসন, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ কমিটির সদস্য দীপ চ্যাটার্জি, শুভ্রদীপ গাঙ্গুলি, লোপামুদ্রা ব্যানার্জী, কেয়া রায়, সুরজিৎ লাহিড়ী, অম্বরীশ মিত্র, সৌমেন্দু চ্যাটার্জি, জয়দীপ মুখার্জি সহ অন্যান্যরা। দীপ প্রকাশনের কর্ণধার শঙ্কর মণ্ডল, দীপ্তাংশু মণ্ডল প্রমুখ।

বাংলার ক্রিকেট সংস্থার এ বারের বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ পুরুষ ও মহিলাদের প্রতিযোগিতা। গত বার পুরুষদের সব ম্যাচ হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্সে। মহিলাদের প্রতিযোগিতা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। মহিলাদের ফাইনাল হয়েছিল ইডেনে। গত বার পুরুষদের প্রতিযোগিতায় যুগ্ম বিজয়ী হয়েছিল সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা ও মুর্শিদাবাদ কিংস। ইডেনে বৃষ্টির কারণে ফাইনাল খেলার ফয়সালা হয়নি। মহিলাদের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স। রানার্স হয়েছিল মুর্শিদাবাদ কুইন্স। এবারও ম্যাচের সেরার সুদৃশ্য ট্রফি বিতরণ করা হল। ম্যাচের বিরতিতে চোখধাঁধানো আতশবাজি ও লেজার শো-র প্রদর্শনী চলল। ইডেনেই ইস্টবেঙ্গল বনাম ভবানীপুর লিগ ফাইনালে তুমুল বিতর্কের পরে সিএবি-র টুর্নামেন্ট কমিটি বৈঠক করে জানিয়েছিল, অভিযুক্ত আম্পায়ারদের কোনও টুর্নামেন্টের সেমিফানাল ও ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ করতে দেওয়া হবে না। যদিও বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের ফাইনাল করালেন সেই ম্যাচের অন্যতম দুই আম্পায়ার।

বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের জোড়া ফাইনাল ছিল ইডেন গার্ডেন্সে। দুপুরে মেয়েদের ম্যাচ। রাতে পুরুষ দলের ফাইনাল। ইডেন গার্ডেন্সে চলল ক্রিকেটীয় লড়াই নয়, আইনি যুদ্ধ। যে ম্যাচের একদিকে সিএবির কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী। অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাতে জড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগের পাহাড় সাজিয়ে রাখা আইনজীবীর দল। আম্পায়ারের মতো যে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সিএবি-র এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএবি-র সচিবের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে থানা, আদালত ও সিএবি-র দ্বারস্থ হয়েছিলেন উয়াড়ি ক্লাবের একদল সদস্য। অভিযোগ এক, লোঢা কমিটির সুপারিশ মেনে গঠিত সিএবি-র সংশোধিত গঠনতন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একসঙ্গে দুই পদে বিরাজমান প্রবীর চক্রবর্তী। সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ হওয়ার পাশাপাশি তিনি উয়াড়ি ক্লাবের সচিবও। অভিযোগ দুই, ধারে ও ভারে যা আরও মারাত্মক, প্রবীর চক্রবর্তী সিএবি-র উয়াড়ি ক্লাবের জন্য বরাদ্দ অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ। সিএবি-র কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই আর্থিক বেনিয়মের এত বিস্ফোরক অভিযোগ উঠছে, বঙ্গ ক্রিকেটের ইতিহাসে এ ঘটনা আগে ঘটেছে কি না, মনে করতে পারছেন না ময়দানের কেউই। সিএবি-র এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮ জুন গোটা ঘটনার শুনানি করেন। সেদিন অভিযুক্তের তরফে আরও সময় চাওয়া হয়েছিল বলেই খবর। প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় ২৮ জুন, শনিবার ফের একটা শুনানি ডেকেছিলেন। যে শুনানিতে প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে দাবি করা হল যে, তিনি উয়াড়ি ক্লাবের সচিব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ আর খাটে না। শুনানিতে ছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব নরেশ ওঝা। সিএবি-র আইনজীবী সম্রাট সেন এথিক্স অফিসার, প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহায়তা করার (অ্যাসিস্ট) জন্য ছিলেন। প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে ছিলেন আইনজীবী দীপকরঞ্জন মুখোপাধ্যায়। উয়াড়ি ক্লাবের অভিযোগকারীদের তরফেও ছিলেন এক ঝাঁক আইনজীবী। প্রবীর চক্রবর্তীর আইনজীবী এথিক্স অফিসারের হাতে উয়াড়ি ক্লাবের সচিব পদ থেকে অভিযুক্তের ইস্তফাপত্রের কপি দেন। শোনা গেল, এথিক্স অফিসার জানান, ইস্তফা দিয়ে দিলে তো স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নের অবসান। যদিও উয়াড়ি ক্লাবের অভিযোগকারীদের আইনজীবীরা জানান, একসঙ্গে দুই পদে থাকাটাই যেখানে অবৈধ, সেখানে টাকা নয়ছয় করা হয়েছে স্বার্থের সংঘাত থাকাকালীন। সওয়াল করা হয়, কী করে কেউ অন্যায় করার পরে পদ ছেড়ে দাবি করতে পারেন যে, তিনি ইস্তফা দিয়েছেন এবং আর কোনও দায় তাঁর নেই! প্রবীর চক্রবর্তী ইস্তফাপত্রের যে কপি এথিক্স অফিসারকে দিয়েছেন, সেটি ১৬ জুনের। ঘটনা হচ্ছে, ৩০ মে প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। পরে ১৬ জুন আরও কিছু অভিযোগ যুক্ত হয়। প্রবীর চক্রবর্তীর তরফে বলা হচ্ছে, অভিযোগ উঠতেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি ক্লাবকে পদের ফায়দা নিয়ে কোনও সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেননি বলেও জানান। কেন লোঢা কমিটির সুপারিশ জানার পরেও স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়েছিলেন প্রবীর চক্রবর্তী? কেন তিনি অভিযোগ ওঠার পর ইস্তফা দিলেন? তিনি কী করে ক্লাবের জন্য বরাদ্দ টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে পারেন? কেন সিএবি-র কোষাধ্যক্ষের পদে থেকে এতবড় আর্থিক বেনিয়ম করলেন? কেন প্রায় ১০ বছর উয়াড়ি ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা হয়নি? সিএবি-ও নিষ্কণ্টক হতে পারছে না। প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং একাধিক তদন্ত ও মামলা চলছে জেনেও কেন তাঁকে সাময়িকভাবে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না, জোরাল প্রশ্ন উঠছে। বলা হচ্ছে, অতীতে যখন সহকারী সচিব থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোশেন্ট পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, তাঁকে তৎক্ষণাৎ সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৫ জুলাই পরবর্তী শুনানি ডেকেছেন এথিক্স অফিসার। ১৯ জুলাই রয়েছে ওম্বাডসম্যান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের শুনানি।

টুর্নামেন্টের ফাইনালের ক্রিকেটাররা হলেন
অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স : আমির গনি, কনিষ্ক শেঠ, শাকির হাবিব গান্ধী, প্রমোদ চান্দিলা, সুজিত কুমার যাদব, সাক্ষম শর্মা, যুবরাজ দীপক কেশওয়ানি, শ্রেয়ান চক্রবর্তী, শশাঙ্ক সিং, দীপক কুমার, দেবাংশু পাখিরা, জয়বীর সিং, রোহিত, শচীন চৌধুরী, অরিন্দম ঘোষ, অগ্নিশ্বর দাস, অগ্যস্থ শুক্লা
মুর্শিদাবাদ কিংস : সুদীপ কুমার ঘরামি, অগ্নিভ পান, সুখমিত সিং, বিকাশ সিং, তৌফিকউদ্দিন মণ্ডল, সাক্ষম চৌধুরী, ঋষভ চৌধুরী, দিলশাদ খান, সৌরভ কুমার সিং, অনিকেত সিং, তন্ময় প্রামাণিক, সৈঈদ ইরফান আফতাব, প্রিয়ম সরকার, কোশিক ঘোষ, নিখিল সিং, অঙ্কিত চ্যাটার্জ্জী, সায়ন পাল

মহিলাদের টুর্নামেন্টের ফাইনালের ক্রিকেটাররা হলেন —
সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা: হৃষিতা বসু (মার্কি প্লেয়ার), ঝুমিয়া খাতুন, মমতা কিস্কু, শ্রাবণী পাল, সুস্মিতা পল, রূপা দত্ত, অরুণা বর্মণ, নেহা শাউ, সুকন্যা পারিদা, জেনি পারউইন, সঞ্চিতা অধিকারী, রোশনি তিওয়ারি, রিয়া কে মাহাতো, নন্দিনী বিশ্বাস, রাধিকা কুমারী, স্নেহা মাহাত।
লাক্স-শ্যাম কলকাতা রয়্যাল টাইগার্স : পর্না পল, পূজা রাজক, অঙ্কিতা মহন্ত, প্রীতি মাহাতো, ঋত্বিক পাল, সুজাতা দে, প্রতিভা মান্ডি, মনিকা মাল, সালমা খাতুন, কোয়েল সরকার, মিতা পল (অধিনায়ক)




