চলতি বছরের আগস্টে মুক্তি পাচ্ছে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত অভিনীত ছবি ‘বেলা’। পরিচালনায় অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়। গ্রেমাইন্ড কমিউনিকেশনের প্রযোজনায় তৈরিই ছবি। এক সময় আকাশবাণীর ‘মহিলামহল’-এর প্রবাদপ্রতিম সঞ্চালিকা ছিলেন বেলা দে। পাশাপাশি দেশবিদেশের রান্না নিয়ে পাণ্ডিত্যও ছিল সর্বজনবিদিত। তাঁরই বায়োপিক। জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত রয়েছেন বেলা দে-র চরিত্রে। ছবির প্রথম মোশন পোস্টার রিলিজ হল আজই। সেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েক দশক আগের বাঙালি বাড়ির পরিচিত ছবি। একটি রেডিয়োতে আকাশবাণীর ঘোষণা, “শুরু হচ্ছে মহিলা মহল। উপস্থাপনা এবং প্রযোজনার বেলা দে।” সঙ্গেই রাখা রান্নার দু’টি বই। দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিকতা এবং প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত টলিপাড়ার পরিচিত মুখ অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়। তবে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি এই প্রথম। পরিচালকের কথায়, “‘বেলা’ মেয়েদের কথা বলবে। মেয়েদের অধিকারের কথা বলবে। খুব মন দিয়ে আর সততার সঙ্গে আমরা সিনেমাটা বানিয়েছি। এতদিন যাঁরা আমাদের কাজ দেখেছেন, কাজের জন্য আমাদের চেষ্টা দেখেছেন, সবাই আমাদের আশীর্বাদ করবেন।” শুধু দেখা নয়, আমাদের কথা, ‘বেলা’-র কথা একটু ছড়িয়ে দিতে হবে। দীর্ঘ সম্পর্কের জায়গা থেকে এই আবদারটা থাকল। প্লিজ আমাদের সঙ্গে থাকবেন। ‘বেলা’র প্রথম মোশন পোস্টার থাকল। ‘বেলা’ আসছে অগাস্টেই।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত টলিউডে এখনও অবিকল্প। প্রযোজক হিসেবে নবজন্ম, ব্যক্তিগত জীবন, নতুন ছবি মুক্তি, সব কিছু নিয়ে অকপট অভিনেত্রী। সিঙ্গাপুরে যেন বেশি সময় কাটাচ্ছেন। ‘তা নয় (হাসি)। আমার পরিবারের সঙ্গে কথাই আছে, মাসে অন্তত দশটা দিন সিঙ্গাপুরে দিতে হবে। আর বাকি ২০ দিন আমার কাজ, সে বম্বে হোক বা কলকাতা। সঞ্জয় (স্বামী) এবং ফ্যামিলির সঙ্গে এই ডিলটা আমি করেছি। সত্যি বলতে ওরাও খুব মিস করে আমাকে। ওখানে দুটো ছোট ডগিজ আছে, ওরা খুব মিস করে আমাকে। রিশোনার স্কুলও থাকে। আমি সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম কয়েকদিনের জন্য, কারণ সঞ্জয় ফিলিপিন্স গিয়েছিল, ওর বোর্ড মিটিং ছিল। ও কখনওই বাচ্চাকে একা রেখে যাওয়া পছন্দ করে না। যদিও আমাদের দু’জন গৃহ সহায়িকা আছে। কিন্তু ওই আর কি, বাড়িতে দু’জনের একজন যেন থাকে। বম্বেতে কিছু কাজ সেরে সিঙ্গাপুর হয়ে কলকাতা ফিরলাম। অনেকে বলে, এতে সম্পর্ক ভালো থাকে, পরস্পরকে স্পেস দেওয়া হয়। আবার এটা কঠিনও। কারণ, ইউ হ্যাভ টু বি অ্যাট ইট। পরিশ্রম করতে হবে। বিয়ে আছে, এবং থেকে যাবে তা কিন্তু নয়, চারাগাছে জল দেওয়ার মতো প্রতিদিন দিতে হবে। কারণ, এটা রোজকার উপলব্ধি আন্ডারস্ট্যান্ডিং, বিবাদ, সবই নিয়মিত মেটাতে হয়। আমরা যেভাবেই হোক সেই কাজটা এখনও অবধি করে চলেছি। আমি বলব, সঞ্জয়ও অনেকটা হেল্পফুল। আবার অনেক সময় ডিফিকাল্ট। ও আমার মতো অত ইমোশনাল নয়। ওইটাই ভারসাম্য রাখে। ও বাচ্চাদের পড়াশোনার ব্যাপারে ভীষণ পার্টিকুলার। আমিও অনেক সময় পেরেন্টস টিচার্স মিটিংয়ে গেছি বা অঙ্কনকে পড়াতে পড়াতে শুটিংয়ে নিয়ে গেছি। তবুও বলব, সঞ্জয় খুব ভালো বাবা। অঙ্কন এখন বস্টনে পড়ছে আর রিশোনা সিঙ্গাপুরে। প্রযোজক হিসাবে অন অ্যান্ড অফ সবসময়ই কিছু না কিছু করছিলাম। এক সময় ‘আলো’ করেছিলাম। সেটা সোলো প্রযোজনা নয়, আমাদের একটা গ্রুপ ছিল। তার পরে ‘ইচ্ছে’আমি প্রেজেন্ট করেছিলাম আর কো-প্রোডিউস-ও। ‘পার্সেল’প্রেজেন্ট করেছিলাম। ‘আহারে’,‘দত্তা’-ও করেছিলাম। প্রথম ছবি প্রযোজনা অনেক বছর আগে করেছিলাম দুলাল লাহিড়ীর ‘বৃষ্টির ছায়াছবি’। এবার সুজিত মণ্ডলের ‘অন্বেষণ’ছবিটাও মুক্তি পাবে। রিবার্থ নিয়ে বলব,‘পুরাতন’সম্পূর্ণ অন্য লিগের ছবি। যেটা মানুষের জীবনের গল্পের ছবি এবং সকলকে ছুঁয়ে গেছে। এবং শর্মিলা ঠাকুরের মতো পুরাতন ফ্লেভার ছিল। সব মিলিয়ে বিষয়টা অন্য মাত্রায় গিয়েছে। শর্মিলা ঠাকুরের কাছে, সুমনের কাছে (ঘোষ) এবং আমার পুরো টিমের কাছে আমি এ জন্য কৃতজ্ঞ। হ্যাঁ, প্রযোজক হিসাবে নবজন্ম বলা যেতে পারে। আমাদের হাউসের কাছেও চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি অভিনেত্রী হিসাবেও অনেক স্টিরিওটাইপ ভেঙেছি। অনেক কিছু প্রথম আমি এক্সপেরিমেন্ট করেছি, অন্যরা পরে। এটা নতুন প্রোডাকশনের ছবি নন্দী মুভিজ-এর, যার জন্য আমিও অনেকটা ইন্সট্রুমেন্টাল। আগে কখনও কার্টুনিস্টের ভূমিকায় অভিনয় করিনি। ‘অনুরণন’-এর অনেক বছর পরে আবার আমাকে আর রাহুল বোসকে একসঙ্গে দেখা যাবে। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাক্টর রাহুল। আমি ওকে বলেছিলাম, ‘এই গল্পটা তুমি দেখতে পারো।’ভালো লেগেছে ওর। সায়ন্তনের (ঘোষাল) পরিচালনায় এটা থ্রিলার ছবি। এখনকার প্রজন্মের পরিচালকদের মধ্যে ওর অনেক সম্ভাবনা আছে। আর সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’-এর সঙ্গে ছবির একটা যোগ রয়েছে, যেটা বাঙালির অত্যন্ত কাছের। এই ছবির কাস্টিংও দারুণ– পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল বোস, সুব্রত দত্ত, কৌশিক সেন, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের মতো অ্যাক্টররা আছে। অনন্যাকে আমি রেকমেন্ড করেছিলাম এই ছবির জন্য। ইনফ্যাক্ট, ‘অন্নপূর্ণা’-র সময়েও আমি নিজে করতে চাইনি, অনন্যার কথা বলেছিলাম। আরেকটা বিষয় হল, ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’-তে অনেকগুলো ফাইট সিকোয়েন্স আছে। যেগুলো খুব সুন্দর করে ডিজাইন করা। আমার এই খিদে কোনওদিন যাবে না। অভিনয় জীবনের আকাঙ্ক্ষার কোনও শেষ নেই। অনেক প্রবীণ শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তাঁদেরও এমন মনে হয়।’এখন দেখা যায়, কারও একটা সিনেমা কি সিরিয়াল হিট করলেই তাঁর স্টারের মতো হাবভাব চলে আসে, এটা কীভাবে দেখেন? ঋতুপর্ণা বলছেন, “এই তো ২৫ বছর পরে ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’এল, তাতেও মানুষের কী পাগলামি। এটাই বলব, ২৫ বছর আগেও হিট দিয়েছি। তারপর ‘অযোগ্য’-র মতো হিটও। সাম্প্রতিক কালে ‘দাবাড়ু’স্টান্ডার্ড চলেছে বা ‘পুরাতন’হিট করেছে। এটাই বলব, সাফল্যকে মাথায় চড়তে দিই না। সাফল্য পেয়ে আরও নম্র হয়েছি। এটা হয়তো প্রজন্মের ব্যাপার। এদের কাছে সবকিছুই সহজলভ্য। আমাদের পথ ছিল কঠিন। গ্রুমিং ওই ভাবেই হয়েছে। একটা সাফল্য পেলে মনে হয়, পরেরটা কীভাবে করব। আমি সব সময় মনে করি সবার প্রোপোজাল শোনা উচিত। তারপর ভেবে দেখব। এক সময় তো আমিও নতুন ছিলাম। কর্পূর’ শুরু হবে। আর হনসল মেহতার সিরিজে স্পেশাল অ্যাপিয়ারেন্স।”

নিম্নচাপের কালো আকাশে ভেসে এল একটা মৃত্যুসংবাদ। খবরটা মাঝরাতেরই। ছড়িয়ে পড়ল সকালে। শেফালি জরিওয়ালা প্রয়াত। কে শেফালি? সেই মেয়েটি, যাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘কাঁটা লাগা’ ভিডিওয়। আজকের জেনারেশন জেড কিংবা আলফা হয়তো তাঁকে কেবলই নামে চেনে। অসংখ্য কনটেন্টের স্রোতে কোনও একসময় দেখেছে সেই ‘আদ্যিকালের ভিডিও’-ও। কিন্তু তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় হয়তো, নতুন সহস্রাব্দের শুরুর এই ভিডিওর যথার্থ অভিঘাত। পপ সংস্কৃতির সিন্দুকে থেকে গিয়েছে, থেকে যাবে ‘কাঁটা লাগা’। থেকে যাবেন শেফালি জরিওয়ালা। টেলিভিশন কিংবা সিনেমা নয়, শুধুমাত্র একটি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে রাতারাতি সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন ১৯ বছরের তরুণী। নয়ের দশকে তাঁর লাস্যময়ী অভিব্যক্তিতে ঘায়েল হয়েছিলেন অনেকেই। সেই ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ শেফালি জারিওয়ালার জীবন মাত্র ৪২ বছর বয়সে থমকে গেল। শুক্রবার মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রীর। অসংখ্য মিউজিক ভিডিওয় দেখা গিয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে পঁয়ত্রিশটি। ২০০৪ সালে ‘মুঝসে শাদি করোগে’ ছবির মাধ্যমে রুপোলি পর্দায় পা রাখা। যদিও হিন্দি ছবি তাঁর কেরিয়ারে ওই একটিই। ‘বুগি উগি’, ‘নাচ বলিয়ে’ থেকে ‘বিগ বস’-এর মতো রিয়েলিটি শোয়েও অংশ নিয়েছেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত শেফালি জরিওয়ালার পরিচয় থেকে গিয়েছে একটিই। তিনি ‘কাঁটা লাগা গার্ল’। ভাবতে ভাবতে কুয়াশায় ঢেকে যায় ২০২৫। ফিরে আসতে থাকে ২০০২। সেটা নতুন সহস্রাব্দের শুরুর দিক। গ্লোবালাইজেশন। কেবল টিভি। সাবালক হতে থাকা একটা সময়। সেই সময়েই যৌবনের পতাকা হাতে আমাদের ড্রইংরুমে এক সাহসী মেয়ে। যার অন্তর্বাস উপচে পড়ছে জিনস ছাপিয়ে। যার হাতে আঁকা ট্যাটু। আর প্যান্টের পিছনে গুঁজে রাখা একটা ম্যাগাজিন। কীসের ম্যাগাজিন? মলাটের নগ্ন পুরুষ বুঝিয়ে দিচ্ছে এর বিষয়বস্তু। আর সেই পত্রিকার পাতা মন দিয়ে ওলটাচ্ছে ভিডিওর তরুণী। ডিস্কো থেকে প্রবেশ করছে আশ্চর্য বিভঙ্গে চারপাশ মাতিয়ে দিতে দিতে। তাকে ঘিরে পুরুষের ভিড়। তাকে ঘিরে ভিড়ের হৃদয়। দূরে বিরক্ত প্রেমিক। তাকে খুশি করতে এবার ম্যাগাজিনে আগুন ধরিয়ে দেয় তরুণী। তারপর ঘনিষ্ঠ হয় প্রেমিকের সঙ্গে। যদিও ভিডিওর শেষে দেখা যায়, কেবলই পত্রিকার সামান্য অংশ পুড়েছে। বাকিটা রয়েছে যেমনকার তেমনই। সেটা প্যান্টের পিছনে গুঁজে রেখে সে হেঁটে যায় প্রেমিকের সঙ্গে। শেফালি জরিওয়ালা ও এই গানের অমোঘ যুগলবন্দি প্রায় একটা ছোটখাটো পরমাণু বোমার মতো ফেটেছিল শহরে, মফস্বলে। এই প্রথম ভারতীয় জনমানসে নারীর বহুগামিতা এমন স্পষ্ট ভাবে উচ্চারিত হল। শরীরী বিভঙ্গ ও সঙ্গীতের এমন ছন্দবদ্ধতাও যেন একদম নতুন। এমনিতেই সেই সময়ে মিউজিক ভিডিওর দাপট। একের পর এক রিমিক্স কিংবা ফাল্গুনী পাঠকের মতো গায়িকাদের অরিজিনালের দাপাদাপি। তবু এরই মধ্যে ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সমাধি’ নামের একটা ছবির গানের নতুন করে ফিরে আসা। যাঁরা ডিস্কো থেকে যেতেন তাঁরা ওই পরিবেশ চিনতেন। কিন্তু ক্যাবলা মফস্বল অথবা কলকাতার রক্ষণশীল পরিবার টিভির পর্দায় শেফালিকে দেখে সেই উদ্দাম, উচ্ছ্বাসের ভিতরে শুনতে পেতেন যৌবনের ‘বেপরোয়া বিচ্ছু’র দৃশ্যকল্প। শেফালি লাজুক প্রেমিকার আবরণ থেকে যেন বের করে আনলেন এক সোচ্চার রূপসীকে। প্রেমিক থেকে প্রেমিকে যাঁর অনায়াস গতায়াত। সেই গান, সেই ‘কাঁটা লাগা’ একধাক্কায় যেন কত কিছু বদলে দিয়েছিল। বদলে যাওয়ার সেই সময়কাল কত পিছনে চলে গিয়েছে। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ৪২ বছরের শেফালির মৃত্যুসংবাদ আমাদের যেন টাইম মেশিনের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল আবার। ইউটিউবে ফের জেগে উঠল সেই রিমিক্স। পুরনো সময় ফেরে না। কিন্তু হারানো সময় থেকে যায় সময়ের ভাঁজে রাখা চিরকুট হয়ে। যাঁরা সময়কে ফেরাবেন কিংবা সমসময়কে চিনতে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিতে চাইবেন ফেলে আসা দিনের এক মিউজিক ভিডিও, তাঁদের জন্য থেকে যাবে ‘কাঁটা লাগা গার্ল’। শেফালি জরিওয়ালা প্রয়াত। কিন্তু সময়বদলের ইতিহাস লিখে রাখতে যৌবনতরণী বাইতে থাকবে সেদিনের সাহসী মেয়েটা। সলমন খান এবং অক্ষয় কুমারের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে প্রথম ছবিতে অভিনয় করেছিলেন শেফালি। কিন্তু তারপর বলিউডে তাঁকে নিয়মিত কাজ করতে দেখা যায়নি। হাতে গোনা কয়েকটি ছবিতে কাজ ছাড়া ২০১৯ সালে বিগ বস ১৩-এ অংশ নিয়েছিলেন তিনি। শোনা যায়, কেরিয়ার মধ্যগগনে থাকাকালীন মাঝে মাঝেই তিনি উধাও হয়ে যেতেন। শেফালি নিজেই জানিয়েছিলেন তাঁর জীবনের কঠিন সংগ্রামের কথা। মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন শেফালি। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে সেই কঠিন অসুখের সঙ্গে গোপনে চলছিল তাঁর লড়াই। তিনি বলেছিলেন, “পরীক্ষার সময় প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকতাম। সেই থেকে খিঁচুনি শুরু হয়। ১৫ বছর থেকে আমার মৃগী রোগ। যার জন্য ডিপ্রেশনে ভুগতাম। আবার ডিপ্রেশন থেকেই খিঁচুনি বাড়ত। একটার সঙ্গে আরেকটা গভীরভাবে জড়িত।ক্লাসরুমে, ব্যাকস্টেজে, রাস্তায় বা কোথাও হঠাৎ করে আত্মবিশ্বাসের অভাব অনুভব করতাম।” এই রোগের কারণেই ‘কাঁটা লাগা’র বিপুল সাফল্যের পরও বেশি কাজ করতে পারেননি শেফালি। কাজের মাঝে হঠাৎ খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি থাকত। তাই নিজেকে আঘাত করার আশঙ্কায় বরাবর সতর্ক থাকতেন অভিনেত্রী। যদিও পরে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।মৃত্যুর ঠিক দু’দিন আগেও একটি ফটোশুট করেছিলেন শেফালি। তারপর আচমকা কীভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র। অভিনেত্রীর আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিউডে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে একের পর এক বলিপাড়ার তারকারা সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়েছেন। শেফালির দীর্ঘদিনের বন্ধু গায়ক মিকা সিং সমাজ মাধ্যমে লেখেন, “আমি গভীরভাবে আহত ৷ মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছে ৷ আমাদের সকলের প্রিয় বন্ধু শেফালি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে ৷”

‘মেট্রো… ইন দিনও’ ছবির প্রচার সারতে গত বৃহস্পতিবার কলকাতায় পা রেখেছিলেন আদিত্য রায় কাপুর এবং সারা আলি খান। সেই প্রচার সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়িতে নৈশভোজ সেরেছিলেন দু’জনে। ‘মহারাজ’-এর বাড়ির আড্ডার পর এদিন বিকেলে শহরের এক জনপ্রিয় রেস্তরাঁর বারান্দায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অনুরাগ বসুর ছবির এই জুটি। আড্ডার শুরুতেই আদিত্য জানালেন, অনুরাগ বসুর ছবিতে কাজ করার সময় কখনওই কেউ পুরো চিত্রনাট্য হাতে পান না। তবে তাতে একটা মস্ত সুবিধেও আছে। সেটা কী? “আরে, অনেকসময় হাতে চিত্রনাট্য থাকলে কোনও নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে টেনশন হয়। আর সেখানে যখন হাতেই চিত্রনাট্য নেই তাই নিজেই জানি না এরপর কোন দৃশ্যটার শুটিং হবে। তাই চাপ একেবারে থেকেই না। এটাও কিন্তু ভারি লাভ।” আদিত্য-সারা দু’জনের কাছেই প্রশ্ন রাখে হয়েছিল, ‘মেট্রো… ইন দিনও’ ছবিটি যেমন শহরের হুটোপাটির মধ্যে ভালবাসার খোঁজ করে, তেমন আপনি নিজের জীবনযুদ্ধের ভেতরে ভালবাসার সবচেয়ে সুন্দর কোন দিকটি আবিষ্কার করেছেন? প্রশ্ন শুনেই আদিত্যর হাতে মাইক্রোফোন ধরিয়ে দেন সারা। থতমত খেয়ে একগাল হেসে আদিত্য বলে ওঠেন, “আচ্ছা, এই ব্যাপার?” তাঁর বলার ভঙ্গিতে ততক্ষণে হাসির রোল উঠেছে চারপাশে। তারপরেই প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “বড্ড গভীর প্রশ্ন করেছেন কিন্তু। যাই হোক, প্রথমেই বলি এই ছবিতে অনুরাগ বসু’দা এমন সব পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তার সঙ্গে সব ধরনের দর্শকই নিজেদের একাত্ম করতে পারবে। আর…আর…আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি বর্তমানে সময়ে টেকনোলজি, ফোন যেভাবে গ্রাস করেছে আমাদের সবাইকে…সম্পর্কেও তার প্রভাব তো অবশ্যই পড়ে। কঙ্কনা এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠির জুটির গল্পটাও এই ফোনের একটা ব্যাপার আছে, জানতে পারবেন। হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম, এই টেকনোলজির হু-হু করে ব্যবহার বেড়ে যাওয়া সম্পর্কের ডায়নামিক্স বদলে দেয়। সেটা কিন্তু আমি দেখেছি, বুঝেছি…এইটুকুই।” বলে রহস্যময় হাসি হেসে চুপ করে গেলেন আদিত্য। মাইক্রোফোন ততক্ষণে চলে এসেছে সারার। সইফ-কন্যার কথায়, “ আদিত্য যেটা বলল, আমি একমত। আজকাল ফোন হাতে আছে বলেই প্রায় সবসময় আমরা জানতে পারি, টের পাই আমার ভালবাসার মানুষটা কোথায় আছে। কিন্তু তার মানে কি আমরা সত্যিই দু’জনে পরস্পরের সঙ্গে আছি? আমাদের মধ্যে আদৌ একাত্মভাব,মনের মিলটা বেঁচে আছে তো? তাই আমার অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি, এই মুহূর্তে থাকা। মুহূর্তে ভালবাসায় থাকা। ভালবাসার মানুষের সঙ্গে এক মুহূর্তও সৎভাবে উদযাপন করা। তাই টেকনোলজি নয়, কাছে বসে কথা বলা প্রয়োজন, কথা শোনা প্রয়োজন। এই ব্যাপারটা আজও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।” আড্ডার ফাঁকেই তাঁর থেকে আরও জানা গেল, ‘মেট্রো ইন দিনও’-র মাধ্যমেই এই প্রথম তিনি বড়পর্দায় প্লেব্যাক করলেন। আর সেই কাহিনিও কিন্তু বেশ মজার। “একবার ওই গানের দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে আমাকে লিপসিঙ্ক-এর জন্য ডাকা হল। যাতে আমার একটু সুবিধে হয় শুটিংয়ে। তো আমিও গুনগুন করে গাইছিলাম। আমাকেও গাইতেও বলা হচ্ছিল, গানটার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার জন্য। ওমা! হঠাৎ দেখি প্রীতমদা এসে বলল, ” এই আদি, তোর গলায় দারুণ খুলেছে তো গানটা। শোন না, এই গানটা তবে তুইই রেকর্ড কর! শুনে তো আমি হাঁ। যাই হোক, শেষমেশ তাই-ই হল!” – বলতে বলতে অভিনেতার চোখেমুখে তখন খেলে যাচ্ছে তৃপ্তির হাসি।




