RK NEWZ কালীপুজো মানেই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, নৈহাটিতে জনঢল। এখানকার পুজোগুলির খ্যাতি দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে এই সময়টায় ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। দুর্গাপুজোর মতো রাতভর জেগে কালীঠাকুর দেখার চলও কম নয়। যত সময় যাচ্ছে, তত এই আকর্ষণ বাড়ছে। তাই প্রতি বছরই কালীপুজো, দীপাবলির মরশুমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে বারাসতে। এবছর তা আরও কড়াকড়ি হয়েছে। তার অন্যতম কারণ, দুর্গাপুজোয় কলকাতার চোরবাগানের ঘটনা। পুজো দেখতে গিয়ে তুমুল ভিড় ও বৃষ্টিতে সেখানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুতে বাড়তি সতর্কতা কালীপুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণে। কীভাবে কালীপুজোর ৪-৫ দিন দুর্গে পরিণত হবে বারাসত, শুক্রবার তা নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়ে গেল। বারাসতের পাইওনিয়ার, কলোনি মোড় ও কেএনসি রেজিমেন্ট-সহ একাধিক কমপ্লেক্সে ভাগ করা হবে গোটা পুজো এলাকাকে। কলোনি মোড়ে কন্ট্রোল রুম থেকে যশোর, টাকি ও বারাকপুর রোডে নজরদারি চালাবে বারাসত জেলা পুলিশ। ৭ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবস্থা থাকবে। শুক্রবার বারাসত রবীন্দ্রভবনে জেলা পুলিশের সমন্বয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জে মার্সি, অতিরিক্ত জেলাশাসক, বারাসত ও অশোকনগরের বিধায়ক-সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা। বারাসতে ১৯টি, মধ্যমগ্রামে ১০টি বড় বাজেটের কালীপুজো হচ্ছে। তালিকায় আমডাঙার মা করুণাময়ী কালীমন্দিরও রয়েছে। প্রতিটি পুজোয় আগেই নোডাল অফিসার নিয়োগ হয়েছে। মণ্ডপ নির্মাণ ও ব্যারিকেডের দায়িত্বে থাকবেন তাঁরা। যান নিয়ন্ত্রণে কলকাতা থেকে দেগঙ্গাগামী গাড়িকে মধ্যমগ্রাম চৌমাথা থেকে বাদু রোড ধরতে হবে। ডাকবাংলো মোড় থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং চাঁপাডালি থেকে টাকি রোডে চারচাকা চলাচল বন্ধ থাকবে। জাতীয় সড়কে বাইক চলবে ১১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত। টাকি রোডে বাইক হবে পার্কিং পূর্ব বারাসত স্কুল সংলগ্ন ফাঁকা জায়গা ও বামনমুড়ো মাঠে। সেখান থেকে পুজোয় যেতে হবে হেঁটে। তবে, যশোর রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তিতুমীর বাসস্ট্যান্ডের বদলে বারাকপুরগামী বাস ছাড়বে আরিফবাড়ি, জাগুলিয়াগামী আড়দেবক মোড় এবং কলকাতাগামী রথতলা থেকে। গেঞ্জিমিল ও বামনমুড়ো থেকেও বাস চলবে। নির্দিষ্ট দিনগুলিতে দুপুর ২টো থেকে ভারী যান বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি বুঝে শিথিল হতে পারে নিষেধাজ্ঞা। প্রতিটি মণ্ডপে পৃথক প্রবেশ ও বেরনোর পথ, বড় এক্সিট গেট এবং আপৎকালীন গেট বাধ্যতামূলক। ঝড়ের আশঙ্কায় ওভারহেড গেটের বদলে এল প্যাটার্নের গেট তৈরির পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তাতে ক্ষতি কম হওয়ার সম্ভাবনা। মণ্ডপে আতঙ্ক ছড়াতে পারে, মাইকে এমন ঘোষণা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনীয় ঘোষণা করবেন শুধু পুলিশ আধিকারিকরা। কারণ, কলকাতার চোরবাগানে ঘোষণা থেকেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল দুর্ঘটনার আগে। তাই তা এড়ানো হচ্ছে। বারাসতের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসক দল। স্থানীয়দের জন্য থাকবে বিশেষ রেসিডেন্ট পাসের ব্যবস্থা।





